বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বনাম মুজিব বাদ
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কথাটার সাথে বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় আছে। এটা অনেক শোনা কথা। যদিও বঙ্গবন্ধুর সে আদর্শ আসলে কি সেটা আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারেনি। যারা বলেছে তারা বেশীরভাগ এই উত্তর দিতে গিয়ে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলেছে। যারা সুনিদিষ্টভাবে বলতে পেরেছে তারা শেখ মুজিবর রহমানের বিভিন্ন সময়ের ইতিবাচক বক্তব্য ও কর্মকান্ডকে তার আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা চেষ্টা করেছেন। অথবা তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলকে তার আদর্শের সাথে জুড়ে দিয়েছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এক মহান ইতিহাসের বাঁক। শুধু বাংলাদেশের জন্য জন্য নয়। সারা পৃথিবীর জন্য। অধিকারবঞ্চিত এবং শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে এটি একটি মাইল ফলক। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা যদি ‘‘অধিকার আদায়ের আন্দোলন’’ একটি আদর্শ বা আইডোলজি হিসেবে বিবেচনা করি। তাহলে এটা কোনো নতুন ধারণা নয়।
কিন্তু তবুও কেউ যদি এটাকে বঙ্গুবন্ধুর আদর্শ বলতে চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এমনটা হতে পারে। আমি এই প্রয়াসকে নেতিবাচক দেখি না, বিশেষ করে যদি কেউ বিষয়টা সৎ উদ্দ্যেশ্যে করে থাকেন। আবার যদি কেউ কোনো খারাপ উদ্দ্যেশ্য, ধান্ধা, ব্যবসা ও চামচামির জন্য করে থাকেন তাহলে সেটা ভালোভাবে দেখারও সুযোগ নেই। তখন আমি কি বলেছি সেটা বড় কথা নয় বরং হাজারো মানুষ সেটিকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য লেগে যাবেন।
যে কারণে একটি দল ও কিছু মানুষ বঙ্গবন্ধু ও তার ইতিবাচক কাজকে পূঁজি করে যখন দেশ ও দেশের মানুষকে লুট করে শূণ্য করে দিল, গুম, খুন, হত্যা করে লাশের মিছিল তৈরী করল। তখন কিছু মানুষ জেগে উঠলো বঙ্গবন্ধু এবং তার নামকে মুছে দিতে। এটা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রথমত, হচ্ছে যেহেতু এটি একটি শোষনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে তাই এটি দমনের কথা উঠবে এটা স্বাভাবিক। কারণ যদি কাল থেকে মোমবাতির মতো একটি নরম জিনিস দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগানো শুরু হয়। পরের দিন কার কাছে মোমবাতি আছে সেটি দেখার জন্য রাস্তায় চেকপোষ্ট বসবে। যারা আগুন লাগিয়েছে তারা জেলে যাবে আর যাদের কাছে মোমবাতি আছে কোথাও আগুন লাগায় নাই। তারা প্রতিরোধের মুখে পড়বে।
ঘটনা সেটাই ঘটেছে।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ
যারা আদর্শ বোঝেন তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে একটা জায়গায় নিতে চেয়েছেন। সেটা ৭২ এর সংবিধানের মূল চারনীতি। ৭২ সালে প্রণীত সংবিধানের চারটি মূলনীতি বঙ্গবন্ধুর আদর্শন হিসেবে তারা দেখাতে চান। ,যেখানে লিপিবদ্ধ ১.জাতীয়তাবাদ ২.ধর্মনিরপেক্ষতা ৩.গণতন্ত্র ৪.সমাজতন্ত্র।
এই মত অনুসারে যদি কেউ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে চায় তাকে জাতীয়তাবাদী হতে হবে অথাৎ বাঙ্গালী জাতীয়তায় আনুগত্য হতে হবে, সাম্প্রদায়িক না হয়ে বরং সকল ধর্মের মানুষকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখতে হবে।গনতন্ত্রকামী হতে হবে পাশাপাশি সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে ধনী গরীবের বৈষম্য কমিয়ে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের অভাব মৌলিক চাহিদা ও রাস্ট্রের প্রভূত উন্নয়ন সাধন করতে হবে।
এখন কেউ যদি এটা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নয় বলে মত দেন। সেটা খুব শক্তিশালি একটা মত হবে। কার স্বাধীনতার আগেও পরে তিনি কখনো সরাসরি তার এসব আদর্শ উপস্থাপন করেননি। তার আত্মজীবনী ও বইতেও নেই।
তাহলে তিনি কি অন্তসারশূণ্য। মোটেও তা নয়। তার ভেতরে এই বিষয়গুলো ছিল। তিনি সোভিয়েত এবং চীন উভয়ের সমাজতন্ত্র বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠান আগে পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে শোষিতের অধিকার রক্ষার জন্য ছুটে গিয়েছেন। ৪৭ এর দাঙ্গা থেকে ঢাকায় আদমজীতে পাকিস্তানী বাঙালী দাঙ্গা পর্যন্ত।
পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের মূল সূর ছিল। বাঙালীর অধিকার আদায়ের আন্দোলন। এই দৃষ্টিতে কেউ যদি মানুষের অধিকার আদায় ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলে দাবী করেন এই দাবীটি অধিক শক্তিশালী হবে।
কিন্তু এটা আক্ষরিক অর্থে কোনো সুনিদিষ্ঠ আদর্শ নয়। যেমন সমাজতন্ত্র কিংবা ইসলামী আদর্শ। এরকম পুরনো বা নতুন কোনো আদর্শ নয়। আদর্শ কোনো নেতা নিজে প্রবর্তন করতে পারেন কিংবা পুরোনো আদর্শের পুণজাগরণ করতে পারেন। চে-গুয়েভারা কোনো আদর্শ তৈরী করেননি তিনি সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই ও জীবন দিয়েও আদর্শিক নেতা হিসেবে নিজেকে অধিষ্ঠিত করে গেছেন।
বঙ্গবন্ধু সেটাও করেননি। বঙন্গবন্ধু বাঙালীর স্বাধীকার আন্দোলনের খুব নিচের সারি থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছেন। আমার মনে একটা প্রশ্ন ছিল যে, ভাষানীর মতো সৎ ও জনপ্রিয় নেতা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কিভাবে শেখ মুজিবর রহমান উঠে উলেন। এর কয়েকটি কারণের একটি হলো ভাষানীর বয়োজ্যোষ্ঠতা, তরুনদের সাথে শেখ মুজিবের সংযোগ আর সবচেয়ে বড়ো কারণ বঙ্গবন্ধু দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন এবং যেকোনো বিষয়ে দ্রুত সাড়া দিতেন।
বিশেষ করে ৭০ নির্বাচন এবং পাকিস্তানীদের টার্গেট করার কারণে তিনি দ্রুত শীর্ষে চলে আসেন। এখানে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন কিনা এটা নিয়ে যেমন বিতর্ক থাকবে। তিনি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে আটক হোন এবং যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে ছাড়া পান। সূতরাং তাকে মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বলা যাবে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক থেকে যাবে।
কেউ যদি না মানে তাকে মানাতে যাওয়া যেমন অন্যায় হবে। আবার কেউ যদি মুক্তিযোদ্ধাদের বরাতে তাকে মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতা হিসেবে মানেন তাতেও তার সাথে আমি বিতর্কে যাবো না। কারণ যুদ্ধের পর তার ফিরে আসা তাকে নায়ক হিসেবে বরণ করা এবং তাকে বিনাপ্রশ্নে রাষ্ট্রপতি বানানো সবই মুক্তিযোদ্ধারা এক হয়ে করেছেন। তখন কেউ তার কতৃত্ব গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না।
হয়তো অনেকে খুশি ছিলেন না। কিন্তু সামনের সারিতে যারা ছিলেন বিশেষ তাজ উদ্দীন ও জেনারেল আতাউল গনি ওসমানিসহ সকলে মেনে নিয়েছেন। শুধুমাত্র তাজ উদ্দীন আহমদ যদি প্রশ্ন তুলতেন। তাহলে দেশের পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে যেত। মুহুর্তে নতুন সংকট দেখা দিত। জাসদসহ বামপন্থীরা যে প্রতিবাদ করেছিল, রক্ষীবাহিনী ও সরকারের অন্যান্য দমননীতির কাছে তারা মাথা তুলতে পারেনি। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধোদের বড় অংশের সমর্থন গুরুত্বপূণর্ ছিল। যদি বঙ্গবন্ধুকে উৎখাত কারীরাও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাতেও এটাও প্রমাণিত হয় সব মুক্তিযোদ্ধা উনার নেতৃত্ব ও কতৃত্ব সমর্থণ করেন নি।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হিসেবে যেমন বলা যেতে পারে তিনি শোষিতের অধিকারের আন্দোলন করেছেন। তেমনি চাটুকার বেষ্টিত হয়ে দেশ পরিচালনা, বাকশাল প্রতিষ্ঠা, একদলীয় শাসন, গণতন্ত্র হত্যা এবং বিরোধী দলের দমন নিপীড়ন ও নির্যাতনের কারণে এই বলে যদি কেউ দাবী করে যে, তিনি হলেন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের জনক। এই বক্তব্যের একটি রাজনৈতিক ভিত্তি ও গুরুত্ব থাকবে।
সূতরাং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিক্রি করতে চাওয়া একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু কেউ তার কাজের জন্য তাকে সম্মান করলে তাকে যারা বাঁধা দিবে সেটাও কোনো ভাল ফলাফল বয়ে আনবেনা। তাকে বিক্রি করার চেষ্টা যেমন বুমেরাং হয়েছে। তাকে মেরে চেষ্টায় হিতে বিপরীত হতে।
মুজিববাদ
এখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলতে আসলে কিছু ছিল কিনা? বা শোষিতের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের জন্য তাকে আদর্শিক নেতা বলা যাবে কিনা এটা একাডেমিক প্রশ্ন, হয়তো প্রশ্ন খুব জোরালে। প্রথমত, বঙ্গবন্ধু সংবিধানের মুলনীতিগুলো রক্ষা ও বাস্তবায়নের ব্যাপারেও সচেতন ছিলেন না এবং তিনি বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে নীতি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তা যেমন মানুষের অধিকার বিরোধী তেমনি ৭২ এর সংবিধানেরও পরিপন্থী।
তবে অসাম্প্রদায়িকতা তার একটি আদর্শ বলা যায়। এখানে তিনি সব সময় অটল ছিলেন। আবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলতে কেউ যদি বাকশাল, একদলীয় শাসন বলে এটাও প্রতিষ্ঠিত করা কঠিন কিছু হবে না। কারণ এর ঐতিহাসিক সত্যতা রয়েছে।
এই বিশ্লেষণে মোটাদাগে যা দাঁড়ায় তা হলো বঙ্গবন্ধু কোনো আদর্শিক নেতা ছিলেন না। তিনি কোনো নতুন আদর্শ প্রচার করেননি এবং কোনো আদর্শভিত্তিক আন্দোলন করেননি। তিনি গণমানুষের অধিকারের আন্দোলন ও রাজনীতি করেছেন কিন্তু একসময় তিনি তা নিজের হাতে শেষও করেছেন।
যদি বঙ্গবন্ধুর কোনো আদর্শ না থাকে তাহলে ‘‘মুজিব বাদ’’ এরও কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না। মুজিববাদ নামে কোনো কিছু প্রচার করা মানে হলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে স্বীকৃতি দেয়া। হয়তো সেটা নেতিবাচক অর্থে। বাকশাল বা একদলীয় শাসনকে তার আদর্শ বানানোর মতো ভিত্তি আছে। হয়তো, এটাও তার আদর্শ ছিলো না। তিনি আসলে সামলাতে না পেরে এবং চীন থেকে দেখে এসে এই চিন্তা করেছেন এবং বাস্তবায়ন করেছেন।
বঙ্গবন্ধু দোষে গুণে মানুষ ছিলেন। তার সফলতা ও ব্যর্থতা আছে। তাকে কোন প্রজন্ম কিভাবে গ্রহণ করবে এটা একান্ত সময়ের উপর নির্ভরশীল। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে পাকিস্তানের জাতির পিতা বানাতে বাঙালী কম সংগ্রাম করেনি সে জিন্নাহকে বাঙালী ছুড়ে ফেলে দিয়েছে কারণ তিনি তার মর্যাদা রাখতে পারেননি। সূতরাং ইতিহাসের সত্যতা, বাস্তবতা ও নিষ্ঠুরতা আমাকে যেভাবে দেখি সেটাও মানতে ও বুঝতে হবে।
তবে তার মেয়ের জন্য বা আওয়ামী লীগের কর্মীদের কর্মের জন্য তাকে দায়ী করে অসম্মান করা এবং তার অবদানকে অস্বীকার করাও বিবেচনাপ্রসূত মানুষ, নাগরিক বা রাজনৈতিকের কাজ নয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, জাতীয় চারনেতা ও জেনারেল আতাউলগনি ওসমানির ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।
বিএনপির জনপ্রিয়তা ও জিয়াউর রহমানের গণপ্রিয়তা তাকে একটি মহলের কাছে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। আর বঙ্গবন্ধুকে দেশের একটা বড় অংশের কাছে অগ্রহণযোগ্য করা হয়েছে কতটা তিনি নিজে তার ভুলের জন্য কতটা তার কণ্যার জন্য, কতটা তার আদর্শ বেচে খাওয়াদের অপকর্মের জন্য।
আজ যদি এই দু্টো দল বা তাদের পক্ষে বিপক্ষে কেউ না থাকে। তাহলে পরের প্রজন্ম প্রতিটি নেতাকে তাদের ভুলত্রুটি মিলিয়ে বিচার করবে। যেমন করে আমরা আজ সিরাজ উদ দৌলাকে পক্ষ নিয়ে বিচার করি না।
এখানে আমি প্রয়াত শেখ মুজিবর রহমানকে বঙ্গবন্ধু লিখেছি। কারণ তাকে পদবিটা সমগ্র বাঙালীয় পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি। এছাড়া কেউ যদি মনে করেন তাকে বঙ্গবন্ধু বলা ঠিক নয়। তারসাথে আমি কোনো বিরোধ ও বিতর্কে যাবো না।
তবে আমার কাছে মনে হয় যারা মুজিব বাদ নাম দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতা করছেন তারা সম্ভবত ভুল পথ অনুসরণ করছেন। কারণ তিনি নিজে কোনো আদর্শ লালন, প্রচার ও বাস্তবায়ন করেননি। আক্ষরিক অর্থে বাকশালও কোনো আদর্শের নাম নয়। দ্বিতীয়ত, এই শব্দের মাধ্যমে প্রকারান্তরে তার আদর্শকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে যেটা কখনো ছিল না। তিনি জাতীয় ওি ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য নেতা হিসেবে সকলের কাছে গ্রহণীয় হওয়া উচিৎ এবং সেটা সমালোচনাসহ হতে পারে, তাতেও দোষের কিছু নয়। তিনি যেমন নিত্য পূজনীয় নয় তেমনি তিনি এই মুহুর্তে আক্রমনের বস্তুও নয় বলে আমি মনে করি।
তাকে কেউ যেমন বরন করতে পারে আবার কেউ চাইলে বর্জনও করতে পারে। কারো যেমন উচিৎ নয় তাকে প্রাত:স্মরনীয় বানানো তেমনি কারো উচিত নয় তাকে গণধিকৃত বানানো। তার অর্জন ও কাজ এবং বিপরীতে ভুল ও দোষ তাকে ইতিহাসের পাতায় সেভাবে স্থান দেবে। ইতিহাসের আয়ু মানুষের আয়ুর মতো ১০০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় ইতিহাসের আয়ু মানবসভ্যতার সমান বয়সী। সূতরাং ৪০ বছরের আমার কর্মজীবনে আমি কাউকে যেমন চাইলে ভাসাতে পারবনা তেমনি ডোবাতেও পারবনা।
ইংরেজদের ১৯০ বছরের শাসনে সিরাজের চরিত্র হনন করে তাকে ভিলেন বানানো যায়নি। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে পাকিস্তানী সার্বজনীন সম্মানীয় করে বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করা যায়নি। সূতরাং সঠিক ইতিহাস চর্চা হোক। প্রতিটি প্রজন্ম তা থেকে নিজেরাই ঠিক করুক তারা কাকে গ্রহণ করবে? এবং কিভাবে গ্রহণ করবে।
কেউ যদি মনে করেন তিনি কাউকে পূজনীয় বানাবেন তিনি সেটা নিয়ে গবেষণা, তথ্য ইতিহাস তুলে ধরে তার বিষয়ে জনমত তৈরী করতে পারেন। আবার কেউ যদি মনে করেন কোনো নেতা তার যোগ্য নয় তিনি সে বিষয়ে একই কাজ করতে পারেন, সেটা ইতিহাস ও তথ্যের ভিত্তিতে হবে। গালাগালি ও হিংসার ভিত্তিতে নয়।
রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে, ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে, দেশের টাকা দিয়ে কোনো নেতাকে দেবতা বানানোর অপচেষ্টা যেমন অগ্রহণযোগ্য তেমনি দেশ গঠন বাদ দিয়ে কোনো নেতার পেছনে পড়ে থাকাও সমর্থন যোগ্য নেই।
লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন
ছবি: সংগ্রহ
