ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক ও দুই দেশের করনীয়
আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি মূলত গড়ে উঠেছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই সম্পর্ক আরো গভীর। বাঙালী জাতি সত্বার বিকাশের সূচনা থেকে এই দুই দেশের সম্পর্ক। হাজার বছর ধরে এক দেশ থাকা এই জাতি গোষ্টি ৭৮ বছর আলাদা রয়েছে। সূতরাং ঐতিহাসিক বিচারে আমাদের হাজার বছরের সম্পর্কটাই প্রগাড়। এই হাজার বছরে এই বিভিন্ন শাসকেরা বিভিন্ন ধরনের সীমানা নিয়ে অঞ্ছল গড়ে তুললেও বাংলা বাংলাই ছিল, বঙ্গ বঙ্গই ছিল এবং নিখিল ভারত ভারতবর্ষই ছিল। যদিও আজকাল ভারতীয়রা শুধু ভারতকেই ভারতবর্ষ বলে।
যদি আমরা সুবে বাংলা থেকে আধুনিক বাংলা ভারতের সম্পর্ক চিন্তা করি। সুবে বাংলা ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ, যার গঠন সম্পন্ন হয় ১৬৫৮ সালের পর মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে। এর পরিধি ছিল বর্তমান বাংলাদেশের পুরো অঞ্চল, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রশাসনিকভাবে এটি ছিল একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজস্ব ও সামরিক ইউনিট, যার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদ। ১৭০৪ সালে নবাব মুর্শিদকুলি খানের সময় থেকে মুর্শিদাবাদকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং তিনিই ছিলেন প্রথম শক্তিশালী বাংলা সুবেদার, যিনি পরবর্তীতে কার্যত স্বাধীন নবাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। সুবে বাংলা অর্থনৈতিকভাবে মোগল ভারতের অন্যতম ধনী ও সমৃদ্ধ অঞ্চল ছিল, যার রপ্তানি পণ্য—বিশেষ করে মসলিন, চিনি ও রেশম—বিদেশে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছিল।
মোটের উপর বিবেচনায়, সুবে বাংলা শুধু মোগল ভারতের একটি প্রশাসনিক প্রদেশই ছিল না, বরং এটি ছিল অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এর সুবিন্যস্ত প্রশাসনিক কাঠামো, প্রাকৃতিক সম্পদ, বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি এবং কৌশলগত অবস্থান এই অঞ্চলকে মোগল সাম্রাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রদেশে পরিণত করে। মুর্শিদকুলি খানের নেতৃত্বে এর স্বাতন্ত্র্য আরও বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে এখান থেকেই ব্রিটিশ উপনিবেশিক আগ্রাসনের সূচনা হয়। তাই সুবে বাংলার গঠন ও পরিধি বোঝা শুধু ঐতিহাসিক জ্ঞান নয়, বরং উপমহাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ উপলব্ধির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৪৭ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইতিহাসের একটি ক্ষত বটে এই সময় বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানকে রাষ্ট্র হিসেবে চেয়েছিল সেটাও সত্য। অন্যদিকে ভারতের মানুষ যেমন ভারতকে রাষ্ট্র হিসেবে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের আরেকটি ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে ভুলে গেলে চলবেনা যে, বাংলার মানুষ বিহার উড়িস্যা, ঝাড়খন্ডকে না চাইলেও তারা দুই বাংলাকে একসাথে চেয়েছিল। যা তৎকালের কিছু রাজনৈতিবিদ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দ্বিজাতিতত্ত, ২ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণার কাছে ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু ভারতের মানুষের ভারত প্রতিষ্ঠার মূল চিন্তা পাকিস্তান বিরোধীতার নামান্তর নয়। এবং পাকিস্তানপন্থিদের পাকিস্তান প্রতিষ্ঠারি চিন্তা ভারত বিরোধীতার উদ্দ্যেশ্যে নয়। যেহেতু হিন্দু মুসলমান তখন নানা অবস্থান ও আদর্শগত দ্ধন্ধ দ্বারা জর্জরিত ছিল। তাই তার সমাধান হিসেবে প্রত্যেকে নিজেদের দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল মাত্র।
আজ হয়তো কাশ্মির ইস্যু না থাকলে পাকিস্তানের সাথেও ভারতের এই সম্পর্কের সংকট কাটিয়ে ওঠা যেত। আর বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে তারা প্রমাণ করেছে তারা শুধু নিজেদের স্বকীয়তার কথা চিন্তা করে অন্যের স্বার্থ বা বিরোধীতা নয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সমর্থনও নতুন বার্তা দেয় তাতে বাংলাদেশ ও ভারতের শত্রুতার আর জায়গা থাকার কথা ছিলনা।
ভারত শুধু রাজনৈতিক ও সামরিকসহায়তা নয় বরং মানবিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়েছে তা হাজার বছরের ইতিহাসে জ্বল জ্বল করবে। বিশেষ করে ১ কোটি শরনার্থিকে আশ্রয় দেয়ার ঘটনা ইতিহাসে খুব বিরল।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কিছু রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ওঠানামা দেখা গেলেও ঐতিহাসিক বন্ধন এখনো প্রাসঙ্গিক।
এক নজরে ভারতের সহযোগিতাসমূহ
১) স্বাধীনতার পূর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নানা পরামর্শপ্রদান
২) ১ কোটি শরানার্থীকে আশ্রয় দেয়া
৩) মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও কিছু অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করা
৪) শেষ দিকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে তাদের ৬ হাজার সেনার জীবন দেয়া
৫) বিশ্বব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা।
পরবর্তীতে ভারত যেসব কারণে বিতর্কিত হতে শুরু করে
১) আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানিকে বাদ দিয়ে আত্মসমর্পন দলিল স্বাক্ষর করা।
২) মুক্তিযুদ্ধের পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ কিছুদিন অবস্থান করা।
৩) ভারতীয় সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার সময় পাকিস্তানী বাহিনীর অস্ত্র নিয়ে যাওয়া এবং ব্যাপক লুটপাট করা।
৪) ভারত থেকে জাল টাকা ছেপে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া।
৫) জাল টাকা দিয়ে তেল লবণ এর মতো নিত্যপণ্য জিনিস কিনে বাংলাদেশে সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দূর্ভিক্ষাবস্থা ত্বরান্বিত করা।
শেষের দুটো ঘটনার সাথে ভারত সরকার জড়িত না থাকলেও। ভারতের অসাধু দালালচক্র এই কাজটি করেছে। রাষ্ট্র তাতে কোনো প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে পারেনি।
ভারতে বাংলাদেশ বিরোধীতা
সবসময় বাংলাদেশে ভারত বিরোধীতার বিষয়টি আলোচনায় আসলেও মূলত ভারতে বাংলাদেশ বিরোধীতাও রয়েছে।
১) ভারতের কিছু মানুষ জাতিগত কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে এক করে দেখে। যা মাঝে মধ্যে বিভিন্ন বিবৃতিতে উঠে আসে। যদিও এদের সংখ্যা এত কম যে তারা কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।
২) রয়েছে অখন্ড ভারত নীতিতে বিশ্বাসী কিছু লোক। তারা শুধু ভারত নয় শ্রীলংকা মালদ্বীপ ও পাকিস্তানকে ভারতের অংশ মনে করে। এবং এই দেশগুলোকে দখল করার কথা বলে। তাদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হয়তো নয়।
৩) ভারতের সামরিক বাহিনী থেকে রাজনৈতিকদের একটি বড় অংশের ধারণা বাংলাদেশের উন্নতি হলে ভারতের রাজ্যগুলোতে স্বাধীনতা আন্দোলন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এই কারণে অনেকে বাংলাদেশকে বিভিন্ন কৌশলে দমিয়ে রাখার পক্ষে থাকে।
৪) বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলকে ও নেতাদেরকে হাত করে ভারত এখান থেকে অন্যায্য সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে এবং আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপালের ক্ষেত্রেও তাদের এটাই নীতি। যদিও এটা বেশীরভাগ সময় হোচট খায়। কারণ বিষয়টি এতটাই প্রকাশ্য যে, তা জনগন বুঝে যায় এবং উল্টো ভারত বিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠে।
৫) কোনো দেশের সরকার ভারতপন্থী না হলে তারা একদিকে আন্তজাতিকভাবে তাকে কোনঠাসা করার চেষ্টা করে অন্যদিকে চোরাইমাল দিয়ে সে দেশকে সয়লাব করে দেয়। যদিও সরকার পক্ষে থাকলেও যে তা করে না তা নয়। বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের হাত করে সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে ভারতীয় লোকদের চাকরীর ব্যবস্থা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া দেশগুলো সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বাঁধা, সীমান্তে নানা বলপ্রয়োগ এসবতো রয়েছে। যদিও এসব কেবল বাংলাদেশের সাথে সম্ভব হয়। বিশেষ করে সীমান্তে মানুষ খুন। এসব ঘটনা আপাত দৃষ্টিতে বাংলাদেশ বিরোধী হলেও মূলত এসব কারণে বাংলাদেশে ভারত বিরোধীতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বাংলাদেশ বিরোধী কার্যক্রমও দায়ী রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বাংলাদেশ বিরোধী কার্যক্রমও
১) দেশ ও জনগনকে সমর্থন না দিয়ে একটি বিশেষ দল ও সে দলের সমস্ত অন্যায় কার্যক্রমকে নিজেরা সমর্থন দেয়া ও বিশ্বে তাদের পক্ষে ওকালতি করা।
২) সে দলটি দ্বারা বাংলাদেশের সাথে বৈষম্যমুলক সুবিধা আদায় ও সম্পর্ক তৈরী করা এবং বাংলাদেশের সবকিছুতে ভারতের লোকদের রিক্রুট করা।
৩) সকল দিক থেকে ভারতীয় পণ্যের সুবিধা নিশ্চিত করা। ভারতের কোম্পানীর বাংলাদেশে অন্যায্য শর্তে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা।
৪) সে দলটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে গুম ও খুনে সহযোগিতা করা। তাদেরকে গুম করে ভারতে নিয়ে যাওয়া।
৫) বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য একটি দল ও তার কর্মীদের আশ্রয় প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা দেয়া। যেগুলো কোনোপ্রকার রাখডাক ছাড়া প্রকাশ্যেই করছে।
এছাড়া বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকান্ড, জুলাই গণহত্যায় ভারতীয় বাহিনীর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে যা অত্যন্ত মারাত্বক ও স্পর্শকাতর।
বাংলাদেশে যেসব ভারত বিরোধী অনাকাংখিত কাজ হয়েছিল
১) কিছু সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি সবসময় ধর্মীয় কারণে ভারতের বিরোধীতা করে। যা উগ্র মতবাদের বহি:প্রকাশ তবে এদের সংখ্যা কোনোকালেই বেশী ছিল না।
২) সীমান্ত হত্যা ও অবৈধ মালামাল এবং বাংলাদেশে ব্যাপক মাদক পাচারের কারণে জনগনের ভারত বিরক্তিকে ব্যবহার করার জন্য একশ্রেণীর রাজনীতিবিদেরা ভারত বিরোধী বক্তব্য স্লোগান দিয়ে থাকে। যা পারষ্পরিক অবিশ্বাস তৈরী করে। যদিও এ ধরনের ঘটনা ভারতের দিক থেকেও হামেশা হয়।
৩) ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্বাধীনতাকামী তথা বিচ্ছিন্নবাদীকে গোষ্টিকে বাংলাদেশ কখনো কখনো সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যা এই অবিশ্বাসকে একটি বাস্তবরুপ দিয়েছে।
ইতিবাচক দিক:
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়ছে। ছিটমহল বিনিময়, ট্রানজিট সুবিধা, বিদ্যুৎ আমদানি এবং যৌথ উন্নয়ন প্রকল্প—এইসব উদ্যোগ দুই দেশকে ঘনিষ্ঠ করেছে। শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি ছাড়াও মহামারি কালে ভারত ভ্যাকসিন উপহার দিয়ে বন্ধুত্বের নজির স্থাপন করেছে। সিডর নামক ঘূর্নিঝড়ে জনগনের জন্য ঘর দিয়েছে। যদিও এই দুটো উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভ্যাকসিন এর মান নিয়ে যেমন নানা প্রশ্ন উঠেছে তেমনি সিডর সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত উপকারভোগীরা পায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব ঘটনা উভয় দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক মাত্রা যোগ করেছে।
আমরা যদি বিষয়গুলো গুনে দেখি তাহলে অনেকগুলো বিষয় বের হয়ে আসবে
১) ভাষা ও সংষ্কৃতির দিক থেকে দুটো দেশ এতটাই নিকট যে তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে আলাদা করা গেলেও ২ দেশের জনগনকে আসলে আলাদা করা যায় না।
২) ২ দেশে এত পরিমাণ মানুষ মাইগ্রেট করেছে এবং এখনো বিয়েশাদীর মাধ্যমে আত্মীয়তা বজায় রেখেছে যে, এই দুই দেশের মানুষকে এই বন্ধন থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়।
৩) নদী, আবহাওয়া ও ব্যবসার জন্য এই দুটো দেশ একে অপরের উপর এতটাই নির্ভরশীল যে, তারা যদি শত্রুতা করে তাহলে উভয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
৪) ভারত উন্নত হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। কারণ ভারতীয়রা বাংলাদেশে ভ্রমণ করবে এবং বাংলাদেশের ভাল পণ্যগুলো ব্যবহার করবে। একইভাবে বাংলাদেশ উন্নত হলে বাংলাদেশের লোকেরা ভারতে ভ্রমণে যাবে এবং ভারতীয় মানসম্পন্ন পণ্যগুলো ব্যবহার করবে।
৫) বাংলাদেশ ভারত এক হয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলে আন্তজাতিকভাবে সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা এবং সফলতার হার বেড়ে যাবে।
তবে সবকিছুই যে মসৃণ, তা নয়। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের অনীহা, সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে বাংলাদেশিদের মৃত্যু, বাণিজ্য ভারসাম্যের ঘাটতি ও ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতি যেমন সিএএ ও এনআরসি, সংখ্যালঘু নির্যাতন এসব বিষয় বাংলাদেশের জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এই ইস্যুগুলো সময়মতো সমাধান না হলে সম্পর্কের স্থায়িত্বে চিড় ধরতে পারে।
ভারতের করণীয়:
ভারতের উচিত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কৌশলগত ও সমান মর্যাদার ভিত্তিতে পরিচালনা করা। তিস্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অর্থনৈতিক ভারসাম্য তৈরি এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নিরপেক্ষ অবস্থান ভারতের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশকে ‘ছোট প্রতিবেশী’ হিসেবে নয়, ‘সমমর্যাদার অংশীদার’ হিসেবে দেখা উচিত। এজন্য ভারতের যা করা উচিৎ।
১) কোনো দল নয় বরং বাংলাদেশের জনগন ও জনগনের মনোনীত সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক উন্নয়ন করা।
২) সীমান্তে হত্যা শুন্য করা, চোরাচালান বন্ধ করা, মাদকপাচার প্রতিরোধ করা।
৩) বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় যেমন শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামরিকনীতিতে প্রকাশ্য ও গোপন হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।
৪) বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা ও চিকিৎসায় আন্তরিকতার ছাপ রাখা
৫) সার্ক শক্তিশালী করা সবগুলো দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করা।
৬) বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথনদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা।
৭) বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা।
৮) বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রম ও প্রচারণা বন্ধ করা।
৯) বাংলাদেশের সকল নাগরিককে একচোখে দেখা।
১০) বাংলাদেশের সাথে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা রাজনৈতিকভাবে চি ন্তা না করে কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা। কারণ ভারতের সে সক্ষমতা রয়েছে।
বাংলাদেশের করণীয়:
বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে একদিকে ভারতসহ আঞ্চলিক সম্পর্ক বজায় থাকে, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থও রক্ষা পায়। সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান দমন ও কূটনৈতিক আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেও একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর প্রতিবেশী সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব।
১) ভারতে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বার্তা দেয়া। ভারতবিরোধী কার্যক্রম ও বক্তব্য না দেয়া। তবে ভারত যেসব জুলুম বাংলাদেশের উপর করছে সেগুলোর ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে থাকা।
২) স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার স্বীকৃতি দেয়া এবং তা স্বীকার করা। হোক তারা তাদের স্বার্থে করেছে। সবাই নিজেদের স্বার্থেই করে। তাদের অবদানটা বড় করে দেখা।
৩) ভারতের বাংলাদেশ বিরোধী কার
