রেললাইন বিহীন রেলগাড়ি
রেললাইন বিহীন রেলগাড়ি

রেললাইন বিহীন রেলগাড়ি

আমরা সাধারণত রেলগাড়ি বলতে বুঝি—লোহা দিয়ে তৈরি দুইটি সমান্তরাল রেলের ওপর চলা একটি দীর্ঘ যান। কিন্তু বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রচলিত রেলপথ গতি, নিরাপত্তা ও ব্যয়ের দিক থেকে ট্রেন প্রযুক্তিকে সীমাবদ্ধ করে রাখছে। প্রচলিত রেলের লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় খুব বেশি, গতি বাড়াতে গেলে ঝুঁকি বাড়ে, আর যান্ত্রিক জটিলতাও থাকে। তাই বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই চিন্তা করছেন—কিভাবে রেললাইন ছাড়া ট্রেন চালানো যায়, কিংবা কিভাবে সাধারণ রেলগাড়িকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করা যায়।

ফ্রান্সের প্যারিসে বিজ্ঞানীরা নতুন ধরনের ট্রেন ডিজাইন করেছেন, যা রাবার টায়ার দিয়ে চলবে। এই ট্রেনকে মনোরেল পদ্ধতিতে চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মনোরেল বলতে বোঝায়—একটি মাত্র রেল বা গাইডওয়ের উপর একটি মাত্র কোচ বা বগি চলা।
এই প্রযুক্তির সুবিধা হলো—

  • আলাদা রেললাইন তৈরির প্রয়োজন কম

  • টায়ারের ঘর্ষণ কম হওয়ায় শব্দ কম

  • দ্রুত গতি পাওয়া সম্ভব

  • রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমে যায়

এ ধরনের রেল ব্যবস্থা ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে এবং বেশ ভালো ফল দেখা গেছে।

কিছু বিজ্ঞানী ভাবছেন, হোভারক্রাফটের নীতিতে ট্রেন তৈরির কথা। এই মডেলটির নাম দেওয়া হয়েছে—এয়ারোট্রেন (Aerotrain)।

এটি চলবে এমনভাবে—

  • ট্রেনের নিচে একটি বায়ুবলয় তৈরি হবে

  • উপরে লাগানো থাকবে প্রপেলার

  • প্রপেলারের শক্তিতে ট্রেন তখন বাতাসের উপর ভাসতে ভাসতে ছুটবে

  • ঘর্ষণ প্রায় না থাকায় গতি হবে অনেক বেশি

হোভারক্রাফটের মতো ভাসমান ট্রেন হওয়ায় এটি অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং কম শব্দে চলতে পারে।

আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি হলো—ম্যাগলেভ ট্রেন। এটি চুম্বকের বিকর্ষণ শক্তি ব্যবহার করে রেলপথের ওপরে ভাসমান থাকে। ফলে ঘর্ষণ প্রায় শূন্য, আর গতি পৌঁছাতে পারে ৬০০ কিমি/ঘণ্টারও বেশি।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন—

  • চুম্বক শক্তির ট্রেন নিরাপদ

  • রক্ষণাবেক্ষণ কম লাগে

  • পরিবেশবান্ধব

  • ট্রাফিক জ্যামহীন প্রাথমিক গণপরিবহন হিসেবে এটি ভবিষ্যতের সেরা সমাধান

চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানিতে ইতোমধ্যে ম্যাগলেভের বিভিন্ন মডেল চালু আছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী ২০ বছরেই মাটির রেলগাড়ি বিমানের গতির সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। ভবিষ্যতের ট্রেন হবে—

  • রেললাইনহীন

  • স্বয়ংক্রিয়

  • অত্যন্ত দ্রুতগতির

  • পরিবেশবান্ধব

  • কম ব্যয়বহুল

  • আরও নিরাপদ

এভাবে রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বদলে যাবে, উন্নত হবে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply