শরীরের ত্বকই প্রধান লক্ষ্য
এ্যালার্জি একটি বিশেষ ও জটিল ধরনের রোগ। এটি মূলত শরীরের এক ধরনের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, যা নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য, পরিবেশ বা পদার্থের সংস্পর্শে এলে দেখা দেয়। কারো চিংড়ি মাছ খেলে সমস্যা হয়, কারো রোদে গেলেই চামড়া চুলকায় বা ফুসকুড়ি ওঠে, আবার কেউ কেউ ধুলাবালি, ফুলের রেণু কিংবা পশুপাখির সংস্পর্শ সহ্য করতে পারেন না—এসবই এ্যালার্জির লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ্যালার্জি কয়েক ধরনের হতে পারে। তবে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ত্বকে। শরীরের কিছু অংশ ফুলে ওঠে, লালচে হয়ে যায় বা চুলকায়। যেই পদার্থের কারণে এ্যালার্জি হয়, তাকে বলা হয় “এ্যালারজিন” (Allergen)। মানুষের শরীরে এই পদার্থ স্বাভাবিকভাবেই থাকে, কিন্তু তা সবার ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। কারো শরীরে এটি সক্রিয় হয়ে ওঠে, কারো ক্ষেত্রে একেবারেই নয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে এখনো এ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এটি বংশগত হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলেন, মানসিক চাপ, ভয় বা উদ্বেগও এই রোগের সূচনা ঘটাতে পারে। দেখা গেছে, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মধ্যে একজন এ্যালার্জিতে ভোগেন, বাকিরা একেবারে সুস্থ থাকেন। তাই একে শুধুমাত্র বংশগত বলা যায় না।
শরীরে এ্যালার্জি সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াটিও বেশ জটিল। যখন কোনো নির্দিষ্ট পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে, তখন শরীর সেটিকে বহিষ্কার করার জন্য প্রতিরোধ তৈরি করে। এসময় এক ধরনের পদার্থের জন্ম হয়, যার নাম “এন্টিবডি” (Antibody)। প্রথমবার এটি সেই পদার্থকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু একই পদার্থ আবার শরীরে প্রবেশ করলে এন্টিবডি সক্রিয় হয়ে নতুন এক রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে, যার নাম “হিস্টামিন” (Histamine)।
এই হিস্টামিন ত্বক ও শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে বিকৃতি ঘটায়, যার ফলেই দেখা দেয় চুলকানি, লালচেভাব বা ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ। আশ্চর্যের বিষয়, এই হিস্টামিন রক্তে মিশে থাকে না, তাই শরীরের কিছু অংশে এর প্রভাব দেখা দিলেও অন্য অংশে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ঠিক কী কারণে এ্যালার্জি হয়। কেউ মনে করেন, এটি বংশগত প্রভাবের ফল, কেউ বলেন, শরীরের কোনো গ্রন্থি যেমন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির (Adrenal gland) ত্রুটি থেকেও হতে পারে। তবে এসবই অনুমান। এখনো এ্যালার্জির প্রকৃত কারণ বিজ্ঞানীদের কাছে এক অনসন্ধানী রহস্যই রয়ে গেছে।

