অনলাইনে প্রতারণা মানেই দায় ই-কমার্স খাতের নয়
ব্যবসায় সুনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, যা রক্ষা করা প্রয়োজন। সুনাম নষ্ট হলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঠিক যেমন পণ্যের নকল বা জাল সংস্করণ বাজারে ছড়িয়ে পড়লে আসল কোম্পানির ক্ষতি হয়। ই-কমার্স খাতও এর ব্যতিক্রম নয়।
ই-কমার্সের প্রসার ও প্রতারণার উত্থান
করোনাকালে ই-কমার্স খাত ব্যাপক প্রসার লাভ করে, ফলে কিছু অসাধু ব্যক্তি এর সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। সাধারণ মানুষের পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় তারা এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছে। ই-কমার্সের নামে চলা কিছু প্রধান প্রতারণার ধরন নিম্নে তুলে ধরা হলো।
ই-কমার্সের নামে এমএলএম প্রতারণা
কিছু প্রতিষ্ঠান ই-কমার্সের নামে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা চালাচ্ছে, যা প্রকৃত ই-কমার্স নয়। ব্যবসায় ক্রেতাদের জন্য ছাড় ও কমিশন থাকতে পারে, তবে যদি তা মাল্টি-লেভেল হয়, তবে এটি এমএলএম প্রতারণা হতে পারে।
ই-কমার্সের নামে বিনিয়োগ সংগ্রহ
উদ্যোক্তা নিজস্ব মূলধন বা ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। তবে কেউ যদি পণ্যমূল্য গ্রহণ করে বিনিয়োগ হিসেবে ধরে রাখেন, তা বেআইনি। ই-কমার্সে এমন লেনদেন বৈধ নয়।
পঞ্জি স্কিম প্রতারণা
এই প্রতারণামূলক ব্যবসায় গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়ে সাময়িক কিছু গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করা হয়, পরে বিশালসংখ্যক গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যায়। ই-কমার্সের নামে এ ধরনের প্রতারণা রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ই-কমার্সের নামে জুয়া ও বাজি
দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত বিভিন্ন জুয়া, বাজি ও অনলাইন গেমের মাধ্যমে প্রতারণা চলছে। ই-ক্যাবের উদ্যোগে সরকার ইতোমধ্যে ৩৮৪টি জুয়া ও বেটিং সাইট বন্ধ করেছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত নতুন প্রতারণার কৌশল তৈরি হচ্ছে, যা ই-কমার্সের পরিধির মধ্যে পড়ে না।
ভুয়া ঋণ ও পর্নোগ্রাফির লেনদেন
অনলাইনে ভুয়া ঋণ প্রস্তাব দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করা হচ্ছে। পর্নোগ্রাফির ক্ষেত্রেও অনলাইনে অ্যাক্সেস বিক্রি করা হচ্ছে, যা মুলেপ (মুঠোফোন লেনদেন পদ্ধতি) ব্যবহার করে লেনদেন করা হয়।
ক্লোজড গ্রুপ ও অ্যাপভিত্তিক প্রতারণা
কিছু প্রতারণামূলক কার্যক্রম খোলামেলা প্রচার হয় না, বরং ক্লোজড গ্রুপ ও নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব প্রতারণা থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।
প্রতিরোধ ও প্রতিকার
১. নিজে সচেতন থাকা – যে কোনো লেনদেনের আগে যাচাই করা। 2. প্রতারিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া – আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করা। 3. সাজানো প্রতারণার ফাঁদ থেকে অন্যদের সচেতন করা – সাযোমাতে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করা।
প্রতারকদের আইনি ভয়ভীতি ও প্রতিরোধ
অনেক প্রতারক হুমকি দেয় যে তাদের নামে পোস্ট করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ফাঁসানো হবে। তবে প্রকৃত প্রতারণার শিকার হলে ব্যক্তি তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার অধিকার রাখেন।
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের দায়
প্রকৃত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় করলে কোনো সমস্যা হলে প্রথমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। যৌক্তিক সময় দিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শরণাপন্ন হওয়া যায়।
ই-কমার্স খাতকে দোষারোপ করার আগে প্রতারণার প্রকৃত ধরন বুঝতে হবে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি লেনদেনের সময় সচেতন থাকাই প্রতারণা থেকে বাঁচার মূল উপায়।
= লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

