জলের দামে ডাবের জল
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
আমাদের দেশে যখন বোতলপানি খাওয়া শুরু হয় তখন দেখা গেল পানির কেজি ২০ টাকা আর দুধের কেজী ৭টাকা। তখন সিরাজগঞ্জে প্রতি লিটার দুধ ৭ টাকায় পাওয়া যেত। আর প্রতি লিটার বোতলজাত পানি ছিল ২০ টাকা।
কম্বোডিয়াতে গিয়ে দেখি পানির বোতল ১ ডলার আবার ডাবও ১ ডলার। ডাব আবার ছোটখাটো ডাব নয়। আকারে বড়, পানি বেশী খেতেও সুমিষ্ট।
কম্বোডিয়া, আনুষ্ঠানিক নাম কিংডম অব কম্বোডিয়া। এটি উত্তর-পশ্চিমে থাইল্যান্ড, উত্তরে লাওস, পূর্বে ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে থাইল্যান্ড উপসাগরের সাথে সীমাবদ্ধ। ১,৮১,০৩৫ বর্গকিলোমিটারের দেশে প্রধানত নিম্নভূমি, মেকং নদী এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম হ্রদ টনলে স্যাপ দ্বারা বিস্তৃত ভূমি। এখানে বাংলাদেশের মতো উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ু বিদ্যমান তবে জীববৈচিত্র্যে আছে। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১.৭ কোটি, যার বেশিরভাগই খমের জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ধর্মে বৌদ্ধ, অনেকে ধর্মহীন, চীনা বংশোদ্বুদদের আনাগোনা দেখবেন সর্বত্র। রাজধানী মেকং নদীর তীরে বৃহত্তম শহর ফনম পেন বা নম পেন। বর্তমানে চীনের বিনিয়োগ আর ডলারের লেনদেন দেশটিকে সমৃদ্ধ করছে।
গতমাসে (ফেব্রুয়ারী ২০২৪) মাত্র ২ দিনের কম্বোডিয়া সফরে ছিলাম। এটা আমার মোট ১১ দিনের সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া সফরের অংশ ছিল। সবচেয়ে বেশী সময় বা বেশী ভ্রমণ করেছি বা দেখেছি মালয়েশিয়া ৫ দিন, সবচেয়ে ভাল সময় কাটিয়েছি সিঙ্গাপুরে ৪ দিন কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে ভাল লেগেছে কম্বোডিয়া মাত্র ২ দিন।
জাতিসংঘ একে “স্বল্পোন্নত দেশ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কৃষি এখানকার প্রধান অর্থনৈতিক খাত হলেও টেক্সটাইল, নির্মাণ, পোশাক ও পর্যটন খাতের বিকাশের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বেড়েছে। তবে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বন উজাড়ের মতো সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। দেশের সরকারি ভাষা খমের এবং প্রধান ধর্ম বৌদ্ধধর্ম। এর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অ্যাংকোরীয় সভ্যতা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রভাব দ্বারা গঠিত হয়েছে। মুুসলিম সংখ্যালঘু মাত্র ২%।
দুই ধরনের মানুষের কাছে কম্বোডিয়া ভাল লাগবে। বিশেষ করে যারা ছিমছাম জীবনধারা পছন্দ করেন তাদের কাছে ভাল লাগবে। কারণ হৈ চৈ নেই, চিল্লাফাল্লা নেই, রাস্তায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করিনি। গরিব হলেও লোকেরা রাস্তা ঘাট ময়লা করে না। শহরের মাঝখান দিয়ে নদী বয়ে গেছে তাও পানি পরিষ্কার। এসব কারণে আমার কাছেও ভাল লেগেছে। জিনিসপত্রে দাম কম, বিশেষ করে ফলের দাম আর গ্যাস সিলিন্ডার দুটো জরুরী জিনিসের দাম কম। যদিও বোতলজাত পানির দাম একটু বেশী। তবে সে তুলনায় ডাবের দাম কম।
আরেক শ্রেণীর মানুষের কাছে দেশটা ভাল লাগবে। তাদের কথা পরে বলছি।
প্রথমে কোটিপতি হওয়ার গল্পটা বলে নিই। আপনার কাছে যদি ১ ডলার থাকে তাহলে বর্তমান বাজার দরে আপনি ৪ হাজার কম্বোডিয়ান রিয়ালের মালিক, ১০ ডলার ভাঙালে পাবেন ৪০ হাজার স্থানীয়মূদ্র, ১০০ ডলার ভাঙালে পাচ্ছেন ৪ লাখের বেশী। যদিও এদেশে ১ লাখ স্থানীয় মূদ্রার নোট পাওয়া যায়। সবচেয়ে ছোট নোট হলো ২০০ রিয়াল।
সাধারণত কম্বোডিয়ান ইমিগ্রেশন দেখে যে আপনার নিকট কমপক্ষে ১ হাজার ডলার আছে কিনা? সেদেশের সরকার ডলারে লেনদেন অনুমোদন করায় আপনি সর্বত্র ডলারে লেনদেন করতে পারবেন। তবে ১ ডলারের কম টাকার জন্য লোকেরা আপনাকে ভাঙতি দিয়ে গিয়ে সেদেশের টাকাই দিয়ে দিবে। ১০০ ডলার বা ১০ ডলার দিলেন, কিছু কম খরচ হলো বাকী টাকা ওরা আপনাকে স্থানীয় মূদ্রায় ফেরত দেবে।
এমনটা আমার সাথে বিমানের মধ্যেও ঘটেছিল। এয়ার এশিয়ার ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে কম্বোডিয়া যাওয়ার সময় দেড ডলারে ১ বোতল পানি নেয়ার পর আমি ১০ ডলারের নোট দিলে বিমানের আপা আমাকে বাকী টাকার কম্বোডিয়ান নোট দিয়েছিল। বলে রাখা ভাল এই রুটে এয়ার এশিয়ার বাজেট ফ্লাইটগুলো দাম কম কিন্তু ওরা লাগেজও বেশী দেয়না আবার বিমানে খাবারও কিনে খেতে হয়।
যাই হোক বুঝতেই পারছেন, আপনি যদি ১ হাজার ডলার নিয়ে সেদেশে প্রবেশ করেন তাহলে আপনি ৪০ লাখ স্থানীয় টাকার মালিক। ২ হাজার ডলার মানে ৮০ লাখ টাকা আর মাত্র ৫০০ ডলার যোগ করলে মানে ২ হাজার ৫শ ডলার নিয়ে গেলে ১ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলেন। মানে বাংলাদেশ টাকায় ৩ লাখ টাকা থাকলে আপনি কোটিপতি।
কয়েকজন বাংলাদেশী পেলাম যারা হোটেল রেস্টুরেন্ট মালিক। কাউকে নাগাল্যান্ডে গিয়ে ক্যাসিনো খেলতে গিয়েছে বলে শুনেছি। হাজার হাজার ডলার নিয়ে। তাহলে যারা দেশী টাকায় ১০/২০ লাখ নিয়ে ছোট খাট ব্যবসা করছে। তারাতো সেখানো কোটি কোটি টাকার মালিক। অবশ্য বাংলাদেশী বিগত বছরগুলোতে যেভাসে শত কোটি টাকা করে শত শত লোক লোপাট করেছে। কোটি টাকার দাম মনে হয় এদেশে আর থাকবেনা।
আমি দুটো টি-শার্ট কিনেছিলাম স্থানীয় মূদ্রায় ১ লাখ টাকায়। বাংলাদেশী টাকায় মাত্র প্রায় ৩ হাজার টাকা। সেদেশে পানিও ১ ডলার, ডাবও ১ ডলার। এটা জানার পর পানির বদলে ডাবই খেলাম ২ দিন ধরে। ডাব আবার বেশ বড় বড়ো গ্লাসে ১ গ্লাস পানি বলতে পারেন আমরা যে গ্লাসে আখের রস কিনে খাই সে গ্লাসে ২ গ্লাস জল হবে। অবশ্য বিয়ারের দামও ১ ডলার বা তার কম। এবার বুঝলেনতো আরেক শ্রেণীর লোকদের জন্য এদেশে সুবিধা যারা হটড্রিংসে অভ্যস্ত।
মালয়েশিয়া গিয়ে কম্বোডিয়ার ভিসা নিলাম। তাদের ছোট দূতাবাসটি গাছপালা ঘেরা মনোরম পরিবেশে। প্রথমে বলল, কালকে আসুন, ব্যাংক বিবরনী আর টিকেটে/হোটেল বুকিং সব কাগজ নিয়ে আসুন। ১ ঘন্টায় ভিসা হয়ে যাবে। আমরা বাংলাদেশের মানুষ তার উপর একটু নোয়াখাইল্যা বা ফেনী আছি। কোনো সুযোগ থাকলে তা বের করবো। গেটম্যানকে দূ:খের কথা বলার পর সে ৩০ মিনিট সময় চেয়ে নিল। আমি ফরম ফিলাপ করে ছবি দিলাম সাথে পাসপোর্ট আর আমার সাথে থাকা বাকী ২ জন শুধু ফরম পূরণ করে দিল। একটু ঘুরে এসে রুপালি স্টিকার যুক্ত ভিসা বুঝে নিলাম।
সেদিনই টিকেট ও হোটেল বুক করলাম। আমার ইচ্ছে ছিল সিঙ্গাপুর গিয়ে সেখান থেকে কম্বোডিয়া যাব। কিন্তু পরে মত পাল্টালাম। ফলে আমরা যে ২ জন যাব তাদের ফ্লাইট আলাদা হয়ে গেল। একজনের হলো সকালে আমার হলো রাতে। রাত ৮টায় বিমানবন্দরে নেমে বের হয়ে দেখি ২/৪ জন বাংলাদেশী তাদের দেশীয় স্বজনের অপেক্ষা করছেন। আলাপ করে জানলাম তারা এদেশে নতুন এসেছেন, কিছু করার চেষ্টা করছেন। বিমানেও ২/১ জন ছিলো।
যাইহোক অনেক দরদাম করে শেষে ৫ ডলারে ১টা টুকটুক নিয়ে হোটেলমুখী হলাম। প্রথমতো ৯ থেকে ১৫ ডলার চাইছিল। রাস্তায় আসতে ভাড়া কমে গেল। ২ বাংলাদেশী সহযোগিতা করেছিল। সেখানে আমাদের এখানকার মতো সিএনজিতে এখানে ওখানে কম ভাড়ায় যাওয়া যায়। আধা ডলারও ভাড়া আসে। যে সুবিধাটা সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়াতে পাইনি। মালয়েশিয়াতে গ্রাব আমাদের এখানে উবারের ও পাঠাও এর মতো উঠলে ৫০ রিঙ্গিট ভাড়া চলে আসে আর সিঙ্গাপুরে ২০ ডলারতো মামুলি ব্যাপার।
যাইহোক ৯ তারিখ হোটেলে গিয়ে বিশ্রাম নিলাম। পরের দিন শহর দেখতে বের হলাম। একজন চাইনিজ বংশোদ্ভুত টুকটুক ড্রাইভার পেলাম, বেচারা বেশ ভদ্র, ইংরেজীও জানে, ভাড়া চাইল সারাদিন বা ৮ ঘন্টার জন্য ১৫ ডলার। যদিও আমরা নিলাম একটা মাইক্রো একই সময়ের জন্য ৫৫ ডলারে। ওই বেটা আবার ইংরেজী জানে না। খুবই ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল। কোথা থেকে কোথায় যাব সেটা হোটেলের ম্যানেজারের কাছে ফোন দিয়ে তারপর তাকে ধরিয়ে বুঝিয়ে বলতে হয়েছিল।
যদিও আমার ইচ্ছে ছিল, টুকটুকে ১৫ ডলার খরচ করা। যেহেতু শহরে ধুলাবালি কিংবা যানজট কোনোটা নেই। আবার ফেব্রুয়ারী মাসের আবহাওয়াও আরামদায়ক তাই টুক টুক ভ্রমণ মজাদার হবে। আমার ধারণা ঠিক হলো। এসির মধ্যে মাইক্রোতে বসে ভাল লাগেনি আবার ড্রাইভারের সাথে ভাষা সমস্যা। এখানে ভাষা ১ টি সমস্যা বটে। যারা ললনাদের সাথে বসে খোশগল্প করতে চায় তারা সবচেয়ে বিরক্ত হয়। তবে ইংরেজী জানা আমার সে টুকটুক ড্রাইভার মিলে যাওয়া বেশ ভ্যাগ্যের ব্যাপার ছিল।
সে ড্রাইভারকে আমি বাংলাদেশের একটি কাপ নুডুলস উপহার দিয়েছিলাম। সফরে গেলে আমি কাপ নুডলস নিয়ে যাই। তাতে সুবিধা হলো ১ বেলা যদি হোটেলে থাকা ক্যাটলিতে পানি গরম করে খাওয়া যায়। বিদেশে খাবারের খরচ কিছুটা সাশ্রয়ী হয়। কারণ ৫ ডলার খাবারটা ৩৫ টাকায় হয়ে যায়। তাছাড়া অনেক সময় সকাল বা রাতে দেশী খাবার পাওয়া কঠিন হয়ে যায় কিছু কিছু দেশে। সেজন্যে এই ব্যবস্থা। যেহেতু মালয়েশিয়াতে খাবারের সমস্যা ছিলনা তাই আমার তেমন লাগেনি বলে ওকে ২টা উপহার দিয়েছিলাম। বাচ্চাদের জন্য স্কুলের টিপিনে দিতে। লোকটা বেশ খুশি হয়েছিল। কি জিনিস বা কত দামী সেটা নয়। ভিনদেশী পর্যটন ১ ঘন্টার পরিচয়ে একটি উপহার দিচ্ছে সেজন্য।
আমরা মোট ৫টি জায়গায় গেলাম ১ ঘন্টা আগে ভ্রমণ শেষ হয়ে গেল। অনেক জায়গায় আবার ভেতরে ঢুকিনি আর এদেশে পুরনো স্থাপনাগুলো আর গণহত্যার জায়গাগুলো হলো ট্যুরিস্ট স্পট। সব দেখতে প্রায় একই রকম। তাই ইতিহাস নিয়ে আগ্রহ না থাকলে ভাল নাও লাগতে পারে। আমি স্থানীয় মূদ্রায় ৫ হাজার টাকায় ২০টি কোয়েল পাখির সিদ্ধ ডিম কিনে খেলাম। এই দেশেও দেখলাম লোকেরা ফঢুপাতে নতুন নোট বিক্রি করে। সম্ভবত পর্যটকদের কাছে ডলারের বিনিময়ে রিয়াল দেয়।
এতদিন লোকের মুখে শুনেছি যে ওখানকার লোকেরা পোকামাকড় খায়। কিন্তু এবার সরাসরি দেখলাম। পোকামাকড় ভেজে রাস্তায় বিক্রি করছে। লোকেরা কিনে খাচ্ছে। বিকেলের নাস্তা। স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি বাংলাদেশী, পাকিস্তানী ও ভারতীয় খাবার পাওয়া যায়। দেশী ভাইদের হোটেল ও রেসটুরেন্ট আছে। তবে স্থানীয় খাবারের দাম কম হলেও দেশীয় খাবার একটু দামী। মোটামোটি ৬ থেকে ১০ ডলার পড়ে যাবে জনপ্রতি ১ বেলা খাবারে। অবশ্য একটু খোজ করলে আড়াই থেকে ৩ ডলারেও মিলতে পারে দেশী ভাইদের সেবায় দেশী হোটেলে দেশী খাবার। একটু খবর নিয়ে যেতে পারেন।
এদেশে কেনাকাটার কিছু পাবেন না। তবে তাজা ও উন্নত ফল পাবেন। প্রতিটি ফল সুস্বাদু. রসালো ও ফরমালিন মুক্ত। তাই আসার সময় পরিবারের জন্য ফল আনতে ভুলবেন না। যদি একাধিক দেশ একসাথে ভ্রমণ করেন তাহলে সর্বশেষ কম্বোডিয়া হয়ে ঢাকায় আসলে ফল আনতে পারবেন। যদিও আমি টি শার্ট কিনেছিলাম।
বারের সামনে দিয়ে হেঁটে গিয়েছিলাম। প্রতিটি বারের সামনে ২ থেকে ২০টি করে সুন্দরী মেয়ে সেজেগুজে বসে থাকে। কারণ জানলাম যে, এখানে গিয়ে ১ বোতল ড্রিংকস নিলে ১ টি মেয়ে ক্রেতাকে সঙগ দেয়। বোতলের জন্য দাম দিতে হয় কিন্তু মেয়ের সেবার জন্য কোনো মূল্য দিতে হয় না। খুশি হয়ে মেয়েটিকে কিছু দিলে হয়।
ভাবলাম, নাগরিক সভ্যতা আমাদের কোথায় নিয়ে গিয়েছে। আমরা মেয়েদের পণ্য বানাতে বানাতে এমন এক জায়গায় নিয়ে গিয়েছি। বোতলের সাথে নারী ফ্রি। মানে ১ বোতল বিয়ারের দাম আছে ১ টি মেয়ের দাম নেই।
তবে একটি দৃশ্য আমার এখনো চোখে লেগে আছে। শহরের ১ গলি দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। সম্ভবত সেখানেই বারগুলো এবং তার সামনে মেয়েগুলোও ছিল। দেখলাম আমাদের দেশের মতো রিকসাভ্যানে ১টি মুসলিম মেয়ে বোরকা পরে হালাল গরুর মাংস বিক্রি করছে। আমি দৃশ্যটা দেখে একটাই আবেগতাড়িত হয়েছিলাম। ছবি তুলতে ভুলে গিয়েছিলাম।
ভাবলাম, ইসলাম ১টা মেয়েকে কতটা মর্যাদা দিয়েছে। এই মেয়েটি যদি মুসলিম না হতো হয়তো সেও ওখানে সেজেগুজে পেটে-ভাতে পরপুরুষের আনন্দবিলাসের কারণ হতো। আজ সে হালাল মাংস বিক্রি করে হালাল উপার্জন করে সম্মানের জীবন বেচে নিয়েছে। তাকে কেউ বিনাপয়সা পাওয়ার চিন্তাতো করছেনা এমনকি টাকা দিয়েও কিনতে আসবেনা।
পরের দিন মেকংভিউ হোটেল যেখানে আমরা ছিলাম তার পাশে একটা মসজিদ পেলাম। নাম মালয়েশিয়া কম্বোডিয়া মসজিদ। সেখানে যোহরের নামায এবং ২ রাকাত নফল নামায পড়লাম। নদী তীরে একটু হেঁটে আসলাম। কম্বোডিয়াতে সবচেয়ে ভাল লেগেছে রাতে মেকং নদীর পাড় ধরে হাঁটা আর বসে গল্প করা। এখানে মেয়েরাও বসে থাকে রাতের অতিথি হওয়ার জন্য ডাকে। তবে খুব বেশী বিরক্ত করে এমন নয়।
নমপেন ঠান্ডা এক নিরব শহর। এখানে আমাদের মতো পেঁ-পুঁ হর্ণ নেই, পথে পথে ভিক্ষুকও তেমন নয়। যদিও আমরা বলি আমাদের চেয়ে তারা গরিব। আয়তনে সোয়া ১ গুন বড় আর জনসংখ্যা আমাদের ১০ ভাগের ১ ভাগ। বন্যা প্রাকৃতিক দূর্যোগ নিত্যসঙ্গী। গ্রামীন জীবন এখনো আমাদের দেশের ৩০/৪০ বছর আগের মতো হবে হয়তো। শহরটা দেখতে ভাল। চুরি, ছিনতাই প্রতারণা তেমন নেই। মানুষগুলো সরল সিধা।
মেসেজ পার্লারে সেবা বেশ ভাল হলে সাশ্রয়ী হলেও এখানে প্রতারণার জাল বিছানো আছে। বিশেষ করে আপনি নিজে লকারে আপনার ব্যাগ রাখবেন। চাবি নিজের কাছে রাখবেন। আসার সময় নিজ হাতে খুলে নিজের মালপত্র নিয়ে আসবেন। হোটেলে এসে দেখবেন আপনার ডলার ঠিক জায়গায় আছে। কিন্তু সব কচকচে নোট হয়ে গেছে। মানে লকারের পেছন দিক থেকে খুলে জাল ডলার দিয়ে দিয়েছে। এটা ওখানে রুটিন প্রতারণা। তাই যারা মেসেজ পার্লারে যাবেন তারা সাবধান। টুকটুক ও গাড়ি বা ফল দরদাম করে কিনতে পারবেন। আমাদের যেমন গলির মোড়ের দোকানেও জুস পাওয়া যায় ওদের ওখানে সেভাবে মদ পাওয়া যায়। তাই বুঝতে পারছেন কিছু মানুষের জন্য দেশটা খুব আনন্দ ও মজার হবে।
৮০২ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় জয়বর্মন নিজেকে রাজা ঘোষণা করে চেনলার যুদ্ধরত খমের রাজপুত্রদের একত্রিত করে “কম্বুজ” রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন, যা খমের সাম্রাজ্যের সূচনা করে। ভারতীয় প্রভাবিত এই সাম্রাজ্য প্রথমে হিন্দু ধর্ম এবং পরে বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার ঘটায় এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপত্য নির
