আপনার সঙ্গী মিথ্যা বলছেন কি না, চেনার কিছু সহজ উপায়
image : collected

আপনার সঙ্গী মিথ্যা বলছেন কি না, চেনার কিছু সহজ উপায়

আপনার সঙ্গী মিথ্যা বলছেন কি না, চেনার কিছু সহজ উপায়

সম্পর্কে প্রতারণার সবচেয়ে চেনা রূপ হলো—মিথ্যা বলা। কারও মন রক্ষায় বা অশান্তি এড়াতে কেউ কেউ নিরীহ মিথ্যার আশ্রয় নিলেও, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া একটি সম্পর্ককে চূড়ান্তভাবে ভেঙে দিতে পারে। অনেক সময় সত্য-মিথ্যার তফাৎ বুঝে উঠতে না পারার কারণে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন অনেকে।

অনেকেই সম্পর্কে থেকেও সঙ্গীর কাছে নিজেদের পুরোপুরি উন্মুক্ত করেন না। একজন যখন বারবার কিছু লুকাতে থাকেন বা অসত্য বলেন, তখন সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল হতে শুরু করে। তবে চোখ-কান খোলা রাখলে সঙ্গীর কথাবার্তা, আচরণ, এমনকি শরীরী ভাষার মাধ্যমেও তার অসততা বোঝা যায়।

শরীরী ভাষা বলে দেয় অনেক কিছু

সাউদার্ন কানেকটিকাট স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক কেভিন কলওয়েল বলেন, “মিথ্যাবাদীরা চাইলেও সবকিছু গোপন রাখতে পারে না। শরীরী ভাষাই অনেক সময় সত্য উন্মোচন করে দেয়।”

এফবিআইয়ের সাবেক এজেন্ট জিম ক্লেমেন্ট জানান, মিথ্যাবাদীরা অনেক সময় চোখে চোখ রাখতে চান না, অতিরিক্ত ঘামেন বা ঠোঁট ভেজাতে থাকেন। কেউ কেউ অস্থির হয়ে চেয়ারে দুলতে পারেন, গলা খাঁকারি দিতে পারেন বা অকারণে হাত-পা নাড়াতে থাকেন।

বারবার তথ্য পুনরাবৃত্তি

গবেষণা বলছে, মিথ্যাবাদীরা অনেক সময় তাদের বক্তব্য স্ক্রিপ্টের মতো মুখস্থ করে বলে। তারা ঘটনা বলার সময় শুরুর দিক থেকে শুরু করে একই তথ্য একাধিকবার পুনরাবৃত্তি করেন। সত্যিকারের অভিজ্ঞতার বর্ণনা সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত থেকে শুরু হয়, নয়তো বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না।

সাবলীলতা, ভাষার ভিন্নতা ও সর্বনাম বর্জন

মিথ্যাবাদীদের মধ্যে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, তারা অতিরিক্ত পরিষ্কার ও সাবলীলভাবে কথা বলেন। কলওয়েল বলেন, “হঠাৎ কেউ যখন অতি সাজানো ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন, তখন তা সন্দেহের বিষয় হয়ে ওঠে।”

এছাড়া তারা অনেক সময় সর্বনাম এড়িয়ে কথা বলেন—যেমন ‘আমি খেয়েছি’ না বলে শুধু ‘দুপুরে খেয়েছি’ বলা, যেন নিজের সম্পৃক্ততা গোপন রাখা যায়।

আচরণে ও কথায় সামঞ্জস্যের অভাব

কেউ যদি গুরুতর বা আবেগঘন কোনো ঘটনার কথা বলার সময়ও হাসিমুখে থাকেন বা খুব স্বাভাবিক আচরণ করেন, তাহলে বোঝা যায়—তিনি সেটি গভীরভাবে অনুভব করছেন না। ক্লেমেন্টের মতে, সত্যিকারের কথাবার্তায় চোখ-মুখে তার ছাপ পড়ে, মিথ্যায় তা অনুপস্থিত থাকে।

ধোঁয়াটে ভাষা ও এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা

‘সম্ভবত’, ‘মনে হয়’, ‘হয়তো’—এই ধরনের অনিশ্চিত শব্দ ব্যবহার করেও অনেক সময় সত্য আড়াল করা হয়। অনেকে সরাসরি মিথ্যা না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই ধরণের কৌশল অনেক সময় সত্যের অনুপস্থিতি বোঝায়।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, মিথ্যা বলার সময় হৃদস্পন্দনের গতি, চোখের পলক ফেলা এবং কণ্ঠস্বরের স্বরপ্রকৃতিতেও পরিবর্তন আসে। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র পরিবর্তন নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মিথ্যা শনাক্তে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ইত্তেফাক/এনএন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply