মানি লন্ডারিং আইনের বজ্র আটুনি ফসকা গেরো
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
বাংলাদেশ সম্পর্কে মোটা দাগে কয়েকটি নেতিবাচক কথা প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত আছে। আরো নির্দিষ্ঠ করে বললে বলতে হয় বাংলাদেশ এই অলিখিত কিন্তু বাস্তব, বলতে মানা কিন্তু সবাই জানে ধরনের কয়েকটি নীতির উপর চলে। আজ লেখার সাথে যে কয়টি সম্পর্কিত সে কয়টি একটি মনে করিয়ে নিই কারণ আলোচনার মধ্যে এর বাস্তবতা চোখে পড়বে।
প্রথমত, এই দেশের পুরনো ব্রিটিশ ধাঁচের আইনগুলো প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলো এমনভাবে তৈরী করা আদালত বা তদন্তকারী এজেন্সি চাইলে অপরাধীকে বাঁচাতে পারবে আবার নিরাপরাধ ব্যক্তি ফাসাতে পারবে। ব্রিটিশ আমলে সাদাদের বাঁচানোর রাস্তা রাখতে আর ভারতীয়দের ফাঁসানোর রাস্তা রাখতে এই ফর্মূলায় আইনগুলো তৈরী করা হয়েছে।
এর বিশেষ কারণ হলো, আমাদের দেশ গরম, নদী নালা, পোকা মাকড়, সাপ বাঘ কুমীর এসবে ভরা ছিল। তারউপর ছিল ম্যালেরিয়া, কলেরা, আমাশয়, বসন্ত, যক্ষাসহ নানা রোগের বাসা। আর শীতের দেশ থেকে আসা বৃটিশরা নানা রোগে ভুগতো এমনকি মারাও যেত। এজন্য সরকারী আমলা ও বিচারকেরা এখানে আসতে চাইতো না। আর আসলেও বেশীদিন থাকতে চাইতো না।
এজন্য ব্রিটিশ সরকারের আইনগুলোতে আমলা, পুলিশ ও বিচারকদের কৌশলে দায়মুক্ত করে রাখা হয়েছে। এবং তা এখনো অব্যাহত আছে। কেননা, পরের সকল আইন আগের আইনের সাথে সমন্বয় করা। কারণ প্রতিবারই আইন বিধি ড্রাপ্ট করার সময় স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়, ‘‘অন্য আইনের সাথে যেন সাংঘর্ষিক না হয়’’। তাহলে এবার ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করুন। আর যে এজেন্সি তদন্ত করবে তাদেরকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দায়মূক্ত রাখা আছে।
এমনকি আদালতে অপরাধ প্রমাণ হলে নানারকম শাস্তির কথা আছে। কিন্তু অপরাধ প্রমাণ করার জন্য প্রকিয়াগুলো যুগের সাথে উপযুক্ত নয় । । ফল যা হবার তাই হচ্ছে। আর আইনের শাসনের যে ঘাটতি তার কথা নাই-বা বলি।
দ্বিতীয়ত, বলা হয়ে থাকে সরকারী কর্মকর্তারা নাকি ‘‘এবিসি ফরম্যাট’’ ধরে কাজ করে। কোনো ইস্যু তৈরী হলে প্রথমে তারা ‘‘অ্যাভয়েড’’ (A) করেন, যেন কেউ কিছু জানে না, কেউ কিছু দেখে নাই এমন একটা ভাব।
একসময় যখন সেটা বড়ো ইস্যু হয়ে যায় তখন ‘‘বাইপাস’’ (B) করেন। মানে অমুক দপ্তরের কাজ নয় তমুক দপ্তরের কাজ, এই ডেস্ক নয় ওই ডেস্কে যান ধরনের ব্যাপার। সর্বশেষ যখন ঘাড়ে তুলে দেয় কেউ তখন তারা নানা “কনফিউশন” (C) তৈরী করে। ‘‘এভাবে’’ নয় ‘‘ওভাবে’’, ‘‘সেভাবে’ নয় ‘‘যেভাবে’’। মানে কাজটা আর সঠিকভাবে হয় না। এটা কোনো ব্যক্তি বিশেষের সমস্যা নয়। সমস্যাটা সিস্টেমের। ভাগ্য ভাল যে দেশে পদোন্নতি, পুরষ্কার আর নানা সুবিধা পাওয়ার সাথে চামচামির সম্পর্ক কাজের সম্পর্ক নয় তবুও যে কিছু লোক কাজ করে বলে দেশটা টিকে আছে।
তৃতীয়ত, এই বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়। এদেশে নাকি ১০০ টাকা আয় করার চেয়ে ১শ কোটি টাকা চুরি বা পাচার করা সহজ। কেউ যদি ১শ টাকা সৎপথে রোজগার করতে চান। আপনার জন্য, নানা নিয়ম কানুন, শত বাঁধা, হাজারো অযুহাত আর লাখো লোকের সাথে প্রতিযোগিতা। আর যদি ১শ কোটি টাকা চুরি করতে বা পাচার করতে চাইলে শত শত এজেন্সি নিয়মিত খোজ খবর রাখবে যোগাযোগ করবে নানা অফার দিবে। নিরাপদে টাকা পাচারের সুযোগ করে দেবে। নানা উপায় আছে।
২০১২ সালে মানি লন্ডারিং আইন হওয়ার পরের ১২ বছর আর তার আগের ১২ বছরের মানি লন্ডারিং এর পরিসংখ্যান নেন দেখবেন যে, আইন হওয়ার পর কয়েকগুণ বেড়েছে বিদেশে টাকা পাচার।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২তে মানি লন্ডারিং এর যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাতে পরিধি বেশ ব্যাপক। ফলে নানা ধরনের আর্থিক অনিয়ম মানি লন্ডারিং এর মধ্যে পড়ে যায়। যদিও শুধু বিদেশে টাকা পাচারের হিসেবও বিগত বছরগুলোতে নক্কারজনক ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। যা সুইসব্যাংকের তথ্য প্রকাশনীতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন ও অন্যান্য অনেকভাবে জানা যায়।
এই আইন বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই এখানে সমস্যার সমাধান ও প্রতিকারের চেয়ে অপরাধ বিশ্লেষণ বেশী। যেমন অধ্যায় ৩ এ সরাসরি অপরাধে চলে গিয়েছে। মনে হয়েছে আইনের রচনার সময় শুধু আদালতের কথা চিন্তা করা হয়েছে। যে একজন মানি লন্ডারিং করবে আর সেটা সাথে প্রমাণ হয়ে যাবে। তারপর তাকে শাস্তি দিয়ে কাজ শেষ।
না আমি আইনকে অহেতুক লম্বা করতে বলছিনা। আমি শুধু ‘‘গ্যাপ’’ দেখাতে চাইছি। এখানে প্রথমত দরকার ছিল মানি লন্ডারিং প্রতিরোথ করার নীতি, টুল ( উপাদান বা যন্ত্র), যথাযথ ও সক্ষম কতৃপক্ষ এবং তাদের ক্ষমতা এবং ক্ষমতার বিপরীতে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা। এই বিষয়গুলো খুব দূর্বল। যা আছে তা কার্যকর নয় এমনকি যেহেতু বিএফআইইউ বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক আবার সরকারের নিয়ন্ত্রণে তাতে যাহা বায়ান্ন তাহাই তেপান্ন হয়ে বসে আছে। মানে কাজের সুযোগও খুব সীমিত।
দেখুন পরিস্থিতি: একটা সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ করছি-
১। কে কোথায় কিভাবে টাকা পাচার করছে। মনিটরিং সংস্থা কিভাবে জানবে বা দেখবে তার কোনো নীতি বা টুল নেই। বরঞ্চ ব্যাংকিং আইন অনুসারে গ্রাহকের আর্থিক তথ্য দেখার কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। এখানে বিভিন্ন নীতি থাকতে পারতো যে এই ধরনের ব্যক্তি বা সত্তা এত টাকার বেশী বিদেশে পাঠালে তা যাচাই করা হবে। ২৪ বা ৭২ ঘন্টার একটা সময়সীমাও থাকতে পারতো।
২। আইনটি ৩১টি অধ্যায় থাকলেও খুব বেশী বড় নয়। তবে ৩ থেকে ১৭ অধ্যায় পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে শাস্তির বিধানের পেছনে। বহুমুখী কার্যক্রম তাতে বহুমুখী আইনভঙ্গ আর বহুমুখী শাস্তি, হতেই পারে। যেখানে ঘাটতি সেটা হলো-আইনটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ওপর কেন্দ্রীভূত, কিন্তু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে বা মনিটরিংয়ে কোনো শক্ত কাঠামো নেই।
তার মানে দাড়ালো যতক্ষন পর্যন্ত তুমি চোর প্রমাণ না হচ্ছো ততক্ষন পর্যন্ত তুমি সেটা করতেই থাকো। আসলে কি তাই। সেটাতো বাস্তব পরিস্থিতির সাথে মেলালো বোঝা যাবে। আমার সমালোচনা সঠিক কিনা? মানে চোরবেটা যখন এই আইন পড়ে আসল জিনিসটা বুঝতে পারবে তখন সে মনের আনন্দে গান গাইতে থাকবো
‘‘ ওরে মোর চোর মনও
যত খুশি টাকা টানো
আখেরাতে সবি পাইবা টাকা পাইবানা’’
অপরাদের প্রাক পর্যবেক্ষণ
অপরাধের উপর প্রাক-পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যেমন: বড় অংকের ব্যাংক লেনদেনের অটোমেটেড অ্যালার্ট, সম্পদ-বৈষম্য বিশ্লেষণ, রিস্ক স্কোরিং ইত্যাদি অনুপস্থিত। সমাধান হিসেবে স্বয়ংক্রিয় লেনদেন পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি (AI/ML-based Risk Monitoring System) বা এরকম প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা থাকতে পারত। আইনে না হোক একটা বিধিমালা করে তা করা যায়।
৩। একটি স্বতন্ত্র মানি লন্ডারিং তদন্ত ব্যুরো (MLIB) হতে পারত, হয়তো কিছু কাজ BFIU ( Bangladesh Financial Intelligent Unit) করা হয়েছে। তাদেরকে অবহিত করে তদন্ত্র করতে বলা হয়েছে ধারা (৯) এ । মনে রাখতে হবে তারা স্বাধীন নয় তাদের নিয়োগ ও কতৃত্ব আবার আরেকজনের হাতে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কথা শুনতে হয় এখানে আবার সরকার বা সরকারী দল তার নিজের পছন্দের লোক বসায়, সুবিধা ও ক্ষমতা উপভোগ করে। ব্যাপারটা কি ঘটেছে যে কেউ খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন।
মানে বউতো ঘরনি। শালীও দুলাভাইর কথা শুনতে বাধ্য। আর যদি দুলাভাইকে তার বন্ধু কিনে ফেলতে পারে। তাহলে বন্ধুর শালীকে নিয়ে সুইজারল্যান্ডে ঘুরতে যেতে সমস্যা নেই। বিয়ে কালেমা ছাড়াই।
৪। ধারা ২৬-এ দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বিদেশে তথ্য চাওয়া ও দেওয়া সম্ভব বলা হলেও প্রকৃত কার্যকর কার্যক্রম বা বাধ্যতামূলক কাঠামো নেই। স্বচ্ছল বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে সম্পদ ফেরত আনার তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। এক্ষেত্রে অন্যান্য অনেক দেশের মতো কার্যকর Mutual Legal Assistance Treaty (MLAT) স্বাক্ষরের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান প্রোটোকল সক্রিয় করা যেতে পারে।
ভাবখানা হলো, তুমি যাই করো প্রমাণ নেইতো কিছুই নেই। যে টাকা চুরি করছে সে যদি নিজে দয়া করে প্রমাণ করে দেয়। তাহলে জাতির বড়ো উপকার হয়। তাছাড়া প্রমাণ করার কেউ কেউ। তাই বলে কেউ করে না? করেতো। সিআইডি করে। তাদের আবার নানা দপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। তারা আবার অনেক কিছুতে এক্সেস পায়না। তারা তথ্য সংগ্রহ করতে করতে শালীর পেটে সুইসব্যাংকে বাচ্চাও হয়ে যায়। আবার যদি তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রযুক্তি ও পদ্ধতি না বুঝেন। তাহলে সেটা আরো শাপে বর চোরের জন্য। আর যদি ৩ মাস পর পর কর্মকর্তা বদল হয়। তাহলে ব্যাপারটা একেবারে জমে ক্ষীর।
আর এতসব সমস্যা দেখে যদি সিআইডি অফিসার মনে করেন, রাষ্ট্র যদি কাজে এত জটিলতা সৃষ্টি করে রাখে। তাহলে আমার কি ঠেকা পড়ছে। হয়তো এটা কনসাস মাইন্ডে বলে না। কিন্তু মানুষের সাবকনসাস মাইন্ডতো এভাবে তৈরী হয়।
আমি জানি না, বাংলাদেশে টাকা চোরেরা এত খারাপ আর দুষ্টু কেন। তারাতো মহান দস্যু বীরাপ্পান কিংব রবিন হুড এর চেয়ে বড়ো বীর হতে পারে। আমি বলছি কিভাবে। ১ হাজার কোটি টাকা পাচার করবে। ২/৩ বছর ব্যবহার করবে। দ্বিগুন হয়ে গেলে। আসলের টাকাটা ৫/৭ বছর পর কিছু বা সব একটু একটু করে ফেরত দিবে। আর বলবে আসলে ভুলে আঙুলের চাপ লেগে টাকা চলে গেছে। এতদিন খেয়াল করিনি, তাই এখন দিয়ে দিলাম।
৫। আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন সরকার ও সংস্থার সাথে চুক্তির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। পর্যাপ্ত চুক্তি গত ১৩ বছরে সাক্ষর করা হয়নি। আমার ধারণা এখানে আইনের দূর্বলতার জায়গা হলো এই দায়িত্বটা কারা করবে কিভাবে করবে কোনো নির্দেশনা নেই। যেখানে এক কথায় ‘‘সরকার’’ বলা হয়েছে। এমন কাঠামোতে এই বিষয়ে কোনো ডেডিকেটেড কোনো ডেস্ক বা পোস্ট এর কথা বলা নেই। BFIU দায়িত্ব সম্পর্কিত একটি ছোট অধ্যায়ের মাধ্যমে অস্পষ্ঠতাকে ষ্পষ্ঠ করেছে মাত্র। ফলে চুক্তি করার জন্য কেউ দায়িত্বটি নিজের কাঁধে নেয়নি বলে আমার ধারণা।
মানে বুঝলেনতো, সরকার মানে সবাই, সরকার মানে কেউ না। কি সুন্দর শুভংকরের ফাঁকি। কখনো কোথাও টাকার ভাগ নেয়ার দরকার হলে যে কেউ গিয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে যাদেরকে সরকার বলা যায় সে দপ্তরের সবাই। আবার যদি সঠিকভাবে কাজটি না হয়। তাহলে কাউকে দোষারোপ করা যাবে না। দোষ সরকারের। এখন এই সরকার কে?
আমাদের গ্রামের গানের সিদ্দিক সরকারতো বহু আগে মারা গেছে। ইমরান সরকারও শিক্ষামন্ত্রীর মেয়ে নিয়ে ভেগে গেছে। জমির উদ্দীন সরকারও বুড়ো হয়ে গেছে। এই সরকার মানে আসলে কোনো সমস্যা হলে আর কেউ দায়ী নয় কারো জবাবদিহিতা নেই। আসলে চোরেরা খুব স্মার্ট তারা এগুলো দেখে মানি লন্ডারিং এর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘‘সরকারকা মাল বিদেশ মে ঢাল’’
৬। যে ঘাটতিটা ব্যাপক সেটা হলো মনিটরিং। Transaction Threshold-triggered Alerts — সিস্টেম থাকতে পারত,যাতে বিপদসীমা পার হলে সংকেত পাওয়া যেত। “Profits/paid-up capital/turnover/tax paid” বিভিন্ন ধরনের ক্যাটাগরিতে ভিন্ন ভিন্ন সীমা দেয়া যেত।
BFIU কে প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার আরো সুনিদিষ্ঠ নিদের্শনা থাকতে পারত। তবে নির্দেশনা না থাকলেও ক্ষমতাবলে এবং কাজের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে প্রযুক্তিতে অগ্রসর করতে পারত যেমন কাস্টমাইজড বা AI দ্বারা তৈরি Risk Scoring বা Suspicious Pattern Recognition ব্যবহার করা যায়।
৭। ধারা ১২তে যাবলা হয়েছে তা হুবহু তুলে ধরছি- ‘‘১২। (১) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার কর্তৃক বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের] অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ আমলে গ্রহণ (cognizance) করিবেন না। (২) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের তদন্ত সমাপ্ত হইবার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করিবার পূর্বে [উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের] পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিবেন এবং [কর্তৃপক্ষ] কর্তৃক প্রদত্ত অনুমোদন পত্রের একটি কপি প্রতিবেদনের সহিত আদালতে দাখিল করিবেন’’
আইন অনুসারে BFIU বা দুদক অনুমোদন দেয়, তারপর মুল তদন্ত CID, ACC, NBR কর্তৃক হতে পারে। এবং “অভিযোগপত্র (chargesheet) আদালতে BFIU–র অনুমোদন ছাড়াই দায়েরযোগ্য নয়” অর্থাৎ, বিচার শুরু হতে দেরি, এবং ক্ষমতার হস্তক্ষেপ বা গ্রাহ্যতা জালিয়াতির সুযোগ আইনের ভেতরেই রাখা আছে।
কবি বলছেন ‘‘পাগল মন মনরে মন কেন এত কথা বলে? এতদিনে বুঝলাম। মন কেন এত কথা বলে। আর আগের দিনে ছিল চোরের মন পুলিশ পুলিশ। আর এখন চোরের মন ইটিশ পিটিশ।
৮ । ধারা ২এ বিদেশে সম্পদ না ফেরালেও “money laundering” মনে হচ্ছে। যদিও এই সম্পদ বলতে পণ্য সেবা বিক্রি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ বোঝাচ্ছে হয়তো। কিন্তু আইনের ভাস্য দেখে মনে হয়, বিদেশে টাকা পাঠালে, সঠিক ডকুমেন্ট দেখিয়ে পাঠালেও এটি সমস্যা হতে পারে — কারণ “offshore smuggling” সাপেক্ষে পূর্বনির্ধারিত পথ বা notification ব্যবস্থা নেই, গবেষণা বা প্রফেশনাল ভিসা সংক্রান্ত হস্তান্তরে কোয়ালিফাইড exception নেই, এমনকি কোনো অনাবাসী বাংলাদেশী যদি দেশে তার সম্পদ বিক্রি করে যথাযথ নিয়মে তার নিজের ব্যক্তিগত অর্থ বিদেশে নিতে চান সেক্ষেত্রেও কোনো নির্দেশনা বা সীমা নেই। এটাকে আইনের কঠোর দিকও বলা যেতে পারে কিন্তু ‘‘কিছু নেই সব আছে,’’ অবস্থা। ওই যে ‘‘বজ্র আটুনি ফসকা গেরো।’’
মানে তুমি চুরি করলেও ফাসবা না করলেও ফাসবা। তাহলে আমাদের পাড়ার তনা পাগলা বলবে। ‘‘ওই মিয়া চুরি করলেও যদি দোষ অয় আর না করলেও দোষ হয়। তাইলে চুরি করনেইতো ভালা’’
না মূল ফ্যাক্ট এটাও নয়। মূল ফ্যাক্ট হলো, তদন্তকারী কর্মকর্তা যেকোনো লোককে গিয়ে ধরতে পারবে এবং অভিযুক্ত করে বলতে পারবে ‘‘ সরি, আপনি মানি লন্ডারিং করছেন। এর গুঢ় অর্থ হলো। কোনো কারণে দেশে মানি লন্ডারিং বন্ধ হলেও তেনাদের ফাঁসানো বাণিজ্য কিংবা বাড়তি আয় বন্ধ হবে না।
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। গুরু তোমাকে শত-কোটি প্রনাম। যারা এই আইগুলোকে পুরনো আইনের সাথে মিলিয়ে সুন্দরভাবে তৈরী করতে পারো। তোমাদের দূভাগ্য যে বাংলাদেশে জন্ম নেয়ার কারণে তোমাদের প্রতিভার কোনো কদর নেই। বিদেশে হলে আর কিছু না হোক এটার উপর অন্তত একটা মুভি হয়ে যেত।
যেমনটা বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থচুরিতে হয়েছে।
৯। আইনে ৬ মাসে তদন্ত শেষের কথা থাকলেও বাস্তবে দ্রুত Fast Track ব্যবস্থা নেই । আবার আইন যা আছে তা বাস্তবায়ন হয়নি মানে সে পুরনো কথা ‘‘কাজীর গরু কাগজে আছে গোয়ালে নেই’’ । কারণ বাস্তবায়নের পথে নানা বাঁধা আছে।
আর যদি সংশ্লিষ্ঠরা বাস্তবায়ন না করেন হয়তো নানা পুরষ্কার আছে তা না থাকুক তাদের বিপদমুক্তি আছে। ‘‘বিপদমুক্তি বাবার দরবারে কে দেয়না শিন্নি, সেখানে
