সেবা সহজীকরণ: সরকারী হাসপাতাল
সরকারী হাসপাতালগুলোতে হয়তো দূর্নীতি কমেছে কিন্তু সেবার মানে কোনো উন্নতি হয়নি। এখানে শুধু পেশাদারিত্ব নয় এখানে ব্যবস্থাপনা এবং অপেশাদার মানসিকতাও একটা কারণ। সবচেয়ে বড় কারণ হলো জবাবদিহিতা না থাকা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি।
কিন্তু এখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এখানেও আমি সমস্যার তালিকা না করে সরাসরি সমাধানে চলে যাই। কারণ কোনো পেশা বা খাতকে দোষারোপ করা এই প্রস্তাবনার উদ্দ্যেশ্য নয়। এর উদ্দ্যেশ্য হলো দেশের সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। তাই নিচের প্রস্তাবনা থেকে অনেক প্রশ্নের জবাব ও সমাধান মিলবে
সমাধান কি?
১) সরকারী হাসপাতালের সিট বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। হাসপাতালগুলোর ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে সরকারী হাসপাতালে বিশেষ আলাদা ইউনিট করে সেখানে সরকার নির্ধারিত সেবামূল্যের বিনিময়ে বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় শয্যা থাকতে পারে। এখানে শর্ত ও শাস্তি দুটোই কঠিন থাকবে। সরকারের খরচ কমবে। জবাদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং সেবার মান উন্নত হবে। এ সংক্রান্ত একটা নীতিমালা করে এটি চালু করা যেতে পারে।
২) সকল সরকারী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় সেনা কর্মকর্তা নিয়োগ করা হোক। আমরা বিদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করি। দেশের স্কুলে সেনা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করি। হাসপাতালে যেখানে আমাদের জীবন-মরনের প্রশ্ন সেখানে কেন আমরা সেনা তত্বাবধান চালু করি না।
৩) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা জবাবদিহিতামূলক করতে হবে। হাসপাতালের অবস্থান ও রোগীর সংখ্যা অনুপাতে সকল সরকারী হাসপাতালে ডাক্তার থেকে আয়া সকল পোস্টে সরকারী স্টাফদের পাশাপাশি কর্মসৃজন বা মাষ্টাররোলে কিছু স্টাফ নিয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমেও নার্স ও টেকনিশয়ান থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের কর্মী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হতে পারে। স্থানীয় ছাত্র ও সমাজসেবীদেরকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ৩ মাস থেকে ১ বছরের জন্য নিয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া দাতা সংস্থা থেকে ডাক্তার ও নার্স নেয়া যেতে পারে সাময়িক সমস্যার জন্য। বেসরকারী এসব কর্মীকে সনদ দেয়া হবে। যা তাদের সরকারী চাকুরীর আবেদনে বাড়তি পয়েন্ট যোগ করবে।
৪) হাসপাতালের ক্যান্টিনের ন্যায়, ওয়াশরুপ এবং ডায়াগনস্টিক সকল সেবা ক্রমশ আংশিক থেকে পূর্ণ বেসরকারী খাতে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে। তারা সরকারী নীতির আলোকে সঠিক লোক নিয়োগ দেবেন এবং সরকার নির্ধারিত দামে সেবা দেবেন। তারা সরকারী অবকাঠামো ব্যবহার করবেন। যদি সরকারী বিদ্যুৎ মেশিনারী ব্যবহার করে তাহলে মূল্য তালিকা একরকম হবে আর যদি সরকারী ভবন ছাড়া আর কিছু ব্যবহার না করে তাহলে ফি আলাদা হবে। যেসব এলাকা বা হাসপাতালে বেশী রোগী হয় বা হাসপাতালগুলো অনেক বড় সেখানে এগুলো একাধিক থাকতে পারে। মানে একাধিক রুমে এক্সরে হবে এরকম আরকি।
= পরামর্শ- জাহাঙ্গীর আলম শোভন

