ভির্জিনিয়া হল (Virginia Hall): এক পা-ওয়ালা ‘লেইম স্পাই’ যাকে নাৎসিরা ডাকত ‘দ্য most dangerous allied spy!’
পরিচয়:
ভির্জিনিয়া ছিলেন আমেরিকান। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল— কূটনীতিক হবেন। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় তার বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়। পরবর্তীতে তিনি কৃত্রিম পা ব্যবহার করতেন, যার নাম দিয়েছিলেন “Cuthbert”।
এই প্রতিবন্ধকতার জন্য তাকে আমেরিকান পররাষ্ট্র দপ্তর ফিরিয়ে দেয়। তখন ভির্জিনিয়া সিদ্ধান্ত নেন—
“আমি এখন স্পাই হব!”
️ গোয়েন্দা জীবন শুরু:
তিনি প্রথমে ব্রিটিশ SOE এবং পরে মার্কিন OSS (CIA-এর পূর্বসূরি)-এ যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাকে পাঠানো হয় ফ্রান্সে, নাৎসি অধিকৃত অঞ্চলে। তার কাজ ছিল- গুপ্তচর নেটওয়ার্ক গড়া, অস্ত্র সরবরাহ, নাৎসি কনভয় ধ্বংস, গুপ্তচর উদ্ধার, ফরাসি প্রতিরোধ আন্দোলনের (French Resistance) সংগঠক ও অন্যান্য।
রোমাঞ্চের শুরু:
ভির্জিনিয়া ফ্রান্সে একজন বয়স্ক দুধ বিক্রেতা মহিলা সেজে জীবন চালাতেন। তিনি তাঁর কাঠের পা লুকিয়ে রাখতেন, মুখে কৃত্রিম দাঁত লাগাতেন, চুল সাদা করতেন। নাৎসিরা তার ছবি দিয়ে পোস্টার ঝুলিয়ে রেখেছিল: “The Limping Lady – Shoot on sight” তিনি ছিলেন নাৎসিদের ‘Most Wanted List’-এর শীর্ষে, কিন্তু তাকে ধরতে পারেনি।
চরম অভিযান:
১৯৪২ সালে নাৎসিরা হঠাৎ তার শহর আক্রমণ করলে তিনি আল্পস পর্বত ডিঙিয়ে হেঁটে একটি কাঠের পা নিয়ে স্পেনে পালিয়ে যান! বরফে ঢাকা পাহাড়, কাঁপা ঠান্ডা, কোনো আধুনিক জুতা নয়— তবুও তিনি টিকে যান।
যুদ্ধ শেষে:
যুদ্ধ শেষে ভির্জিনিয়া হল প্রথম নারী হন যিনি CIA-তে স্থায়ী কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি পান। তিনি ১৫ বছর সেখানেই কাজ করেন।
️ সম্মান:
-
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক বেসামরিক পদক: Distinguished Service Cross
-
তিনিই একমাত্র নারী যাকে WWII-তে এই পদক দেওয়া হয়েছিল।
-
২০১6 সালে CIA তাকে “Trailblazer” ঘোষণা করে।
এক নারী, একটি কৃত্রিম পা নিয়ে, ভয়ংকর নাৎসি সেনাদের নাকের ডগায় থেকে যুদ্ধ চালাচ্ছেন, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, জীবন বাঁচাচ্ছেন, গুপ্তচর মারছেন—এমন বাস্তব গল্প রূপকথাকেও হার মানায়!

