অংশীদারী কারবার (ব্যবসা) চুক্তিনামা দলিল
ব্যবসায় সাফল্যের একটি মূল চাবিকাঠি হলো স্পষ্ট ও আইনসম্মত চুক্তি। বিশেষ করে অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবসায় সকল পক্ষের দায়িত্ব, অধিকার ও বিনিয়োগের অনুপাত সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভবিষ্যতের যেকোনো মতবিরোধ বা বিভ্রান্তি রোধ করে ব্যবসাকে সুষ্ঠু ও স্থিতিশীলভাবে চলতে সাহায্য করে। নিম্নে একটি অংশীদারি ব্যবসা চুক্তির একটি নমুনা উপস্থাপন করা হলো।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
অদ্য ২০শে মে, ২০১২ ইং, রোজ বুধবার, অত্র অংশীদারী চুক্তিনামা দলিলটি সম্পাদিত হইল।
পক্ষগণ:
প্রথম পক্ষ:
নাম: জনাব মোঃ সাকিব হাসান
পিতা: মোঃ রফিকুল ইসলাম
ঠিকানা: ৪৫/বি, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
পেশা: ব্যবসা
দ্বিতীয় পক্ষ:
নাম: জনাব মোঃ আরিফুল ইসলাম
পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
ঠিকানা: ৭৮/সি, খিলগাঁও, ঢাকা-১২২৯
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
পেশা: ব্যবসা
তৃতীয় পক্ষ:
নাম: জনাব মোঃ রিয়াদ আহমেদ
পিতা: মোঃ সিরাজুল ইসলাম
ঠিকানা: ১২/ডি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
পেশা: ব্যবসা
অত্র অংশীদারী কারবার চুক্তিনামার শর্তাবলীতে উল্লেখিত ব্যবসায় অংশীদারিত্ব ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করার বিষয়াদি নিয়া আমরা সকল পক্ষগণ বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করার পর নিম্নবর্ণিত শর্ত মোতাবেক অত্র ব্যবসা পরিচালনা করিতে সকল পক্ষ সম্মত হই।
শর্তাবলী
১। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম হইবে “প্রাইম টেক্সটাইলস লিমিটেড”, যাহা বর্তমানে ৯১/১১/বি, দক্ষিণ মাদারটেক, পোষ্ট- বাসাবো, থানা- সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪ ঠিকানায় স্থাপিত হইবে।
২। সকল পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অংশীদারগণ হইবেন:
চেয়ারম্যান: দ্বিতীয় পক্ষ জনাব মোঃ আরিফুল ইসলাম।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ম্যানেজিং ডাইরেক্টর): প্রথম পক্ষ জনাব মোঃ সাকিব হাসান।
পরিচালক (ডাইরেক্টর): তৃতীয় পক্ষ জনাব মোঃ রিয়াদ আহমেদ।
৩। প্রতিষ্ঠানে যাবতীয় মেশিনারি ক্রয়, স্থাপন, কর্মচারী ও কর্মকর্তা নিয়োগ করা হইবে সকল পরিচালকগণের যৌথ সিদ্ধান্ত মোতাবেক।
৪। পরবর্তীতে সম্মিলিতভাবে আলাপ-আলোচনা করিয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হইবে।
৫। সকল পক্ষ নিম্নবর্ণিত হারে মূলধন বিনিয়োগ করিবেন:
(ক) জনাব মোঃ সাকিব হাসান: ৩৩.৩৩%
(খ) জনাব মোঃ আরিফুল ইসলাম: ৩৩.৩৩%
(গ) জনাব মোঃ রিয়াদ আহমেদ: ৩৩.৩৩%
মোট = ১০০%
৬। উৎপাদন, ক্রয় ও বিক্রয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকার সেজন্য যাবতীয় হিসাবের খাতাপত্র, কার্যাদি ও দলিলাদি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হইবে এবং কোন পক্ষ চাহিবামাত্র সকল কাগজপত্র, দলিলাদিসহ অন্যান্য হিসাবপত্র প্রদর্শিত হইবে।
৭। প্রতিষ্ঠানের যৌথ তহবিল হইতে প্রতি মাসে কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, ওয়াসা বিল, ট্যাক্স ইত্যাদি নিয়মিত পরিশোধ করিয়া রেকর্ডভুক্ত করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে।
৮। যদি কোন পরিচালক প্রতিষ্ঠানের পূর্ণকালীন কর্ম পরিচালনা করেন, সেক্ষেত্রে সকল পরিচালকবৃন্দের আলোচনার মাধ্যমে তাহার যুক্তিসঙ্গত পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হইবে।
৯। অত্র “প্রাইম টেক্সটাইলস লিমিটেড”-এর নামে যে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে চলতি হিসাব খোলা হইবে, যাহা প্রথম পক্ষ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পক্ষগণের যেকোন দুই জন পরিচালকের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হইবে।
১০। দৈনিক হিসাব-নিকাশ করিয়া প্রতিষ্ঠানের নগদ টাকা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানের নামে, ব্যাংক হিসাবে জমা প্রদান করিয়া রেকর্ডভুক্ত করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে।
১১। অত্র প্রতিষ্ঠানের লাভ-লোকসান নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় খরচ, যেমন- অফিস ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, ওয়াসা বিল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদিসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ব্যয় বাদ দিয়া।
১২। প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক নিট লাভ বা ক্ষতি পক্ষগণের বিনিয়োগের অনুপাত (৩৩.৩৩% হারে) বন্টন করা হইবে।
১৩। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন হলে, তা সকল পক্ষের সম্মতিক্রমে এবং বিনিয়োগের বর্তমান অনুপাত বজায় রেখে করা হইবে।
১৪। প্রয়োজনে অত্র শর্তাবলীর যেকোন শর্ত সকল পক্ষগণের পারস্পরিক আলোচনা ও সম্মতির মাধ্যমে পরিবর্তন করা যাবে।
১৫। যদি কোন সময় অত্র প্রতিষ্ঠানের কোন বিষয়ে পক্ষগণের মধ্যে কোনরূপ মতানৈক্য দেখা দেয়, তাহলে পক্ষগণ কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে উহা মীমাংসা করিতে হইবে এবং উক্ত সালিশি প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া মান্য করিতে হইবে।
১৬। এই চুক্তি ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য কার্যকর থাকিবে। মেয়াদ শেষে সকল পক্ষের সম্মতিতে এটি নবায়ন করা যাইবে। কেউ চুক্তি থেকে স্বেচ্ছায় প্রস্থান করতে চাইলে অপরাপর সকল পক্ষের লিখিত সম্মতি সাপেক্ষে এবং কমপক্ষে ৬ (ছয়) মাসের পূর্বনোটিশ প্রদান সাপেক্ষে তাহা করা যাইবে।
উপরোক্ত চুক্তিনামায় উল্লেখিত শর্তাবলী উভয় পক্ষ পড়িয়া শুনিয়া, বুঝিয়া ও ইহার সম্যক মর্ম উপলব্ধি করিয়া সুস্থ্য মস্তিষ্কে ও স্বেচ্ছায় অন্যের বিনা প্ররোচনায় উপস্থিত হাজিরান মজলিসের সম্মুখে নিজ নিজ নাম সহি ও স্বাক্ষর সম্পাদন করিয়া দিলাম।
ইতি, তাং- ২০/০৫/২০১২ ইং
স্বাক্ষীগণের স্বাক্ষর:
১. নাম: মোঃ সোহেল রানা
ঠিকানা: ২৩/দ, শ্যামলী, ঢাকা
স্বাক্ষর: ………………….
২. নাম: মোঃ হামিদুর রহমান
ঠিকানা: ৬৭, উত্তরা, ঢাকা
স্বাক্ষর: ………………….
পক্ষগণের স্বাক্ষর:
প্রথম পক্ষের স্বাক্ষর:
(জনাব মোঃ সাকিব হাসান)
স্বাক্ষর: ………………….
দ্বিতীয় পক্ষের স্বাক্ষর:
(জনাব মোঃ আরিফুল ইসলাম)
স্বাক্ষর: ………………….
তৃতীয় পক্ষের স্বাক্ষর:
(জনাব মোঃ রিয়াদ আহমেদ)
স্বাক্ষর: ………………….
পরামর্শ:
কোনো অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবসা শুরু করার আগে এই ধরনের একটি বিস্তারিত চুক্তিপত্র তৈরি করা অপরিহার্য। শর্তাবলী যাতে সকল পক্ষের জন্য স্পষ্ট এবং আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করতে একজন দক্ষ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তিতে উল্লেখিত প্রতিটি বিষয়, বিশেষ করে মূলধন, লাভ-লোকসান বণ্টন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি সম্পর্কে সকল অংশীদারের পূর্ণ সম্মতি ও বুঝাপড়া থাকা আবশ্যক। চুক্তির মূল কপি সকল পক্ষেরই সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত।
নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

