উদ্যোক্তার গল্প

উদ্যোক্তার গল্প

উদ্যোক্তার গল্প

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আসলে গল্প মানে গল্প নয়। এই হলো আমার দেখা কিছু সফল ও বিফল উদ্যোগের গল্প। সফল মানে তারা কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন বা সেরাধনী হয়ে গেছেন তা নয়। তারা যা করতে চেয়েছেন তা করেছেন মানে তারা একটি ছোট বা মাঝারী ব্যবসা দাড় করাতে পেরেছেন। আমাদের ক্ষুদ্র ও নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য বিল গেটস কিংবা জ্যাক মা এর চেয়ে তাদের গল্পই বেশী যুক্তিযুক্ত মনে হয়। আমি এখানে তাদের ছদ্মনাম ব্যবহার করব। কারণ প্রথমত তাদের গল্পটি লেখার জন্য তাদের অনুমতি নেয়া হয়নি। দ্বিতীয়ত তারা এমন খ্যাত বিখ্যাত কেউ নন।
তাদের পরিচয়টা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর তাদের নাম দিয়ে তারা খুশি হতো বলছেন? জানি না খুশি হতো কিনা। আমি পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণের পর যে বই লিখেছি সেখানে এই ভ্রমণের সাথে জড়িত ২শ লোকের নাম লিখেছি বইতে। কেউ খুশি হয়েছে বলেতো মনে হয়নি।
আপনি জানেনতো রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন ‘‘৭ কো বাঙআলীতেক বাঙালী করেছ মানুষ করোননী। তারই সূত্র ধরে বছর কয়েক আগে কলকতার দেশ পত্রিকা একটা স্টোরি চেপেছে। বাঙালীকে মানুষ করেছে বাংলাদেশের বাঙালীরা। সেখানে তিনি দেখেছেন কিভাবে বাংলাদেশের লোকেরা বিদেশে বা ইউরোপ আমেরিকায় গিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা  করে।
ঊাংলাদেশের একজন মানুষ প্রথম যখন লন্ডন বা আমেরিকায় যায়। অবশ্য কয়েকজন ধনী ও জ্ঞানী ব্যতিত। বাকী বেশীরভাগ প্রথমে একটা রেস্টুরেন্টে চাকরী নেন।  তারপর  সেখাতে তারা ৪/৫ বছর চাকরী করেন। ভাষা শেখেন। দেশের নিয়ম কানুন জানেন। এরমধ্যে যদি কাগজপত্র বৈধ না থাকে সেটা বৈধ করার চেষ্টা করেন আর কিছু টাকা জমান। একসময় তিনি একটা গাড়ি কিনেন এবং কার চালান। এতে তার আয় প্রায় দ্বিগুন হয়ে যায়। এভাবে ৪/৫ বছর গেলে তার হাতে কিছু টাকা আসে। সেগুলো দিয়ে তিনি একটা জমি বা শহর থেকে একটু দূরে একটা বাড়ি বা প্লাট কিনেন। পরে এটি মর্টগেজ রেখে তিনি নিজে একটা রেস্টুরেন্ট নেন। এটা হচ্ছে অধিকাংশ প্রবাসি উদ্যোক্তার জার্নি।
আচ্চা এটা হয়তো আপনি আগে থেকে জানতেন অথবা জানতেন না। বলুনতো এটা জানার পর আপনার মাথায় কোনো আইডিয়া এসেছে। কিনা। না আসলে । ভাবুন।
এভাবে আমরা আরো ১০টি গল্প পড়ব এই অধ্যায়ে। তারপর তাদের ব্যবসাগুলো বিশ্লেষন করে বোঝার চেষ্টা করব।
গল্প ১: প্রস্তুতির প্রস্তুতি
তামিম ভাই। একটি ফার্নিচার ফ্যাক্টরীতে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। নিজে কিছু কাজও জানেন। কিন্তু বিশ^স্থতা ও দায়িত্বশীলতার কারণে তিনি ম্যানেজার হয়েছেন। পুরো ফ্যাক্টরী ও শোরুম মিলে প্রায় শ’খানেক লোক কাজ করে। এভাবে ৬/৭ বছর কাজ করার পর তামিম ভাই কয়েকটি কাজ শিখে যান। যেমন তার ফ্যাক্টরীর মেশিনপত্র সম্পর্কে জেনে যান। কিভাবে ১০০ জন লোককে লিড দিতে হয় তা শিখেন। কিভাবে লোকজনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হয়? কিভাবে কর্পোরেট ডিল করতে হয়? এসবও শিখেন। তারপর একসময় তার বেতনও বাড়তে থাকে। তার দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার কারণে তিনি খুব ভাল বেতনও পান। কিন্তু প্রথম থেকেই তার মাথায় ছিল তিনি একদিন একজন স্বাধীন উদ্যোক্তা হবেন। তারপর তিনি তার বেতনের টাকা থেকে সঞ্চয় করতে থাকেন। কয়েকলাখ টাকা হওয়ার পর তিনি চাকরী ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এবং ব্যবসা করার প্রস্তুতি নেন। তিনি কি কি বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন-
১। ব্যবসার বিভিন্ন দিক তিনি চাকরী করা অবস্থায় শিখে নিয়েছেন।
২। ব্যবসার সরবরাহ এবং ক্রেতা উভয়পক্ষের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করেছেন।
৩। তিনি নিশ্চিত হয়েছেন তিনি শুরুতে বড়ো কোনো কর্পোরেট ডিল পাবেন তাই তার ঘুরে দাঁড়াতে সমস্যা হবেনা
৪। তিনি তার স্ত্রীর হাতে ৬ মাসের সংসার খরচের টাকা তুলে দিয়েছেন। যাতে ৬ মান তার ব্যবসা থেকে কোনো ফল না আসলেও তার সমস্যা না হয়।
৫। তিনি দৃঢ় মনোবল নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন।
ফলাফল: তিনি তার উদ্যোগে সফল হয়েছেণ। তার পরিবারকে কোনো আর্থিকে সংকটে পড়তে হয়নি।
কি ঝুঁকি ছিল: এখানে খুব মারাত্বক ঝুঁকি ছিল মোটা অংকের বেতন পাওয়ার কারণে তার জীবনযাত্রা সে বেশী টাকার উপর নির্ভরশীল হয়ে যায়। ৬ মাসের মধ্যে তিনি বড়ো কোনো কাজ না পেলে বা লোকসানের মুখে পড়লে পরিবার ও বাচ্চাদের নিয়ে তাকে সমস্যায় পড়তে হতো। কিন্তু আসলে তিনি জানতেন তিনি সফল হবেন কারণ তার পুরো পরিকল্পনাটি ছকে আঁকা ছিল। অন্যরা ব্যবসায় প্রথমে লস দিয়ে যেটা শিখেন তিনি সেটা চাকরী অবস্থায় শিখে নিয়েছেন।
গল্প ২: অনুসন্ধানী আতিক ভাই
আতিক ভাই। ১০ বছর চাকরী করেছেন। বিভিন্ন জায়গায়। কোনোটাতে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরছেনা। এতবেশী বেতনও পাননা যে, টাকা জমিয়ে ব্যবসা করবেন। শেষে ২/৩ বছর একটু ভাল বেতন পেলে সেখান থেকে দুই লাখ টাকার মতো সঞ্চয় করেন। এই টাকার উপর ভরসা করে একসময় চাকরী ছেড়ে দেন। তারপর পরিবার থেকে আরো ৩ লাখ টাকা ম্যানেজ করেন। ৫ লাখ টাকা দিয়ে তিনি একটা বিজনেস প্লান করেন। আরো ৫ লাখ ব্যাংক লোক নেন। মোট ১০ লাক টাকা দিয়ে একটা রেস্টুরেন্ট চালু করেন। এই ব্যবসায় তার আগের অভিজ্ঞতা ছিলনা। তার কি সুবিধা ছিল সেটা জানা যাক।
১। তিনি একজন ভাল শেফকে চিনতেন। যিনি অন্য একটা রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। আর প্রায় সময় তাকে বলতেন স্যার আপনি একটা রেস্টুরেন্ট দেন আমি কাজ করব।
২। হঠাৎ করে তিনি এমন একটা লোকেশনে একটি জায়গা রেস্টুরেন্ট এর জন্য পান যেখানে কাস্টমার না হয়ে যায়না।
৩। ব্যবসা শুরু করে নিজে সারাক্ষণ সময় দিতেন। প্রতিটি বিষয় মনিটরিং করতেন। রেস্টুরেন্ট এর সাথে ক্যাটারিংও করতেন।
৪। খাবারের মানের ব্যাপারে সবসময় সচেতন থাকতেন। দিনে দিনে সুনামের কারণে তার রেস্টুরেন্ট আরো বেশী বেচাবিক্রি ও  লাভ হতে শুরু করে।
গল্প ৩: সৌখিন আফতাব ভাই
আফতাব ভাই জীবনে সবসময় বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনি গুচিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করেন। তিনি যে বিষয়ে ব্যবসা করবেন ঠিক করেন সে বিষয়ে প্রথমে ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করেন। তারপর পরিচিতদের সাথে কথা বলেন যারা এই বিষয়ে কাজ করে। তারপর তিনি একটা খসড়া প্লান তৈরী করেন কাগজে কলমে। তারপর তিনি ২ স্তরের একটা টিম ভাবেন যেমন প্রথম স্তর যারা তার সাথে পার্টনার হিসেবে কাজ করেব। দ্বীতীয় স্তর যারা কর্মী বা চাকরী করবে। তিনি পরিচিত লোকদের সাথেই শুধু কাজ করেন। যাদেরকে তিনি ভালভাবে জানেন। সে অংশীদার হোক আর স্টাফ হোক।
তারপর তিনি কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন করেন। ছোট ছিমছাম সুন্দর একটি অফিস নেন। সে অফিসে লোকদের বসার জায়গা করেন। মিটিং করেন। তিনি প্রাথমিক পুঁজি ঠিক করেন। সেটা অংশীদারদের কাছ থেকে নেন। পুরো টিমকে দায়িত্ব ও মিশন ভিশন বুঝিয়ে দেন। নিজেরও একটা দায়িত্ব রাখেন। তারপর সবাইকে ফলোয়াপ করে কাজ করিয়ে নেন। প্রথমে অংশীদারদের মাঝে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে শুরু করেন। তারপর তাদের পরিচিতদের টার্গেট করেন। তাদেরকে যৌক্তিক দামে ভাল সেবা দেয়ার পর তাদের মাধ্যমে আরো ক্রেতা আসেন। এভাবে তার ব্যবসাগুলো আস্তে আস্তে দাঁড়িয়ে যায়।
গল্প ৪: ঘরে বসেই উদ্যোগ
সাবিলা আপু। এই আপু পুষ্টি নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। তারপর যথাসময়ে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। বিয়ের ৩ বছরের মাথায় তিনি মা হোন। তারপর তিনি বাচ্চার খাবার দাাবরের বিষয়ে সচেতন হলেন। তিনি দেখলেন তার মতো অনেক আপুই বাচ্চাদের খাবার নিয়ে সমস্যা থাকে। কিন্তু তিনি যেমন বিষয়গুলো জানেনঅ অন্যরা তা জানেন না। তাই তিনি একটি পেইজ খুলে সেখানে পুষ্টিকর খাবার সংক্রান্ত বিভিন্ন রেসিপি শেয়ার করতে থাকেন।
মজার ব্যাপার হলো। সব তথ্য শেয়ার করার পরও ভাবী আপুরা অনরোধ করলে খাবারের এত উপাদান উনারা কিনতে আবার খাবার বানাতে ঝামেলা মনে করছেন। তারা তাকেই সেবা দেয়ার অনুরোধ করছেন। তখন তিনি কাজের লোক রেখে কয়েকটা বেøন্ডার মেশিন কিনে নিয়মিত খাবার বানিয়ে ডেলিভারী দেয়া শুরু করেন। ডেলিভারীর ব্যাপারে একটি কোম্পানীর সেবা নেন আর ফয়েল প্যাকেট ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু করেন। ঘরে বসেই প্রতিদিন এখন তার ২শ এর বেশী ডেলিভারী হয়।
তাহলে এখানে কিভাবে তিনি ব্যবসায় জড়িয়ে গেলেন। এটা আপনার জন্য পাঠ জিজ্ঞাসা থাকবে। আপনি উত্তর দিন
কি কি সক্ষমতার কারণে তিনি ব্যবসা শুরু করতে পারলেন? কি কি দূর্বলতা সত্বেও তিনি ব্যবসা শুরু করতে পারলেন?
গল্প ৫: সস্তায় সেবা
সুজন কিছুদিন একটি কুরিয়ার কোম্পানীতে চাকরী করেছে। করে সে বুঝল। এই ব্যবসাটার একটা সুবিধাজনক দিক হলো। কোনো পণ্যক্রয় করে স্টক বা পুঁজি আটকিয়ে রাখতে হয়না। সেবাগ্রহীতা আগেই টাকা দিয়ে দেয়। ফলে বেশী পুঁজি লাগেনা। তাই তারা ৫ বন্ধু মিলে ৫ লাখ টাকা পুঁজি দেয় ব্যবসাটা শুরু করে। প্রথমে তারা একটা অফিস নেয়। অফিস খরচ বেতন মিলে মাসে ৫০-৭০ হাজার টাকা ফিক্সড খরচ নিয়ে ব্যবসা শুরু হলো। সে কাস্টমার ধরার জন্য সেবার রেট কমিয়ে দিল। ডকুমেন্ট ১০/১৫ টাকা, পার্সেল ৩০/৪০ টাকা  নিল। তার টার্গেট ছিল আপাতত যদি তার খরচ উঠে আসে ৬ মাস টিকে থাকলে তার ব্যবসা দাঁড়িয়ে যাবে। এভাবে তারা ব্যবসাটা শুরু করলো। ৬ মাস পর ব্যবসা লোকসান হলো বাবার কাছ থেকে আনা ৫ লাখ টাকা শেষ হয়ে গেল। ব্যবসাটা গুটিয়ে গেল। এবার জানা যাক। তাদের সক্ষমতা ও দূর্বলতা কি ছিল?
কি কি সক্ষমতা ছিল কি কি দূর্বলতা ছিল বিশ্লেষণ
কুরিয়ার সেবার ব্যাপারে অভিজ্ঞতা ছিল। কুরিয়ার ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিলনা সুজন মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে। কিভাবে সেবা দিতে সেটা সে ভাল জানত। কিন্তু একটা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সম্পর্কে তার ধারণা ছিলনা।
তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে শুরু করেছে। তাই তাদের ৫ মাথার মেধা ব্যবহার করার সুযোগ ছিল। তারা কে কি কাজ করবে। কার কোন দায় ও দায়িত্ব সেটা ঠিক করা ছিলনা। এবং জবাবদিহিতা ছিলনা। তারা যদি মার্কেটিং, ব্যবস্থাপনা এবং সেবার দায়িত্ব আলাদা করে নিত। এবং প্রতিমিাসে প্রত্যেকের একটা টার্গেট থাকত। তাহলে এতটা খারাপ পরিণতি হতোনা।
তারা সহজে ডেলিভারী সেবার জন্য কর্মী পেয়ে গেল। তাদের প্রতিদিনের খরচ কত সেটা তোলার জন্য কতটাকা দামে কতটি পণ্য ডেলিভারী দরকার সে হিসেব করেনি। প্রতিমাসের যে আয় ও খরচ তার একটা হিসেব থাকা দরকার। পাশাপাশি মাসে কতটি ডেলিভারী হলে কোম্পানী লস করবেনা। সে হিসেব থাকা দরকার। সেটা ফিলাপ করার প্লান থাকা দরকার।
তারা অন্যদের চেয়ে তুলনামূলক কমদামে সেবা দিতে পারত।কিন্তু কতটা কমদামে দিবে সেটার হিসেব থাকা দরকার। কারণ খুববেশী কমদামে সেবা দিলে সঠিক সেবা দেয়া যায়না। আর সঠিক সেবা না দিলে সেলস ও বাড়েনা।
গল্প ৬: দোষী মাসুম
মাসুমের বন্ধু মহলে বেশ ভাল সুনাম। তাই সে যখন ব্যবসা করতে বলল। তারসাথে সব বন্ধুরা টাকা নিয়ে যুক্ত হলো। মাসুম দেখল প্রথমে তারা একটি সুপার শপ দিল। সেটা দেখে আরো অনেক লোক তাদের সাথে বিনিয়োগ করে ব্যবসা করতে চাইল। তারপর তারা একটা হাসপাতাল দেয়ার প্লান করল। তারপর একটা রিসোর্ট দেয়ার জন্য পরিকল্পনা করল। এর মধ্যে হাসাপতালের বিনিয়োগ ৫০% এসে গেল। সেটা দিয়েই হাসপাতাল চালু হয়ে গেল। পাশাপাশি সে আরো কিছু বিজনেস প্লান যেমন মৎস্যখামার, ইটের ভাটা ইত্যাদি ব্যবসা প্লান করে পুঁজি সংগ্রহ নামল। মানে প্রতিটি ব্যবসার জন্য শেয়ার হোল্ডার নিল। প্রতিটি শেয়ার ১ লাখ টাকা। ৫/৭টা ব্যবসার জন্য নোকজন তাকে টাকা দিতে থাকল। এরমধ্যে আর কোনো ব্যবসা চালু করতে পারছেনা। কারণ প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হাতে আসেননি। কোনেটার ২০% কোনোটার ৩০% এভাবে হতে লাগল। এদিকে নতুন ব্যবসা গুলোর দিকে সে নজর দিতে পারেনি। ফলে প্রথম ৩ টা ব্যবসাতেই মাসের পর মাস লোকসান হতে থাকল। লোকসানি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন দিতে সে অন্যফান্ডের টাকা খরচ করে ফেলল। এদিকে অন্য ব্যবসাগুলো শুরু না হওয়ায় অনেকে টাকা ফেরত চাইল। চালু ব্যবসাগুলোর লস দেখেও অনেকে সরে যেতে চাইল। এখন যারা সরে যেতে চাচ্ছে তাদের প্রথম কয়েকজনকে বিভিন্ন ফান্ড থেকে টাকা দিয়ে লেনদেন শেষ করলেও।  অনেককে টাকা দিতে পারলনা।
গল্পটা অনেক বড়। শুধু এটুকু জেনে রাখেন সে মাসুমকে শেষ পর্যন্ত দেশছেড়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যেতে হয়েছে। না সে টাকা নিয়ে পালায়নি। টাকা কিছুতো বিনিয়োগ হয়েছে। কিছু ফেরত েিদয়ছে বাকী লোকসান।
আপনি নিশ্চই বুঝতে পারছেন টাকা এবং বুদ্ধি থাকা সত্বেও মাসুম দোষী সব্যস্ত হয়ে ব্যর্থতার দায় নিতে হলো। মাসুমের ভুলটা কোথায় হয়েছিল যে ভুলটা আফতাব ভাই করেনি।
৭. ইস্রাফিলের ধারাবাহিক ব্যবসা
মাত্র ২০ বছর বয়সে চাকরীতে প্রবেশ করে ই¯্রাফিল। ৫ বছর নিজের মন দিয়ে কাজ করে। ৩টা কোম্পানীতে কাজ করে। একসময় মনে হলো এতে তার পোষাবেনা। তাই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে মিলে সাপ্লাায়ার ব্যবসা শুরু করল। আবার শুরু হলো ২৫ বছর বয়সে নতুন মিশন। ৫ বছর মাটি কামড়ে দুনিয়ার সব ভুলে গিয়ে সে সময় দিল। ব্যবসাটা একসময় দাড়িয়ে গেল। দৈনিক ১৫/১৬ ঘন্টা কাজ করে নিজেও একটা পর্যায়ে গেল। কোম্পানীও উন্নতি করল। ৫ বছরে ১২৪ জন লোকের একটা দারুন টিম হলো। বাজারে সূনাম হলো। ব্যবসাটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। বেশীরভাগ লোকজনই পরীক্ষিত তারাও ব্যবসাটা বুঝে গেল। তারপর এখানে অর্জিত টাকা দিয়ে সে একটা জমি কিনল। বাকী টাকা ও জমির বিনিময়ে লোন নিয়ে সে একটা আইএসপি লাইন্সে নিয়ে ব্যবসা শুরু করল। ৩ বছরে এই ব্যবসাটা দাড়িয়ে গেল। একটা এলাকায় ভাল সেবা দিয়ে খুব দাপটের সাথে ব্যবসা করতে থাকলো। তারপর সে কিছু টাকা অন্য একটি কোম্পানীতে লগ্নি করল। ট্রাভেল অপারেটর। কোম্পানীটির অবস্থা আগেও ভাল ছিল। তারা ব্যবসা বড় করার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল। তারও ২ বছর ই¯্রাফিল একটি অনলাইন শপে বিনিয়োগ করল। এটা কিন্তু লাভের মুখ দেখেনি। ২ বছর পর সে আরেকটি অনলাইন কোম্পানীতে বিনিয়োগ করল সেটা খুব ভাল। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে সে ৫টি কোম্পানীর মালিক হলো। এখন সে ভাল আছে।
আপনিও বলুন। তার এই সাফল্যের রহস্য কি?
৮. সুযোগ সন্ধানী রাসেল
রাসেল এক সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ী। সে যেকোনো ব্যবসায় প্রথম শুরু করে যার গোমর লোকেরা জানে না। রাসেল প্রথমে চীন থেকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য এনে বিক্রি করা শুরু করল। ৫ বছর এই ব্যবসা করে অনেক টাকা কামাল। যখন সে দেখল এই ব্যবসাটা আর চলছেনা। তখন সে ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সা আমদানী করতে লাগল। এটা ৩ বছর করার পর দেখা গেল ব্যবসাটা অনেকে করছে এটা আগের মতো লাভ হচ্ছে না। সাথে সাথে এটাও ছেড়ে দিল। এবার শুরু করল এনার্জি ল্যাম্প আমদানী। কিছুদিন পর এটারও গোমর ফাস হয়ে গেল। এবারও সে তার নিজের ব্যবসা বদল করে নিল।
কি বুঝলেন?
৯. সহজ সরল গেসু ভাই
নাম তার গিয়াস উদ্দিন লোকে বলে গেসু ভাই। তিনি গ্রামে কামলা খাটতেন। কিন্তু তার এলাকায় গ্রামে  সারা বছর কাজ থাকেনা। তাই ঢাকা