valerie pieris

পৃথিবীর অর্ধেক মানুষই আপনার পাশে বসবাস করছে! জানেন কি?

পৃথিবীর অর্ধেক মানুষই আপনার পাশে বসবাস করছে! জানেন কি?

আপনি যদি বাংলাদেশে বসবাস করে তাহলে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক বা পঞ্চাশ শতাংশ মানুষেই আপনার প্রতিবেশী। পৃথিবীর মাত্র ১০ শতাংশ এলাকায় মাত্র ৩৩০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষের অর্ধেক বসবাস করেন। আপনি যাই ভাবেন ঘটনা এটা সত্য।
তবে এটা বলছিনা। দাবিটি করেছেন ২০১৫ সালে সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক ড্যানি কোয়া, তাঁর সহকারী কেন টিওহ। তিনি একটি ছোট বৃত্ত প্রস্তাব করেন, যার ব্যাসার্ধ ব্যাস ৬৬০০ কিলোমিটার। এর কেন্দ্র রয়েছে মিয়ানমারের মং খেত শহরে। কোয়ার মতে, এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠে সম্ভবত সবচেয়ে ছোট বৃত্ত, যা আরও সুনির্দিষ্ট গণনা এবং আপডেট করা তথ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। valerie pieris সার্কেলে বাংলাদেশ, চীন, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলি সহ 19টি দেশ রয়েছে, যেখানে বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে।
মূলত ২০১৩ সালে রেডডিটে কেন মায়ার্স নামে এক টেক্সাসের ইংরেজি শিক্ষক প্রথম দাবী করেন যে, পৃথিবীর মোট পৃষ্ঠের প্রায় ১০% এলাকা জুড়ে এই গ্রহের বেশীরভাগ মানুষ বাস করে। একটি বৃত্তের মধ্যে এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার। তিনি এর নাম দেন ভ্যালেরি পিয়েরিস বৃত্ত। পরে ড্যানি কোয়া এটাকে আরো বিশ্লেষণ করে ৩৩০০ কিলোমিটারের ব্যাসার্ধের বিবরণ দেন।
২০২২ সালে রিয়াজ শাহ নামের এক অধ্যাপক মায়ার্সের মূল বৃত্ত পুনরায় পরীক্ষা করেন। জাতিসংঘের World Population Prospects থেকে প্রাপ্ত নতুন তথ্য ব্যবহার করে তিনি দেখান যে, এই বৃত্তের মধ্যে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন মানুষ বাস করে, যা ২০২২ সালে মোট মানব জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।
এই বৃত্তের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এতে জনবসতির ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। যদিও এর এক-তৃতীয়াংশ এলাকা জুড়ে রয়েছে সমুদ্র। এছাড়া এতে মঙ্গোলিয়ার মতো জনসংখ্যার ঘনত্বহীন দেশ, সাইবেরিয়ার বিস্তীর্ণ জনমানবহীন অঞ্চল, এবং হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় পড়েছে এটিকে বৃত্তাথার চিন্তা করার কারণে।
বর্তমানে ভ্যালেরিপিয়েরিস বৃত্ত একটি তাত্ত্বিক ধারণা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্যও তৈরি করা যায় এবং জনসংখ্যা পরিবর্তনের পর্যবেক্ষণ বা কেন্দ্রীকরণ বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এমনকি এর জন্য একটি পাইথন প্যাকেজও তৈরি হয়েছে, যা বৃত্তের গণনাকে সহজ করে। এভাবে ভ্যালেরিপিয়েরিস বৃত্ত আমাদের দেখায়, কীভাবে ভূগোল এবং জনসংখ্যার সম্পর্ক একটি আকর্ষণীয় গাণিতিক কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়।
এই বৃত্তে বিশ্বের ৮টি সর্বাধিক জনবহুল দেশের মধ্যে ৫টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তান। এবং শীর্ষ পনেরটি সর্বাধিক জনবহুল দেশের মধ্যে আটটিও নিয়ে হিসেব করা হয়েছে। এবং ২০টি জনবহুল দেশের ১০টি রয়েছে এই বৃত্তে।
স্থানিক ডেটা বিশ্লেষণের জন্যও ভ্যালেরিপিয়েরিস চেনাশোনাগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, 2020 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভ্যালেরিপিয়েরিস সার্কেল ছিল 0.798, যখন 2020 সালে কাজাখস্তানের বৃত্ত ছিল 0.644।

সূত্র: উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য। লেখা জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply