ফিলিস্তিন ও ইসরাইল সংকটের মূলে কি?
( বিভিন্ন প্রশ্নের আলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই লেখাটি তৈরী করা হয়েছে, এখানে কোনো মানুষের মতামত সংযোজন করা হয়নি)
ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাতের ইতিহাস জটিল ও বহু দশকব্যাপী। মূলত, ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দুটি পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত করার প্রস্তাব দেয়—একটি ইহুদি রাষ্ট্র এবং একটি আরব রাষ্ট্র। ইহুদি নেতারা এই প্রস্তাব মেনে নিলেও, আরব নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলে, ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘আল নাকবা’ বা ‘মহা-বিপর্যয়’ হিসেবে পরিচিত।
ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও ন্যায্যতা
ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পেছনে কয়েকটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। এগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে কেন ফিলিস্তিনকে বিভক্ত করে একটি ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল এবং কেন এটি বিতর্কিত ছিল। কারণ ৩৩ শতাংশ মানুষকে দেয়া হয়েছে ৫৫% ভূমি। সেগুলো আবার মূল এলাকাগুলো। অন্যদিকে ৭০% আরব মুসলিমদের দেয়া হয়েছে ৪৫ শতাংশ জমি যেগুলো অনুর্ভর ও অনুন্নত।
বর্তমানে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ভূমির বণ্টন জটিল ও পরিবর্তনশীল একটি বিষয়। তবে সাধারণভাবে বলা যায়: ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমি: প্রায় ২২,০০০ বর্গকিলোমিটার। ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমি: প্রায় ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমি ফিলিস্তিনের তুলনায় প্রায় ৩.৭ গুণ বেশি। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে এই বণ্টন স্থায়ী নয় এবং রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
১. ইহুদিদের ঐতিহাসিক দাবি ও ধর্মীয় সংযোগ
ইহুদিরা দাবি করে যে ফিলিস্তিন অঞ্চল (তৎকালীন প্যালেস্টাইন) তাদের ঐতিহাসিক জন্মভূমি। বাইবেলে উল্লিখিত প্রাচীন রাজ্য ইসরাইল ও জুদাহ এখানে অবস্থিত ছিল, যা খ্রিস্টপূর্ব ৭০ সালে রোমানদের হাতে ধ্বংস হয়। এরপর ইহুদিরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে (ডায়াসপোরা)। যদিও ইহুদিরা হাজার বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবুও তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক স্মৃতি এই অঞ্চলকে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছিল।
২. আধুনিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: জায়নবাদ ও ব্রিটিশ ভূমিকা
জায়নবাদ (Zionism): ১৯ শতকের শেষ দিকে ইউরোপে জায়নবাদী আন্দোলন শুরু হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন থিওডর হার্জল। এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ইহুদিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে তারা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
ব্যালফোর ঘোষণা (১৯১৭): প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার ব্যালফোর ঘোষণা দেন যে ব্রিটেন ফিলিস্তিনে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে।
ব্রিটিশ ম্যান্ডেট (১৯২০-১৯৪৮): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ওসমানীয় সাম্রাজ্য ভেঙে গেলে ফিলিস্তিন অঞ্চল ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে। ব্রিটেন একদিকে আরবদের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, অন্যদিকে ইহুদিদের ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেয়। এর ফলে ১৯২০-৪০ এর দশকে বিপুল সংখ্যক ইহুদি সেখানে অভিবাসন করে।
৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্টের প্রভাব
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫) চলাকালে হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসি জার্মানি ছয় মিলিয়নের বেশি ইহুদিকে হত্যা করে (হলোকাস্ট)। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ইহুদিদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয় এবং একটি নিরাপদ আবাসভূমির দাবি জোরালো হয়।
পশ্চিমা শক্তিগুলো ইহুদিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এবং জাতিসংঘে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।
৪. জাতিসংঘের বিভক্তির প্রস্তাব (১৯৪৭)
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব দেয় (UN Partition Plan)।
৫৫% জমি ইহুদিদের দেওয়া হয় (যদিও তখন তারা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩৩% ছিল)।
৪৫% জমি আরবদের দেওয়া হয়, যদিও তারা তখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।
জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ঘোষণা করা হয়।
ইহুদিরা জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে নেয়, কারণ তারা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ পায়। কিন্তু আরবরা এটাকে অন্যায্য ও উপনিবেশবাদী পরিকল্পনা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।
৫. আরবরা কেন এই প্রস্তাব মেনে নেয়নি?
অন্যায্য বণ্টন: ফিলিস্তিনের ৭০% মানুষ ছিল মুসলিম ও খ্রিস্টান আরব, অথচ তাদের কম জমি দেওয়া হয়েছিল।
ঐতিহাসিক মালিকানা: ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ জমি ছিল আরবদের দখলে। ইহুদিরা মূলত সম্প্রতি অভিবাসন করে এসেছিল।
পশ্চিমা চাপ: আরবরা মনে করেছিল, ইউরোপীয় ইহুদিদের জন্য নতুন দেশ গঠনের দায়িত্ব কেন আরবদের নিতে হবে? তারা ইউরোপেই ইহুদিদের জন্য রাষ্ট্র গঠনের পরামর্শ দেয়।
৬. ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম (১৯৪৮)
১৪ মে ১৯৪৮ সালে ইহুদিরা ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।
এর পরদিনই মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, ইরাক ও লেবানন ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে (১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ)। ইসরাইল যুদ্ধ জয় করে এবং জাতিসংঘে সদস্যপদ লাভ করে। এই যুদ্ধে প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়, যা ‘নাকবা’ (বিপর্যয়) নামে পরিচিত।
৭. ন্যায্যতা ও বিতর্ক
পক্ষসমর্থক যুক্তি: ইহুদিরা বহু শতাব্দী ধরে নির্যাতিত হয়েছে এবং তাদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রয়োজন ছিল। বিরোধী যুক্তি: ইহুদিরা মূলত ইউরোপীয় অভিবাসী ছিল, এবং তাদের জন্য আরবদের ঐতিহাসিক ভূমি কেড়ে নেওয়া ঠিক হয়নি। ইসরাইলের সৃষ্টি একটি জটিল রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার অংশ, যা উপনিবেশবাদ, বিশ্বযুদ্ধ এবং জাতিসংঘের ভূমিকাকে জড়িয়ে রেখেছে। আরবরা এটিকে অন্যায্যভাবে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত মনে করেছিল, তাই তারা মেনে নেয়নি।
বর্তমানে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ভূমি নেই। তবে, পূর্বে জাতিসংঘের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় জেরুজালেম শহরকে একটি আন্তর্জাতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, যেখানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করা হবে। কিন্তু ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর জেরুজালেম পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত হয়; পশ্চিম অংশ ইসরাইলের এবং পূর্ব অংশ জর্ডানের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে এবং পরবর্তীতে পুরো শহরটিকে তাদের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতর্কিত।
অন্য কোনো অঞ্চলে ইহুদিদের পুনর্বাসন করা যেত কি?
ইহুদি রাষ্ট্রের জন্য বিকল্প জায়গা নিয়ে কিছু প্রস্তাব এসেছিল, যেমন—
(ক) উগান্ডা পরিকল্পনা (১৯০৩)
ব্রিটিশ সরকার পূর্ব আফ্রিকায় (আজকের কেনিয়া ও উগান্ডা) ইহুদিদের জন্য একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দেয়। জায়নবাদী নেতা থিওডর হার্জল কিছু সময়ের জন্য এটি নিয়ে ভাবলেও পরে জায়নবাদী কংগ্রেস তা প্রত্যাখ্যান করে। কারণ: জায়নবাদীরা বিশ্বাস করত, তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক আবাসভূমি ফিলিস্তিনই হওয়া উচিত।
(খ) সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরোবিডজান (১৯৩৪)
সোভিয়েত নেতা স্ট্যালিন ইহুদিদের জন্য রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে বাইরোবিডজান নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা ঘোষণা করেন। এটি একধরনের “ইহুদি স্বদেশ” হলেও সেখানে খুব কম ইহুদি বসবাস করতে চেয়েছিল। কারণ: এটি ছিল প্রত্যন্ত ও প্রতিকূল পরিবেশের একটি অঞ্চল এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা সীমিত ছিল।
(গ) মাদাগাস্কার পরিকল্পনা (১৯৪০)
নাৎসি জার্মানি ইহুদিদের মাদাগাস্কার দ্বীপে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। এটি ছিল ইহুদিদের ইউরোপ থেকে বিতাড়নের একটি পরিকল্পনা, যা কখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
(ঘ) যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা বা ইউরোপে পুনর্বাসন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ ও আমেরিকায় ইহুদিদের গ্রহণের কিছু প্রস্তাব ছিল। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো তখন ব্যাপক সংখ্যক শরণার্থী নিতে রাজি ছিল না। ব্রিটেন ও আমেরিকা ইহুদিদের জন্য একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ছিল, তবে সেটা ফিলিস্তিনেই।
বর্তমানে, পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আংশিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে ইসরাইলের সামরিক ও বসতি স্থাপনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সেখানে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞ্চলে কোনো নিরপেক্ষ বা আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ভূমি নেই; বরং ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ ও বসবাসের বিষয়টি বিরাজমান।
কেন তাদেরকে তাদের জনসংখ্যা অনুপাতে ৩৩% ভূমি দেওয়া হয়নি?
জাতিসংঘ যখন বিভক্তির প্রস্তাব দেয়, তখন ইহুদিরা ছিল ফিলিস্তিনের মোট জনসংখ্যার ৩৩%। তাহলে কেন তাদের ৫৫% ভূমি দেওয়া হলো?
রাজনৈতিক সমর্থন: ব্রিটেন, আমেরিকা ও ফ্রান্স ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনে আগ্রহী ছিল।
অর্থনৈতিক শক্তি: ইহুদিরা পশ্চিমা দুনিয়ায় প্রভাবশালী ছিল, এবং তারা জমি কেনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বেশি জড়িত ছিল।
জাতিসংঘের শক্তি অনুপাত: সে সময় জাতিসংঘে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব ছিল বেশি।
কৌশলগত উদ্দেশ্য: মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা মিত্র হিসেবে একটি শক্তিশালী ইহুদি রাষ্ট্র তৈরি করা ব্রিটেন ও আমেরিকার স্বার্থের অনুকূল ছিল।
তবে এই বিভক্তি ফিলিস্তিনিদের কাছে অন্যায্য মনে হয়েছিল, কারণ—
তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও কম জমি পেয়েছিল।
ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ শহর ও কৃষি এলাকা ইহুদিদের অংশে পড়ে।
কোনো গণভোট ছাড়াই জাতিসংঘ এই সিদ্ধান্ত নেয়।
ইহুদিদের কি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অভিবাসন করা যেত না?
বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো অনেক শরণার্থী গ্রহণ করেছিল, তবে তারা ইহুদিদের জন্য আলাদা একটি দেশ গঠনের পক্ষে ছিল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন ইহুদিদের গ্রহণ করলেও সীমিত সংখ্যক শরণার্থী নিয়েছিল। অনেক ইহুদি মনে করত, ইউরোপে থাকা নিরাপদ নয়, এবং তাদের একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রয়োজন। আরব মুসলিমরা এজন্য প্রথমত ব্রিটেনকে, দ্বিতীয়ত জাতিসংঘকে এবং তৃতীয়ত যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে। যদিও তখন পরাশক্তি হিসেবে বৃটেনের ভূমিকাই প্রধান ছিল।
তাহলে কেন ফিলিস্তিনকেই বেছে নেওয়া হলো?
ধর্মীয় কারণ: ইহুদিরা মনে করত ফিলিস্তিন তাদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় আবাসভূমি।
জায়নবাদী আন্দোলন: ইহুদিরা বহু বছর ধরে ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন করছিল এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ করেছিল।
ব্রিটিশ ভূমিকা: ব্রিটেনের ব্যালফোর ঘোষণা (১৯১৭) ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনে একটি ইহুদি রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে দেয়।
পশ্চিমা স্বার্থ: পশ্চিমা শক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত সুবিধার জন্য ইসরাইলকে সমর্থন করেছিল।
এই সংঘাতের সমাধান সহজ নয়, তবে ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি বোঝা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
যদিও ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, ফিলিস্তিনি জনগণ আজও তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছে।
পরবর্তী সময়ে, ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরাইল গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, সিরিয়ার গোলান মালভূমি এবং মিশরের সিনাই উপদ্বীপ দখল করে। এই যুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিতীয় বিপর্যয় বা ‘নাকসা’ নামে পরিচিত।
সংঘাতের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূখণ্ডের মালিকানা, জেরুজালেমের মর্যাদা, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের অধিকার এবং ইসরাইলি বসতি স্থাপন। এই বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
বর্তমানে, গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি জনগণ সংঘাত, অবরোধ এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অপরদিকে, ইসরাইলি জনগণও হামাসের রকেট হামলার কারণে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন। উভয় পক্ষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কি বিশ্বজুড়ে পুনর্বাসন করা যেত?
টিকা: নিরপেক্ষ বিশ্লেষনের জন্য চ্যাট জিপিটিকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে যে উত্তর পেয়েছি। তার আলোকে এই লেখা তৈরী করা হলো। আসলে আমি এই সংকটের কোনো বিশ্লেষণ বা গ্রহণযোগ্য সমাধান খুজছি। সমাধান নিয়ে অন্য একটি লেখা পেশ করার চেষ্টা করবো। নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য কোনো যুদ্ধের ছবি দেয়া হয়নি।
