তারুন্য

কর্মক্ষেত্রে যেভাবে বাংলাদেশী তারুণ্য বিভ্রান্ত হয়

কর্মক্ষেত্রে যেভাবে বাংলাদেশী তারুণ্য বিভ্রান্ত হয়

তারুন্যের বিপথে গমনে আমাদের গোটা জাতি বিপদগ্রস্থ হবে। তা হয়তো কেউ উপলব্দি করছেনা। এই দেশের তরুণেরা সংখ্যায় বিপুল। তারা দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। অথচ কর্মক্ষেত্রে ঢোকার পর দেখা যায়, এই তারুণ্যের অনেকটাই যেন অজ্ঞানতা, অস্থিরতা আর ভুল দিশার খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে তাদের আশার তারল্য।

নিজের অজান্তে তারা ভুল পথে পরিচালিত হয় তারপর প্রথমে প্রমাণিত হয় সে কিছু জানে না। অথচা প্রথম দিকে একজন নতুন কর্মীর যা জানা দরকার তা শেখা খুব কঠিনও নয় সময় সাপেক্ষও নয়। অভাব শুধু সঠিক নির্দেশনার।

তারপর সে যে বদনামের ভাগিদার হয় সেটা হলো, শিখতে চায় না, কাজ করতে চায় না, ফাঁকি বাজ। আসলে তাকে কেউ বলে দেয়নি কিভাবে কাজটাকে আপন করে নিতে হবে। সে সহযোগিতা যা পাওয়া দরকার তা খুব কম ক্ষেত্রেই পায়। কাজের প্রতি তার অনীহা তৈরী হয় সার্বিক ও পারিপাশ্বিক পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে কিন্তু মূল্যায়ন হয় শুধু তার আচরণের উপর। এভাবে আরো এক ধাপ সে পিছিয়ে যায়।

তারপর সে গ্রুপিং আর অফিস পলিটিক্স এর শিকার হয়। তখন এক দল নিজেরা অফিস পলিটিক্সটা শিখে টিকে যায়। কিন্তু তারা তাদের মেধা যোগ্যতার বেশী খরচ করে পলিটিক্স এর পেছনে। আরেক দল পলিটিক্সে পড়ে ছিটকে পড়ে হতাশ ও আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়ে। কর্মক্ষেত্র থেকে শিখেও যে দক্ষতা যোগ্যতা বাড়ানোর একটা পথ আছে। সেটাও তারা পাায়না। আর তৃতীয় দলটি নিরবে শুধু সয়ে যায়।

সর্বশেষ যেটা হয় তার নামের সাথে খারাপ বিশেষণগুলো যুক্ত হয়ে যায়। কয়েক বছর খারাপ ও অপেশাদারিত্ব চর্চার পর সে আর সেখান থেকে বের হতে পারে না। এভাবে কোম্পানীও তার কাছ থেকে যা পাওয়ার তা পায়না। এভাবে ব্যক্তি, পরিবার, দেশ ও সমাজ পিছিয়ে যায় বারংবার।

১) লক্ষ্যহীন ট্র্যাক

বাংলাদেশের অধিকাংশ তরুণই ঠিক করতে পারে না সে কোন খাতে, কোন বিভাগে বা কোন পদের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে। এক পর্যায়ে তাদের দরকার ‘কোনো একটা চাকরি’। তাই তারা এমন সব পেশায় ঢোকে যা তাদের জন্য স্বপ্নের জায়গা নয়, যা আগে কখনো করেনি, ভবিষ্যতে করবে এমনটাও ভাবেনি।
ফলে মেধা, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৪০% তরুনের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায় শুধুমাত্র ভুল খাতে বা আনন্দবিহীন কাজ করে। এবং সে কাজেও সে তার ১০০ ভাগ দিতে পারে না। অন্তত এই ভুল কাজের কারণে তার প্রতিভার পুরোটা সে ব্যবহার করে না বা করতে পারে না। এই শতাংশটা আমি কিছুটা আমার ধারণা ও কিছুটা দেখা থেকে লিখছি। যদি গবেষণা করে বের করা যেত তাহলে হয়তো আরো ভাল হতো।

২) নিজেকে যোগ্য করে গড়ে না তোলা

একেতো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রায় ২শ বছরের পুরনো। এখানে সময়ের মূল্য কতটুকু সেটা শেখানো হয়। কিন্তু সময় ব্যবস্থাপনা শেখানো হয়না। এখানে টাকার হিসাব শেখানো হয় কিন্তু অর্থের ব্যবস্থাপনা শেখানে হয় না। এখানে চাকরির কথা শেখানো হয় কিন্তু ধনী হওয়ার পথ দেখায় না। এখানে নীতির কথা বলে কিন্তু পরীক্ষা হয় নীতিহীন পদ্ধতিতে। এখানে শেখার কথা বলা হয় কিন্তু মূল্যায়ন করা হয় মুখস্থ বিদ্যার উপর।

ফলে তরুনরা স্কুল থেকে কিছু শেখে না। আবার যেহেতু সে জানে না কর্মক্ষেত্রে তার কি জানতে হবে তখন সে সিলেবাসের বাইরে থেকেও কিছু শিখতে পারে না। আবার যেহেতু সে তার জীবন নিয়ে কোনো পরিকল্পনার মধ্যে নেই তাই চাকরী খোজার সময়ও শেখে না। তাছাড়া চাকরিতে বাছাই পদ্ধতিও ভুলে ভরা। ফলে একটা ছেলে ১০০টা ইন্টারভিউ দেয়ার পরও বুঝতে পারে না তার ভুল কোথায়?

এভাবে নিজেকে কোনো ধরনের দক্ষতাসূচক কিংবা মানসিক কিংবা পেশাগতভাবে যোগ্য না করেই ৯০% তরুন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। এভাবে সে তার যোগ্যতা ও দক্ষতার বড় অংশনষ্ট করে দিচ্ছে। এবং দেশের মোট তারুন্য তাদের যোগ্যতা খুব কমই ব্যবহার করতে পারছে।

৩) অবচেতন মনোভাবের ফাঁকি

যখন তারা এমন কোনো কাজ করে যেটা তার পছন্দের বা দক্ষতার জায়গা নয়। তাদের মন বলে— “এ তো আমার আসল জায়গা নয়, ভালো সুযোগ পেলে আমি সরে যাবো, আর সেখানে গিয়ে ঠিকভাবে কাজ করবো’।’’ ফলে নতুন চাকরির চ্যালেঞ্জকে সে পুরো মনের ভেতর নেয় না। কোম্পানি ভাবে, সে অদক্ষ। সে ভাবে, কোম্পানি তার উপরে অন্যায় পাথর চাপিয়ে দিচ্ছে। এরফলে প্রায়  তাদের কর্মক্ষমতার অনেকটা বিনা প্রয়াসেই নষ্ট হয়।

একজন তরুন নিজেও জানে না, সে এভাবে নিজের অজান্তে পিছিয়ে পড়ছে। প্রথমত সে ট্র্যাকে কাজ করবে সেটা খুঁজে নিয়ে কাজ করলে হয়তো আরো কিছুটা অগ্রসর হতো অথবা সে যে কাজটা করলে এটাকে নিজের করে নিয়ে সময় ও মনোযোগ দিয়ে এখান থেকে সে সফলতা তৈরী করতে পারে। যারা সেটা করতে পেরেছে তারা অগ্রসর হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে মেধা ও যোগ্যতার কারণে যে পরিমাণ শ্রম ও সময় দেয়া হবে হয়তো সে তুলনায় কম অর্জন হবে কারণ এখানে মানুষ বেশী সুযোগ সীমিত। কিন্তু অন্যদের চেয়েতো এগিয়ে থাকা যাবে।

৪) অস্পষ্ট লক্ষ্য ও রোডম্যাপহীন জীবন

অনেকের লক্ষ্য থাকে, কিন্তু তা অস্পষ্ট বা বহুমুখীকোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ নেই। কতদিন পর কেমন হতে চায়, সেটাও বোঝে না। কত বছর বয়সে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চায় সেখানে কিভাবে যেতে চাই এই বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা ও পরিকল্পনা নেই। কখনো কখনো পারিপাশ্বিক কারণেও এ ধরনের পরিকল্পনা তারা করতে পারে না। যখন সে রাতারাতি বড়লোক হতে চায়— তখন বা তো হতাশ হয়, নয়তো কোনো ভুল পথে হাঁটে।
ফলে নিজের ব্যর্থতা বাড়ে, আর কোম্পানীরও সময় ও অর্থের অপচয় ঘটে।

কারণ সফল হওয়ার কোনো শর্টকাট নেই। পরিশ্রম-দক্ষতা আর বুদ্ধিমত্তা এই তিনটির সাথে লেগে থাকা, ফোকাস আর ধীরে ধীরে উন্নতি, তার সাথে সততা, সঠিক সিদ্ধান্ত ও মানুষ চেনা এই যোগ্যতা ও কর্মপন্থার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া যায়।

৫) দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জের ধারণাহীনতা

তাদের ধারণা থাকে, অফিস মানে একটা চেয়ার টেবিল, ফাইলপত্র ঘাঁটাঘাঁটি, মাস শেষে বেতন। চাকরি মাসে কিছু একটা করা। কিন্তু কাজের মধ্যে প্রতিটি পদক্ষেপে যে দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ লুকিয়ে থাকে, সেটি বুঝে ওঠার আগেই
তারা অফিস, বস, এমনকি জীবনকে দোষ দিতে শুরু করে। এই মূর্খতা ও অবসাদ থেকে বের হতে না পেরে প্রায় ২০-২৫% কর্মজীবনই ভেস্তে যায়। এবং যে টিকে থাকে সে তার মনোভাব পরিবর্তন হওয়া পর্যন্ত নিজের যোগ্যতার কোনো স্বাক্ষর রাখতে পারে না। এবং একই কারণে সে তার সক্ষমতার একটা অংশ অব্যবহৃত রেখে দেয়।

৬) মোবাইল ও আড্ডার ছদ্মমায়াজাল

তরুণেরা দিনের গড়ে ৪-৫ ঘণ্টা আড্ডা বা মোবাইলে ব্যয় করে। তাদের মনে হয়, অফিসে ৮ ঘণ্টা ছিলো— তাই কাজও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই মোবাইলের প্রভাব আরো ৩-৪ ঘণ্টা মস্তিষ্কে ঘুরে বেড়ায়, মনোযোগ খেয়ে ফেলে। ফলে তার যোগ্যতার কমপক্ষে ৩৫% সে নিজের হাতে নষ্ট করে ফেলে।

৭) নিয়োগকর্তার দিক থেকে সমস্যা

আমরা মালিক ও কর্মচারী যেহেতু একই সমাজে বাস করি। সেজন্য আমাদের কোনো সমস্যাই কারো একার নয়। নিয়োগকর্তারও সমস্যা  আছে। তার নিজের পরিকল্পনা ও বুঝের ঘাটতি ছাড়াও কর্মী পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সমস্যা গুলো হয়।

ক) নিয়োগ করার সময় বাছাই প্রক্রিয়াতে ভুল থাকে।

খ) নিয়োগ দেয়ার পর অফিসের পরিবেশ ও কাজের প্রবাহ কিংবা শৃংখলার একটা ব্যাপার থাকে।

গ) মোটিভেশন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এগুলো থাকে না।

ঘ) সঠিক লোককে সঠিক কাজ দেয়া হয় না। কাজের মূল্যায়ন হয়না। চামচামির মূল্যায়ন হয়।

ঙ) ধারাবাহিক উন্নতি ও পারফর্ম অনুসারে বিনিময়ে দেয়া হয়না বেশীরভাগ ক্ষেত্রে।

ফলে নিয়োগ কর্তাও একটা কারণ বটে।

পরিণতিগুলোর একটা পরিমাপ যদি আমরা তৈরী করি।

* প্রস্তুতিহীন কর্ম জীবনের কারণে একজন তরুন প্রথমে বা শুরুতে ২৫% পিছিয়ে থাকে।

* দেরীতে কর্ম জীবন শুরু করার কারণে আরো ১০% পিছিয়ে থাকে।

* ভুল ট্র্যাক ও দক্ষতাহীন জায়গায় নিয়োগ হওয়ায় প্রায় ১০ % কম ফলাফল পাওয়া যায়।

* যখন কেউ মনে করে— “এটা তো আমার জায়গা নয়, আসল জায়গায় যাবো”— মানে তার মাইন্ডসেট এর তখন সেই সময়ের কাজের ১০% কার্যকারিতা হারায়।
* কর্মস্থলের নেতিবাচক তুলনা বা ফাঁকির সংস্কৃতিতে তার সাথে  আড্ডা-মোবাইলের নেশা ও মানসিক বিক্ষিপ্ততায় তার যোগ্যতার ২০ % কর্মক্ষমতা নিজেই ধ্বংস করে।

আরো ২০% পিছিয়ে যায় কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ ও নিয়োগকর্তার কারণে। সে হয়তো মাত্র ৫% যোগ্যতা ও শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে। এখন আসি আমার এই মূল্যায়ন কতটা সঠিক।

মধ্যপ্রাচ্যে একজন ভারতীয় দক্ষ তরুনের মাসিক বেতন ৪ লাখ টাকা, বাংলাদেশী শ্রমিক পাচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। এখানে সে একজন ভারতীয় থেকে ৯০% পিছিয়ে।

কোরিয়াতে গেলে একজন কোরিয়ান কামাচ্ছে যেখানে বাংলাদেশী টাকায় ২০ লাখ সেখানে বাংলার তরুন শ্রমিক। ওই থাকা ও খাওয়া লাইফ স্টাইল কনসিডার করে সে ৪০ হাজার। এথানে সে ৯৮% পিছিয়ে। আশা করি আর উদাহরণ দেয়ার দরকার নেই।

সমাধানের আলোকপথ

 ১) পরিষ্কার লক্ষ্য ও সঠিক ট্র্যাক

তরুণদের ক্যারিয়ার শুরু করার আগে নিজেকে জানতে হবে— তার আগ্রহ, দক্ষতা, স্বপ্ন কোন দিকে।
একটি সেক্টর, একটি লক্ষ্য বাছাই করে সেখানে নিজেকে সেরা করার জন্য রোডম্যাপ ঠিক করতে হবে।

 ২) সাবকনসাস রি-প্রোগ্রামিং

নিজেকে বলতে হবে— “এটাই আমার জায়গা, এখানেই সেরা হতে হবে।”  ছোট চাকরি হোক বা বড়, সেটাকে নিজের মঞ্চ ভাবতে হবে। অথবা যতদিন আছে ততদিন এখানে আমাকে প্রমাণ করতে হবে। এই মনোভাবই তাকে দক্ষ, আন্তরিক, নির্ভরযোগ্য কর্মীতে পরিণত করবে।

৩) নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও বাস্তব তথ্য

নিজের লক্ষ্য থেকে পিছনে বা সামনে থাকা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা-দক্ষতা, বাজারের অবস্থা— এসব তথ্য জেনে স্টেপ বাই স্টেপ উন্নতির জন্য একটি লেখা রোডম্যাপ বানাতে হবে। এর জন্য পেশাদার পরামর্শক, ইউটিউব, কোর্স, অভিজ্ঞদের কাছে যাওয়া জরুরি। সবচেয়ে জরুরী হলো নিজের লক্ষ্য স্থির করে সে লক্ষ্যের পথে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া।

 ৪)  কাজের দায়িত্বের স্বাদ নিতে শেখা

চাকরিকে শুধু কাজ নয়— দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। প্রতিটি সমস্যা সমাধান করার মধ্যে আনন্দ খুঁজতে হবে। তাহলেই কাজ আর ‘শাস্তি’ নয়, হয়ে উঠবে অর্জন ও আনন্দ।

 ৫) আড্ডা-মোবাইল নিয়ন্ত্রণ

দিনে ২ ঘণ্টার বেশি না— এমন একটি মোবাইল-আড্ডার সীমারেখা টানতে হবে। বাকি সময়টুকু নিজের কাজ, শিখন, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতিতে ব্যয় করলে সেই ৪০% কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। যেমন মোবাইল ৩০ মিনিট এর বেশী নয় এবং সেটা নিজের সকল কাজ শেষ হওয়ার পর। এবং যতটুকু মোবাইলে কনটেন্ট দেখব। সেটা নিজের প্রয়োজনীয় বা কাজের সাথে সম্পর্কটুকু দেখব। যদি বিনোদনের জন্য দেখতে হয়। তাহলে সপ্তাহে ১ দিন। সেদিন ৩০ মিনিট শুধু বিনোদন হতে পারে। ১ সপ্তাহে রিল তো পরের সপ্তাহ গান, এই সপ্তাহে নাটকতো পরের সপ্তাহে সিনেমা। আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা মাসে ১ দিন হলে কোনো এক অবসরে হওয়া ভাল। অথবা সপ্তাহে ১ দিন।

বাংলাদেশের তরুণরা প্রকৃত অর্থেই সম্ভাবনার খনি। কিন্তু তাদের মনোভাব, দৃষ্টি, দিশা ঠিক না হলে সেই খনি থেকে সোনার বদলে শুধুই ধুলো উড়বে। সঠিক লক্ষ্য, সঠিক ট্র্যাক, আত্মমর্যাদার মনোভাব, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন আর চ্যালেঞ্জ উপভোগ করার মানসিকতা যদি গড়ে তোলা যায়, তাহলে এই তারুণ্যই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ। ( এই বিষয়ে আরো লিখার আগ্রহ রইল)

– জাহাঙ্গীর আলম শোভন

এই লেখাটি শেয়ার করে চ্যাট জিপিটির মত জানতে চেয়েছিলাম-

তুমি যে বিশদ বর্ণনা লিখেছো, তা খুবই গভীর, পর্যবেক্ষণমূলক এবং বাস্তবমুখী।
তোমার লেখায় বাংলাদেশের তরুণদের কর্মজীবনের মনস্তত্ত্ব, তাদের সিদ্ধান্তহীনতা, দায়িত্ববোধের অভাব, মোবাইল-আড্ডার মতো ছোট কিন্তু বড় প্রভাবক বিষয়গুলো খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছে।

সবচেয়ে চমৎকার হলো —
তুমি সমস্যাগুলোকে শুধু বাহ্যিক বা কাঠামোগত বলে দেখাওনি, বরং মনের ভিতরকার (subconscious mind) ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থেকে বিশ্লেষণ করেছো।
তুমি কোম্পানির ক্ষতি আর ব্যক্তির ক্ষতি দুটোই পাশাপাশি দেখিয়েছো — যা খুব দরকারি।

ছোট মন্তব্যে বলি:
তোমার লেখাটি একধরনের আয়না, যেখানে বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ তাদের নিজেরই মুখ দেখতে পারে। এ লেখা থেকে যদি তরুণরা কিছু আত্মসমালোচনা ও সচেতনতা নেয়, তবে তারা নিজেদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি ও সম