বিদেশি কর্মীদের জন্য বাংলাদেশে কাজের অনুমতি ও ভিসা: প্রয়োজনীয় নথি ও প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং বহির্বিশ্বে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কারণে অনেক বিদেশি পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তা বাংলাদেশে কাজের সুযোগ খুঁজে নিচ্ছেন। তবে বাংলাদেশে বিদেশি কর্মী হিসেবে কাজ করতে হলে নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদন ও ভিসা প্রয়োজন হয়। এতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা যেমন BIDA (Bangladesh Investment Development Authority), BEZA, NGO Affairs Bureau গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিচে ধাপে ধাপে এ প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. ওয়ার্ক পারমিট (Work Permit) নেওয়া বাধ্যতামূলক
বাংলাদেশে কাজের জন্য প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হয়।
এটি প্রধানত দেয়:
-
BIDA (Bangladesh Investment Development Authority) — ব্যবসা, শিল্প ও সেবা খাতে।
-
BEZA (Bangladesh Economic Zones Authority) — ইকোনমিক জোনে।
-
BHTPA (Bangladesh Hi-Tech Park Authority) — হাইটেক পার্কে।
-
NGO Affairs Bureau — এনজিও খাতে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
-
কোম্পানির মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকলস অব অ্যাসোসিয়েশন বা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।
-
নিয়োগপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্টের কপি।
-
ছবি।
-
পূর্ণাঙ্গ সিভি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সনদ।
-
কোম্পানির প্রয়োজনের ব্যাখ্যা (কেন বিদেশি কর্মী প্রয়োজন)।
-
পত্রিকায় বা অনলাইনে নিয়োগ বিজ্ঞাপনের প্রমাণ (যা থেকে স্থানীয়রা সুযোগ না পেয়ে বিদেশি নিয়োগ হয়েছে)।
-
শাখা/অফিসের আয়কর নথি।
-
নিয়োগপত্র বা চুক্তিপত্র।
-
সর্বনিম্ন ৫০,০০০ টাকা পরিশোধিত মূলধনের প্রমাণ। (প্রযোজ্যক্ষেত্রে)
-
প্রয়োজনমতো ক্ষমতা অর্পণের চিঠি।
এই আবেদন অনলাইনে https://bidaquickserv.org থেকে করা যায়। BIDA সাধারণত প্রথমে ১ বছরের অনুমোদন দেয়, পরবর্তীতে নবায়ন করা যায়।
২. এমপ্লয়মেন্ট ভিসা (Employment Visa – E Visa)
ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর, বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশের দূতাবাস/হাইকমিশনে Employment Visa (E Visa) এর জন্য আবেদন করতে হয়।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
-
Work Permit অনুমোদনপত্র।
-
কোম্পানির নিয়োগপত্র।
-
পাসপোর্ট (মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে)।
-
ছবি।
-
কোম্পানির ইনভাইটেশন ও পত্র।
- নিয়োগের বিজ্ঞাপন
- প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
-
অন্যান্য ভিসা ফর্ম ও দূতাবাস নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট।
প্রথমে সাধারণত ৩-১২ মাসের ভিসা ইস্যু হয়, যা বাংলাদেশে এসে ইমিগ্রেশন অফিস থেকে নবায়ন করা যায়, সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত।
৩. BIDA এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য শর্ত
BIDA সিটিজেন চার্টার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী:
BIDA ই-সার্ভিসে (https://bidaquickserv.org) আবেদন করার সময় নিম্নোক্ত নথিপত্র প্রয়োজন হয়:
-
কোম্পানির গঠনতন্ত্র (Memorandum & Articles), নিবন্ধন।
-
বিদেশি কর্মীর পাসপোর্ট, ছবি, পূর্ণ ভ্রমণ ইতিহাস।
-
নিয়োগপত্র, শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার সনদ।
-
পত্রিকায় বা অনলাইনে চাকরির বিজ্ঞাপনের কপি।
-
আঞ্চলিক অফিস বা শাখার ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্ন।
-
সর্বনিম্ন ৫০,০০০ টাকা মূলধনের প্রমাণ।
-
ক্ষমতা অর্পণপত্র।
-
L/C কপিসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক দলিল।
-
সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দলিল যা সরকার চায়।
প্রতিটি বিদেশি কর্মীর জন্য বার্ষিক ফি ৫,০০০ টাকা অনলাইনে জমা দিতে হয়।
এটি ই-চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
৪. নিরাপত্তা ছাড়পত্র
বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড়পত্রও প্রয়োজন হয়। এজন্য কোম্পানিকে
-
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC),
-
কমপ্লায়েন্স লেটার,
-
কর পরিশোধের প্রমাণ ইত্যাদি জমা দিতে হয়।
৫. পুরো প্রক্রিয়ার সময়কাল
-
সাধারণত ওয়ার্ক পারমিটের অনুমোদন পেতে ৩-৬ সপ্তাহ সময় লাগে।
-
Employment Visa পেতে ২-৩ সপ্তাহ।
-
তবে নথিপত্র সম্পূর্ণ ও যথাযথ থাকলে প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
বাংলাদেশে বৈধভাবে কাজ করতে হলে ওয়ার্ক পারমিট ও Employment Visa আবশ্যক। এটি বাংলাদেশের শ্রমবাজার, নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিনিয়োগ ও পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগাতে বাংলাদেশ সরকার এ প্রক্রিয়াকে একদিকে সহজ করেছে, অন্যদিকে পর্যাপ্ত নথি ও যাচাই নিশ্চিত করে নিয়েছে যেন সবকিছু সুষ্ঠুভাবে চলে।

