পাপুয়া নিউ গিনি ঘুরে আসতে চান?

পাপুয়া নিউ গিনি ঘুরে আসতে চান?

পাপুয়া নিউ গিনি ঘুরে আসতে চান?

প্রাকৃতি সৌন্দর্য আদিম জীবনধারা ও ভাষাবৈচিত্র সাথে পাহাড়, নদী আর গহিন জঙ্গলের নিরবতা দেখতে সৌখিত পর্যটকরা পাপুয়া নিউগিনি বা পিএনজিতে যায়। হিরি মোতু, টোক পিসিন ও ইংরেজিসহ মোট ভাষার সংখ্যা প্রায় ৮২০। দেশটি সাম্প্রতিক কারণে বিখ্যাত হয়েছে অবৈধপথে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ধরা পড়লে ঠাঁই দেয়া হয় পাপুয়া নিউগিনির ডিটেনশন ক্যাম্পে।

পাপুয়া নিউ গিনি প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দ্বীপ । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানীর নিকট থেকে অস্ট্রেলিয়া জার্মান নিউ গিনি অধিকার করে। ১৯৭৫ সালে এটি অস্ট্রেলিয়ার থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। তবে কমনওয়েলথ ভূক্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট বা রাজা হলো ব্রিটেনের রাজা বা রানী। পাপুয়া নিউগিনির আয়তন ৪ লাখ ৬২ হাজার ৮৪০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ । পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক আশ্চর্য রেইন ফরেস্ট আমাজনবেষ্টিত রাষ্ট্র পাপুয়া নিউগিনি।

নৌকায় করে যারা অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করে আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইরাক ও ইরান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা হাজারো মানুষ ধরা পড়ে। হাজারো বাংলাদেশীর কান্না ঝরছে পাপুয়া নিউগিনির ডিনেশন ক্যাম্পের দেয়ালের ভেতর।
এই দেশের শতকরা ১২ ভাগ লোক নাগরিক সুযোগ সুবিধা পায় । বাকি সবাই মোটামটি আদিম বাসীদের মত জীবন যাপন করে। এরা প্রায় সবাই বনে বা পাহাড়ে বসবাস করে। মাছ ধরা , বন জঙ্গল থেকে খাবার সংগ্রহ করে এদের জীবন চলে। ১৯৯৮ সালে পাপুয়া নিউ গিনিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত্যু হয়েছিল দু’হাজার মানুষের৷ রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল

রকফেলার তার ডায়রিতে মতে,: “এইসব শিল্পের মতই আশ্চর্যজনক হচ্ছে তাদের আচার ও রীতি যা এখনও আদিম রয়ে গেছে। পাঁচ বছর আগেও এরা সবাই হেডহান্টিং বা ছিন্নমস্তক সংগ্রহ করত। ওখানে কম সভ্য লোকই যেতে পারত বলে তাদের মানুষখেকো আদিম আচার তখনও চলছিল।” মাইকেল রকফেলারের (১৯৬১ সালে) পাপুয়া নিউ গিনিতে অন্তর্ধানের পরে পাপুয়া নিউ গিনিকে বিশ্বব্যপি মানুষ খেকোদের দেশ হিসাবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।

বাংলাদেশের পর্যটক’রা পাপুয়া নিউগিনি’র টুরিস্ট ভিসা করতে পারেন থাইল্যান্ড থেকে প্রকিয়া সহজ হলেও অষ্ট্রেলিয়া যাওয়ার রুট হিসেবে ব্যবহার করে বিধায় বাংলাদেশীদের সন্দেহ করা হয়। তবে একেবারে ভিসা পাওয়া যায়না তা নয়।

ধারণা করা হয় বাংলাদেশীদের জন্য থাইল্যান্ড থেকে ভিসা পাওয়া সহজ। থাইল্যান্ড এর ব্যাংককে অবস্থিত পাপুয়া নিউগিনি’র কনসুলেট অফিসে যেতে হবে। ঠিকানা: Sino-Thai Tower,
32/59-60, 29/30 Sukhumvit 21 Rd, Khlong Toei Nuea, Watthana, Bangkok 10110, Thailand.
ভিসা অফিসার এর সাথে সাক্ষাৎকার দিন। পাসপোর্ট, নথি, আবেদন ও ফি এর পর ভিসা অফিসারের কাছে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। ভিসা আবেদন-পত্রে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সঠিকভাবে লিখতে হবে। সাথে করে আপনার সদ্য তোলা দুই (২) কপি সাদা বেকগ্রাউন্ড এর পাসপোর্ট সাইজের ছবি হোটেল বুকিং এর ফটোকপি এবং রিটার্ন সহ টিকেট বুকিং এর ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। ভিসা ফি তিন হাজার (৩,০০০) থাই-বাথ্ সাথে করে ক্যাশ জমা দিতে হবে।
ভিসা পাওয়ার পর ছয় (৬) মাসের মধ্যে যেকোনো সময় ভ্রমণে যাওযা যাবে। তবে এক সঙ্গে মালয়েশিয়া/চায়না/হংকং এবং ফিলিপাইন ভ্রমণ করলে খরচ কমে যায়। এছাড়া পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মোরেসবি-তে যাওয়ার জন্য ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা, হংকং এবং চায়নার গুয়াংজু থেকেই সর্বনিম্ন ভাড়ায় বিমান টিকেট পাওয়া যায়।

সাবধান
তবে কেউ যদি মনে করেন পাপুয়া নিউগিনিকে অষ্ট্রেলিয়া যাওয়ার পথ হিসেবে ব্যবহার করবেন তবে সাবধান। পাপুয়া নিউগিনি ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের মাঝে অনুষ্ঠিত চুক্তি অনুসারে এখান থেখে অবৈধদের ধরে জেলে পুরে দেয়া হয়। তবে সঠিক প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের জন্য পাপুয়া নিউগিনিতে অভিবাসনের সুবিধা রয়েছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply