hijab, Habit

বাংলাদেশের পোশাক ও পর্দা : সামাজিক নাকি ধর্মীয়?

বাংলাদেশের পর্দা: সামাজিক নাকি ধর্মীয়?

 জাহাঙ্গীর আলম শোভন

(পর্দার পক্ষে নয়, বিপক্ষেও নয়, শুধুমাত্র একটি সামাজিক অবস্থার বিশ্লেষণ)

ইসলামের পর্দার বিধান স্পষ্ট থাকা সত্বেও যেমন এর মাত্রা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন চর্চা আছে। তেমনি দেশ ও সময় ভেদেও  মুসলিম নারীদের পর্দার পার্থক্য দেখা গেছে। আজ থেকে ৭/৮ বছর আগে ইবনে বতুতা যখন উপমহাদেশে কাজীর দায়িত্ব পালন করেছেন দিল্লি ও মালদ্বীপে। তার সকল স্মৃতিকথা তার লেখা তরীকত ই নসিরি গ্রন্থে রয়েছে।

সেখানে দেখা যায় মালদ্বীপে তিনি যখন কাজী ছিলেন তখন মহিলারা যাতে শরীরের উপরের অংশে বা বক্ষস্থানে কাপড় পরেন সেজন্য রীতিমতো কানুন জারি করেছেন। কিন্তু তাতেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তারা মুসলিম ছিল এবং সেটাই তাদের সে সময়ের স্বাভাবিক পোশাক ছিল। এখন এই সময়ে আমাদের জন্য এটা কল্পনা করাও কঠিন।

পর্দা প্রথার বিকাশে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন মাওলানা কারামাত আলী জৈনপুরী ও জৈনপুরের সিদ্দিকী পরিবার। এদের পারিবারিক খন্দকারী পেশা হিন্দুধর্মের ব্রাহ্মন্যবাদের মতো ব্যাপক বিস্তৃত ছিলো। কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চল থেকেই তারা মূলত পর্দার বিকাশ শুরু করেন। এটা ব্রিটিশ ভারতেই হয়েছিলো। নোয়াখালীর দরিদ্র, পীড়িত কৃষিজীবী মানুষদের পর্দা করার মতো অবস্থা ছিল না। প্রথমদিকে সুন্নত রক্ষা করার জন্য জৈনপুরীর মাওলানারা লুঙ্গি উপহার দেয়া শুরু করেন। সেটা সুদূর বার্মা থেকে আনতে হয়েছিলো।

কারণ এতদাঞ্চলে তখন মহিলাদের মোটা কাপড়, ধুতি ছাড়া তেমন কোনো বস্ত্র বুনন হতো না। দরিদ্র পুরুষগণ শুধু গামছা জাতীয় খাটো কাপড় পরিধান করতেন। সম্ভ্রান্ত মুসলিমেরা পরতো ধুতি। পাজামা খুব কম সংখ্যক, কেবল শিক্ষিত সম্বন্ত বংশীয়দের ক্ষেত্রে কদাচিৎ দেখা যেতো। বঙ্গভঙ্গ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। যদিও এই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ সূচিত হয় ভারতের বিখ্যাত দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এবং দ্বিতীয় দফা শুরু হয় কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর।

বাঙালির ধর্মান্তরের ইতিহাস বিভিন্ন ধাপে ধাপে বিকশিত ও ত্বরান্বিত হয়েছে। বারোশ শতাব্দীতে ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বাংলা জয় করলে বাংলা শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবেই মুসলমানদের পদানত হয়। সেসময় থেকে ইসলামের সূচনা হলেও এদেশে মূলত ইসলাম প্রচারে মূল ভূমিকা রাখেন সূফী দরবেশগণ। সুফিইজমে পর্দাকে সেভাবে কখনো মূল বড়ো করে দেখা হয়নি।

বাংলায় রাজ্য এবং নৃপতিগণ ভিন্ন ভিন্ন ছিলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজ্যগুলো নদী দ্বারা বিভক্ত ছিলো, ফলে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন পীর-মাশায়েখগণ ইসলাম প্রচার করেছিলেন। আমাদের পূর্ববাংলায় খুলনা অঞ্চলে খান জাহান আলী, রাজশাহী এলাকায় শাহ মাখদুম, সিলেটে হযরত শাহ জালাল, চট্টগ্রামে শাহ আমানতসহ বারো আউলিয়া এবং অন্যান্য ফকির-দরবেশ, নোয়াখালীতে দেওয়ান আবদুর রশিদ এবং অন্যান্য পীরগণ ইসলাম প্রচারে কাজ করেন; তাদের সাথে ছিলেন হযরত শাহজালালের সঙ্গী ৩৬০ জন দরবেশ।

তখনকার ইসলাম প্রচারে তারা মূলত ঈমান ও কালেমা শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেন। এমনকি প্রথমদিকে নামাজ-রোজার ব্যাপারে মুসলমানদের অতটা তৎপরতা দেখা যায় না; তারা ইসলাম গ্রহণ করলেও আমল-আখলাকের প্রতি সচেতন ছিলেন না হয়তো নতুন মুসলিমের জন্য ঈমানটা বেশী জরুরী। অনেক পরে ব্রিটিশ আমলে হাজী শরীয়ত উল্লাহ, মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী এবং মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরীর প্রচেষ্টায় এদেশের মুসলিম সমাজ ইসলামের নিয়ম-কানুন ও ইবাদাত-বন্দেগী সম্পর্কে সচেতন হয়। হাজী শরিয়ত উল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলনের ফলে ইসলাম নতুন মাত্রায় বিকশিত হয় বিশেষ করে শরীয়ত বা ফরজ পালনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তখন মূলত মুসলিমদের দেব-দেবীতে কিছু বিশ্বাস ও চর্চা ছিল সেগুলো দূর করার কাজ করেন তিনি, এছাড়া নারী পুরষের জন্য সাধারণ ধর্মীয় বিধানের উপর নজন দেন। পর্দার বিষয়ে কঠোরতার প্রমাণ পাওয়া যায়না।

মহিলাদের পর্দার ক্ষেত্রে প্রথমদিকে ধারণা ছিলো যে, মহিলাদের পর্দা হলো তারা ঘরে থাকবে, সন্তান লালন-পালন করবে; এর মধ্যেই তারা তাদের পর্দা বজায় রাখবে।  তখন গ্রামের কৃষাণীকে মাঠে কাজ করতে হতো, গরুর সেবা করতে হতো। অবশ্য মহিলারা রাতের বেলায় চলাফেরা করতো। কারণ পর্দার ধারণা তখন এভাবেই বিকশিত হয়েছিলো;  পাকিস্তান আমলেই ছাতা এবং সীমিত আকারে বোরখা পরে মহিলাদের চলাফেরা শুরু হয়। পরে দেখা যায় দিনের বেলায় রিকশায় চলাচল করার জন্য কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখতো। বনেদি পরিবারের মেয়েরা আরো কয়েকশ বছর আগে থেকেই পালকিতে চলাফেরা করতো। নদীভিত্তিক এলাকার মহিলাদের ভরসা ছিলো বজরা নৌকা; আর গরুর গাড়িও মহিলাদের পর্দাভিত্তিক চলাচলের সহজ মাধ্যম ছিলো।

 অবশ্য হিন্দু-মুসলিম সবার জন্য নূনতম পর্দা এই অঞ্চলে ছিলো। যা ভারতের অন্যান্য এলাকার পোশাক দেখলে বোঝা যায়। দরিদ্র মহিলাদের এক কাপড়েই দিন কাটতো, বেশি হলে দুই কাপড়। পরবর্তীতে আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তৃতীয় কাপড়, মানে নামাজের একটা কাপড় পরার প্রচলন শুরু হয়। এটাই ছিলো ব্রিটিশ ভারতের পর্দাপ্রথার চিত্র। ব্রিটিশযুগে তাবলীগ জামাতের প্রচলন শুরু হলে এবং দেওবন্দ মাদ্রাসার আদলে কওমী মাদ্রাসা চালু হলে বোরকাভিত্তিক পর্দা বিকশিত হয়।

মনের পর্দা ও দেহের পর্দা
সাধারণত আমরা বলে থাকি যে পর্দা আসলে দুই রকম: মনের পর্দা ও দেহের পর্দা। অনেকে মনে করেন, মনের পর্দা থাকলে দেহের পর্দার প্রয়োজন নেই। আবার অনেকের মতে, মনের জন্য মনের পর্দা আর দেহের জন্য দেহের পর্দা। দেহ আর মনকে তারা আলাদা করতে চান না। মন আছে বলে দেহ আছে আর দেহ আছে বলে মন আছে। দেহ দেখে মন উদ্বেলিত হয়, মনের অনভূতি দেহকে স্পর্শ করে। মনের ভাব দেহ দ্বারা প্রকাশিত হয়, দেহের পরিস্থিতি মনকে প্রভাবিত করে।

 

নারী-পুরুষের পর্দা

পুরুষ ও মহিলার পর্দার ব্যাপারে বৈষম্যের অভিযোগ করে কেউ। বিশেষ করে সমান অধিকার চিন্তা নারীবাদের অনুসারীরা করে থাকেন। যদিও আলেমগণ বলেন, ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে পর্দার নির্দেশনা রয়েছে। উভয়কে নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পর্দার আওতা বা সীমা আলাদা হলেও কেউ পর্দার বাইরে নন। কার কতটা সীমা সেটা আলোচনা করতে চাই না। কারণ আগেই বলেছি। এটা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা নয়। সামাজিক বিশ্লেষণ মাত্র।

আজকের দিনে পর্দা

বাংলাদেশে পর্দা করার উদ্দেশ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, পর্দা মূলত ২ রকমের:

১. শরয়ী পর্দা ও ২. সামাজিক পর্দা।
যারা ধর্মের বিধান মনে করে পর্দা করে, তাদের পর্দাকে শরয়ী পর্দা বলা হয়। এই শরয়ী পর্দাকে অবশ্য দুইভাগে বিভক্ত করা যায়:

ক. আরোপিত পর্দা ও

খ. স্ব-আরোপিত পর্দা।

আরোপিত পর্দা পরিবার থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়। পরিবারের মেয়ে মানেই পর্দা করবে, তার নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দের কোনো ব্যাপার নেই।

সামাজিক পর্দাও দুইভাগে বিভক্ত:

স্ব-প্রণোদিত ও অপ্রনোদিত

সমাজ-নির্ধারিত। সামাজিক প্রেক্ষাপটে সার্বিক অবস্থার আলোকে, সমাজে বসবাসরত একজন মুসলিম রমণী তার সুবিধার জন্য মধ্যম প্রকৃতির পর্দা মেনে চলে, সেটাই স্ব-প্রণোদিত পর্দা।

আর একজন নারীকে আশপাশের লোকেরা কি ভাববে? অথবা পর্দা করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে – সেজন্য যদি কোনো রমণী পর্দা করে, সেটা সমাজ-নির্ধারিত পর্দা হিসেবে বিবেচিত হবে।

পর্দা পালনের দিক থেকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্দা মূলত ৫ রকম:

০১. ফরজ পর্দা: কোরআনের নির্দেশ মোতাবেক সতর ঢেকে যতটুকু পর্দা জারি করা হয়েছে, বা যতটুকু পর্দার বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে। এ পর্দার বিধান মহिलাদের জন্য: শরীর ঢাকা থাকবে, মুখ ও হাত-পা দেখা যাবে। এক্ষেত্রে চুল দেখা যাবে না, কারণ ধর্মমতে নারীর চুল সতরের অংশ। পুরুষদের জন্য: মাথা খোলা থাকবে, মাথায় টুপি থাকলেও সেটা মূলত ফরজ নয়। হাতের কনুই থেকে নিচে ও পায়ের গোড়ালী থেকে নিচে খোলা থাকবে। এটা নারী-পুরুষের অবশ্য পালনীয় পর্দা এবং ইসলামের মৌলিক নির্দেশনা।

০২. সুন্নতি পর্দা: রাসুল (সা.)-এর জীবনের শেষ দিকে এবং তার বিবি ও কন্যাগণ যতটুকু পর্দা করেছেন, (কারো মতে) ধরে নেয়া হয় ততটুকু পর্দা করা রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা। এই পর্দাকে আমরা সুন্নতি পর্দা বলি। সতর ঢাকা পোষাকের সাথে ঢিলেঢালা পোষাক (যাতে শরীরের অবয়ব বোঝা না যায়), মাথা ও চুল ঢাকা, নিম্ন স্বরে হাসা ও নিম্নস্বরে কথা বলা, একা একা দূরে কোথাও না যাওয়া, বাইরের পুরুষ মানুষের সাথে একা দেখা না করা ইত্যাদি সুন্নতি পর্দার আওতাভুক্ত। মোটামোটি এটাই নারীর সুন্নতি পর্দা। তবে ব্যক্তি ও বিশ্বাস ভেদে কিছুটা হেরফের হয়।

পুরুষদের জন্যও ঢিলেঢালা লম্বা জুব্বার কথা বলা হয়েছে এবং পরনারীদের সাথে কথা বলা ও লেনদেন, কারো বাসায় গমন এসব ব্যাপারে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা দেয়া হয়েছে।

০৩. ফতোয়ায়ী পর্দা: পরবর্তীতে আলেমগণ আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করেন যে, যেহেতু মানুষের আকর্ষণের মূল কেন্দ্র মানুষের চেহারা, সেজন্য চেহারা ঢাকা পর্দার প্রচলন শুরু হয়। বেশিরভাগ আলেম এ বিষয়ে একমত হতে পেরেছেন বলে এই পর্দা গত একশত বছরে দ্রুত বিকাশ লাভ করেছে। অবশ্য আধুনিক যুগে  অগ্রগামী ইসলামী গবেষকগণ এ বিষয়ে একমত নন। তারা কোরআন নির্দেশিত পর্দাকেই ইসলামের মূল পর্দাপ্রথা হিসেবে চিহ্নিত করতে চান।

০৪. রক্ষণশীল পর্দা: ইসলামের নির্দেশনা, আলেমদের মতামত ও সামাজিক অবস্থার সাথে নিজেদের রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে নিজেরা পারিবারিকভাবে পর্দা মানেন; এই পর্দাই রক্ষণশীল পর্দা। এই পর্দায় চেহারা তো ঢাকা থাকেই, এমনকি হাত-পায়ে মোজা পরা থাকে। চেহারা ঢাকার জন্য এই শ্রেণীর পর্দাকারীরা দুই ধরনের কাজ করেন: ক. পাতলা কাপড় দিয়ে চেহারা ঢেকে রাখেন,

খ. চেহারা মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে চোখের জায়গায় জাল দিয়ে রাখেন।

কওমী মাদ্রাসার বিকাশ ও তাবলীগ জামাতের সদস্যবৃদ্ধির ফলে এ ধরনের পর্দা বিকশিত হচ্ছে।

০৫. কট্টর পর্দা: রক্ষণশীল পর্দার সাথে আরো একধাপ এগিয়ে এই শ্রেণীর লোকেরা পর্দা করে থাকেন। চোখ বাদে সব কিছু ঢেকে রাখার পাশাপাশি, এ শ্রেণীর লোকেরা মহিলাদের পোষাক ও কণ্ঠকে সতর বা গোপনীয় বলে মনে করেন। এদের স্ত্রীগণ জোরে কথা বলতে পারেন না। তাদেরকে এমনভাবে কথা বলতে হয় যেন পরপুরুষরা না শোনে এবং তাদের ব্যবহার্য কাপড় এমন স্থানে শুকাতে দেয়া হয় যাতে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৃষ্টিতে না পড়ে। বর্তমান সময়ে এ ধরনের ধারণা একদিকে বিকশিত হচ্ছে, অন্যদিকে আধुनিক শিক্ষিতদের কারণে এ ধরনের আচরণ হাসির খোরাক যোগাচ্ছে।

আধুনিককালে বিশ্বব্যাপী পর্দার কনসেপ্ট দেশ-জাতি অনুসারে ভিন্নতা দেখা যায়। কোনো কোনো সমাজে মনে করা হয়, পর্দা বৃদ্ধ বয়সের জন্য জরুরী, যৌবন বয়সে তেমনটা নয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধারণাটা সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থাৎ যৌবনেই পর্দা জরুরী, বৃদ্ধ বয়সে অতটা নয়। কেউ বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক রমণীর জন্য সর্বদা পর্দা পালনীয় বিধান। এটা বোঝার জন্য পর্দার উদ্দেশ্য ও পটভূমিতে ফিরে যেতে হবে। যেহেতু ইসলাম অবাধ যৌনাচারকে চরমভাবে পাপ বলে চিহ্নিত করেছে এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের মেলামেশায় বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, সেজন্য সে নিষেধাজ্ঞা পালনের সুবিধার্থে পর্দার বিধান আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী পর্দা আবার ভিন্ন দৃষ্টিতে আলোচনাযোগ্য। বিশ্বে যারা বেশি পর্দা মেনে চলেন, তাদের পর্দা মূলত তিনরকম:
০১. স্থানীয়ভাবে সমন্বিত পর্দা:

০২. নিজস্ব গোষ্ঠিগত পর্দা:

০৩. আধুনিক ফ্যাশনেবল পর্দা।

স্থানীয়ভাবে সমন্বিত পর্দা হচ্ছে, ইসলামী বিধানের সাথে মিলিয়ে নিজের দেশ ও সমাজের সাথে সমন্বয় করে এক ধরনের পর্দা করা হয়। এটা সমাজ ও ধর্মের চাহিদার আলোকে আপনাআপনি সমন্বয় সাধন হয়ে থাকে। যেমন পাঞ্জাবের একজন সাধারণ মহিলার ঘোমটা দেওয়া বা ওড়না পরা, অথবা আরবের একজন মুখঢাকা নারী, অথবা ইরানের মুখখোলা বোরকাপরা একজন মহিলা। তারা ধর্ম ও সমাজ ব্যবস্থার একটা সমন্বয় করে নিয়েছেন।

নিজস্ব গোষ্ঠিগত পর্দার প্রচলন অনেক দেশ ও সমাজে দেখতে পাওয়া যায়, যেমন আফগানিস্তানে এই পর্দার সাথে রয়েছে আরো নানা বিধি-নিষেধ; রাজস্থানের একজন রমণীর পর্দা সেখানকার পোষাক-আশাকের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
আধুনিক ফ্যাশনেবল পর্দা আসলে কোনো পর্দা নয়। পর্দার সংজ্ঞা হিসেবে যদি আমরা ইসলামে নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো একটাকেও গণ্য করি, তাহলে এটা আসলে পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। এ ধরনের পর্দার একটা ট্রেন্ড সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে চালু হয়েছে। অনেকের মতে পর্দার নাম করে পর্দাকে ফাঁকি দেয়ার একটা কৌশলমাত্র। এ ধরনের পর্দায় আঁটসাঁট পোশাক পরে শরীরের আকর্ষণীয় অঙ্গগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়। বেশ কয়েকটি দেশে এ ধরনের পর্দা রয়েছে। সেখানে মেয়েদের বুকের চেয়ে তার চূলকে বেশী গোপনীয় মনে করা হয়। আমার ধারণা এটা একটা দেশের ইতিহাস ও সামাজিক কারণে হয়। যখন গোটা সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের বুক নিয়ে মাথায় ঘামায়না তখন তাদের ক্ষেত্রে এমনটা হতেও পারে। আমি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে দেখেছি আমাদের দেশে এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও যেভাবে রমনীদের দিকে বাইরের পুরুষকুল তাকিয়ে তাদের দৈহিক অবয়ব আগ্রহভরে দেখে অনেক দেশে এমনটা নয়। এমনকি বাংলাদেশেও পর্যটন স্থানগুলোতে মানুষ তুলনামূলক নিজেকে নিয়ে বেশী ব্যস্ত থাকে।

নারীর শরীর ও সৌন্দর্য নিয়ে পুরুষেরা সাহিত্য রচনা করেনি। এমন কোনো ভাষা আছে কিনা জানি না। কিন্তু তবুও আমাদের দেশে আর যেসব দেশে নারীরা অবাধে চলাফেরা করে সেখানে দেখার বা পুরুষদের তাকানোর ভঙ্গির পার্থ্যক্য আছে বটে।