নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের প্রর্ত্যাবতন
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণের আইনি প্রক্রিয়া যেমন রাষ্ট্রকে চরম সংকট থেকে রক্ষা করতে পারে, তেমনি এর উল্টো পিঠও রয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, বহু দেশে ক্ষমতাসীন শাসকেরা নিজেদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে, জনরোষ থেকে বাঁচতে কিংবা শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরিয়ে দিতে আইনি ব্যবস্থা ও আদালতকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিক আইনশাস্ত্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে অনেক সময় “লিগ্যালফেয়ার” (Legalfare) বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনের অপব্যবহার বলা হয়।
তবে স্বৈরতান্ত্রিক বা অন্যায় প্রক্রিয়ায় চাপিয়ে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বেশিরভাগ সময়ই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গণ-অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কিংবা উচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে এই দলগুলো পরবর্তীতে আবার স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরে এসেছে এবং প্রমাণ করেছে যে, জনগণের ম্যান্ডেট বা সমর্থনকে কেবল আইনি ডিক্রি জারি করে মুছে ফেলা যায় না। নিচে বিশ্বজুড়ে প্রতিপক্ষ দমনের উদ্দেশ্যে অন্যায় বা বিতর্কিতভাবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ এবং পরবর্তীতে তাদের মূলধারার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক কেস স্টাডি আলোচনা করা হলো।
নিষেধাজ্ঞা ও প্রত্যাবর্তনের কেস স্টাডি
তুরস্ক (২০০১-২০০২): ভার্চু পার্টি (Fazilet Partisi) এবং একে পার্টির (AKP) উত্থান
প্রেক্ষাপট ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা: ১৯৯৮ সালে ‘রেফাহ পার্টি’ নিষিদ্ধ হওয়ার পর, এর মূল ধারার নেতারা ‘ভার্চু পার্টি’ (Fazilet Partisi) গঠন করেন। এটি ছিল তুরস্কের তৎকালীন ধর্মনিরপেক্ষ সামরিক ও বিচারিক এস্টাবলিশমেন্টের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০০১ সালে তুরস্কের সাংবিধানিক আদালত অত্যন্ত বিতর্কিতভাবে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই দলটিকেও নিষিদ্ধ করে। অভিযোগ ছিল, তারা রেহফাহ পার্টিরই ছায়া সংগঠন এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবিরোধী।
স্বাভাবিক রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন: এই অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা দলটিকে ধ্বংস করতে পারেনি, বরং জনগণের সহানুভূতি বাড়িয়ে দেয়। ভার্চু পার্টি ভেঙে গিয়ে ২০০১ সালের আগস্টে রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (AKP) গঠিত হয়। ২০০২ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই নতুন দলটি ল্যান্ডস্লাইড বিজয় লাভ করে ক্ষমতায় আসে এবং গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তুরস্কের মূলধারার রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
ব্রাজিল (১৯৪৭): ব্রাজিলিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি (PCB)
প্রেক্ষাপট ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্নায়ুযুদ্ধের শুরুর দিকে, ব্রাজিলে তৎকালীন প্রগতিশীল ও বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তিকে দমনের তীব্র হাওয়া বইছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রাজিলের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইউরিকো გასপার দুত্রার সরকারের প্রভাবে, সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্ট কমিউনিস্ট পার্টিকে (PCB) সম্পূর্ণ বেআইনি ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া।
রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন: এই নিষেধাজ্ঞার পর দীর্ঘ তিন দশক দলটিকে আন্ডারগ্রাউন্ড বা গোপনে রাজনীতি করতে হয়েছে। তবে ১৯৮৫ সালে ব্রাজিলে সামরিক একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলে, ১৯৮৮ সালের নতুন সংবিধানে রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে ১৯৮৯ সালে ‘ব্রাজিলিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি’ (PCB) তার আইনি বৈধতা ফিরে পায় এবং পুনরায় ব্রাজিলের নির্বাচনী ও স্বাভাবিক রাজনীতিতে অংশ নেওয়া শুরু করে।
থাইল্যান্ড (২০০৭): থাই রাক থাই (TRT – Thai Rak Thai)
প্রেক্ষাপট ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা: ২০০৬ সালে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াতকে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। থাকসিনের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং তার দল ‘থাই রাক থাই’ (TRT)-কে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালের মে মাসে সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষ সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনাল নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দলটিকে নিষিদ্ধ করে এবং এর ১১১ জন নেতাকে ৫ বছরের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করে। একে ব্যাপকভাবে প্রতিপক্ষ দমনের রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখা হয়।
স্বাভাবিক রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন: দলটিকে কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ করা হলেও জনগণের মন থেকে এর প্রভাব মুছে ফেলা যায়নি। থাকসিনের সমর্থকরা অবিলম্বে ‘পিপলস পাওয়ার পার্টি’ (PPP) গঠন করে এবং ২০০৭ সালের নির্বাচনেই আবার জয়লাভ করে। পরবর্তীতে সেটিও আদালতের মাধ্যমে বন্ধ করা হলে তারা ‘ফেউ থাই পার্টি’ (Pheu Thai Party) গঠন করে। থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত বর্তমানে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এবং ফেউ থাই পার্টি থাইল্যান্ডের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল হিসেবে স্বাভাবিক রাজনীতি পরিচালনা করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯৬০): আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC)
প্রেক্ষাপট ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা: ১৯৬০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী (Apartheid) সরকার কৃষ্ণাঙ্গদের রাজনৈতিক অধিকার ও আন্দোলনকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিতে ‘আনলফুল অর্গানাইজেশন অ্যাক্ট’ পাস করে। এর মাধ্যমে নেলসন ম্যান্ডেলার দল ‘আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ (ANC)-কে রাষ্ট্রদ্রোহী ও সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়। ম্যান্ডেলাসহ শীর্ষ নেতাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এটি ছিল বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে কুখ্যাত ও অন্যায় রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার একটি।
স্বাভাবিক রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ ৩০ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর, আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্ণবাদী সরকার ANC-এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়। নেলসন ম্যান্ডেলা মুক্তি পান। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে প্রথম মুক্ত ও বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ANC বিপুল ভোটে জয়ী হয় এবং নেলসন ম্যান্ডেলা দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আজ অবধি ANC দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
মিশর (২০১১/২০১২): মুসলিম ব্রাদারহুড এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (FJP)
প্রেক্ষাপট ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা: হোসনি মোবারকের দীর্ঘ ৩০ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে মিশরের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-কে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও দমন করে রাখা হয়েছিল। ২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’ বা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোবারকের পতনের পর এই নিষেধাজ্ঞা অবান্তর হয়ে পড়ে।
স্বাভাবিক রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন: স্বৈরাচারের পতনের পর দলটি ‘ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি’ (FJP) নামে একটি বৈধ রাজনৈতিক দল গঠন করে স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরে আসে। ২০১২ সালের মিশরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এই দলটি জয়লাভ করে এবং মোহাম্মাদ মুরসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। (দ্রষ্টব্য: ২০১৩ সালে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে দলটিকে পুনরায় নিষিদ্ধ করা হয়, যা আজ অবধি বিদ্যমান। তবে ২০১১ সালের প্রত্যাবর্তনটি প্রমাণ করে যে স্বৈরাচারের পতনের পর নিষিদ্ধ দল কীভাবে দ্রুত মূলধারায় ফিরে আসতে পারে।)
অন্যায় নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রভাব
গবেষণা ও রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিপক্ষ দমনের উদ্দেশ্যে যখন কোনো রাষ্ট্র অন্যায়ভাবে দল নিষিদ্ধ করে, তখন সমাজে এবং রাষ্ট্রে তিনটি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে:
┌────────────────────────────────────────────────────────┐
│ অন্যায়ভাবে দল নিষিদ্ধকরণের কুফল │
└───────────────────────────┬────────────────────────────┘
│
┌───────────────────────┼───────────────────────┐
▼ ▼ ▼
আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি জনগণের সহানুভূতি ও আদালতের প্রতি
ও চরমপন্থার জন্ম ভোটব্যাংক বৃদ্ধি জনআস্থা চিরতরে হ্রাস
-
আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি ও চরমপন্থা: কোনো জনপ্রিয় দলকে আইনি প্রক্রিয়ায় বাইরে ঠেলে দিলে তার সমর্থকরা গোপন বা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ রাজনীতি এবং অনেক সময় সহিংস চরমপন্থার পথ বেছে নেয়।
-
জনগণের সহানুভূতি বৃদ্ধি: অন্যায় নিষেধাজ্ঞার শিকার দলগুলো জনগণের চোখে “ভিকটিম” বা মজলুম হিসেবে আবির্ভূত হয়, যা তাদের ভোটব্যাংক ও নৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।
-
বিচার বিভাগের ওপর আস্থাহীনতা: যখন আদালতকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন করা হয়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়।
ইতিহাস প্রমাণ করে, রাজনৈতিক দল কোনো জড় বস্তু বা দালানকোঠা নয় যে আদালতের একটি হাতুড়ির ঘায়ে তা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। রাজনৈতিক দল হলো একটি আদর্শ এবং তার পেছনে থাকা কোটি মানুষের জনসমর্থন। যখন কোনো শাসক আইন ও আদালতের অপব্যবহার করে অন্যায়ভাবে তার প্রতিপক্ষকে নিষিদ্ধ করে, তখন তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য। দক্ষিণ আফ্রিকার এএনসি থেকে শুরু করে থাইল্যান্ডের ফেউ থাই পার্টির ইতিহাস আমাদের এই সত্যই স্মরণ করিয়ে দেয় যে—গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার মালিক কোনো আজ্ঞাবহ ট্রাইব্যুনাল বা স্বৈরাচারী শাসক নয়, বরং দেশের সাধারণ জনগণ।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে দল নিষিদ্ধকরণ ও মূলধারায় প্রত্যাবর্তনের চিত্র
| ক্রম | দেশ | দলের নাম | নিষিদ্ধের কারণ (তৎকালীন সরকারের অজুহাত) | নিষিদ্ধ প্রক্রিয়া | সে দলের ফিরে আসা (প্রত্যাবর্তনের রূপ) |
| ১. | দক্ষিণ আফ্রিকা | আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC) | শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, বর্ণবাদ বিরোধিতা ও “সন্ত্রাসবাদ” ছড়ানোর অভিযোগ। | ১৯৬০ সালে ‘আনলফুল অর্গানাইজেশন অ্যাক্ট’-এর অধীনে সরকারি নির্বাহী আদেশ ও বর্ণবাদী আদালতের মাধ্যমে। | দীর্ঘ ৩০ বছর পর ১৯৯০ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়। ১৯৯৪ সালের প্রথম বহুদলীয় অবাধ নির্বাচনে জয়ী হয়ে নেলসন ম্যান্ডেলা প্রেসিডেন্ট হন। |
| ২. | তুরস্ক | ভার্চু পার্টি (Fazilet Partisi) | ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকাঠামো বিরোধী কর্মকাণ্ড এবং পূর্বে নিষিদ্ধ হওয়া ‘রেফাহ পার্টি’র ছায়া সংগঠন হিসেবে কাজ করা। | ২০০১ সালে তুরস্কের সামরিক-নিয়ন্ত্রিত সাংবিধানিক আদালতের (Constitutional Court) বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে। | দলের নেতারা ২০০১ সালেই ‘একে পার্টি’ (AKP) গঠন করেন। ২০০২ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আজ পর্যন্ত তুরস্কের ক্ষমতায় রয়েছে। |
| ৩. | থাইল্যান্ড | থাই রাক থাই (TRT) | ২০০৬ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দলটির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন ও রাজতন্ত্রের অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। | ২০০Map সালে থাই সামরিক জান্তা কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষ সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের রাজনৈতিক আদেশে। | সমর্থকরা প্রথমে PPP এবং পরে ‘ফেউ থাই পার্টি’ (Pheu Thai) গঠন করে। বর্তমানে এই দলটিই থাইল্যান্ডের প্রধান ক্ষমতাসীন দল। |
| ৪. | ব্রাজিল | ব্রাজিলিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি (PCB) | স্নায়ুযুদ্ধের শুরুতে বামপন্থী শক্তির উত্থান ঠেকাতে এবং “বিদেশী/সোভিয়েত আদর্শ” প্রচারের অজুহাতে। | ১৯৪৭ সালে সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্টের (TSE) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়ের মাধ্যমে। | ১৯৮৫ সালে সামরিক একনায়কতন্ত্রের পতন হলে ১৯৮৮ সালের নতুন সংবিধানে দলটি পুনরায় বৈধতা পায় ও মূলধারার রাজনীতিতে ফেরে। |
| ৫. | দক্ষিণ কোরিয়া | প্রোগ্রেসিভ পার্টি (Jinbo-dang) | তৎকালীন স্বৈরশাসক সিংম্যান রি-র প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ঠেকাতে “উত্তর কোরিয়াপন্থী ও রাষ্ট্রদ্রোহী” তকমা দেওয়া হয়। | ১৯৫৮ সালে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয় এবং এর প্রধানকে ক্যাঙ্গারু কোর্টের (প্রহসনের বিচার) মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড |
