তৃতীয় রাষ্ট্র হতে পারে ফিলিস্তিন-ইজরাইল সংকটের সেরা সমাধান
(Jahangir Alam Shovon)
ফিলিস্তিন ইস্যুকে ছোট বেলা থেকে বিশ্বের মানুষের মতো আমিও কমবেশী ভাবনার খোরাক হিসেব হিসেবে পেয়েছি। গত শতকে ২টি বিশ্বযুদ্ধ হওয়া সত্বেও এই ইস্যুটি ২ শতক ধরে চলা সবচেয়ে লম্বা ও অমীমাংসিত বিষয়। যা কখনো চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
পেশাগত জীবনে বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এমনকি বেশকিছু জায়গায় রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে আমার চিন্তা ও প্রস্তাব থেকে বেশকিছু সমাধান বের হওয়া পর এসব বিষয়ে আমার ধারণা বা আইডিয়ার উপর আমার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে।
তারপর আমি ফিলিস্তিন ইজরাইল সংকটের শুরু থেকে পাঠ শুরু করি। তারপর দেখতে পারি সেখানে অনেকগুলো সমাধানের কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি। আমি যেটা ভাবছি সেটা আবার তখন ভাবা হয়নি। আমি ভারত পাকিস্তান বিভক্তির সাথে ইসরাইল ফিলিস্তিন ঘটনার একটা যোগসূত্র পেলাম। সেটা হলো দুটো জায়গায় প্রায় ১ ধরনের সমাধান করা হয়েছে।
ভারত পাকিস্তানকে ২ ভাগ করা হয়েছে। এখানে একাধিক ভাগ বিশেষ করে ৩ ভাগ করা বা তৃতীয় দেশ হিসেবে ‘‘বাংলা’’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব, সম্ভাবনা ও সুযোগ থাকা সত্বেও। বাস্তবতা হলো দেশভাগের ২৪ বছর পর সেই তৃতীয় দেশের অনিবার্য জন্ম হলো। যদিও তখনকার প্রেক্ষাপটে দু-রাষ্ট্র সমর্থনের বহুযোক্তিকতা যেমন ছিল তেমনি সমর্থণও ছিল। কিন্তু সেটি সেরা বা সঠিক সমাধান ছিলনা সেটা প্রমাণিত হয়েছে।
ইসরাইল ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিশ্ব নেতারা যে সমাধান দিয়েছিল সেটি যে সঠিক ছিল না। সেটি গত ৭৮ বছরে (১৯৪৭ থেকে) বার বার এবং প্রতিবার প্রমাণিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন নষ্ট হয়ে সেটি প্রতিদিন ও প্রতিনিয়ত প্রমাণিত হচ্ছে। কিন্তু সকলে শুধু ইসরাইলকে থামতে বলছে আর ফিলিস্তিনকে বলছে ইসরাইলকে মেনে নিতে। এরচেয়ে কোনো বিকল্প সমাধান নিয়ে কেউ ভাবছেনা।
তাই একজন নগন্য মানুষ হিসেবে, সৃজনশীল ভাবনার চর্চা ও অভ্যাস, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও মনোভাব, বিশ্ব নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও বিশ্ব মানবতার জন্য কিছু করার অংশ হিসেবে এই সমস্যা ভাবা সেটি সমাধান প্রস্তাব করা ও বিশ্বকে জানানোর কাজ শুরু করেছি। না শুধু এটি নয়। আমি অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ভাবি, ভাবছি তার কিছু কিছু সমস্যা নিয়ে ইতোমধ্যে লিখেছি কিছু সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ঠদের বার্তাও প্রেরণ করে করেছি। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার এরচেয়ে বেশী কিছু করার ক্ষমতা নেই। তবে যতটা আছে সেটাও যদি ব্যবহার না করি তাহলে নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার জন্য আমার কোনো অবদান বা চেষ্টা থাকবেনা। আর সেজন্য আমি নিজেকে হয়তো কোনোদিন ক্ষমাও করতে পারবো না। তাই নিচের প্রস্তাবনা তুলে ধরছি।
– জাহাঙ্গীর আলম শোভন
ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের ভূমি বন্টন অতীত থেকে এক ঝলক
১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে ফিলিস্তিনের মোট আয়তন ছিল প্রায় ২৭,০০০ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করে, যা মোট প্রায় ৬,০২০ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে ফিলিস্তিনিরা ১৯৪৬ সালের ফিলিস্তিনের মোট আয়তনের প্রায় ২২% ভূমি নিয়ন্ত্রণ করে। ১৯৪৬ সালের তুলনায় বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন।
১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিলিস্তিনকে ইহুদি ও আরব রাষ্ট্রে ভাগ করা হয়েছিল। এই প্রস্তাবে ইহুদিদের জন্য প্রায় ৫৬% (প্রায় ১৫,১২৮ বর্গকিলোমিটার) ভূমি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে তাদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৭%। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রায় ৪৩% (প্রায় ১১,৬৭২ বর্গকিলোমিটার) ভূমি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে তাদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬২%।
১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর, ইসরাইল তার নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমির পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ৭৮% (প্রায় ২০,৮৬৪ বর্গকিলোমিটার) করে। ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্ধারিত ৪৩% ভূমির মধ্যে থেকে ইসরাইল প্রায় ৩৫% দখল করে, যা তাদের মোট ভূমির পরিমাণে যুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইহুদিদের জন্য নির্ধারিত ৫৬% ভূমির কিন্তু ইসরাইল প্রায় ৭৮% ভূমি দখল করেছে। অর্থাৎ, মোট ভূমির আরো ২২% বেশি ভূমি দখল করা হয়েছে।
জেরুজালেমের জেলা শহর ও আল আকসা:
পূর্ব জেরুজালেম: ১৯৬৭ সালের পূর্বে, পূর্ব জেরুজালেমের আয়তন ছিল প্রায় ৬৭০ বর্গকিলোমিটার। অতএব, ৬৭০ বর্গকিলোমিটার ২৭০০০ বর্গকিলোমিটারের ২.৪৮%। জেরুজালেম শহরের মোট আয়তন: ৭১০ বর্গকিলোমিটার। অতএব, ৭১০ বর্গকিলোমিটার ২৭০০০ বর্গকিলোমিটারের ২.৬৩%। পূর্ব জেরুজালেম সিটি জেরুজালেম জেলার ৮.৯৭%। পূর্ব ও পশ্চিম জেরুজালেম দুই সিটি জেরুজালেম জেলার ১০.৪৪% । পশ্চিম জেরুজালেমের আয়তন ছিল প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার।
ধর্মীয় তীর্থস্থানসমূহ ও তাদের অবস্থান:
ইসলাম/ মুসলিম (পূর্ব জেরুজালেম) আল-আকসা মসজিদ: পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটির দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।
খ্রিস্টান, চার্চ অব দ্য হোলি সেপালচার(পূর্ব জেরুজালেম): ওল্ড সিটির পশ্চিমাংশে অবস্থিত।
ইহুদি, য়েস্টার্ন ওয়াল বা কোটেল (পূর্ব জেরুজালেম): ওল্ড সিটির পশ্চিমাংশে অবস্থিত।
ডোম অফ দ্য রক (কুব্বাত আস-সাখ্রা): ওল্ড সিটির কেন্দ্রে অবস্থিত।
ফিলিস্তিনের সমস্যা সমাধানে যেসব প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে-
সেসময় মূলত ইহুদিদের পূনবাসন ও ফিলিস্তিনে তাদের বসতি স্থাপনের জন্য 1947 সালে আরো বেশ কয়েকটি প্রস্তাব আলোচনা করা হয়েছিল। সেগুলো ছিল-
১) ফিলিস্তিন ও ইসরাইলীদের যৌথ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। ( তখনকার বাস্তবসম্মত ছিলনা, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন সম্মত হয়নি)
২) ইসরাইলীদের মাদাগাস্কার দ্বীপে অভিবাসন করা। (ইসরাইল সম্মত হয়নি)
৩) ইসরাইলীদের রাশিয়ার একটা প্রদেশের স্বায়ত্বশাসিত জাতি হিসেবে অভিবাসিত করা। (ইসরাইল সম্মত হয়নি)
৪) আফ্রিকার কোনো খালি জায়গায় তাদের ভিন্ন দেশ দেয়া। (ইসরাইল সম্মত হয়নি)
৫) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের পূণবাসন করা। (ইসরাইল সম্মত হয়নি তাছাড়া এত অভিবাসী তখন কেউ নিতে চায়নি। যদি বিগত বছরে অনেক দেশ তারচেয়ে বেশী অভিবাসী নিয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে)
তাহলে কি হতে পারে সমাধান?
যেহেতু অন্যান্য সমাধান নিয়ে আগেই ভাবা হয়েছে। এবং প্রস্তাবিত সমাধানের মধ্য থেকে তুলনামূলক ভাল সমাধানটি গ্রহণ করার পরও সেটি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি এবং ভাল সমাধান হয়নি তাই আমি এই মুহুর্তে শুধুমাত্র একটি প্রস্তাবনাই উপস্থাপন করছি। আর তাহলো ফিলিস্তিন ও ইসরাইল ছাড়াও তৃতীয় রাষ্ট্রসহ ৩ রাষ্ট্র প্রস্তাব।
ক) তৃতীয় পক্ষ ধারণা বা তিন দেশ প্রস্তাব
যদি প্রস্তাব করা হয় যে, এই ভূখন্ডকে (বর্তমান ইসরাইল ও ফিলিস্তিন বা পুরনো ফিলিস্তিন) ৩ টি ভাগে ভাগ করা হবে, যার মোট আয়তন ছিল ২৭,০০০ বর্গকিলোমিটার। একটি অংশ ফিলিস্তিনীদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে। এবং অন্য অংশটি থাকবে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে তা নিয়ে ইসরাইল রাষ্ট্র হবে। এবং ৩য় দেশটি হবে নিরপেক্ষ। যেখানে ইসরাইলী ও ফিলিস্তিনী উভয় বসবাস করবে। একটি বহুপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে দেশটি গঠিত হবে। জাতিসংঘ কতৃক একটি কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত হবে, পর্যায়ক্রমে স্বায়ত্তশাসন ও এক পর্যায়ে চূঢ়ান্ত স্ব-নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর বাসিন্দাদের হাতে এর ক্ষমতা অর্পিত হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে এক পর্যায়ে জাতিসংঘ সরে আসবে।
কেমন হবে সে তৃতীয় রাষ্ট্র?
১) তৃতীয় সে দেশটিতে ইসরাইলি, ফিলিস্তিনী, আরব খ্রিষ্টান ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এবং সবাই একমত হলো নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিন্ন জাতি সত্তার লোকও থাকতে পারে।
২) যে রাষ্ট্রটি হবে তা বির্কিত এলাকা নিয়ে হবে যে এলাকা কেউ ছাড়তে চায়না। তার আশপাশের এলাকাও যুক্ত থাকবে। থাকবে সে দেশের জনসংখ্যার আনুপাতিক ভূমি এবং সমূদ্র সংযোগ। সাম্ভাব্য সীমা ৬৮০০ কিলোমিটার। যা জেরুজালেম এর আয়তন।
৩) ইজরাইল ও ফিলিস্তিনীদের মধ্য থেকে সে দেশের প্রস্তাবের বিষয়ে জরিপ ও ইচ্ছুক অধিবাসী চাওয়া হবে। যদি খুব সংখ্যক বা নগন্য অধিবাসী হয় এই আ্য়তন। আর যদি উভয় দেশের মোট জনসংখ্যার ১০% এর বেশী লোক এই দেশে থাকতে চায়। তাহলে আয়তন বাড়ানো যেতে পারে।
৪) এই দেশের নাম হবে জেরুজালেম। রাজধানী জেরুজালেম সিটি। তাদের নিজস্ব জাতীয় পতাকা, পুলিশ ও সীমান্ত পুলিশ থাকবে। তবে অন্যনামও হতে পারে।
৫) নতুন দেশটির সেনাবাহিনী থাকতে মূলত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন সেখানে তাদের নিজ দেশের নাগরিকও থাকতে পারে। ক্রমান্বয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সংখ্যা বাড়বে আর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী সংখ্যা কমতে থাকবে।
৬) জেরুজালেম হবে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ইজরাইল ও ফিলিস্তিন ব্যতিত পৃথিবীর সকল দেশের নাগরিকদের তাতে ভিসা লাগবে। ইজরাইল ও ফিলিস্তিন এবং অন্যান্য প্রতিবেশীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধন করে অনুমতি নিয়ে নতুন দেশ ভ্রমণে যেতে পারবে।
৭) দেশটিতে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন নাগরিকেরা যারা দেশটিতে থাকতে চাইবে তারা থাকলেও দেশটি ইজরাইল বা ফিলিস্তিন কারো নিয়ন্ত্রণ থাকবেনা। সে দেশটি হবে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রণে এবং একটি কাউন্সিল এর অধীনে।
৮) এই রাষ্ট্রে একাধিক রাজ্য ও তাদের উপকাউন্সিল থাকবে। জেরুজালেম শহর আল আকসা মসজিদ ও অন্যান্য বিবদমান এলাকা ও তার পাশের এলাকা সেন্ট্রাল কাউন্সিল এর অধীনে থাকবে।
৯) এই দেশের অধিবাসী হওয়ার জন্য জাতি সংঘ প্রথম ১ বছরে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ১০ লাখ লোককে সুযোগ দেবে। দেশের সরকারী অবকাঠামোর জন্য জাতিসংঘ তহবিল গঠন করবে। ব্যক্তি অবকাঠামোর জন্য উন্নয়ন সংস্থা কাজ করবে এবং বানিজ্যিক অবকাঠামোর জন্য বিনিযোগ নীতি থাকবে।
১০) দেশটি ইসরাইল ও ফিলিস্তিন এর মাঝখানে থাকবে। এই দেশটির মাধ্যমে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন এর সাথে পারষ্পরিক সীমান্ত পরিহার করা হবে। ইসরাইল ও ফিলিস্তিন কেউ কাউকে আক্রমণ করতে হলে এই দেশের উপর দিয়ে করবে। এবং তা নিষিদ্ধ থাকবে।
১১) সেখানে বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল উভয়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সাথে সেখানে ১০-১৫ শতাংশ বিদেশীও বিনিয়োগ ও সমাজসেবা ও অন্যান্য শর্ত সাপেক্ষে তৃতীয় ও মাঝখানের দেশে বসতি স্থাপন করতে পারবে। তবে তাদের ধর্ম, ভাষা ও দেশ ভিত্তিক কোটা থাকবে। যাতে করে কেউ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ না হয়।
১২) সকল ফিলিস্তিনী ও ইহুদি সেখানে যেতে পারবে। সে দেশের সরকার বা কাউন্সিল বা জাতিসংঘ বা আন্তজাতিক পুলিশ কতৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত কেউ ব্যতিত।
১৩) উভয় দেশের কোনো সামরিক ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া যেতে পারবেনা। এবং সামরিক ব্যক্তিদের ১০ জনের বেশী একসাথে যেতে পারবেনা এমনকি তারা সশস্ত্র অবস্থায় এবং সামরিক পোশাকেও যেতে পারবেনা। সাধারণ নাগরিকগণ যেতে অনুমতি লাগবেনা তবে নিবন্ধন লাগবে।
১৪) এই স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশটি জন্মসূত্রে জাতিসংঘ সদস্য পদ পাবে। এবং সেদেশে অন্য দেশের দূতাবাস থাকবে অন্য দেশেও সে দেশের দূতাবাস থাকবে।
১৫) জাতীয় পতাকা, মূদ্রা, রাজধানী ও পাসপোর্ট থেকে শুরু সকল কিছুই এই স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মতো হবে। সেখানকার নাগরিকদের নতুন জাতীয় পরিচয় হবে।
১৬) ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের নাগরিকগণ বিনা ভিসায় যেতে পারলেও তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। তারা একই দিনে ৫০ হাজারের বেশী যেতে পারবেন না। এবং কোনো পক্ষ একই সাথে সেখানে যেতে পারবেনা। অবশ্যই এজন্য বিদেশীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্র নিশ্চিত করতে হবে।
১৭) এই দেশের প্রস্তাবিত আয়তন হবে ৬৮০০ বর্গকিলোমিটার। যা মোট আয়তানের ২২%। এই দেশ স্বাধীন সার্বভৌম হলেও যতদিন জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রণে থাকবে ততদিন এই দেশের কোনো সেনা থাকবেনা। জাতিসংঘ শান্তিবাহিনী এই দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। এই দেশের আকাশসীমা হবে সব দেশের জন্য নো ফ্লাই জোন। শুধুমাত্র অনুমোদিত বেসামরিক বিমান ছাড়া কোনো দেশ এদেশের আকাশ সীমা ব্যবহার করতে পারবেনা।
১৮) এই দেশে তারাই বসবাস করবেন যারা ৩ দেশের ( ফিলিস্তিন, ইজরাইল ও জেরুজালেম) নাগরিকদের অধিকারে বিশ্বাস করেন এবং যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করেন। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মিশনারী কার্যক্রম, বিনিয়োগ ও অনুদানের মাধ্যমে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে।
১৯) এখানে সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষানীতি থাকবে। একটি বিশেষ ও বহুপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এই দেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। সে চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।
২০) যেহেতু ইজরাইলকে তার দখলকৃত সম্পত্তি এবং ৪৭ সালে পাওয়া একটা অংশ ছেড়ে দিতে হবে। তার বিনিময়ে কিছু সংখ্যক ইসরাইলী নাগরিক( হতে পার .৫ মিলিন) কে ইউরোপ, আমেরিকা ও রাশিয়ার নিবন্ধনের মাধ্যমে অভিবাসনের সুযোগ দেয়া হবে এবং একইভাবে যেহেতু ফিলিস্তিনিরা তাদের দাবীকৃত অংশের একটা বড় অংশ এবং গুরুত্বপূণ অংশ ছেড়ে দিতে হবে তাহলে তাদের জনসংখ্যার একটা অংশকেও ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, সৌদি ও ইরানে পূণবাসনের সুযোগ দেয়া যেতে পারে।
২১) ১০) পিসল্যান্ড যে কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত হবে সেখানে বিবদমান পক্ষসমূহের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি প্রতেবেশী, বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ঠ ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। প্রযোজ্যক্ষেত্রে তারা মূল কাউন্সিলে তা থেকে এডভাইজারি কাউন্সিলে থাক
