কলম্বিয়া ভিসা আবেদন গাইড: বাংলাদেশিদের জন্য সম্পূর্ণ নির্দেশিকা
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সুন্দর দেশ কলম্বিয়া। প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক উপকূল, রঙিন সংস্কৃতি, কফি বাগান এবং ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। প্রতি বছর লাখো পর্যটক দেশটিতে যান। পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো এবং আতিথেয়তায় কলম্বিয়া পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য কলম্বিয়া ট্যুরিস্ট ভিসা আবশ্যক। নিচে দেওয়া হলো ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্য।
কারা ভিসা নিতে হবে
বাংলাদেশসহ আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, চীন এবং আরও বহু দেশের নাগরিকদের কলম্বিয়া ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে হবে।
ভিসার মেয়াদ ও শর্ত
কলম্বিয়া ট্যুরিস্ট ভিসা টাইপ V ভিসার অন্তর্ভুক্ত। ভিসাটি সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য দেওয়া হয়। তবে একটানা ৯০ দিনের বেশি থাকা যায় না। চাইলে অতিরিক্ত ৯০ দিনের জন্য নবায়ন করা সম্ভব। বছরে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করা যায়। এই ভিসায় কাজ বা নির্ভরশীল ভিসার সুবিধা নেই।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
-
কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদসহ বৈধ পাসপোর্ট (দুইটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে)
-
সাম্প্রতিক দুটি রঙিন ছবি (৩x৪ সেমি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)
-
আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ (শেষ ১০ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট)
-
আমন্ত্রণপত্র থাকলে তার প্রমাণ
-
রিটার্ন বা অনওয়ার্ড টিকিটের কপি
-
স্বাস্থ্যবীমা (অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, মাতৃত্ব, মৃত্যু ও প্রত্যাবাসন কাভার থাকতে হবে)
আবেদন প্রক্রিয়া
-
অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ – কলম্বিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আবেদন করুন।
-
ডকুমেন্ট আপলোড – PDF ও JPG ফরম্যাটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন।
-
ফি প্রদান – প্রথমে স্টাডি ফি এবং ভিসা অনুমোদনের পর ইস্যু ফি দিতে হবে। ১০ দিনের মধ্যে ফি পরিশোধ না করলে আবেদন বাতিল হবে।
-
সিদ্ধান্তের অপেক্ষা – সাধারণত ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসে। অতিরিক্ত কাগজপত্র বা সাক্ষাৎকার চাইলে সময় ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।
-
ভিসা গ্রহণ – অনুমোদনের পর ইমেইলে ই-ভিসা পাঠানো হবে। ১৫ দিনের মধ্যে ভুল থাকলে সংশোধন করা যায়।
ভিসা প্রত্যাখ্যান ও পুনরায় আবেদন
যদি আবেদন বাতিল হয় তবে পুনরায় আবেদন করতে হলে ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে।
ভিসা বাড়ানোর নিয়ম
প্রথমে ৯০ দিনের ভিসা দেওয়া হয়। পরে আরও ৯০ দিন বাড়ানো সম্ভব। বছরে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন থাকা যাবে।
কলম্বিয়া ভ্রমণের সতর্কতা
-
রাতে নির্জন এলাকায় যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
-
স্থানীয় আইন-কানুন মানুন।
-
পকেটমার থেকে সতর্ক থাকুন।
-
স্বাস্থ্যবীমা ও জরুরি যোগাযোগ নম্বর সঙ্গে রাখুন।

