বাংলাদেশ নিয়ে জিজ্ঞাসা ও বিশ্লেষণ: এক বৃহত্তর পর্যালোচনা
বাংলাদেশ একটি জটিল ও বহুমাত্রিক রাষ্ট্র। এর ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং সামাজিক প্রবাহ একে অনন্য পরিচিতি দিয়েছে। তবে বাইরের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশকে বোঝা সবসময় সহজ নয়। রাজনৈতিক কাঠামোর অভ্যন্তরীণ জটিলতা, দলীয় সংগঠন, সামাজিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং গণমানুষের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। এই রচনায় সেইসব প্রশ্নকে গুছিয়ে উপস্থাপন করা হলো।
রাজনৈতিক সংগঠনের কাঠামো
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত টায়ারভিত্তিক কাঠামোতে পরিচালিত হয়। বড় দলগুলোর কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত শাখা থাকে। তবে এর বাইরে আরও একটি জটিলতা হলো — রাজনৈতিক দলের সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠন। যেমন ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, প্রবাসী সংগঠন ইত্যাদি। এগুলো কখনো শক্তি বাড়ায়, কখনো বিভাজন ঘটায়। প্রশ্ন হলো— আধুনিক ও টেক-ফ্রেন্ডলি দলের কাঠামো কেমন হতে পারে?
ভোটের হিসেব জোটের হিসেব ও নির্বাচন পদ্ধতি
বাংলাদেশে এখন কেউ মাত্র ২০% ভোট পেলেও এমপি হতে পারে। জনগণের ভোটে দল ও প্রার্থী আলাদা করে দেখা যায় না, ফলে কেউ দলকে অপছন্দ করলেও প্রার্থীকে চেনে বলে ভোট দেয়। আবার ভালো প্রার্থী না দিয়েও দল ক্ষমতায় চলে যায়। পিআর পদ্ধতি হলে বিষয়টা তার উল্টো হয়ে যাবে। কিন্তু এমএমপি পদ্ধতি হলে এটা ব্যালেন্স করা যাবে। এমএমপি চালু হলে দলগুলো ভালো প্রার্থী এবং নীতি আনতে বাধ্য হবে।
ভাসমান ভোটার ইস্যু ও এমএমপি
বাংলাদেশে ভাসমান ভোটার সংখ্যা ১৪% মতো ছিল। কিন্তু মুহুর্তে ভাসমান ভোটারের সংখ্যা ৩০% এর বেশী। তাই তাদের সহজ হবে। মানে ৩০% ভোট কোনো দলের নয়। তাহলে ৩০% মানুষ যদি সঠিকভাবে সঠিক লোককে তাদের ভোট দিতে পারে। পুরো রাজনৈতির পাশা বদলে যেতে পারে। তবে ব্যাপক ও মৌলিক পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক সংগঠন বিধিমালা প্রণয়ণ করে রাজনৈতিক দলে লূটেরা ও সন্ত্রাসীদের প্রবেশ নিষেধ করে যোগ্য ও ভদ্রদের কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই মুহুর্তে বাংলাদেশে ভাসমান ভোটার ৪০% এর বেশি তাই আরও কার্যকরভাবে ভোট দিতে পারবে। এই জন্য রাজনৈতিক দল গঠনের আইনে সংস্কার করে লুটেরা ও সন্ত্রাসীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। যোগ্য ও ভদ্র মানুষের রাজনীতি করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
গণঅভ্যুত্থান ও সামাজিক আন্দোলন
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন পর্যন্ত বহু অভ্যুত্থান ঘটেছে। প্রতিটি আন্দোলন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করেছে। প্রশ্ন থাকে— এ আন্দোলনগুলোতে জনতার ত্যাগ ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা কেমনভাবে ইতিহাসে প্রতিফলিত হচ্ছে?
মোব জাস্টিস বা গণপিটুনি সংস্কৃতি
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে গণপিটুনি একটি অনিবার্য আলোচ্য বিষয়। ১৯৭১-এ রাজাকার-বিরোধী জনরোষ, ১৯৭২-৭৫ সালে বিভিন্ন বাহিনী ও ছাত্র সংগঠনের সহিংসতা, কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে চুরি-ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় জনতার রায়— সবই প্রমাণ করে যে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা জনগণকে কখনো কখনো আইন হাতে নিতে বাধ্য করেছে। প্রশ্ন— কিভাবে রাষ্ট্র এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও প্রশাসনিক জটিলতা
বাংলাদেশে আংশিক সংস্কার অনেক সময় উল্টো ক্ষতি ডেকে আনে। রাজনৈতিক সংস্কার হলেও যদি প্রশাসনিক সংস্কার না হয়, তবে আমলাতন্ত্র রাষ্ট্রকে জিম্মি করে ফেলে। একইভাবে অর্থনৈতিক সংস্কার হলেও যদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে অসমতা বাড়তে থাকে। তাই সমন্বিত সংস্কারের দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতি
বাংলাদেশের অবস্থান ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত কৌশলগত। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রাজনীতি, চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব, আমেরিকার কূটনৈতিক ভূমিকা, এবং জাতিসংঘের কার্যক্রম— সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি জটিল। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়— কতটা পারস্পরিক স্বার্থ, আর কতটা চাপ?
অর্থনীতি ও উদ্ভাবন
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স, গার্মেন্টস, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বড় শক্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্টার্টআপ, ই-কমার্স ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলেছে। তবে উদ্যোক্তাদের কাঠামো, তহবিল, সরকারি নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবাজারের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো— এসব বিষয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ
শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের পরিচয় গড়ে তুলেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়— আধুনিক যুগে ইংরেজি শিক্ষার সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে কীভাবে সমন্বিত করা যাবে? শিক্ষা কেবল পেশা না হয়ে কিভাবে মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করতে পারে?
রাজনৈতিক সংষ্কৃতির মূল সমস্যা ও দ্বৈত চরিত্র
বাংলাদেশের মানুষের চারিত্রিক বৈপরিত্য (paradox) বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১) মানুষ ধর্মের দোহাই দেয় কিন্তু ঘুষ খায়। যা ধর্ম অনুযায়ী পাপ। ২) দেশে মানুষের যা করা দরকার সেটি করতে নানা রকম জটিলতা রয়েছে। যেমন ধরো ব্যবসা। আর যেটি বেআইনি তার জন্য নানা পথ খোলা আছে, যেমন দূর্নীতি। ৩) মানুষ সবচেয়ে হিংসা করে নিজের ভাই ও বন্ধুকে। অথচ এদেরকেই সে ভালবাসে। কারণ তারা একদিকে অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ, অন্যদিকে সমাজে দূর্নীতি, লোভ, স্বার্থপরতা মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে আছে।
এর পাশাপাশি রয়েছে — গরীব হয়েও অভিজাত ভঙ্গি, মানবিক কথাবার্তা কিন্তু বাস্তবে নিষ্ঠুরতা, জাতীয়তাবাদে গর্ব কিন্তু দৈনন্দিন চর্চায় দেশপ্রেমের ঘাটতি, শিক্ষা অর্জনের স্পৃহা কিন্তু চিন্তা-প্রশ্নহীনতা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেখা যায় —মানুষ ধর্মপ্রাণ, দেশপ্রেমিক, আবার পরিবারের প্রতি আন্তরিক,
কিন্তু যখন দল বা নেতার স্বার্থের প্রশ্ন আসে, তখন তারা সব মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে দলীয় লুটপাট, দখলদারি, খুন-খারাবিকেও সমর্থন করে। এটা কেন হয়?
বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে আর্থ সামাজিক নিরাপত্তার অভাব। এমনকি যার জমি টাকা আছে। তার এই নিরাপত্তার অভাব আরো বেশী। আইনের শাসন না থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে। কারণ একটা মানুষকে আইন ও প্রশাসন যে নিরাপত্তা দিতে পারে না। সরকার দলীয় নেতার সাথে সম্পর্ক থাকলে সে নিরাপত্তা পায়। ফলে মানুষ এই আচরণটা করে।
বাংলাদেশে আইন ও রাষ্ট্রের কাঠামো মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। ফলে মানুষ বাধ্য হয় নেতা বা দলকে আঁকড়ে ধরে, যেন অন্তত তাদের মাধ্যমে নিরাপত্তা মেলে। এতে নিজের মুল্যবোধ, ধর্ম, নৈতিকতা পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। যার ফলে নেতার অপরাধও তারা সহ্য বা সমর্থন করে, কারণ সে তাদের নিরাপত্তার অবলম্বন।
এজন্য , ক) বর্তমান আইনি কাঠামো ভেঙ্গে নতুন ও আধুনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খ) সরকারী চাকরীর নীতি বিধি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করতে হবে। গ) প্রাথমিক আদালত ও প্রাক প্রাথমিক আদালতের মাধ্যমে কোটে উঠার আগে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। ঘ) প্রতিটি মানুষের মানসম্পন্ন শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ঙ) নাগরিক মর্যাদা ও দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন করতে হবে।
পুরো একটা জাতিকে এরা বলতে গেলে রাজনীতিবিদেরা বিভ্রান্ত করে। হাসিনার পিএস মতিউর রহমান রেন্টু একটা বই লিখেছে ‘‘আমার ফাঁসি চাই’’ সেখানে হাসিনা কিভাবে মানুষ মারার প্লান করে, কিভাবে নিজ দলের লোকদের হত্যা করে অন্যদের ফাঁসায় এবং কিভাবে নানারকম নাটক সাজায় মায়াকান্না করে। তার বিবরণ আছে। এবং সে বলেছি। আমি যেহেতু খুনির পিএস ছিলাম। আমারো ফাঁসি হওয়া উচিত। সে ৮১ থেকে ৯৬ এর ঘটনা নিয়ে বই লিখেছে। তারপরতো ওদের দ্বারা অনেক হত্যাকান্ড হয়েছে। যেমন ধরে লগি বৈঠা, শাপলা চত্ত্বর, পিলখানা, সাতখিরা। আরোতো অনেক আছে। তবুও এখনো কিছু লোক এদের পেছনে ছুটে।
বড় অদ্ভুৎ। আমার কথা হলো যারা আগে থেকে এগুলো করে আসছে। তাদেরকে আগে প্রত্যাখ্যান কর। এরপর নতুন করে কেউ করলে তাকেও প্রত্যাখ্যান কর। তারপর যখন খুনি চোরো প্রত্যাখ্যাত হবে বার বার তখন ভাল কেউ আসবে।

