তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা

বাংলায় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ

বাংলায় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ

ব্রিটিশ শাসনের সময় বাংলায় বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। নিচে প্রধান কয়েকটি আন্দোলনের সময়কাল, ঘটনাপ্রবাহ, নিহতের সংখ্যা এবং ফলাফল সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০):
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা লাভের পর, ফকির ও সন্ন্যাসীরা ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত বাংলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ করেন। তাদের নেতা ছিলেন মজনু শাহ ও ভবানী পাঠক। এই বিদ্রোহ রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর ও ঢাকায় বিস্তৃত ছিল। মজনু শাহের মৃত্যুর পর, যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে বিদ্রোহ স্তিমিত হয়ে পড়ে।
সূত্র: W3 CLASSROOM

চাকমা বিদ্রোহ (১৭৭৭-১৭৮৭):
১৭৬০ সালে চট্টগ্রাম জেলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। কোম্পানি সরকার বার বার রাজস্ব বৃদ্ধি করলে, চাকমা রাজা জোয়ান বকসের নেতৃত্বে ১৭৭৭ সালে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়। প্রায় দশ বছর যুদ্ধ চলার পর, ১৭৮৭ সালে কোম্পানি ক্লান্ত হয়ে চাকমা রাজার সাথে সন্ধি স্থাপন করে।
সূত্র: W3 CLASSROOM

তিতুমীরের আন্দোলন (১৮৩১):
তিতুমীর, যার প্রকৃত নাম মীর নেছার আলী, ১৮৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ইংরেজ বাহিনীর কামান হামলায় কেল্লা ধ্বংস হয় এবং তিতুমীরসহ তার চল্লিশ সহচর শহীদ হন।
সূত্র: W3 CLASSROOM

নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-১৮৬০):
ইউরোপীয় নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকরা ১৮৫৯-৬০ সালে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। কৃষকরা নীল চাষ বর্জন করে এবং সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সরকার নীল কমিশন গঠন করে এবং পরবর্তীতে কৃত্রিম নীল আবিষ্কারের ফলে নীল চাষ লোপ পায়।
সূত্র: PSP.EDU.BD

সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭):
ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহ, যা সিপাহী বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহে সিপাহীরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়। যদিও বিদ্রোহটি সফল হয়নি, তবে এটি পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণা জোগায়।

খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন (১৯১৯-১৯২২):
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের খিলাফত রক্ষার জন্য ভারতীয় মুসলমানরা খিলাফত আন্দোলন শুরু করে। এ সময় মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনও শুরু হয়, যেখানে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন ও সহযোগিতা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। এই আন্দোলনে হিন্দু-মুসলিম উভয়েই অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীতে সহিংস ঘটনার কারণে গান্ধীজি আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
সূত্র: PSP.EDU.BD

তেভাগা আন্দোলন (১৯৪৬):
বাংলার কৃষকরা জমিদারদের কাছ থেকে ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ দাবি করে তেভাগা আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন সশস্ত্র রূপ নেয় এবং কমিউনিস্ট পার্টির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সরকারের দমননীতির ফলে আন্দোলনটি স্তিমিত হয়ে যায়।
সূত্র: PSP.EDU.BD

উপরোক্ত আন্দোলনসমূহ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাংলার জনগণের প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply