Bangladesh, joy Bangla

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে না বিপক্ষে

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে না বিপক্ষে

 

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ বিপক্ষ এটি সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে চর্চিত বিষয়। বিগত ৫৫ বছর ধরে কখনো খুব কম ও কখনো বেশী এটি চর্চিত হয়েছে। এটি রাজনৈতিক বিষয় হলেও এটা রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইস্যুটি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র ও স্তরকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য শুধু ব্যবহার করা হয়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট করতে এটি ব্যবহার করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে খুন ও গুম করতে এটা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক সংকট ও রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা তৈরী করা হয়েছে যা থেকে বাংলাদেশের মানুষ হয়তো আর কখনো বের হতে পারবে না।

পক্ষ বিপক্ষ কি একই হয়?

আপাত দৃষ্টিতে বিষয়টি সাদামাটা ও স্বাভাবিক। যেসব দেশ দীর্ঘ রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে এবং সেসব দেশে যদি একটা পক্ষ থাকে তারা বিদেশী শক্তি, দেশীয় তাবেদার শক্তি বা অত্যাচারী শাসকের ক্রীড়নক হয়ে দেশ ও জনগনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মাটি ও মানুষের সাথে গাদ্দারী করে তাহলে তাদেরকে সমাজ আলাদা করে দেখবে এটাই স্বাভাবিক।

প্রশ্ন হলো, সমাজে এই বিভক্তি কতদিন চলে? এটি আসলে একেবারেই আপেক্ষিক। প্রথমত, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এবং কৌশলগত যুদ্ধটা যতদিন থাকবে ততদিন এটা চলে। এছাড়া যেসব সমাজে জাতিগত বিভক্তি ও বর্ণবাদ থাকে। সেসব দেশ ও সমাজে এগুলো দীর্ঘদিন চলতে থাকে।

 

বাংলাদেশে কি জাতিগত বিভক্তি স্বাভাবিক?

বাংলাদেশে সব মানুষ প্রায় একই ধর্ম ও সংষ্কৃতির। দুটি প্রধান ধর্ম হিন্দু মুসলিম থাকলেও এদের মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িক দ্ধন্ধ ছিলো না। ১৯৪৭ সালে হিন্দুরা ভারত কামনা করলেও পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুরা পাকিস্তান মেনে নিয়েছিল। যখন পাকিস্তান থেকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিলো তখন হিন্দু মুসলিম একসাথে লড়াই দেশ স্বাধীন করেছে। এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশে হিন্দু মুসলিম একসাথে দেশ গড়েছে। সাম্প্রদায়িক কারণে কিছু হিন্দু ভারতকে পছন্দ করতে পারে কিছু মুসলিমের পাকিস্তান প্রীতি থাকতে পারে। কিন্তু দেশে গড়তে এটি কোনো সমস্যা হয়ে দাড়ায়নি। যারা গোড়া পাকিস্তানপ্রেমী তাদের কিছু লোক পাকিস্তান ও ইউরোপে চলে গেছে। যেসব হিন্দুরা এখানে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারেনি তাদের অনেকে ভারত ও উন্নত দেশে গিয়েছে। হয়তো ভারতে যাওয়াদের সংখ্যা বেশী। ইউরোপ আমেরিকায় নগণ্য সংখ্যক।

যারা দেশে ছেড়েছে বেশীরভাগ উন্নত জীবনের ছেড়েছে। তারমানে এই কেউ বঞ্চিত বা নির্যাতিত হয়নি। হয়েছে কিন্তু সেটা ধর্মের জন্য নয়। সেটা হলো দূর্বলের উপর সবলের প্রভাব। আইনের শাসনের দূর্বলতৈা এর কারণ এটি জাতিগত বা সাম্প্রদায়িক কারণ নয়।

 

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা বলে যদি কিছু থাকে সেটা হলো রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা। মুক্তিযুদ্ধের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভক্তি। এই বিভক্তি করে বিভিন্ন সময়ে এটাকে বিভিন্নভাবে উসকে দেয়া হয়েছে এমনকি বিগত ১৫ বছরে একে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। শত শত মানুষকে গুম করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি নাম দিয়ে ব্যাংক, জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি দখল করে তাদের দেশছাড়া ও দুনিয়া ছাড়া করেছে। আর সে টাকায় শাসকদল বিদেশে পাচার করে বাড়ী গাড়ি করেছে। শাসক দলের শুধুমাত্র এক মন্ত্রীর নামেই বিদেশ বাড়ি আছে ৮শ এর বেশী।

যদিও যাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী বা পাকিস্তানপন্থী বলা হয়েছে। তারা কখনো পাকিস্তানের স্বার্থে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকান্ড করেনি। স্বাধীন বাংলাদেশে। আর যারা বিভক্তি তৈরী করেছে। তারা ভারতের স্বার্থে কতে জায়গায় দেশের কতোরকম ক্ষতি করেছে সেসব দিয়ে আলাদা একটা পোর্টাল বানানো সম্ভব।

শুধু একটা উদাহরণ দেয়া যাক, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপর ভারতের প্রতিশোধ নেয়ার পূরণ করার জন্য এরা নিজ দেশে ৫৭ সেনা অফিসার হত্যা করিয়েছে। অধীনস্থ সৈনিকদের দ্বারা। একটা দল কতটা সভ্যতা বর্জিত ও দেশদ্রোহী হলে এটা করতে পারে।

তার মানে কি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী আর স্বপক্ষ সবার মর্যাদা সমান হবে। না, তাও আমি সমর্থন করি না। প্রথমত মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই বিশেষ সম্মান সুবিধা দেয়া দরকার। কিছু ক্ষেত্রে দেয়া হয়েছে। সেখানেও সেটা তাদের কাছ থেকে কৌশলে কেড়ে নেয়া হয়েছে। শুধু ভাতা হয়তো তারা ঠিকমতো পেয়েছে। কারণ হলো নতুন করে হাজার লোকের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় যুক্ত করার পর বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধারা সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূয়োদের সাথে প্রতিযোগিতায় যেতে হয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা সুবিধা না পেয়ে নকল মুক্তিযোদ্ধারা সুবিধা নিয়ে গিয়েছে। আর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলোতে ভয়াদের সংখ্যাগরিষ্ঠ করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যালঘু করে দেয়া হয়েছে। এতে করে সেসব সংগঠনগুলোও এক রকম কৌশলে দখল করে নেয়া হয়েছে।

এবং দেখা গিয়েছে যেদল মুক্তিযুদ্ধের পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। সে দলে কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা যোগ দিয়েছে। মানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটা অংশ হতাশায় পড়েছে। আর বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে বলে সামাজিক শৃংখলা নষ্ট করেছে। তাদের দলের চেয়ে তাদের প্রতিপক্ষ দলে বেশী মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী রয়েছে। যদি ভাবতে পারা যায়। সবকিছুতে ভাবার জিনিস আছে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চাকরি কোটা নিয়ে হাজার কথা আছে। আমি একটা কথা ত্রিশ বছর আগে থেকে বলছি। কারণ কথাটা ছাত্রজীবনে আমার মাথায় এসছে।  আমার কাছে এই গ্যাপটা ধরা পড়েছে। যেমন- একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তখনি কোটায় চাকরি পাবে যখন সে লেখাপড়া করে চাকরীর উপযুক্ত হবে। কিন্তু যে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে লেখাপড়া করাতে পারেনি তার সন্তানের কি হবে। এজন্য চাকরি কোটা হয়তো ৫ কিংবা ২৫ শতাংশ হবে। চাইলে সকল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ব্যবস্থা করা যেত, এবং এটা করতে পারলে যে সরকারী চাকরি পাবে না সে অন্তত অন্য কোথাও ভাল ক্যারিয়ার গড়তে পারতো। কিন্তু সেসব হয়নি।

কারণ প্রথমত, রাজনীতি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু করার চেয়ে তাদের নিয়ে রাজনীতি করাটাই ছিলো মূখ্য। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কোটার নামে একদিকে ভূয়ো মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে কিছু দলীয় লোকের চাকরির ব্যবস্থা করা এবং কোটার খালি সিটগুলোতে গোপনে দলীয় লোক নিয়োগ করে ক্ষমতা পোক্ত করা ছিল মূল উদ্দেশ্য। আর সে কারণেই এসব সমস্যা।

তাছাড়া যদি সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতা বিরোধীদেরকে আলাদা করতে চাইতো স্বাধীনতার মর্যাদার জন্য তাহলে নোংরা রাজনীতি না করে আরো গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নেয়া যেতো। যেমন- যেসব ব্যক্তি ও দল রাজনৈতিকভাবে বাংলাতেশের বিরোধীতা করেছে তারা স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। একটি আইন বা অধ্যাদেশ এই সমস্যার সমাধানে যথেষ্ঠ ছিল।

হ্যাঁ, এতে কিছু দলের নাম পরিবর্তন করে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরী হতো। কিন্তু ব্যক্তিগুলোকেতো ঠেকানো যেত। সেটা না করার কারণ হলো, তাদের জিইয়ে রাখা হয়েছে সুযোগমতো ব্যবহার করার জন্য। মানে তুমি যখন আমার সাথে থাকবা তুমি দেশপ্রেমিক যখন আমার প্রতিপক্ষের সাথে রাজনীতি করবে তখন তোমাকে দেশদ্রোহী বানিয়ে আমি নোংরা রাজনীতি করবো।

তাহলে মুক্তিযুদ্ধে পক্ষ বিপক্ষ

তাহলে মুক্তিযুদ্ধে পক্ষ বিপক্ষ আসলে কি? তার আগে আমরা জানবো মুক্তিযুদ্ধ কি? মুক্তিযুদ্ধ মানে হচ্ছে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য একটি জাতির সংগ্রাম, যেখানে মানুষ দাসত্ব, দমন, পরাধীনতা, বঞ্চনা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়ে নিজের রাষ্ট্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে—
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১) হলো পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও সাংস্কৃতিক দমন-নীতি থেকে মুক্তি পেতে বাঙালিরা ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র—বাংলাদেশ—প্রতিষ্ঠা করে।

 

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকা মানে কী?

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকা মানে হলো—

  • বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করা ও সমর্থন করা।
  • শহীদদের আত্মত্যাগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রামকে শ্রদ্ধা করা।
  • রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, সংবিধান ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অবিচল থাকা।
  • বাংলাদেশকে একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আদর্শে বিশ্বাস করা।

 

মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে থাকা মানে কী?

মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে থাকা মানে হলো—

  • বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা বা প্রশ্নবিদ্ধ করা।
  • পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর দমননীতি ও গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
  • মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রামকে অস্বীকার করা বা অবমূল্যায়ন করা।
  • স্বাধীনতার চেতনা ও অর্জনকে ক্ষুণ্ণ করা।
  • এক কথায়, যারা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছে অথবা এখনো সেই চেতনা মানে না, তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী।

১৯৪৭ সালের প্রেক্ষাপট

  • ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র—ভারত ও পাকিস্তান—গঠিত হয়।
  • বাঙালির একটি অংশ পাকিস্তান চেয়েছিল, আবার আরেকটি অংশ যুক্ত ভারত চেয়েছিল।
  • তাই “মুক্তিযুদ্ধ” শব্দটি এখানে সরাসরি ব্যবহার করা যায় না; বরং বলা যায় “স্বাধীনতা সংগ্রামী” বা “স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি”।

 

১৯৪৭ সালে মুক্তির পক্ষে (অর্থাৎ স্বাধীনতার জন্য লড়াইকারীরা)

  1. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস – তারা ব্রিটিশ শাসনের অবসান চেয়েছিল, যদিও তারা চাইত ভারত একত্রে থাকুক।
  2. মুসলিম লীগ – তাদের নেতৃত্বে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলার মুসলিম লীগ পূর্ববঙ্গকে পাকিস্তানের অংশ করতে চেয়েছিল।
  3. বাঙালি ছাত্র ও যুব সমাজের একটা অংশ – যারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান চেয়েছিল।

এরা সবাই ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করায় স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, কিন্তু ভারত-পাকিস্তান বিভাজন প্রশ্নে তাদের পথ আলাদা ছিল।

১৯৪৭ সালে মুক্তির বিরোধীরা (অর্থাৎ স্বাধীনতার বিরোধী বা বিলম্বকারীরা)

  1. হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লীগের একটি অংশ – তারা বিভক্তির পক্ষে-বিপক্ষে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল।
  2. ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীরা – তারা চাইত ভারত-পাকিস্তানকে বিভক্ত করে চলে যেতে, যাতে তাদের প্রভাব বজায় থাকে।
  3. কিছু জমিদার, ব্যবসায়ী ও অভিজাত শ্রেণি – যারা ব্রিটিশ শাসনে সুবিধাভোগী ছিল, তারা স্বাধীনতা চায়নি।

 

বিশেষভাবে বাংলার প্রেক্ষাপট

  • পাকিস্তানের পক্ষে: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমউদ্দিন প্রমুখ মুসলিম লীগের নেতারা।
  • ভারতের পক্ষে: শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক (পরে বিভক্তির প্রেক্ষাপটে অবস্থান নেন), কংগ্রেসপন্থী বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
  • ব্রিটিশপন্থী বা বিরোধী: কিছু রাজা-মহারাজা, জমিদার, যারা ব্রিটিশদের কাছ থেকে সুবিধা পেতেন।

 

তাই সংক্ষেপে বলতে গেলে। ১৯৪৭ সালে “মুক্তিযোদ্ধা” বলতে বোঝানো যায় ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য যারা ব্রিটিশ শাসনের অবসান চেয়েছিল। আর “মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী” বলতে বোঝানো যায় যারা ব্রিটিশ শাসন টিকিয়ে রাখতে চাইত, অথবা স্বাধীনতা বিলম্বিত করতে চাইত।

 

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পক্ষে থাকা মানে

  1. বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি ও সমর্থন করা।
  2. পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যা, দমননীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।
  3. মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সহযোগিতা করা—অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা, গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা, মুক্তিবাহিনীকে তথ্য, আশ্রয় ও খাদ্য দেওয়া।
  4. রাজনৈতিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর ঘোষিত স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন দেওয়া।
  5. মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ যারা পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্তি চাইত।

 

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিপক্ষে থাকা মানে

  1. বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা এবং পাকিস্তানের একত্ববাদ বজায় রাখার পক্ষে থাকা।
  2. পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করা (যেমন রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী গঠন ও সহায়তা)।
  3. মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো, তাদের ধরিয়ে দেওয়া বা হত্যা করা।
  4. রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নেওয়া (কিছু নেতা, দল ও গোষ্ঠী যেমন জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ প্রমুখের অংশ)।
  5. যারা মনে করত বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তাদের ক্ষমতা, সম্পদ বা প্রভাব কমে যাবে, তাই পাকিস্তানের পক্ষে থেকেছে।

সহজ কথা হলো স্বাধীনতার পক্ষে (Pro-Liberation) ছিলো মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ জনগণ, ছাত্র-যুব সমাজ, আওয়ামী লীগ, ভারতসহ আন্তর্জাতিক সমর্থকরা। অন্যদিকে স্বাধীনতার বিপক্ষে (Anti-Liberation): পাকিস্তানি সেনারা, তাদের সহযোগী রাজাকার-আলবদর-আলশামস, পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি।

 

কেস ১:

যে ব্যক্তি ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পক্ষে ছিল (অর্থাৎ পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টিকে সমর্থন করেছিল), কিন্তু ১৯৭১ সালে আবারও পাকিস্তানের পক্ষে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীন