ই-কমার্স ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ

ই-কমার্স ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ

ই-কমার্স ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ

ই-কমার্সের জন্মকথা
আমরা আবিষ্কারের গল্প পড়তে কতইনা রোমাঞ্চ অনুভব করি। রেডিও কিংবা বৈদ্যুতিক বাল্ব, আমেরিকা কিংবা পেনসিলিন কোনো আবিষ্কারের গল্পই কম মজাদার নয়। এমনকি অ্যামাজনের উৎসমুখ কিংবা নায়াগ্রার সূত্র, রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার সভ্যতাকে কম সুবিধা দেয়নি। প্রতিটি সূচনা যেমন চ্যালেঞ্চেজর তেমনি চমকপ্রদ। আবিষ্কারের গল্প নিয়ে মজার মজার কৌতুকও রয়েছে।
বিশেষ করে, অক্সিজেন আবিষ্কারের আগে মানুষ কিভাবে শ^াস নিতো? এই প্রশ্ন করে বোকা সাজাও খুব সহজ। ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই যে, এই আবিষ্কার আসলে বিদ্যমান থাকা অক্সিজেনকে চিনতে পারা।
ই-কমার্সের সূচনা আসলে প্রযুক্তির একটা নতুন ধাপ। আধুনিক অধরা বা কোমল প্রযুক্তি নির্ভর আবিষ্কারগুলো একদিনে এক ধাক্কায় এমনটা হয়ে উঠেনি যেমনটা আমরা আজকে দেখছি, এসব কোনো একক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্বও নয়। তবুও আগে এবং পরে অনেকের অবদান থাকলেও কোনো একটি পর্যায়কে যুগান্তকারী ও প্রকৃত সূচনা হিসেবে দেখা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃতিত্বটা তার বা তাদের ঝুলিতে যায়।
ই-কমার্সের সূচনার জন্য অনেকগুলো প্রযুক্তি যেমন অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে তেমনি ই-কমার্সের পূর্ণতা আনতেও নতুন অনেক ধাপ পার হয়ে কিছু প্রযুক্তি অবদান রেখেছে। তাই এদের কোনটি বাদ দিয়ে ই-কমার্সের ইতিহাস বলার নয়। আমরাতো জানি যে, ই-কমার্স একটি বহুমাত্রিক মাধ্যম ও প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসাপদ্ধতি যাতে আবার পণ্য সেবার ক্ষেত্রেও বহুমাত্রার যোগ রয়েছে।
প্রকৃত ই-কমার্সের সূচনা কি ছাত্রদের লুকিয়ে মাদক বিক্রির মাধ্যমে হয়েছিল নাকি বিটুবিতে বিমান টিকেট বিক্রির মাধ্যমে হয়েছিল? তা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে। পূর্নাঙ্গ ই-কমার্সের প্রথম ভৌতপণ্য কি বই ছিল নাকি গ্রোসারি ছিল? তা নিয়ে বির্তক চলতে পারে কিন্তু এই প্রতিটি ঘটনাইযে ই-কমার্সেকে এক এক ধাপ করে এগিয়ে নিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। আমরা বরং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রনিক্স কমার্সের যাত্রাপথটি একবার দেখে নেব।

১৯৬০। ইডিআই 
এই দশকে ইলেকট্রনিক ডেটা ইন্টারচেঞ্জ (ঊউও) এর বিকাশ ইলেকট্রনিক বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করেছিল। ইডিআই এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডেটার ডিজিটাল স্থানান্তরের মাধ্যমে নথির নতুন ধরনের মেইলিং এবং ফ্যাক্সিং সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। যা ই-কমার্স ব্যবসার ভবিষ্যতের জন্য একটি সুপ্ত বীজ হিসেবে রোপিত হয়েছিল।
সিস্টেম এর সাথে যুক্ত ব্যবসায়িক অংশীদাররা একটি উপাত্ত বিন্যাস পদ্ধতি ব্যবহার করে অর্ডার, চালান এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক লেনদেন করতে সমর্থ হয়েছিল এটির দ্বারা। একবার একটি অর্ডার পাঠানো হলে, এটি একটি ঠঅঘ (াধষঁব-ধফফবফ হবঃড়িৎশ বা মান-সংযোজিত নেটওয়ার্ক) দ্বারা পরীক্ষা শেষে প্রাপকের ফরমায়েষ প্রক্রিয়াকরণ করে লেনদেনকে পরের ধাপে নিয়ে গিয়েছিল। ইলেকট্রনিক্স কমার্স বা বৈদ্যুতিন ব্যবসার এই হলো অংকুর।

১৯৬৯। ফোনে অর্ডার নিয়ে হোম ডেলিভারী 
১৯৬৯ সালে একটি যুগান্তকারী ঘটনার মধ্য দিয়ে মার্কিন মুল্লুকে প্রচলিত দোকানের বাইরে হোম ডেলিভারীয় ই-কমার্সের নিকটবর্তী প্রাক-ধারণার সূচনা ঘটে। ইন্টারনেট ছিলনা তাই ঈড়সঢ়ঁঝবৎাব কোম্পানী ফোনে অর্ডার আর হাতে নিয়ে পণ্য ডেলিভারী দেয়া শুরু করে।
যদিও আমাদের দেশে হাজার বছর ধরে পণ্য ফেরী করে বিক্রি করা সে ফেরীওয়ালারাও হোম ডেলিভারী দিয়ে বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পণ্য সেবা বিক্রি করেছে। শাড়ি চুড়ি থেকে ক্ষৌরকর্ম অনেক কিছুই হয়েছে এবং এদের অনেকেরই কোনো মোকাম ছিলনা, তারা বাড়ি বাড়ি গিয়েই পসরা দেখাতেন। এটা অগ্রিম ডেলিভারী কিংবা প্রযুক্তির ব্যবহারের মধ্যে পড়েনা বিধায় আমরা হয়তো তাকে ই-কমার্স বা টেলিকমার্সের মধ্যে আনতে পারিনি। কিন্তু ই-কমার্সকে গ্রহণ করতে হয়তো অতীতের এইটুকু ঐহিত্য আমাদের সাহায্য করেছে বটে।

১৯৭২। নেপথ্য থেকে কল্যাণে 
আজকাল আমাদের দেশে অনেকে ই-কমার্সের ছদ্মবেশে অন্য ব্যবসা করে অথবা ই-কমার্স নাম দিয়ে প্রতারণার সুযোগ নেয়। হোক তাদের সংখ্যা নগণ্য। লোকে তাদের নাম যখন জানেই। তখন আমি আর লুকিয়ে কি করব? গ্রাহকদের একটা বড়ো অংশের মধ্যে ই-কমার্স জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। আর সেটাই সুযোগ সন্ধানীদের অস্ত্র হয়ে গেল।
মজার ব্যাপার হলো প্রাক ই-কমার্স যুগে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে মাদক ব্যবসায়ীরা ই-কমার্সকে বেচে নিয়েছিল এটা সে ৭০ এর দশকের মার্কিন মুল্লুকের কথা। যেহেতু দোকানী কিংবা বিক্রেতাকে সামনে এসে চেহারা দেখাতে হয়না। সেজন্যই এই কর্ম। রাতের আঁধারে পাহারা না থাকলে অপরাধ প্রবণতা যেকোনো সমাজে হতে পারে কম বা বেশী।
কম্পিউটার ব্যবহার করে প্রথম অনলাইনে মারিজুয়ানা বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়। এমনকি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং এমআইটি শিক্ষার্থীরা গাঁজা বিক্রি করার জন্য একটি আরপানেট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতো বলে রটনা রয়েছে। যাতে অর্ডার অনলাইনে হলেও টাকা এবং পণ্য এখনও ব্যক্তিগতভাবে বিনিময় করতো। সূতরাং ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে এটাও ই-কমার্স ইতিহাসের একটা অংশ বটে। তবে আইনের সংজ্ঞায় অবৈধ আয়ের পথকে ব্যবসা বলা যায়না। কারবার বলে এবং কখনো সেটার নাম হয় চোরা কারবার। তবে ই-কমার্স এক মহান পেশা। ঘরে ঘরে গিয়ে সুখ বিলি করার মতো ব্যাপার।

১৯৭৬। অনলাইন লেনদেন এর সূচনা 
এই বছর আমেরিকাতে অনলাইন লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ চালু হয়। আজকের ই-কমার্সের বিকাশের পেছনে এই অনলাইন লেনদেন একটি অন্যতম অগ্রগতি। এসময় আটালা টেকনোভশন এবং বাঙ্কার রামো কর্পোরেশন নামক দুটো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথম দিকে অনলাইন লেনদেন পদ্ধতির একটি অনলাইন সিস্টেম তৈরী করা হয়।

১৯৭৯: ইলেট্রনিক্স শিপিং 
এই বছর ঈড়সঢ়ঁঝবৎাব প্রতিষ্ঠার দশ বছর হয়ে যায়। ব্রিটিশ উদ্ভাবক মাইকেল অ্যালড্রিচ প্রথমবারের মতো দেখান যে, কিভাবে টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে একটি পরিবর্তিত টেলিভিশনকে একটি লেনদেন-প্রসেসিং কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করে ইলেকট্রনিক শপিং কাজটি সম্পন্ন করা যায়। দারুন এই কাজটি অতীতের সকল ধারণাকে পাল্টে এক নতুন যুগের পথ নির্দেশ করে।
তাই বলা হয়ে থাকে অনলাইন কেনাকাটা ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যের উদ্যোক্তা মাইকেল অ্যালড্রিচ দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছিল। সিস্টেমটি ১৯৮০ সালে বাজারজাত করা হয়েছিল এবং ব্যবসা-থেকে-ব্যবসায় সিস্টেম হিসাবে অফার করা হয়েছিল যা তখন যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড এবং স্পেনে বিক্রি হয়েছিল।

৯৮২। মিনিটেল প্রযুক্তি 
১৯৮২ সালে ফ্রান্স মিনিটেল চালু করেছিল। একটি অনলাইন পরিষেবা যা টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা ভিডিওটেক্স টার্মিনাল মেশিন ব্যবহার করে। মিনিটেল টেলিফোন গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে ছিল এবং লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীকে একটি কম্পিউটিং নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করেছিল। এভাবে একেকটি প্রযুক্তি পরে উন্নত হয়ে ই-কমার্সের সমন্বিত প্রযুক্তিতে অবদান রেখেছিল।

১৯৮৩। ই-কমার্স শুনানী ও অনুমোদন (ব-ঈড়সসবৎপব ঐৎধৎরহম ধহফ ঢ়বৎসড়ংরড়হ)
সম্প্রতি আমাদের দেশে ই-কমার্সে বিতর্কিত কর্মকান্ডোর কারণে কিছু এজেন্সি সাময়িকভাবে ই-কমার্স বন্ধের পরামর্শ দিয়েছিল। যদিও সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ও অন্যান্য নীতি পলিসির কারণে এ ধরনের প্রস্তাব গ্রাহ্য হয়নি। আমরা দেখতে পাচ্ছি ই-কমার্সের শুরুতেও প্রযুক্তি ও বিজনেস কাঠামোর নতুত্বের কারণে এটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল এবং শুনানীর মাধ্যমে এর অনুমোদিত যাত্রা শুরু হয়। কারণ ই-কমার্স এমন এক সেবা মানুষ নিজেদের প্রয়োজনেই একে আপন করে নিবে।
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি “ইলেক্ট্রনিক কমার্স” বা ই-কমার্স উপর প্রথম শুনানির আয়োজন করে। ঈচটঈ, গঈও গধরষ, চৎড়ফরমু, ঈড়সঢ়ঁঝবৎাব, ঠড়ষপধহড় ঞবষবঢ়যড়হব, ধহফ চধপরভরপ ঞবষবংর এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই শুনানিতে অংশ নেয় এবং নিজেদের যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করার মাধ্যমে তারা বিজয়ীর মতো এক নব সুচনা করে। পরের বছর টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পণ্য এবং পরিষেবা ক্রয় বিক্রিয় জন্য ডিজাইন করা সিস্টেমগুলির পর্যবেক্ষণ শেষে ক্যালিফোর্নিয়ার ইলেক্ট্রনিক কমার্স আইন পাস হয়। আমরা ধরে নিতে পারি এটা ই-কমার্সের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও শুভযাত্রা।

১৯৮৪। ইলেট্রনিক্স
প্রথম অনলাইন খুচরা বিক্রেতার প্রথম উদাহরণগুলির মধ্যে একটি হলো ঈড়সঢ়ঁঝবৎাব। তারা ১৯৮৪ সালে ইলেকট্রনিক মল চালু করে। কিন্তু এর কার্যক্রম সীমিত ছিল। কারণ যার ব্যবহারকারীরা প্রায় ১০০টি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করতে পারতো। তবে অভিনবত্বের কারণে এই নতুন পদ্ধতির কেনাকাটার বিষয়ে সে সময়ে স্থানীয় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনগুলো বিভিন্নরকমের ফিচারও প্রকাশ করেছিল।

 

১৯৯০: ওয়ার্ল্ডওয়াইডওয়েব 
এই বছর ওয়ার্ল্ডওয়াইডওয়েব বা ডডড এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে ইলেকট্রনিক্স যোগাযোগের পালে নতুন হাওয়া লাগে। প্রথম ওয়েব ব্রাউজার অনলাইন শপিংয়ের জন্য একটি আর্শীবাদ হয়ে এসেছিল। কারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা যা খুঁজছেন তা দ্রুত খুঁজে পেতে পারেন এবং খুচরা বিক্রেতারা আরও বৃহত্তর দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পারে। অনলাইনে ইলেক্রনিক্স কমার্সকে বিস্তৃত উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

১৯৯২: বই নিয়ে অনলাইন শপ 
বুক স্ট্যাকস আনলিমিটেড, ১৯৯২ সালে চার্লস এম স্ট্যাক দ্বারা তৈরি একটি অনলাইন বইয়ের দোকান। এটি ছিল গ্রাহকদের অনলাইন কেনাকাটার প্রথম অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি। স্ট্যাকের স্টোরটি অ্যামাজন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তিন বছর আগে একটি ডায়াল-আপ বুলেটিন বোর্ড হিসাবে শুরু হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে ইড়ড়শ ঝঃধপশং টহষরসরঃবফ ইড়ড়শং.পড়স হিসাবে ইন্টারনেটে চলে আসে এবং অবশেষে বার্নস অ্যান্ড নোবেল এটিকে অধিগ্রহণ করে।

১৯৯৪: পূর্নাঙ্গ ই-কমার্স উদ্যোগ 
এই বছর ই-কমার্সের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সালে নিরাপদ অনলাইন লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে ই-কমার্সে শুধু পণ্যসেবা উপস্থাপন নয় অগ্রিম মূল্য গ্রহণ করে অর্ডার নেয়া সহজ হয়ে যায়। এই দিনটির জন্য পুরো ১০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। কারণ ই-শপ চালু হয়েছিল ঠিক ১০ বছর আগে। নেটস্কেপ ১.০ প্রযুক্তি অবমুক্ত হলে এটি ইন্টারনেটে লেনদেনে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়। ফলে ইন্টারনেটে সত্যিকারের এবং সরাসরি বাণিজ্যিক কাজ করা যায়। বলা যায় ই-কমার্সে এক ধরনের পূর্ণতা আসে। পরবর্তীতে বেশ কিছু তৃতীয় পক্ষ যেমন ক্রেডিট কার্ড প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানির কিছু নতুন সেবা চালু হয় তারা এই কাজে নতুন রসদ যোগান দিয়ে মানুষের কাছে ই-কমার্সকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। যদিও তখনো আমরা মানে বাংলাদেশের মানুষ এসব প্রযুক্তি থেকে বহুদূরে রয়ে যাই।

এনক্রিপশন ব্যবহার করে প্রথম নিরাপদ অনলাইন লেনদেনটি ১১ আগস্ট, ১৯৯৪-এ সংঘটিত হয়, যখন ফিল ব্র্যান্ডেনবার্গার নেটমার্কেটের মাধ্যমে স্টিং সিডি টেন সমনার্স টেলস ক্রয় করে। এই গল্প শুধু গল্প নয়, ইতিহাস। আর তাইতো সেদিন নিউ ইয়র্ক টাইমস শিরোনাম করেছিল “অ্যাটেনশন শপারস: ইন্টারনেট ইজ ওপেন”

নিউ ইয়র্ক টাইমসের ১২ আগস্ট, ১৯৯৪ এই ফিচার প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, “তরুণ সাইবারস্পেস উদ্যোক্তাদের দল গোপনীয়তার গ্যারান্টি দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা শক্তিশালী ডেটা এনক্রিপশন সফ্টওয়্যারের সহজলভ্য সংস্করণ ব্যবহার করে ইন্টারনেটে প্রথম খুচরা লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।”

১৯৯৫: অনলাইন মার্কেটপ্লেস 
অ্যামাজন, ইবে, বুম এ ধরনের অনলাইন মার্কেটপ্লেস খুলতে শুরু করে। এর মধ্যে রয়েছে ঔবভভ ইবুড়ং অসধুড়হ. প্রাথমিকভাবে এগুলো বই বিক্রির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং চরবৎৎব ঙসরফুধৎ’ং অঁপঃরড়হডবন প্রথম অনলাইন নিলাম সাইট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে যা পরে ইবে নামে মার্কেটপ্লেসে রুপান্তর হয়ে বিশ^ বাজারে আসে।

১৯৯৭: ইন্টারনেট সংযুক্তির বিকাশ 
১৯৯৭ সালের মধে ৭ মিলিয়নেরও বেশি বাড়িতে মিনিটেল টার্মিনাল ছিল বিশ^জুড়ে। মিনিটেল সিস্টেমটি তিন বছর পরও এমনকি ইন্টারনেটের সেবার বিস্তুতির আগেও এর ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। ফিনল্যান্ডের মেরিটা ব্যাংক ১৯৯৭ সালে প্রথম এসএমএস নির্ভর মুঠোফোন ব্যাংকিং চালু করে। এটাও একটা বড়ো ঘটনা।

১৯৯৮। ব্যাংক কার্ডের লেনদেনএর জনপ্রিয়তা 
ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন শুরু হলে উন্নত বিশ্বে ই-কমার্সের সাথে তখন লোকেরা পরিচিত হতে শুরু করে। ঠিক এই সময়ে পেপ্যাল চালু হয়।
পেপ্যাল একটি অর্থ স্থানান্তর পদ্ধতি নিয়ে আসে। পরে ২০০০ সাল নাগাদ এটি এলন মাস্কের অনলাইন ব্যাংকিং কোম্পানির সাথে একীভূত হয়ে এর কাজের পরিধি ও জনপ্রিয়তার বৃদ্ধি করে নেয়। অভৌত লেনদেনগুলো ভৌত কার্ড বা মূদ্রা দিয়ে হলেও পেপাল এটিকে আরো সহজ ও ব্যাপক করে দেয়। এতে করে ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড দ্বারা লেনদেন এর সীমাবদ্ধতাগুলো দূর হয়ে যায়। কিন্তু এ ধরনের একটি সিস্টেমের সুযোগ এখনো বাংলাদেশের দেশের মানুষ পায়নি। মধ্যখান চলে গেছে অনেকগুলো বছর।

১৯৯৯। গ্লোবাল ই-কমার্স 
এই বছর গ্লোবাল ই-কমার্স তাদের অস্তিত্ব জানান দেয়। এই লেনদেন ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেলে আমেরিকার বাইরে ই-কমার্স ধারনা জনপ্রিয় হতে শুরু করে। ইন্টারনেটের সম্পর্কিত ব্যবসার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি উদ্যোক্তাদের প্রলুব্ধ করলে স্টার্টআপ ধারণা প্রসারিত হতে থাকে। ততোদিনে আমাদের দেশে সীমিত আকারে ইন্টারনেট ও প্লাস্টিক মানি প্রচলন ঘটে যাকে কার্ড ভিত্তিক ব্যাংকিং বা অর্থলেনদেন করার মাধ্যমে চিনতে পারি। তথা ডেবিট ক্রেটিড কার্ড কিংবা ভিসা