ক্রস বর্ডার ই-কমার্স ও এলসি প্রসঙ্গ
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
যেসব ক্রস বডার ই-কমার্স এই পোর্টাল এর সাথে যুক্ত থাকবে তাদের জন্য এলসি প্রযোজ্য হবে না। সেক্ষেত্রে এই পোর্টালের সাথে সংযুক্তির নীতিমালা প্রণয়ন, মানদন্ড ঠিককরণ এবং নিয়ন্ত্রণ এর ব্যাপারে ই-ক্যাব সহযোগিতা করবে। এই প্লাটফর্মে যুক্ত হওয়ার অন্যান্য শর্তের সাথে আরো দুটো শর্ত এই মর্মে সংযুক্ত থাকবে যে, আবেদনকারী কোম্পানী বা সংস্থাকে ই-ক্যাবের সদস্য হতে হবে এবং ই-ক্যাব থেকে আলাদা ক্রস বর্ডার ও এলসি বিহীন রফ্তানীর জন্য নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট গ্রহণ করবে।
প্রচলিত রফতানী পক্রিয়ায় ক্রেতা এবং বিক্রেতা পারষ্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে করে থাকে। এর মাঝখানে কোনো মনিটরিং অথরিটি কিংবা লেনদেন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো পক্ষ থাকে না বিধায়। বিক্রেতার পন্যমূল্যের নিশ্চ্য়তা এবং ক্রেতার পন্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধার করার জন্য এলসির প্রয়োজন হয়। যেহেতু ক্রসবডার ই-কমার্সে বিটুবি কিংবা বিটুসি উভয়ক্ষেত্রে একটি বা দুটি মধ্যপক্ষ জড়িত থাকে। এবং তাদের হাত বদলে পন্য এবং মূল্য বিনিময় হয়। যেকোনো পক্ষের জন্য এখানে প্রতারণার সুযোগ নেই। তাই এক্ষেত্রে এলসির প্রয়োজনীয়তা নেই।
এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল কমার্সে যুগান্তকারী অগ্রগতি সাধন করে সরকারের ঘোষিত ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’’ বাস্তবায়নকে পূর্ণতা দিবে। এবং সরকারের অন্য স্লোগান ‘‘ক্যাশলেস সোসাইটি’’ ত্বরান্বিত করবে। গ্রামের সাধারণ উদ্যোক্তারা সহজে তাদের পন্য বিদেশের বাজারে নিয়ে যেতে পারবে। আইসিটি সেক্টরের সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযাযী ৭ বিলিয়ন ডলার অর্জনের কাজ ত্বরান্বিত হবে। দেশীয় পন্যের বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণে এই সিদ্ধান্ত কাজ করবে।
ই-বাণিজ্য সেক্টরে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য এসোসিয়েশন এর সাথে সম্বয় করে নীতিমালাসমূহ স্পষ্ঠভাবে বর্নিত হওয়া দরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রনায়ন থেকে বিনিয়োগ কারীদের অনুমোদন নেয়া প্রয়োজন।
ই-বাণিজ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ
যেকোনো বিদেশী বিনিয়োগকারীকে দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৪৯ মালিকানা দেশীয় উদ্যোক্তার থাকতে হবে। অন্যান্য তথ্যের সাথে উক্ত উদ্যোক্তাকে ই-ক্যাবের সদস্য হতে হবে। এবং বিনিয়োগকারী কোম্পানীকেও কোম্পানীর যাবতীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে ই-ক্যাবের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে। এবং বিনিয়োগ ও লাভের একটা অংশ বাংলাদেশে সিএসআর করতে হবে। বিনিয়োগকারী কোম্পানীসমূহকে তাদের ওয়ারহাউজ এই দেশে স্থাপন করতে হবে। এবং কোম্পানীর ৯৯% শতাংশ লোকবল বাংলাদেশী হতে হবে।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ঘটনার অভিজ্ঞতার আলোকে এধরনের বিধান বিভিন্নক্ষেত্রে রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের স্বেচ্চাচারিতা এবং চাহিবামাত্র ব্যবসাঘুটিয়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করতে স্থানীয় উদ্যোক্তার সংযুক্তির বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এবং দেশের ব্যবসায়িক খাতের পাশপাশি আর্থসামাজিক খাতের উন্নয়নের জন্য সিএসআর বাধ্যকতার বিধানের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া তরুনদের কর্মসংস্থানের জন্য কর্মীনিয়োগে ও ওয়ারহাউস তৈরীতে উক্ত বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তার সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তারা উপকৃত হবে। সিএসআর বাধ্যকতার কারণে দেশের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে কোম্পানীসমূহের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগন সুবিধাভোগী হবে। যেহেতু কর্মসংস্থান তৈরীতে সরকারের একটি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এবং বিশাল বেকার জনগোষ্টির কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের ধারাকে আরো গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত সহায়ক হবে।
যৌথ প্লাটফরম জনপ্রিয় করা প্রসঙ্গে
এটুআই প্রোগ্রামের মাধ্যমে একশপ এবং ek-SCROW একাউন্ট সম্পর্কে ধারণা গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে প্লাটফর্ম সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধান করবে, তাই এই প্রক্রিয়াগুলো জনপ্রিয় করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহকে ই-কমার্স েসেক্টরকে সমর্থন করার জন্য এগিয়ে আসা দরকার।
ek-SCROW যেহেতু একটি প্লাটফরম যেখানে ই-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত পক্ষসমূহ জড়িত থাকবে। তাই সব ব্যাংকের সম্পৃক্ততা জরুরী। এবং লেনদেন নিরাপদ ও ঝুকিমুক্ত করতে ই-ক্যাবের সার্টিফিকেশন পুরো কাজকে সহজ গতিশীল ও নিরাপদ করবে। (এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল ও কৌশলগত বিষয়সমূহে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের পলিসি রিভিউ করা যেতে পারে)
এছাড়া এই প্লাটফরম ব্যবহারীগণ সত্যিকার উদ্যোক্তাকিনা বা তাদের লেনদেন সমূহে কোনো ঝুকির সম্ভাবনা ও মানহীনতার আশংকা আছে কিনা? থাকলে তা থেকে রহিত করার জন্য ই-ক্যাব কতৃক ভেরিফিকেশন বিশেষ কার্যকর হবে। এই ভেরিফিকেশন এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, ব্যাংক, পেমেন্ট এগ্রিগেটর এর পর চতুর্থ দফা যাচাইয়ের মাধ্যমে সরকার ও জনগন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনবে।
ই-বাণিজ্য কোটা চালু
ই-কমার্স ব্যবসায় অর্থপ্রদান ব্যবস্থার ক্ষেত্রে Interoperability চালু করা যেতে পারে। ই-বাণিজ্যে ট্রাভেল কোটার অধীনে বৈদেশিক মূদ্রার কোটা চালু রয়েছে। এক্ষেত্রে পৃথক কোটার প্রয়োজন। অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়ের টার্নওভার এসবের ভিত্তিতে ই-বাণিজ্যের জন্য পৃথক কোটার প্রয়োজন।
ই-বাণিজ্য একটি নতুন খাত বিধায় এই কোটা ট্রাভেল কোটার সাথে থাকা যুক্তিযুক্ত নয়। সেক্ষেত্রে “Digital Banijjo Quata’’ নামে পৃথক কোটার প্রস্তাব করছি। এক্ষেত্রে লেনদেন সীমাও বর্ধিত করার প্রস্তাব করছি। প্রস্তাবিত সীমা বার্ষিক লেনদেন ৪০ হাজার ডলার। প্রতিটি লেনদেন সীমা: ৭০০ ডলার।
ই-বাণিজ্য উদ্যোক্তাদের বিদেশ থেকে বিভিন্ন প্রোডাক্টস ও সার্ভিস ক্রয়ের প্রয়োজন হয়। তাই এই কোটা ও সময় Travel Quata র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ই-কমার্স কোম্পানীসমূহ তাদের প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পাবে। এবং টেকনিক্যাল ও প্রযুক্তিগত সেবাসমূহে সংযুক্তি তারা আরো গতিশীল হবে। এতে দেশীয় কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সার্বিক আর্থিক খাত উপকৃত হবে।
ক্রস বর্ডারের মাধ্যমে বিদেশে পন্য প্রেরণে প্রনোদনা প্রসঙ্গে
নিয়মিত ও প্রথাগত নিয়মে যারা রফতানী করে তাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকলেও। ই-কমার্সের মাধ্যমে যারা রফতানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে তাদের জন্য প্রনোদনার ব্যবস্থা নেই।
ক্রস বর্ডার ই-কমার্সে বৈদেশিক মুদ্রার আগমন ঘটলে সেক্ষেত্রে প্রনোদনা দেয়া উচিত। যেহেতু এই অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে সঠিক ভাবে আসছে সেহেতু এগুলো চিহ্নিত করা ও প্রনোদনা দেয়া সহজ হবে।
যেহেতু উভয় মুদ্রাই বৈদেশিক মুদ্রা যা দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে তাই একই সুবিধা উভয়ক্ষেত্রে (নিয়মিত রফতানী ও ই-বাণিজ্যে রফতানী) থাকা উচিত।
এর ফলে ই-বাণিজ্যে রফতানী কয়েকগুন বেড়ে যাবে এবং সরকারের রফতানী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে। দেশীয় পন্যের বাজার প্রসারিত হবে।
রফতানী আয়ের সংজ্ঞা পরিবর্তন প্রসঙ্গ
প্রচলিত রফতানী আয়ে পন্য বিদেশ পাঠানো ও অর্থ আগমন ঘটতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ই-বাণিজ্যের মাধমে প্রচুর লেনদেন হচ্ছে যাতে করে বিদেশ থেকে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা আসছে অন্যদিকে সেবা বা পন্য দেশের অভ্যন্তরে বিতরণ করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে ই-ক্যাবের প্রস্তাব সুস্পষ্ট যে, রফতানী আয়ের সংজ্ঞায় পরিবর্তন প্রয়োজন। যেহেতু সেবা দেশে অবস্থান করলেও পন্যের মূল্যদাতা বিদেশ থেকে বিদেশে মূদ্রা প্রেরণ করছেন। তাই আভ্যন্তরীন সেবার বৈদেশিক মূল্যকে রফতানী আয় হিসেবে চিহ্নিত করা হোক।
এবং একই কারণে রফতানী আয়োর ক্ষেত্রে প্রনোদনা ই-কমার্সে ক্রসবডারের মাধ্যমে বৈদেশিক মূদ্রায় পন্য বিক্রিতেও সুবিধা দেয়া হোক।
যেহেতু ই-বাণিজ্য এই প্রকারের লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বৈধভাবে আসছে। এটা দেশের বৈশিথক আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এবং এ্র বিনিময়ে পন্য বা সেবা দেয়া হচ্ছে। সেহেতু এটা রফতানী বাণিজ্যের অন্তভূক্ত হওয়ার দাবীদার।
এর মাধ্যমে বৈধ উপায়ে লেনদেন এর প্রবণতা বাড়বে। ক্রস বডার ই-কমার্স প্রসারিত হবে। দেশীয় পন্য এবং গ্রামীণ পন্যের বাজার প্রসারিত হবে।
ক্রস বডার ই-কমার্সে নন ডেলিভারী
বর্তমানে ক্রস বর্ডারের মাধ্যমে বিদেশে বিক্রিত পন্য নন ডেলিভারী হলে কি হবে এ ব্যাপারে কোনো নীতিমালা নেই।
বর্তমানে ক্রস বর্ডারের মাধ্যমে বিদেশে বিক্রিত পন্য নন ডেলিভারী হলে কি হবে এ ব্যাপারে নীতিমালার প্রয়োজন এবং ফান্ড রিফান্ড পলিসি রিভিউ ও প্রয়োগের বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব করছি।
অনলাইন পন্য ক্রয়ে সাধারণত সব পন্য ক্রেতা গ্রহণ করে না। ইচ্ছা অনিচ্ছা বা বিভিন্ন কারণে ক্রেতা পন্যটি গ্রহণ নাও করতে পারে। সেক্ষেত্রে পন্য ডেলিভারী কতৃপক্ষ তাদের চার্জন অব্যাহত রাখে।
এতে করে ক্রস বর্ডার ই-বাণিজ্য বিকশিত হবে। দেশের পন্যের বিদেশের বাজার প্রসারিত হবে।

