সন্ত্রাস ও ইসলাম: বাস্তবতা ও প্রোপাগান্ডা

সন্ত্রাস ও ইসলাম: বাস্তবতা ও প্রোপাগান্ডা

সন্ত্রাস ও ইসলাম: বাস্তবতা ও প্রোপাগান্ডা

শমসের আলী হেলাল ভাই কানাডা থাকেন। তিনি সেখানে ট্যাক্সি চালান। মজা করে নিজের পরিচয় দেন ‘‘ফেলকরা শমসের’’ আর কেউ জিজ্ঞেস করলে বলেন। ট্যাক্সি ইউনিভার্সিটিতে পড়েন। হুট করে বোঝা যায় না তিনি কি বলছেন। এই লোকটা আরো কিছু কাজ করেন। একটা হলো তিনি বিনামূল্যে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ হিসেবে মৃত মানুষের গোসল দেন। আর তার সাথে সব সময় ইংরেজী অনুবাদসহ কোরআন থাকে তিনি সেটা তার ট্যাক্সিতে উঠা যাত্রীদের উপহার দেন। এই লোকটা এই কাজ করেন। যখন কোনো যাত্রী তাকে প্রশ্ন করে মুসলিমরা সন্ত্রাস করে কেন? তখন তিনি তাদেরকে এই প্রশ্নগুলো করেন।

1️⃣ প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা কি মুসলমানরা করেছিল বা নেতৃত্ব দিয়েছিল?
2️⃣ অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী গণহত্যায় কারা দায়ী? সেখানে কি মুসলিমরা ছিল?
3️⃣ হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপকারীরা কারা? তারা কি মুসলিম ছিল?
4️⃣ আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান জনগোষ্ঠীর গণহত্যার জন্য দায়ী কারা? মুসলিমরাতো সেখানো ছিলনা।
5️⃣ আটলান্টিক মহাসাগরে ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকান ক্রীতদাসদের মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী? সেখানে কেউতো মুসলিম ছিলনা।

আসুন আরো দেখাই-
৬। ভারতে শত বছর ধরে ধর্মীয় বলির পাঠা হয়েছে কোটি মানুষ তাতেও মুসলমানেরা নেই।
৭। চীনে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কোটি মানুষ খুন হয়েছে সেটাও মুসলমানদের কাজ ছিলনা।
৮। রাশিয়া প্রতিবেশী দেশগুলো দখল করতে ও দখলে রাখতে যত মানুষের রক্ত ঝরেছে তাতে মুসলমানদের হাত ছিলনা।
৯। ল্যাটিন আমেরিকায় বিপ্লবকালীন যে মানুষদের হত্যা করা হয়েছে সেজন্য মুসলিমরা কোনোভাবে দায়ী নয়।
১০। ইউরোপের যে জাতিগত বিরোধে গ্রামের পর গ্রাম খালি হয়েছে সেটাও মুসলিমরা করে নি।

হিটলার, হিরোহিতো, মুসোলিনি, অশোক, পলপট কেউ মুসলিম নন।

তারমানে এসব ভয়াবহ অপরাধের সঙ্গে মুসলমানদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

দ্বৈতনীতি ও প্রচারণার বাস্তবতা
আন্তর্জাতিক প্রোপাগান্ডায় দেখা যায়, যখন কোনো অমুসলিম অপরাধ করে, সেটাকে আত্মরক্ষা বলা হয়, কিন্তু মুসলিমরা যদি আত্মরক্ষার্থে কিছু করে, সেটিকে বলা হয় সন্ত্রাসবাদ!

✅ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন: ইরাক ও আফগানিস্তানে তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে তেল-গ্যাস লুট করা হয়েছিল, যা মুসলমানরা করেনি।
✅ ফিলিস্তিন-ইসরাইল ইস্যু: ইসরাইলের অত্যাধুনিক অস্ত্রের হামলাকে আত্মরক্ষা বলা হয়, অথচ নিরস্ত্র ফিলিস্তিনির প্রতিরোধকে জঙ্গিবাদ বলা হয়!

সন্ত্রাস ও ইসলাম: প্রকৃত সত্য
বর্তমানে কিছু সংগঠন যেমন আল-কায়েদা, বোকো হারাম, আইএস—এদের নাম ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হলেও কার্যক্রম প্রমাণ করে, এরা পশ্চিমা শক্তির সৃষ্টি। এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রকৃত ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্ক নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে সত্য সহজেই প্রকাশিত হয়। সরাসরি আগ্রাসন কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই বিশ্বশক্তিগুলো নতুন কৌশলে—”সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” নামে মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পশ্চিমা বিশ্বে সচেতন ও ইতিবাচক মানুষেরা ইসলাম নিয়ে জানতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করছে। বিংশ শতাব্দীর এই বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ ইসলাম যেভাবে মোকাবিলা করছে অন্য কোনো ধর্ম ও বিশ্বাস তা করতে ব্যর্থ হয়েছ

“ইসলামী জঙ্গি” নামে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেখা দিলে বুঝতে হবে, এটি ইসলামবিরোধী পরিকল্পনারই অংশ, যার উদ্দেশ্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো এবং তাদের দেশ ও সম্পদ দখল করা এবং তাদের ঈমান ও মনোবল ধ্বংস করে তাদের সভ্যাতা কৃষ্টি বিনষ্ট করা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply