ইরান ইসরাইল যুদ্ধ শিক্ষা ও জয়-পরাজয়: ইতিহাস কি বলে?
যুদ্ধের কোনো ভাল দিক নেই। তবে যেহেতু পৃথিবী যুদ্ধমুক্ত নয়। তাই শিক্ষনীয় আছে। পৃথিবীতে ‘‘জোর’’ আর ‘‘শক্তি’’ তে সিদ্ধান্ত ক্ষমতা আর নেতৃত্বের ফায়সালা হয়। সেটাই মনে করিয়ে দেয়। বইয়ের পাতায় যতই ভাল ভাল কথা লিখা থাকুক। যে যত বেশী মানুষ মারতে পারবে। সে তত ক্ষমতাবান। আর এজন্যই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মানুষদের উপর এই ক্ষমতাটা দেখায়। আর তথাকথিত সভ্য উন্নত দেশে তারা অন্যদের বা অন্য দেশ ও জাতির উপর সেটা করে। ওই নিজেদের প্রতি পক্ষপাতটাকে আমরা সভ্যতা নাম দিয়েছি। কারণ আমাদের কাছে এর চেয়ে ভাল আর কিছুতো নেই।
বইতে হরিণ আর বাঘের কাহিনী যখন পড়েন। তখন আপনি ন্যায় অন্যায়ের বিচারে হরিনের পক্ষে থেকে তার সাফল্য কামনা করেন। আর যদি শক্তি ক্ষমতার বিচার করেন তাহলে বাঘের পক্ষে থাকবেন। ভাগ্য ভাল যে, বাঘ মানুষ নয় আর সে রাজ্য দখল করে রাজা হয় না। ( মানুষ যে বাঘ সিংহকে রাজা বলে সেটা কিন্তা তারা জানে না। তারা তাদের জগতে তাদের মতো করে রাজা) তাহলে মানুষ সব বাঘের দলে যোগ দিতো। বাঘের দলে যোগ দিলে যদি বাঘের ক্ষমতা এবং হরিণের মাংস খাওয়া দুটো জোটে। তবে তাই হোক—।
গ্রামে গঞ্জে নেতা বা মোড়লদের কোনো লোক অন্যায় করলে। সেটা নিয়ে যদি সালিশ বৈঠক হয়। নেতা সবার সামনে তার চেলাকে দুটো গালমন্দ করে ছেড়ে দেয়। আর তলে তলে এসব অপকর্ম করার জন্য সব শেল্টার দেয়। এই যুদ্ধের সাথে আমি এই ঘটনারও মিল খুঁজে পাই।
ইরান ইসরাইল যুদ্ধ পুরোটাই ছক করা বলে আমার মনে হয়। ইরানকে যুদ্ধে উসকে দিয়েছে ইসরাইল। তার বড় ভাই আমেরিকাকে ইরানের পরমানু স্থাপনায় হামলা করার জন্য। পুরোটা পরিকল্পিত। অনেকদিন ধরে ইরানকে এই উস্কানীটা দেয়া হচ্ছে। ইরান ধৈর্যও কম ধরেনি। ইরানও ইসরাইলের মতো করে গোপন যুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারতো। কিন্তু ইরানকে এতটাই ক্ষতিগ্রস্থ আর উত্তেজিত করেছিল ইরান তার আত্মর্যাদার জন্য হলেও যুদ্ধ করতো। ইরান লাভের মধ্যে শুধু নিজেদের মিসাইল সক্ষমতা দেখাতে পেরেছে আর ইসরাইলের কিছু অস্ত্রক্ষয় করতে পেরেছে। কিন্তু এটাও সাময়িক এখান থেকে আসল ফায়দা তুলবে ইসরাইল। তারা তাদের অস্ত্র ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে পশ্চিমাদের কাছ থেকে আরো সহযোগিতা পাবে। এবং আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
আরো সহজ কথায় বলি, এক পক্ষের মৃত ৬০০ অন্যপক্ষ ২৮। কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাহলে জয়ের পাল্লাতো ইসরাইলের দিকে।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যে যত কথা বলুক। সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। যুদ্ধের জেতার ২টা হিসেব। একটা হচ্ছে স্থায়ী সমাধান ও ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়া। তাহলে এই যুদ্ধে কেউ জিতেনি। আর যদি সাময়িক ক্ষতি সাধন করে শত্রুকে দূর্বল করে দেয়া হয়। লক্ষ্য হয়। তাহলে সাময়িক জয় পেয়েছে ইরান আর যদি তার পরমানু প্রকল্প স্থায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে তাও মিথ্যা। কিন্তু এটা সত্যি যে, দীর্ঘস্থায়ী জয় পেয়েছে ইসরাইল। কারণ এই বিষয়ে আর কেউ এখন লাগতে আসবেনা। মাঝখান দিয়ে তারা ফিলিস্তিনে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এই যুদ্ধের মধ্যে তা থেকে বিশ্ববাসীর চোখ সরাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ৬৭ সালের যুদ্ধ, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি ও জাতিসংঘ প্রস্তাবের মতো তারা কোনো প্রাপ্তির দিকেও অগ্রসর হতে পারে।
বড়ভাইয়ার দাবী অনুসারে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা যদি শেষ করতে পারে। তাহলে ইরানকে এক প্রকার পঙ্গু করে দিয়েছে। আর যদি ইরান পরমানু স্থাপনার ক্ষেত্রে ডামি রাখতে পারে আর সেটা ধ্বংস হয়। তাহলে খেলা এখনো বাকী। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এই কৌশল তাদের মাথায় আসা স্বাভাবিক তবে সেখানে যে পরিমাণ জায়ন ভাইদের গুপ্তচর থাকে সেটা ইরান করতে পারবে কিনা সে আশংকাও থেকে যায়।
কেন পশ্চিমারা অন্ধভাবে ইসরাইল সমর্থন করে এর কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গিয়েছে। হিটলারের ইহুদি নিধনের কারণে তাদের মধ্যে একটা অপরাধবোধ তৈরী হয়েছে সেখান থেকে তারা ইসরাইলকে সহযোগিতা করে। কিন্তু এখন তাদের মধ্যে দেনা পাওনা, পারষ্পরিক সম্পর্ক ও একটা চেইন তৈরী হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ইসরাইলের লবিং, প্রতিনিধিত্ব এবং কৌশলগুলো খুব ভাল কাজ করে।
পশ্চিমাদের নেতৃত্বে জায়ানদের জন্য দেশ প্রতিষ্ঠায় ১৯৪৭ সালে প্রথম ৫টি প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু ইসরাইল সব প্রস্তাব নাকচ করেছে। ফিলিস্তিন ২টি প্রস্তাব নাকচ করেছে। পরে আরো ২টি প্রস্তাব ছিল তারমধ্যে ১টি বাস্তবায়ন করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। তখন বিশ্বমোড়ল ছিল বৃটেন এখন তার ছোটভাই বড়ো ভাই হয়ে গিয়েছে। এই সমস্যার মুলে যে তারা তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই বিশ্লেষকদের মাঝে। আর এই সমস্যা জিইয়ে রেখে ইসরাইলকে রাক্ষস বানিয়ে তার ভয় দেখিয়ে তার মধ্যে প্রাচ্যকে কব্জায় রাখবে। এটাই তাদের কৌশল।
ফিলিস্তিনের সমস্যা সমাধানে যেসব প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে- সেগুলো ছিল-
১) ফিলিস্তিন ও ইসরাইলীদের যৌথ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। ( তখনকার বাস্তবসম্মত ছিলনা, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন সম্মত হয়নি)
২) ইসরাইলীদের মাদাগাস্কার দ্বীপে অভিবাসন করা। (ইসরাইল সম্মত হয়নি)
৩) ইসরাইলীদের রাশিয়ার একটা প্রদেশের স্বায়ত্বশাসিত জাতি হিসেবে অভিবাসিত করা। (ইসরাইল সম্মত হয়নি)
৪) আফ্রিকার কোনো খালি জায়গায় তাদের ভিন্ন দেশ দেয়া। (ইসরাইল সম্মত হয়নি)
৫) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের পূণবাসন করা। (ইসরাইল সম্মত হয়নি তাছাড়া এত অভিবাসী তখন কেউ নিতে চায়নি। যদিও বিগত বছরে ইউরোপ ও আমেরিকা তারচেয়ে বেশী অভিবাসী নিয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে)
অন্য দুটি প্রস্তাব ছিল। দু্টি আলাদা রাষ্ট্র অথবা একটি কোয়ালিশন রাষ্ট্র যার দুটি প্রদেশ থাকবে। প্রথমটি হয়েছিল। ইসরাইল ও জাতিসংঘের ইচ্ছেয়। যেহেতু জাতিসংঘ পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রণে তাই বলা যায় তাদের ইচ্ছে অনুসারে।
আরব রাষ্ট্র আর ফিলিস্তিনীরা বিরোধীতা করলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৬৭ সালের যুদ্ধে বিশাল অংশ ইসরাইল দখল করার পর আরো কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেগুলো আবার যাদেরকে সংশ্লিষ্ঠ করা হয়েছে তাদের মতামতের বিষয় ছিল।
১৯৬৭ সালের “ছয় দিনের যুদ্ধ” (Six-Day War) নামে পরিচিত — ছিল মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা। এটি ৫ জুন থেকে ১০ জুন, ইসরায়েল বনাম আরব জোট: যেমন- মিশর, সিরিয়া, জর্ডান (এবং পরোক্ষভাবে ইরাক, লেবানন)
১৯৫৬ সালের সুয়েজ যুদ্ধের পর থেকে আরব রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হয়। মিশরের গামাল আবদেল নাসের ইসরায়েল সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সিনাই থেকে প্রত্যাহার করে। তারা ইসরায়েলি জাহাজের জন্য তিরান প্রণালী বন্ধ করে দেন । ইসরায়েলের একে “যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য” বিবেচনা করে প্রত্যাঘাতমূলক হামলা শুরু করে।
৫ জুন ১৯৬৭: ইসরায়েল “সারপ্রাইজ এয়ার অ্যাটাক” চালিয়ে মিশরের শত শত বিমান মাটিতে নামার আগেই ধ্বংস করে দেয়। এরপর সিরিয়া ও জর্ডানের বিমান ঘাঁটিও গুঁড়িয়ে দেয়। স্থল, বিমান ও নৌ-তিন দিক থেকেই আক্রমণ করে। মানে সবই প্রস্তুতিমুলক ও পরিকল্পিত।
ফলাফল ছিল ইসরায়েলের বিজয়। এটাও পরিকল্পিত যুদ্ধ ছিল এবং এতে ফাঁদে পা দেয় আরব রাষ্টগুলো। ইসরায়েল মাত্র ৬ দিনে বিশাল এলাকাজুড়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। সিরিয়ার গোলান মালভূমি , জর্ডান থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম, মিশরের গাজা উপত্যকা ও সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয়। পশ্চিমারা ইসরাইলকে সমর্থন ও সহযোগিতা করে। ইসরাইল তাদের দেশকে ৩ গুন বড় করে নেয়। আরব বিশ্বে অপমান ও প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা জন্ম নেয়। তারপর প্যালেস্টাইন ইস্যু আরও স্পষ্ট ও বিস্ফোরক হয়ে ওঠে। জাতিসংঘ ২৪২ নম্বর প্রস্তাব (UNSC 242) গৃহীত হয় যাতে আরব দেশগুলো পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ না নেয়।
জাতিসংঘের ২৪২ নম্বর প্রস্তাব (UN Security Council Resolution 242) ছিল ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধ–পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়ায় ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিবেচনা করেন কেউ কেউ। কারো মতে এটা কেবল ধারাবাহিক যুদ্ধ প্রক্রিয়াকে স্তিমিত করেছিল আর কিছু নয়। কেউ আবার মনে করেন এর মাধ্যমে কেবল আরবদের নিষ্ক্রিয় করে ইসরাইলকে ক্ষমতাবান করা হয়েছে। ২২ নভেম্বর ১৯৬৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ১৫-০ ভোটে গৃহিত এই প্রস্তাবে ২টি বিষয় ছিল-
১. ইসরায়েল দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে (“…Withdrawal of Israeli armed forces from territories occupied in the recent conflict…”) এই লাইনটি ঘিরেই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক। ইংরেজি ভাষায় “from territories” বলা হলেও “from the territories” বলা হয়নি—মানে নির্দিষ্ট এলাকা নয়, সাধারণভাবে বলা হয়েছে। যদিও খসড়া তৈরি করেছিল যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি লর্ড কারাডন।
২. প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সীমানা রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে (“…respect for and acknowledgment of the sovereignty… of every state in the area…”) ইসরায়েল চায় স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা, আর আরব রাষ্ট্র চায় দখলমুক্ত অঞ্চল ফেরত।
এর উদ্দেশ্য ছিল- যুদ্ধ বন্ধ করে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিপূর্ণ সমাধানের ভিত্তি স্থাপন করা। ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্বীকৃতি ও সীমান্ত নিশ্চিত করা। উদ্বাস্তু সংকটের সমাধান করা। যদিও অনেকে মনে করেন আসল উদ্দেশ্য তাদের কথায় নয় পরবর্তী কাজে পরিষ্কার হয়।
ইসরাইল এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়, তবে দখলকৃত সমস্ত অঞ্চল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। আরব রাষ্ট্রগুলো শুরুতে দ্বিধা, পরে মিশর ও জর্ডান আংশিক গ্রহণ করে। সিরিয়া পরে পুরোপুরি বিরোধিতা করে। পিএলও শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করে, কারণ এতে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দ বা তাদের স্বাধীনতা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
এটাও আসলে ইসরাইলকে রক্ষার জন্য তার বড় ভাইয়ের একটা চাল হিসেবে দেখে মুসলিমরা। কারণ এতে করে রাজনৈতিক বৈধতা পায়, কিন্তু দখল বজায় রাখে। সেনা প্রত্যাহারের চাপ থাকলেও সেটাও তাদের মধ্যে একটা গোপন ও অলিখিত চুক্তির মতো। যে আমি বলব তুমি এটা করো না। কিন্তু তুমি সেটাই করবে। ওইযে আমাদের দেশের গ্রামের মাতব্বরের গল্প বলেছিলাম শুরুতে।
কারণ আরব রাষ্ট্রগুলো বাস্তবে তাদের বেশীরভাগ জমি ফেরততো পায়নি বরং তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বিঘ্নিত। আর যাদের জন্য এতকিছু যাদের ভূমি ও দেশ সে ফিলিস্তিনীদের নামও নেই এই প্রস্তাবে। তাদের অস্তিত্বেই স্বীকার করা হয়নি। বস্তুত তাদেরকে ব্লাকআউন করে রাখা হয়েছে। এটা ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে না দেয়ার একটা ইস-মার পরিকল্পনা হিসেবে দেখেন অনেকে।
যুদ্ধের সময় মিশরের রাষ্ট্রপতি ছিলেন গামাল আবদেল নাসের (Gamal Abdel Nasser) আমাদের দেশে বলা হয় জামাল আব্দুল নাছের। তিনি ছিলেন মিশরের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতা এবং প্যান-আরববাদের প্রবক্তা। ৭০ সালে নাসেরের নাসেরের মৃত্যুর পর তিনি প্রেসিডেন্ট হন।
আনোয়ার সাদাত (Anwar Sadat) তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার – ১৯৭৮ পান। তারসাথে পুরষ্কার পান মেনাখেম বেগিন (ইসরায়েল) তারা ১৯৭৮ সালে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর মধ্যস্থতায় ছিলেন মধ্যস্থতায় জিমি কার্টার (মার্কিন প্রেসিডেন্ট)।
জনমনে প্রচলিত ধারণা হলো- আনোয়ার সাদাত ইসরায়েলের সঙ্গে ইয়োম কিপুর যুদ্ধ করেন। চারদিকে ইসরাইল আরব প্রতিবেশী বেষ্টিত বিশেষ করে সুয়েজ খালসহ বেশকিছু কৌশলগত বাণিজ্যিক পথ আরবদের দখলে থাকায় যুদ্ধ এবং কৌশলকে এক করে আনোয়ার সাদাত কিছু অর্জন করতে চেয়েছেন। কিন্তু তাকে নোবেল পুরষ্কার আর তার দেশের দখলকৃত অংশ ফেরত দিয়ে থামানো হয়।
তাছাড়া সৌদি ও আমিরাতসহ বেশকিছু আরবদেশের আমেরিকার কব্জাগিরিও একটা বিষয় ছিল। এভাবে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ, আরবদের অনৈক্য আর ইসরাইলের ষড়যন্ত্র আর যুদ্বংদেহী বিকাশ একদিকে এই অঞলের শান্তি বিনষ্ট করছে অন্যদিকে ফিলিস্তিনীদের পাখির মতো মারছে পশ্চিমাদের সমর্থন ও আরবদের নিরবতার বিনিময়ে।সাদাতের এই শান্তি উদ্যোগকে অনেক আরব ও মুসলিম রাষ্ট্র “বিশ্বাসঘাতকতা” মনে করে। আর এজন্য তাকে জীবনও দিতে হয়েছে। ১৯৮১ সালে এক সামরিক কুচকাওয়াজে তাকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয় এক্সট্রিম ইসলামপন্থীদের দ্বারা।
“Egypt–Jordan option” বা মিশর জর্দান বিকল্প নামে ২০০৫–২০০৯ সালের সময়কালে আলোচিত হয় একটি প্রস্তাব। বিশেষ করে ২০০৮–২০০৯ সালে এটি তুমুল চর্চার বিষয় ছিল। বিশেষ করে ইহুদ মেজর, জন বোল্টন, এবং আইয়ান ব্রেমার’র মতো বিশ্লেষকদের মাধ্যমে এটি আলোচিত হয়।
মূলত- ২০০৮–২০০৯ সালে, তখনকার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ অলমার্ট একটি “convergence/realignment plan” উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি পশ্চিম তীরের ৯০% এলাকা ত্যাগ করে অংশ দেবে, বাকিটুকু ইসরায়েল দখল রাখবে। কিন্তু তিনি বাস্তবে এই প্রস্তাবে “জর্ডানের মডেল” ব্যবহার করেননি। তিনি ভিন্ন শর্ত রেখেছিলেন।
এই প্রস্তাবে ছিল পশ্চিম তীরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জর্ডানকে দেওয়া; গাজার প্রশাসন মিশরের দখলে রাখা হবে—১৯৪৯–৬৭ সালের পূর্ববর্তী অবস্থা অনুসরণে।
ফলে ইহুদি-ফিলিস্তিনি দুই-রাষ্ট্রের বাইরে এই ভূখন্ডে তিনটি রাষ্ট্র প্রদর্শিত হবে, যেখানে ফিলিস্তিনি একটি অংশের অধিবাসীরা মূলত জর্ডানের নাগরিক হবেন। যার মানে দাঁড়ালো ফিলিস্তিনীদের স্বাধীন রাষ্ট্র হবে না। তারা জর্দানের সাথে থাকবে। আর জর্দান এক রকম ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে আছে। বলা বাহুল্য এটা ফিলিস্তিনীদের পক্ষে মেনে নেয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
তাছাড়া জর্ডান সরকার সম্মত হয়নি। তারা অফিসিয়ালী ব
