এ্যালার্জি হলো শরীরের একটি বিশেষ ধরনের প্রতিক্রিয়া। এটি তখন ঘটে যখন শরীর কোনো নির্দিষ্ট খাদ্য, পরিবেশ বা পদার্থকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারে না।
এ্যালার্জির উদাহরণ
-
কিছু মানুষ চিংড়ি বা বিশেষ ধরনের মাছ খেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
-
কেউ কেউ সূর্যালোক, ধূলাবালি বা তাপ সহ্য করতে পারে না।
-
আবার কারো পশু-পাখি, উদ্ভিদ বা কিছু কাপড়ের সূতো স্পর্শ করলে শরীরে সমস্যা দেখা দেয়।
সুতরাং, এ্যালার্জি মূলত শরীরের সেই প্রতিক্রিয়া, যেখানে কোনো ব্যক্তি কিছু বিশেষ বস্তু সহ্য করতে পারে না।
এ্যালার্জির ধরন
এ্যালার্জির প্রভাব শরীরের বিভিন্ন অংশে দেখা দেয়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে চামড়ায়। চামড়া ফুলে ওঠে, লাল হয় বা খুসখুসে অনুভূতি সৃষ্টি করে।
এ্যালার্জি সৃষ্টির দায়ী বস্তুকে বলা হয় এ্যালারজিন (Allergen)। প্রত্যেকের শরীরে এ্যালারজিন থাকতে পারে, কিন্তু সব মানুষ এ্যালার্জি আক্রান্ত হয় না। কারো শরীর এপ্রতিক্রিয়াশীল হয়, কারো নয়।
এ্যালার্জির কারণ
বিজ্ঞান এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না কেন কেউ এ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়। তবে বিভিন্ন মত রয়েছে:
-
বংশগতির ধারণা: কিছু ডাক্তার ও বিজ্ঞানী মনে করেন, এ্যালার্জি হয় বংশগতভাবে। তবে দেখা গেছে, একই পরিবারের ভাইবোনের মধ্যে শুধু একজনই আক্রান্ত হতে পারে। তাই এটা পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারে না।
-
মানসিক ও আবেগগত কারণ: কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, কেউ ভীত, রেগে বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে শরীরে এ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
এ্যালার্জির কাজের প্রক্রিয়া
যে পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে এবং এ্যালার্জি সৃষ্টি করে, তা শরীরের কোষের সঙ্গে মিশে প্রতিক্রিয়া শুরু করে। তখন শরীর সেই পদার্থকে নির্মূল করার জন্য এন্টিবডি (Antibody) তৈরি করে।
-
প্রথমবার প্রবেশ করলে এন্টিবডি সেটিকে নিরস্ত্র করতে পারে।
-
কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন একই পদার্থ প্রবেশ করে, তখন হিস্টামিন (Histamine) তৈরি হয়।
-
হিস্টামিন যখন চামড়া বা শ্লেষ্মার পর্দায় পৌঁছায়, তখন দেখা দেয় চুলকানি, ফোলা, লাল চামড়া বা অন্যান্য এ্যালার্জির লক্ষণ।
হিস্টামিন সবসময় শরীরের রক্তে থাকে না, তাই সব অংশে এ্যালার্জি দেখা যায় না। শুধুমাত্র সেই অংশে যেখানে শরীর প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেখানেই লক্ষণ প্রকাশ পায়।
বিজ্ঞান ও রহস্য
এখনও পর্যন্ত চিকিৎসাশাস্ত্রে এ্যালার্জির পুরো কারণ সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি। কেউ বলেন এটা বংশগত, কেউ আবার বলেন এটি হতে পারে শরীরের কাঠামোগত বা মানসিক কারণে।
সংক্ষেপে, এ্যালার্জি হলো শরীরের সেই প্রতিক্রিয়া যা বিশেষ কিছু পদার্থ, খাবার বা পরিবেশের সঙ্গে সংযোগে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। এটি নির্দিষ্ট মানুষের শরীরে প্রদর্শিত হয় এবং প্রভাবিত অংশে বিভিন্ন লক্ষণ সৃষ্টি করে।

