পৃথিবীর দূরপাল্লার পায়ে হাঁটার পথ

পৃথিবীর দূরপাল্লার পায়ে হাঁটার পথ

পৃথিবীর সর্বদৈর্ঘ্যের পায়ে হাঁটার পথ

দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন পথচারীদের হাঁটার পথটি হল 7.2-কিমি-দীর্ঘ (4.5-মাইল) বেশোর বুলেভার্ড, টাম্পা, ফ্লোরিডা, ইউএসএ-তে আপার হিলসবরো বে বরাবর। এটি কোন বাধা ছাড়াই কলম্বাস স্ট্যাচু পার্ক থেকে গ্যান্ডি বুলেভার্ড পর্যন্ত সমুদ্রপ্রাচীর অনুসরণ করে। এটা হলো স্বাভাবিক পথচারির পথ। যদিও ভারতে আরো চমকপ্রদ কিছু পদযাত্রা হয়। সেগুলো বেশ দীর্ঘ।
কিন্তু প্রতিদিনের পথচলার ক্ষেত্রে এই পথটির কথা আছে গ্রীনিচ বুকে। পাহাড় এবং সমূদ্রের দেশে এমন হাইকিং বা ট্রেকিং এর অনেক পথ আছে। আমরা বিশ্বময় অবিচ্ছিন্ন পথটার কথা আজ বলব। যার মধ্যে কোনো নদী বা খাল নেই। অন্যদিন বলব খাল বা নদী আছে কিন্তু সমূদ্র নেই এমন পথের কথা।

এই রাস্তার দৈর্ঘ্য ১৪,৩৩৪ মাইল (২৩,০৬৮ কিলোমিটার)। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন থেকে রাশিয়ার মাগাডান পর্যন্ত বিস্তৃত। পথটি সুয়েজ খাল, তুরস্ক, মধ্য এশিয়া এবং সাইবেরিয়া অতিক্রম করে। পুরো যাত্রাটি ১৬টি দেশ পেরিয়ে যায় এবং এতে কোনো বিমান, নৌকা বা ফেরির প্রয়োজন নেই—শুধু রাস্তা ও সেতু।

পেনন্ডামিকের সময় দীর্ঘ হাঁটার পথ দ্রুতই ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সাইটগুলো যেমন Nerdist, Explorersweb এবং Skratch এটি শেয়ার করতে শুরু করে। ধারণা করা হয়, প্রতিদিন আট ঘণ্টা হাঁটা হলে, বিরতিহীনভাবে এই পথ পাড়ি দিতে ৫৬২ দিন লাগবে। আর এই যাত্রায় মোট উচ্চতার পরিবর্তন ১২৩,০০০ মিটার, যা এভারেস্ট ১৩ বার উঠা-নামার সমান। তবে সর্বদৈর্ঘ্য পায়ে হাঁটা পথ নিয়ে আমরা আরো লেখা দেব।

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন থেকে রাশিয়ার ম্যাগাদান পর্যন্ত 14,000 মাইল (22,387 কিমি) প্রসারিত, এই রুটটি বিশ্বের দীর্ঘতম হাঁটা হতে পারে এবং এটি অবশ্যই ভয়ঙ্কর শোনাচ্ছে।
এই দীর্ঘ পথের কৃতিত্ব Reddit ব্যবহারকারী cbz3000 কে যায়, যিনি এটিকে 2019 সালে Google Maps-এ আঁকেন। সাইটে এটিকে সবচেয়ে দীর্ঘ পথ হাঁটা সম্ভব বলে দাবি করে, তারা এমন একটি রুট খুঁজে পেয়েছে যেটির জন্য কোনো ফ্লাইট, ফেরি বা অন্য নৌকা-ক্রসিংয়ের প্রয়োজন নেই: শুধু রাস্তা ও সেতু খোলা। রুটটি সাহসী ভ্রমণকারীকে আফ্রিকার মধ্য দিয়ে, সুয়েজ খাল পেরিয়ে তুরস্ক, মধ্য এশিয়া এবং সাইবেরিয়া পেরিয়ে ম্যাগাদান পর্যন্ত নিয়ে যায়।
এই পথ পাড়ি দেওয়ার চ্যালেঞ্জ
যদিও এটি অনেকের কল্পনাকে ছুঁয়ে গেছে, কিন্তু এখনো কেউ এই পথ পুরোপুরি পাড়ি দেওয়ার সাহস দেখায়নি। গ্লোবাল রেসকিউ-এর মেডিক্যাল অপারেশন সুপারভাইজার জেফরি ওয়েইনস্টাইন বলেন, “এটি অসম্ভব নয়, তবে বাস্তবে এটি অনেক চ্যালেঞ্জিং। বহু জটিলতা আছে যা এর বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব করে তোলে।”

যাত্রার প্রস্তুতি:
১. ১৬টি দেশের ভিসা: বিভিন্ন দেশের ভিসা ও প্রবেশের অনুমতির ব্যবস্থা করা হবে অত্যন্ত কঠিন।
২. সার্ভাইভাল গিয়ার: বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রা ও পরিবেশের জন্য আলাদা সরঞ্জাম প্রয়োজন।
৩. জুতা ও সরঞ্জাম: এক জোড়া জুতা দিয়ে পুরো পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়।

ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা:

বন্যপ্রাণী ও রোগ: আফ্রিকার সাভানায় বিষাক্ত কালো মাম্বা সাপ এবং উগান্ডায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ।
মানবসৃষ্ট ঝুঁকি: দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ বা খুনের আশঙ্কা।
শারীরিক ও মানসিক চাপ: দীর্ঘ পথ হাঁটায় শারীরিক সমস্যা যেমন হাইপোনাট্রেমিয়া, র‍্যাবডোমায়োলাইসিস ইত্যাদির ঝুঁকি থাকে।
অন্যান্য দীর্ঘ হাঁটার পথ
যারা এই পথটি চ্যালেঞ্জিং মনে করেন, তাদের জন্য পৃথিবীতে কিছু সহজতর দীর্ঘ হাঁটার পথও রয়েছে:

অ্যাপালাচিয়ান ট্রেইল (যুক্তরাষ্ট্র): ২,১৮০ মাইল (৩,৫০০ কিমি)।
ইনকা ট্রেইল (পেরু): ২৮ মাইল (৪৫ কিমি)।
আর্টিক ট্রেইল (স্ক্যান্ডিনেভিয়া): ৫০০ মাইল (৮০০ কিমি)।
বাংলাদেশের নিরাপদ ও সুন্দর ১ দিনের ৭ দিনের ও ১ সপ্তাহের পায়ে হাঁটা পথগুলো নিয়ে আমি অচীরেই লিখব।

যাত্রা পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুত? সাহসিকতার জন্য প্রস্তুত থাকলে গ্লোবাল রেসকিউর মতো সংস্থা সাহায্য করতে পারে। তবে পৃথিবীর দীর্ঘতম রাস্তা হাঁটা এখনও কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

সূত্র: https://www.globalrescue.com/, লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply