ই-কমার্স চ্যালেঞ্জ ‍ও উত্তরণ

ই-কমার্স চ্যালেঞ্জ ‍ও উত্তরণ

বাংলাদেশে ই-কমার্স চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণ

আলোচ্য বিষয়
ক) বর্তমান বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতের সমস্যা সম্পর্কে জানা।

শব্দ পরিচয়
মুলেপ/এমএফ এস (MFS) মুঠোফোন লেনদেন পদ্ধতি।
আরএনডি (RND): রিচার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট। গবেষণা ও উন্নয়ন।
আরওআই (RNI): রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট, বিনিয়োগের ফিরতি।

যেকোনো ব্যবসাক্ষেত্রে সবসময় কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে। এটা স্থান কালভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে যখন ব্যবসা খাতটি বিকশিত হওয়ার অবকাশ পায় তখনকার চ্যালেঞ্জগুলো যে ধরনের হয় যখন এটি বিকশিত হয়ে বিস্তৃত হওয়ার অবকাশ পায় তখনকার বিষয়গুলো পুরো আলাদা হয়। বাংলাদেশের ই-কমার্সখাতের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণ নিয়ে আমি বিগত ২০১৪ সাল থেকে যে লেখাগুলো লিখেছি। প্রতিটি আলাদা। আমি অনুভব করি যখনি আমি এই বিষয়ে লিখতে যাই আমার আগের লেখার সাথে পরেরটি অনেকাংশে মিল থাকে না। কারণ প্রতিনিয়ত এই বিষয়টি বদলে যাচ্ছে।
তাই বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণ প্রেক্ষাপটও অন্য সময়ের তুলনায় আলাদা। এবং ভবিষ্যতে হয়তো এই বিষয়গুলোর অনেকটি সমাধান হয়ে যাবে এবং নতুন সমস্যা এসে সামনে দাঁড়াবে। তবুও বর্তমান পেক্ষাপটটা একটু বিবেচনায় নেয়া যাক।

চ্যালেঞ্জসমূহ
১। পারিপাশি^ক প্রস্তুতিহীনতা (Environmental unpreparedness)
সত্যি বলতে কি আমাদের দেশে বেশীরভাগ ব্যবসা এভাবে শুরু হয়। এটা আজকের তৈরী পোশাক কিংবা আইটি সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পরে প্রয়োজন অনুসারে এর অবকাঠামো ও নীতিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়। ই-কমার্সের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমাদের দেশে ২০০৯ সালে যখন এর সূচনা হয় তখন ইন্টারনেট এর ব্যবহার ছিল সীমিত, অনলাইন পেমেন্ট ছিল আরো নগন্য আরো সীমিত পর্যায়ে কুরিয়ার পার্সেল আজকের মতো ছিলোইনা।
আজকের সময়ে এসে বিগত দিনের সমস্যাগুলোর সমাধান হলেও নতুন সমস্যা কিন্তু রয়ে গিয়েছে। ডেলিভারী প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব উন্নতির পথে। রাস্তায় মোটর সাইকেলে করে পণ্য সেবা ডেলিভারী করতে নানা সমস্যা হয়। এখনো সরকার পেছনে বক্স সমৃদ্ধ মোটর সাইকেলে অনুমোদন দেয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত এরকম সমস্যা মোকাবিলা করে কাজ করছে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
এখনো গ্রামীণ এলাকায় লাস্টমাইল ডেলিভারী সহজ হয়ে উঠেনি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডেলিভারী করতে সময় বলা খুব মুশকিল। বেশীরভাগ ক্যাশ অন ডেলিভারীতে হয়। ফলে টাকা পরিবহনে ঝুকি এবং অনিশ্চয়তা রয়েছে বলা যায়। এভাবে আরো নানা সমস্যা এই সময় মোকাবিল করছে উদ্যোক্তারা।
তবে ১৬/১৬/১৬ মাপের পেছনবক্স যুক্ত বিশেষ মোটরসাইকেল প্রস্তুত ও আমদানি এবং অনুমোদনের বিষয়টি আমার প্রস্তাবনার আলোকে সম্প্রতি দেশের লজিস্টিক নীতিমালায় যুক্ত হতে চলেছে।

২। বাজার সম্পর্কিত তথ্যের অভাব ও প্রয়োজনীয় আরএনডি না থাকা (Lack of market information)
একটি ব্যবসা পরিকল্পনা করার জন্য সে ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় তার বাজারের আকৃতি ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানা। উন্নত দেশগুলোতে সরকার কিংবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান উভয়ক্ষেত্রে তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে জবাবদিহিতার কারণে আনুসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষিত ও প্রকাশিত থাকে এবং তথ্য অধিকারের বদৌলতে সেগুলো জানতে পারা যায়। সে আদলে বিশ্লেষণ করে বাজারের গতি প্রকৃতি দেখে পরিকল্পনা তৈরী করা যায়। আমাদের এখানে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে না অনুপস্থিত। ই-কমার্সের ক্ষেত্রেও তাই।
এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবসা শুরুর আগে কোনো জরিপ বা গবেষণা করে না। আর যদিও সীমিত পরিসরে করে থাকে তবে তা তারা নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে।

৩। দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের অভাব:( Lack of professionalism)
দক্ষ ও পেশাদার উদ্যোক্তা ও কর্মীর অভাব রয়েছে। এটা ঊদীয়মান যেকোনো খাতে থাকে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দূর্বলতা ও অপেশাদার মনোভাবের কারণে এটি আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। সব দেশেই নতুন ব্যবসাখাতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকের অভাব থাকতে পারে। কিন্তু অন্যরা যেখানে, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পেশাদারী মনোভাব দিয়ে কাজ করার কারণে ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। আমদের এখানে তা হয়না।
দুটো বিষয় দেখলে এটা বোঝা যাবে একটি হলে আমাদের কোম্পানীগুলোতে বাইরের দেশের কর্মীরা কাজ করছে অন্যটি হচ্ছে উদ্যোগের ঝরে পড়ার হার। অবশ্য সেক্টর ডেভলপ করার জন্য সরকার ও উদ্যোক্তাদের যৌথ গবেষণা জরিপ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজগুলো যথাযথ নয় সেটাও তার কারণ হতে পারে। তবে কাজ চালিয়ে নেয়ার মতো কর্মী আছে বটে। কিন্তু এই খাতকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরো দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্মীর প্রয়োজন আছে বটে।

৪। নীতি নির্ধারকদের এ সম্পর্কিত ধারণার অভাব:  (Lack of awareness among policy makers)
ই-কমার্স একদিকে নতুন অন্যদিকে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা। তাছাড়া এর মধ্যে রয়েছে আমাদের নানারকম উপশাখা। ফলে এ সম্পর্কিত পরিষ্কার ধারণার অভাব রয়েছে এখনো জনতার বড়ো একটা অংশের মাঝে। এমনকি সরকারী নীতি নির্ধারকরদের বড়ো অংশ এক লাইনে এই বিষয়ে যতটা বোঝেন তা আসলে পুরো চিত্র প্রকাশ করে না। মানে এই বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অভাব নীতি নির্ধারকদের মধ্যে রয়েছে।
তাছাড়া সরকারী কর্মকর্তারা প্রত্যোকে যার যার কাজে ব্যস্ত থাকেন বিধায় এর সাথে সম্পর্কে না থাকলে বা ঠেকায় না পড়লে কেউ এই বিষয়ে তেমন জানেন না বা জানতে চান না। বেশীরভাগের ধারণায় গ্রাহক হিসেবে যতটা অভিজ্ঞতা তার মধ্যে সীমিত।
কিন্তু এই বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর তারা বিভিন্ন ভাবে বিষয়টি বুঝতে ও জানতে চান বা শিখে নেন। তখনো যে সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তা নয়। কারণ দেখাগেল ৩ মাস. ৬ মান ১ বছরে একজন কর্মকর্তা বিষয়টি বোধ সীমার মধ্যে নিয়ে আসেন বা এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মতো করে বিষয়টা শিখে যান তখন দেখা যায় যে, তিনি বদলি হয়ে যান। এটা বিভিন্ন সেক্টরের একটি মূল সমস্যা।

৫। বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্তগ্রহণে শ্লথগতি: ( Delay in decision making at various stages)
সরকারী নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে শ্লথগতি যেকোনো বিষয়ে উন্নয়নের অন্তরায়। যেমন ২০১৬ সালের পর *আজ পর্যন্ত উদ্যোগ নিয়েও ট্রেড লাইসেন্স অ্যাক্ট সংশোধন হয়নি। ফলে এখনো ই-কমার্স উদ্যোক্তারা তাদের ট্রেড লাইসেন্স এ ই-কমার্স লিখতে পারেনা। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা বছরের পর বছর ঝুলে আছে। তবে সিটি কর্পোরেশনগুলো ইতোমধ্যে বিষয়টি হালনাগাদ করে নিয়েছে। মানে সিটি কর্পোরেশন থেকে ই-কমার্স ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে।
(* ডিসেম্বর ২০২৪) আজ অবধি অক্টোবর মাস পর্যন্ত এটি বাকী রয়ে গেছে)

৬। প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছাড়া ব্যবসা শুরু করা বা অপেশাদার উদ্যোগ ((Unplanned business)
এটাকে জাতীয় সমস্যা বললে ভুল বলা হবে না। সবক্ষেত্রে আমরা প্রাথমিক ধারণা নিয়ে শুরু করি। কখনো কখনো ধারণার কোনো ভিত্তি থাকে না। ১৭ কোটি মানুষের বাজার, ভাল প্রতিযোগী না থাকা ও পরিশ্রম করে হয়তো কেউ কেউ ব্যবসায়ে এক পর্যায়ে ঠেকে ও ঠকে সফল হয়ে যান। তাতে অন্যরাও হয়তো কোনো প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছাড়া কাজ করতে চায়। আর এখানেই সমস্যাটা হয়। আমরা হয়তো মিস্টার অমুকের সফলতাই দেখেছি তার কতো দিনের স্বপ্ন পরিকল্পনা ছিল তা না জেনেই হয়তো নিজেরা ছক কষতে থাকি।
পেশাদারিত্বের অভাবে আমরা জেনে এবং না জেনে এমনকিছু ভুল করি যা কাজের ক্ষেত্রে আমাদের পিছিয়ে দেয় এবং এক পর্যায়ে ব্যর্থ করে দেয়। তাই পেশাদারিত্ব খুব গুরুত্বপূণ।
আপনি একজন শিল্পী না হলেও আপনি সত্যিকার শিল্পীর মতো গান না গাইলে তা লোকে শুনবেনা। আপনি একজন ব্যবসায়ী আগে থেকে হয়ে না উঠলেও তা হয়ে উঠার জন্য একজন পূর্নাঙ্গ ব্যবসায়ীর মতো কাজ করবেন এটাই আপনার পূর্ণতা। পূর্ণতাই সফলতা আনতে পারে। অপূর্ণতা আনবে কেবল ব্যর্থতা আর দীর্ঘসূত্রিতা।

৭। ক্রেতার আস্থা সংকট: Consumer Trust crisis
আমাদের সমাজে আর্থ সামাজিক নিরাপত্তা হীনতার অভাবে আর্থিক অপরাধ সবসময় সর্বত্র কমবেশী বিদ্যমান থাকে। যেমন চুরি ডাকাতি, ছিনতাই দূর্নীতি, ঘুষ ও জোচ্চুরী। ফলে মানুষ সব সময় একটা আস্থাহীন পরিবেশের মধ্য দিয়ে যায়। সে অবস্থায় বর্তমানে ই-কমার্সের উন্নতি দেশের সার্বিক বিষয়ে কোনো স্থবিরতা নেই সেটাই আশার বিষয়।
এছাড়া ব্যবসা উদ্যোগের ক্ষেত্রে আমরা অন্যের দেখাদেখি ও গতানুগতিকতার দোষে দুষ্ঠু। এরথেকে বের হতে পারলে যেমন ভাল সাড়া পাওয়া যায়।
তথাপি আমাদের এই প্রবণতাটা নেই। যেমন শহরে যদি একই এলাকায় ২০টি রেষ্টুরেন্ট থাকে প্রায় সবগুলো মান ও সেবা একই রকম। অথচ ২/১টি প্রতিষ্ঠান ভিন্নতর বা উন্নততর সেবা দিয়ে কিন্তু ক্রেতার মন জয় করছেই। পাড়ায় ৫টি সেলুন দোকান থাকলেও প্রায় সবগুলোর সুবিধা ও অসুবিধা একই রকম। অথচ সুবিধা বাড়লে কিন্তু বিক্রি বাড়ে। এই একই কারণে ক্রেতার আস্থা অর্জনে আমরা পিছিয়ে থাকি।
বিগত বছরগুলোতে ই-কমার্সের নামে ঝুঁকিপূর্ণ ই-কমার্স ও ছদ্মবেশী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে কতিপয় প্রতিষ্ঠান ক্রেতা সাধারণকে ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফেলেছিল। তাই আস্থার একটা সংকট তৈরী হয়েছে বটে তবে প্রবৃদ্ধি থেমে থাকেনি। যদিও প্রবৃদ্ধি যেভাবে হওয়ার কথা ছিল সেভাবে হয়নি।
আশার কথা হলো অনেকের ধারণা প্রতারণার ঘটনায় ই-কমার্সে প্রবৃদ্ধি স্তব্দ হয়েছে। তা কিন্তু নয়। এখনো প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। তবে আমাদের মতো কিছু দেশে এই প্রবৃদ্ধি আমাদের চেয়ে অনেক বেশী।
আমাদের যে পরিমাণ পাকা রাস্তা, ইন্টারনেটের ব্যবহার, দাম, গতি এসব বিবেচনায় আরো অনেক বেশী ই-কমার্সে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। যা বর্তমান অবস্থান অন্তত ২০ গুন বেশী। এখানে এখনো অবারিত সুযোগ রয়েছে যা আমরা সঠিক উদ্যোগ ও দক্ষতা এবং ক্রেতার আস্থার সংকটের কারণে বাজার দখল করতে পারছিনা।

৮। বিজনেস কনসেপ্ট নিয়ে ধোয়াশা ও সিদ্ধান্তহীনতা:(Blurry business concept)
এটা একইভাবে আফসোস ও দু:খের বিষয় যে, আমাদের উদ্যোক্তা বড়ো অংশের জ্ঞান ফেসবুকে সীমাবদ্ধ এমনকি খুব কম সংখ্যক মানুষ গুগলে সার্চ করে থাকেন। একটা পরীক্ষা পাস করার জন্য আমরা ২ বছর থেকে ১০ বছর পড়ি এবং ১০ থেকে ১৩টি বই পড়ি। অথচ কর্মজীবনের জন্য আমরা পড়িনা। বিশেষ করে উদ্যোক্তাদের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরীক্ষা রয়েছে। শুধু বই নয় এই বিষয়ে জানার সুযোগ রয়েছে সাযেমা থেকে প্রশিক্ষণ সফল ব্যক্তি থেকে ব্যর্থ ব্যক্তি সকলের কাছেই। শেখার মানসিকতা না থাকার কারণে বিজনেস কনসেপ্ট নিয়ে ধোয়াশা রয়েছে তরুনদের মধ্যে।
রেভিনিউ মডেল সম্পর্কে সচেতন নয় যারা ভাবছেন ভবিষ্যতে ব্যবসায় আসবেন। আরওআই (রিটার্ণ অব ইনভেস্টমেন্ট) কি তা বোঝেন না অনেকে। আমি বলছিনা একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য অনেক কিছু জানতে হবে বা সবজেনে শুরু করতে হবে। কিন্তু যখন যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সে পর্যায়ে সে বিষয়টি সম্পর্কে একটু ধারণা থাকা দরকার বৈ কি? বড়ো কোম্পানীগুলোতে বৃহৎ টিম কাজ করে তাদের চেয়ে সমস্যায় বেশী ভোগের ছোটোরা।
অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ছাত্র উদ্যোক্তা, আবাসিক উদ্যোক্তা ও নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন- যারা হয়তো জানার সুযোগ পান না। আবার অনেকে হয়তো এই বিষয়গুলো এ ধরনের একাডেমিক শব্দ দিয়ে না বুঝলেও নিজের মতো করে বোঝেন।
এই নিজের মতো করে বোঝাও একটা যোগ্যতা। কিন্তু যারা কোনো ভাবেই বুঝতে চান না বা বোঝার চেষ্টা করেন না। তারা হয়তো একজন দোকানীর সাধারণ বুদ্ধিতেও অনেক বড়ো হতে না পারলেও তাদের নিজেদের জন্য কিছু রুটি রুজির ব্যবস্থা করতে পারবেন। কিন্তু অনেকে এমন প্রাথমিক পর্যায়ে থাকেন এবং সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন অথবা বার বার সিদ্ধান্ত বদল করেন তারা আসলে সঠিক পথ পান না। সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হয় যখন তাদের প্রতিযোগী বাজারে চলে আসে বা ফেসবুক তার কোনো নিয়ম পরিবর্তন করে। তখন অ্যামেচার ধরনের উদ্যোগে তিনি যে প্রাথমিক সাফল্য পাচ্ছেন সেটাও থমকে যায়।

০৯। প্রযুক্তি সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাব :  (Lack of technical knowledge)
প্রযুক্তিকে ব্যবসায় ব্যবহার সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাব। এই কথাটি হয়তো সঠিক শব্দপ্রয়োগ। তা সত্বেও একজন উদ্যোক্তা আইটির গভীর জ্ঞান না থাকলেও চলে। বিজনেস ও এবং লিডারশীপ এই দুইটি যোগ্যথা তাকে অন্যান্য কাজ করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এই দুইটার কোনোটাতেই দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী হয়না। আমাদের চাকরীমুখী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শুরুতেই পিছিয়ে দেয়। আর এই দৃষ্টিভঙ্গির তৈরীর কারণ হলো দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ শাসণ। যেখানে ব্যবসাগুলো বিদেশীদের হাতে ও জমিদারদের হাতে থাকায় আমাদের সাধারণ মধ্যবিত্তের হাতে ছিল কেবল চাকরী আর ওকালতি। বর্তমানে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা এসেছে। এসেছে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ব্যবসা কিন্ত আমাদের পাঠক্রম এখনো সে আমলের রয়ে গেছে। ফলে আমরা সে বৃত্ত থেকে বের হতে পারছিনা। এদিকে প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি আসায় আমাদের সে সম্পর্কিত পর্যাপ্ত ধারণা লাভ করা যায়না। হয়তো আমরা বিজনেস কনসেপ্ট আর লিডারশীপ দিয়ে এই সমস্যা উতরে যেতে পারতাম যদি বিপরীত দিকে সমস্যা না থাকতো।
সেই বিপরীত সমস্যা হলো আইটি পেশাজীবিদের পেশাদারিত্বের অভাব। এটা আসলে কোনো নির্দিষ্ঠ পেশার সমস্যা নয়। আমাদের সমাজে পেশাদারী মানসিকতার যে অভাব সেটা এখানেও রয়েছে। অনেক সময় উদ্যোক্তারা ঠিকভাবে বোঝাতে পারেন না বার বার মত বদল করার কারণে হয়তো সঠিক সিস্টেম, সফটওয়ার ও ওয়েবসাইট বানাতে দেরী বা সমস্যা হয় বৈকি? কিন্তু একজনের কনটেন্ট অন্যের কাছে বিক্রি করা এডমিন এক্সেস মেরে দেয়া এমন নানা ধরনের প্রতারণা ও ভুল বোঝাবোঝির শিকার হয়ে থাকেন উদ্যোক্তারা।
আমরা হয়তো বেশীরভাগ সময় গ্রাহকের দিক থেকে দেখি। কিন্তু উদ্যোক্তাদের ঠকানোর জন্য সমাজের নানা বাঁকে ওতপেতে বসে আছে আরো নানা প্রতারক। তাই বিষয়গুলো সম্পর্কে আগে সর্তক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে সমস্যা আগে থেকে জানলে তার সমাধান সহজ হয়।

১০। অর্থ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাব  (Lack of Finance management knowledge)
এটা কিন্তু আমাদের দেশের সর্বত্র। আমরা অভাবী অবস্থায় যতটা অর্থ ব্যবস্থা করতে পারি আমাদের কাছে পর্যাপ