অংশীদারী কারবারের নিবন্ধন
অংশীদারী প্রতিষ্ঠান (Partnership Firm) হলো এমন একটি ব্যবসায়িক কাঠামো যেখানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যৌথভাবে লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগি করে ব্যবসা পরিচালনা করেন। বাংলাদেশে এটি “The Partnership Act, 1932” অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং এর নিবন্ধন দেওয়া হয় Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC) অফিস থেকে।
নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটা সহজভাবে ব্যাখ্যা করছি
অংশীদারী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন প্রক্রিয়া (Step-by-Step)
ধাপ ১: নাম নির্ধারণ ও নাম সংরক্ষণ (Name Clearance)
-
RJSC-এর ওয়েবসাইটে যান: https://www.roc.gov.bd
-
Name Clearance মেনুতে গিয়ে প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের নাম লিখে চেক করুন।
-
যদি নামটি আগে নিবন্ধিত না থাকে, তাহলে অনলাইনে আবেদন করে ফি পরিশোধ করে নাম সংরক্ষণ (Reservation) নিন।
-
নাম সংরক্ষণের অনুমোদন পেলে একটি Name Clearance Certificate পাবেন (৭ দিনের জন্য বৈধ থাকে, পরে নবায়ন করা যায়)।
ধাপ ২: Partnership Deed তৈরি
এটি অংশীদারদের মধ্যে একটি আইনি চুক্তি। এটি তৈরি করবেন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে।
Partnership Deed-এ যা থাকতে হয়:
-
প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা
-
প্রতিটি অংশীদারের নাম, ঠিকানা ও অংশের পরিমাণ
-
ব্যবসার ধরন
-
লাভ-ক্ষতির ভাগাভাগির অনুপাত
-
ব্যাংক হিসাব পরিচালনার পদ্ধতি
-
অংশীদারের অবসান, নতুন অংশীদার যুক্ত করা, ইত্যাদি শর্ত
-
স্বাক্ষরের তারিখ ও সাক্ষীদের নাম
২ কপি Partnership Deed করতে হয়—একটি মূল, একটি নকল।
ধাপ ৩: নোটারি পাবলিক দ্বারা স্বাক্ষর ও সিল
সব অংশীদারকে নোটারি পাবলিকের সামনে স্বাক্ষর করতে হয়।
নোটারি পাবলিক “নোটারাইজ” করে দেবে, অর্থাৎ আইনি স্বীকৃতি দেবে যে দলিলটি বৈধ।
ধাপ ৪: RJSC তে অনলাইন আবেদন
RJSC ওয়েবসাইটে লগইন করে নিম্নলিখিত ডকুমেন্ট আপলোড ও তথ্য প্রদান করতে হয়:
প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র:
-
Name Clearance Certificate
-
Notarized Partnership Deed (PDF)
-
অংশীদারদের NID / Passport / Photograph
-
প্রতিষ্ঠানের অফিসের ঠিকানার প্রমাণ (বিদ্যুৎ বিল / হোল্ডিং ট্যাক্স / রেন্ট এগ্রিমেন্ট)
-
সরকারি ফি জমার রসিদ (চালান / পেমেন্ট স্লিপ)
ধাপ ৫: সরকারি ফি পরিশোধ
RJSC নির্ধারিত ফি অনলাইনে বা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হয়।
(সাধারণত ১,০০০–১,৫০০ টাকা ফি লাগে, অংশীদার সংখ্যা ও মূলধনের ওপর নির্ভর করে।)
ধাপ ৬: RJSC যাচাই ও নিবন্ধন সনদ প্রদান
RJSC অফিস ডকুমেন্ট যাচাই করে Certificate of Registration of Firm ইস্যু করে।
এই সার্টিফিকেট পাওয়া মানে—তোমার অংশীদারী প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে নিবন্ধিত হয়ে গেল।
নিবন্ধনের পর যা করতে হবে
-
ট্রেড লাইসেন্স – স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন / পৌরসভা অফিস থেকে নিতে হবে।
-
TIN (Tax Identification Number) – প্রতিটি অংশীদারের আলাদা TIN থাকা উচিত, এবং প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি TIN নিতে পারো।
-
ব্যাংক হিসাব খোলা – Partnership Deed ও Registration Certificate নিয়ে যৌথ অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
-
ভ্যাট নিবন্ধন (যদি প্রযোজ্য হয়) – অনলাইনে vat.gov.bd এ গিয়ে BIN (Business Identification Number) নিতে পারো।
সারাংশ (সংক্ষিপ্ত চেকলিস্ট)
| ধাপ | কাজ | প্রয়োজনীয় কাগজ |
|---|---|---|
| ১ | নাম সংরক্ষণ | Name Clearance Certificate |
| ২ | দলিল তৈরি | Partnership Deed (নোটারাইজ) |
| ৩ | অনলাইন আবেদন | RJSC ওয়েবসাইট |
| ৪ | ফি জমা | ব্যাংক বা অনলাইন পেমেন্ট |
| ৫ | নিবন্ধন সনদ | RJSC Certificate |
| ৬ | পরবর্তী কাজ | ট্রেড লাইসেন্স, TIN, ব্যাংক হিসাব |
আইনি দিক থেকে জানা দরকার
-
নিবন্ধন ঐচ্ছিক হলেও নিবন্ধিত ফার্ম আইনি সুরক্ষা পায় (যেমন: অংশীদারদের মধ্যে বিরোধ হলে আদালতে মামলা করা যায়)।
-
নিবন্ধিত না হলে আদালতে পার্টনারশিপের নামে দাবি বা মামলা করা যায় না।
-
পরিবর্তন (অংশীদার যোগ/অপসারণ, নাম পরিবর্তন, ব্যবসা বন্ধ ইত্যাদি) RJSC-এ জানাতে হয়।

