ফ্ল্যাট বাড়ি বাসা বন্ধকীর দলিল
বন্ধকী দলিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত দলিল যা সম্পত্তির বন্ধক সংক্রান্ত সকল শর্ত ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে। এটি উভয় পক্ষের (বন্ধকদাতা ও বন্ধকগ্রহীতা) অধিকার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নিচে একটি নমুনা দলিল প্রদান করা হলো, যা শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। বাস্তব লেনদেনের ক্ষেত্রে একজন যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।
(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)
০১ (এক) নম্বর ফ্ল্যাট বন্ধকীর চুক্তিপত্র দলিল
বন্ধকী দাতা:
নাম: মোঃ রিয়াদ হাসান
পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
ঠিকানা: ৭২/ক, গ্রীন রোড, ঢাকা।
জাতীয়তা: বাংলাদেশী, ধর্ম: ইসলাম, পেশা: ব্যবসা।
বন্ধকী গ্রহীতা:
নাম: মোঃ সাজিদ ইসলাম
পিতা: মোঃ নূরুল ইসলাম
ঠিকানা: ২৫/বি, বনানী, ঢাকা।
জাতীয়তা: বাংলাদেশী, ধর্ম: ইসলাম, পেশা: চাকরি।
পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়ালার নাম স্মরণ করে অস্থায়ী ফ্ল্যাট বন্ধকীর চুক্তিপত্র দলিলের আইনানুগ বয়ান শুরু করলাম। যেহেতু আমি বন্ধকী দাতা মোঃ রিয়াদ হাসান আমার ওয়ারিশ সূত্রে মালিক ও দখলকার থাকা ৬১, মধ্য মাদারটেক, ঢাকাস্থিত ভবনের ৩য় তলার উত্তর-পশ্চিম কোণের একটি ফ্ল্যাট আপনি বন্ধকী গ্রহীতা মোঃ সাজিদ ইসলাম-এর নিকট নিম্নলিখিত শর্ত মোতাবেক বন্ধক রাখতে সম্মত হওয়ায়, আমরা উভয় পক্ষ নিচের স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে আলাপ-আলোচনার পর ফ্ল্যাটটির জন্য ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ধার্য করা হলো। আমি বন্ধকী দাতা আপনি বন্ধকী গ্রহীতার কাছ থেকে উক্ত টাকা নগদ বুঝে পেয়ে নিয়ে অস্থায়ীভাবে ফ্ল্যাটটি বন্ধক রাখার ব্যাপারে চুক্তিতে আবদ্ধ হলাম।
শর্তসমূহ:
১। এই বন্ধকী চুক্তিপত্রের মেয়াদ হবে ১ (এক) বছর ৬ (ছয়) মাস। উক্ত সময়ের মধ্যে বন্ধকীদাতা বন্ধকী গ্রহীতার কাছ থেকে নেওয়া ১০,৫০,০০০/- (দশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাট বুঝে নিতে পারবেন। বন্ধক গ্রহীতা বন্ধক দাতার কাছ থেকে উক্ত টাকা বুঝে পাওয়ার পর ফ্ল্যাটটি ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকবেন। তবে উল্লেখ্য, চুক্তি সম্পাদনের তারিখ থেকে ৬ (ছয়) মাসের আগে কোনোভাবেই বন্ধকী দাতা টাকা পরিশোধ করে বন্ধকী গ্রহীতার কাছ থেকে ফ্ল্যাট বুঝে নিতে পারবেন না।
২। বন্ধক দাতা কর্তৃক গ্রহণকৃত বর্ণিত পরিমাণ টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধক গ্রহীতা উল্লেখিত ফ্ল্যাটটি নিজে বসবাস করতে পারবেন বা অন্যের কাছে ভাড়া দিতে পারবেন। বন্ধক গ্রহীতা বন্ধক দাতাকে কোনো প্রকার ভাড়া পরিশোধ করবেন না। আবার বন্ধকদাতাও উক্ত ফ্ল্যাটের জন্য কোনো প্রকার ভাড়া দাবি করতে পারবেন না।
৩। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সার্ভিস বিল বন্ধক গ্রহীতা নিজ দায়িত্বে পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন।
৪। টাকার প্রয়োজন হলে, বন্ধক গ্রহীতা বন্ধকদাতাকে ৩ (তিন) মাসের লিখিত নোটিশ দিয়ে টাকা পরিশোধ করতে বলার অধিকার রাখেন।
৫। বন্ধক চলাকালীন সময়ে বন্ধক গ্রহীতা ফ্ল্যাটটিতে সম্পূর্ণ বৈধভাবে বসবাস ও ব্যবহারের অধিকারী হবেন।
৬। বন্ধক গ্রহীতা ফ্ল্যাটটি যে অবস্থায় বুঝে নিয়েছেন, ঠিক সেই অবস্থাতেই পরবর্তীতে বন্ধক দাতার কাছে বুঝিয়ে দিতে বাধ্য থাকবেন। ফ্ল্যাটের কোনো প্রকার স্থায়ী ক্ষতি বা পরিবর্তন করা যাবে না।
৭। মেয়াদ পূরণ বা ৬ মাসের পরে যেকোনো সময়ে চুক্তি বাতিল ও টাকা ফেরত দিতে পারবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ২ মাস পূর্বে নোটিশ করতে হবে। ২ মাসের নোটিশ করার বিধান উভয়পক্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।
৮। বসবাসকালীন কোনো ধরনের বেআইনি ও অসামাজিক কার্যকলাম সংগঠন করা যাবে না।
৯। মালিকের অনমুতি ব্যতিত অন্যকারো নিকট ভাড়া দেয়া যাবে না।
১০। বন্ধকী টাকার কোনো প্রকার সুদ হবে না। এবং ফ্লাটের কোনো প্রকার ভাড়া ধরা যাবে না।
১১। এই দলিল দ্বারা বসবাসকারী ফ্লাট বিক্রির অধিকারী হবে না।
১১। ফ্লাটমালিক মাঝে মধ্যে ফ্লাট দেখার জন্য আসলে তা দেখতে দেয়ার বিষয়ে বসবাসকারী সহযোগিতা করবেন।
১২। এই ফ্লাট বন্ধকগ্রহীতা দ্বিতীয় কারো নিকট বন্ধক প্রদান করতে পারবে না।
১৩। বন্ধক গ্রহীতা প্রতিমাসে বিভিন্ন বিল পরিশোধ করে তার প্রমাণক ফ্লাট মালিককে প্রদান করবেণ।
১৪। ৭। এই বন্ধকী দলিল ০১/০৩/২০২৬ ইং তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
ফ্ল্যাটের পরিচয়:
ঠিকানা: ৬১, মধ্য মাদারটেক, ঢাকা। ভবনের তিন তলার উত্তর-পশ্চিম কোণের আনুমানিক ৬৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটটিতে ২টি শোবার ঘর, ১টি ডাইনিং স্পেস, ১টি রান্নাঘর, ১টি বাথরুম এবং একটি বারান্দা রয়েছে।
এতদ্ব্যতীত, স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ শরীরে ও সরলমনে অন্যের কোনো প্ররোচনা ছাড়াই এই বন্ধকী দলিল পড়ে ও পড়িয়ে এর মর্ম স্বাক্ষর এবং শর্তাবলি মেনে এই চুক্তিপত্র দলিল সম্পাদন করলাম।
ইতি তারিখ: ১৫/০২/২০২৪ ইং
স্বাক্ষীগণের স্বাক্ষর, নাম ও ঠিকানা:
১. (স্বাক্ষর) _________________
নাম: মোঃ করিম উদ্দিন
ঠিকানা: ৮৯, মাদারটেক, ঢাকা
পেশা: ব্যবসা
২. (স্বাক্ষর) _________________
নাম: মোঃ আল আমিন
ঠিকানা: ৩৪, বনানী, ঢাকা
পেশা: সার্ভিস
বন্ধক দাতার স্বাক্ষর, তারিখ ও মোবাইল নম্বর:
(স্বাক্ষর) _________________
মোঃ রিয়াদ হাসান
তারিখ: ১৫/০২/২০২৪ ইং
মোবাইল: ০১৭১২-XXXXXX
বন্ধক গ্রহীতার স্বাক্ষর, তারিখ ও মোবাইল নম্বর:
(স্বাক্ষর) _________________
মোঃ সাজিদ ইসলাম
তারিখ: ১৫/০২/২০২৪ ইং
মোবাইল: ০১৯১১-XXXXXX
পরামর্শ:
আইনগত পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: এটি শুধুমাত্র একটি নমুনা দলিল। বাস্তবে কোনো বন্ধকী লেনদেন করার আগে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সম্পূর্ণ পরামর্শ ও তত্ত্বাবধান নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি দলিলটি সঠিকভাবে ড্রাফটিং করতে সাহায্য করবেন, সম্পত্তির মালিকানা যাচাই করবেন এবং উভয় পক্ষের অধিকার সুরক্ষিত করবেন।
স্ট্যাম্পিং: বন্ধকী দলিল অবশ্যই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যথাযথ স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নিবন্ধিত (রেজিস্টার্ড) করতে হবে। একজন আইনজীবী এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালনায় সহায়তা করতে পারবেন।
স্পষ্টতা: দলিলে সম্পত্তির বিস্তারিত বর্ণনা (যেমন: দলিল নম্বর, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ইত্যাদি) এবং সঠিক পরিমাপ উল্লেখ করা উচিত।
নোটিশের ঠিকানা: দলিলে উভয় পক্ষের স্থায়ী এবং বর্তমান যোগাযোগের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ভালো।
