যেভাবে সিরাজ-উদ-দৌলা উত্তরাধিকার সূত্রে নবাবীর সাথে একদল ষড়যন্ত্রী পেয়েছিলেন।
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব আলীবর্দী খান। ৮০ বছর বয়সে প্রিয় নাতি সিরাজ-উদ-দৌলার হাতে বাংলা-বিহার-উড়িস্যার রাজ্যভার অর্পনের আগে পর্যন্ত মাত্র ১৬ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। তারমধ্যে ১১ বছর তিনি শুধু নানা বিদ্রোহ দমনের পেছনে সময় দিয়েছেন। এই সময় ব্যবসা বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল কিন্তু বিদ্রোহ দমনের মধ্য দিয়ে আলীবর্দী খাতের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দিল্লীর নজরানা থেকে বের হয়ে স্বাধীন রাজ্য করতে পেরেছিলেন।
তিনি নবাব সরফরাজ খাঁর অধীনে থাকা অবস্থায় বিহারের শাসনকর্তা হিসেবে যেসব বিদ্রোহ দমন করেছিলেন- সেগুলো হলো- বিহারের বিদ্রোহী জমিদারদের দমন, টিকারির জমিদার রাজা সুন্দর সিংহ বশ্যতা স্বীকার করানো, মুঙ্গের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির বিদ্রোহ দমন। যদিও সরফরাজ খাঁ এর সাথে বিরোধে জড়িয়ে ১৭৪০ সালের ৯ এপ্রিল গিরিয়ার তাকে পরাজিত ও নিহত করে বাংলার মসনদে আসীন হন। পরে দিল্লী থেকে নবাবী সনদপ্রাপ্ত হন। বলা হয়ে থাকে জগৎশেঠ এর তাতে হাত ছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কুশীলব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
নবাব হওয়ার পর ১১ বছর ধরে তিনি দেশীয় ও আফগান বিদ্রোহী, মারাঠা আক্রমণকারীসহ বিভিন্ন শক্তির বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিলেন। রাজ্যের কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। সেজন্য ইতিহাস ঘাটলে শিল্প, সাহিত্য, অবকাঠামো, নীতি তৈরীর ক্ষেত্রে আলীবর্দী খাতের খুব বেশী অবদান পাওয়া যায়না।
মারাঠিরা তখন নিয়মিত বাংলা আক্রমণ ও লুটপাট করছিল। উড়িস্যায় মারাঠা আক্রমণের সময় নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে তিনি মীর জাফরকে বহিষ্কারও করেছিলেন। কিন্তু মীরজাফর শোধরাননি। তিনি কম শক্তি দিয়ে নিজের বুদ্ধিতে আফগান বিদ্রোহ, মুর্শিদকুলী খানের বিদ্রোহ, সমশের খান ও সরদার খান বিদ্রোহ দমন, মীর হাবিবকে শিক্ষা দেয়া, কাদালিয়ার যুদ্ধে জয়লাভ করেন। কোনো কোনো যুদ্ধে আলীবর্দী খাতের স্ত্রী মিহির-উন-নিসাও তার সাথে ছিলেন।
আর বৃটিশ ইংরেজদের দুষ্টুমি, কাশিম বাজার কুঠি কিংবা সৈন্য সমাবেশ সেগুলো নিয়েও কম জল গোলা হয়নি। সিরাজকে হতভাগা নবাব এই জন্যও বলা হয়। তিনি শুধু উত্তরাধিকার সূত্রে বাংলা বিহার ও উড়িস্যার নবাবী পাননি বরং এক ঝাঁক ষড়যন্ত্রী পেয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি কিশোর সিরাজের নবাব হওয়ার পেছনে আলীবর্দী পুত্র না থাকা, নাতিকে স্নেহ করা শুধু নয় জগৎশেঠের পরামর্শও নাকি ছিল। পরেতো তিনি কি করেছেন তা সকলের জানা।
সরফরাজ খাঁর সাথে বিরোধে জড়িয়ে আলীবর্দী খাঁর নবাব হওয়া। বয়স্ক আলীবর্দী খাঁর মৃত্যুতে কিশোর নাতির নবাব হওয়া। আর তার পেছনে ঘষেডি বেগম, মীরজাফর, রায় দূর্লভ, রাজ বল্লব, , জগৎ শেঠ, উমিচাঁদের ষড়যন্ত্র ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা আপনাকে এসব বার বার মনে করিয়ে দিবে।
লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন
তথ্য: ইতিহাসের বিভিন্ন সূত্র, রোয়ার বাংলা, উইকিপিডিয়া, উইকিমিডিয়া
ছবি: রোয়ার বাংলা

