ঢাকা ফেনী মিরশ্বরাই সীতাকুন্ড ও উরিরচর ভ্রমণ পরিকল্পনা
যদি আপনার বাংলাদেশের জনপ্রিয় ভ্রমণস্থানগুলো দেখা হয়ে যায়। যেমন কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, সাজেক, সুন্দরবন, সিলেট, শ্রীমঙ্গল ইত্যাদি স্থান ঘোরা শেষ অথবা দেখা হয়নি তাতেও সমস্যা নেই। আপনি ঢাকা থেকে খুব বেশী দূরে নয় আবার ঢাকার নিকটেও নয় এমন একটি ভ্রমণ করতে পারেন ফেণী, মিরশ্বরাই ও সীতুাকুন্ডে।
অনেকে জানে না যে শুধু মিরশ্বরাইতে আছে ৯টি ঝর্ণা। কিন্তু ৮টি কিছুটা দূর্গম। তবে মহামায়া লেক ও ঝর্ণা মহাসড়ক থেকে সবচেয়ে কাছে। আর সীতাকুন্ডে রয়েছে ২টি বিখ্যাত স্থান। ইকোপার্ক ও গুলিয়াখালি। একটি পাহাড় অন্যটি সমূদ্র।
সীতাকুন্ড ইকোপার্ক প্রায় ৬ কিলোমিটার ভেতরে রাস্তা আছে। এটা পুরোটা দেখতে ১ দিন লাগে। কারণ এর ভেতরে ২টি ঝর্ণা আছে। ১টি আবার শুধু বর্ষায় পানি থাকে। তবে ভেতরে চন্দ্রনাথ মন্দির পর্যন্ত না গেলে আপনি আধা দিনে একটা দেখতে পারবেন। অবশ্য গুলিয়াখালি যা বাংলাদেশের একমাত্র সবুজ ঘাষের বীচ এখানে দেখার জন্য বিকালবেলা উপযুক্ত। এখানে সারাদিনের দরকার নেই। আধাবেলাও নয়। কিছু সময় যথেষ্ঠ।
তাই আপনি যদি পরিবার নিয়ে যান এবং মিরশ্বরাই এর দূর্গম ঝর্ণাগুলো তালিকা থেকে বাদ দেন। তাহলে আশপাশের কিছু জায়গা দেখতে পারেন যেমন- রামগড়, এটা মিরশ্বরাই এর আগে, বরাইয়ার হাট দিয়ে খাগড়াছড়ির দিকে গেলে। মিরশ্বরাই এবং সীতাকুন্ডু যেমন চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে পড়ছে এটা আবার খাগড়াছড়ির অংশ। এখানে পার্বত্যজেলার পূর্ণ অনুভূতি পাবেন।
আপনি এখানে কোনো সুন্দর থাকার জায়গা পাবেন না। তাই থাকার জন্য বেচে নিতে পারেন। মিরশ্বরাই থেকে নিকটে শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা। বাঁশ দিয়ে বানানো অসাধারণ এক রিসোর্ট। এখানে আরো ২টি ভ্রমণস্থান আপনার ২ দিনের ভ্রমণে চলতি পথে যুক্ত করতে পারেন একটি হলো শমসের গাজীর সুড়ঙ্গ। যা আপনাকে গা ছম ছম ইতিহাসের শিহরণ দিবে অন্যটি হলো মুহুরী প্রকল্প। জাপানি প্রযুক্তি ও সহযোগিতায় এই সেচ ও মৎস্য প্রকল্পের বাড়তি আকর্ষণ হলো বাংলাদেশের প্রথম উইন্ডমিলগুলো। যে ধরনের বায়ুকল ইউরোপে দেখেছেন সেগুলো দেখতে পাবেন এখানে।
ফেনী, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম এই তিন জেলা ভ্রমণের পর বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে আমি সাজেস্ট করলাম উরির চর। তালাশের মনজুরুল করিম এটাকে বাংলাদেশের ভূস্বর্গ বলেছেন। আমি নিচে সবগুলো স্থানের ভিডিও লিংক শেয়ার করেছি।
এখানে থাকার জন্য বাঁশের কেল্লা সাজেস্ট করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে রয়েছে ফেণী শহর, বারইয়ার হাট ও কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের ভিটা ওয়াল্ড। যেখানেই থাকুন সময় ও সফরসূচী পরিবর্তন না করেই ঘুরতে পারবেন। ভিটা ওয়াল্ডে থাকলে জগন্নাথ দিঘীর পাড়ের কলিজার বিরিয়ানী নেহাৎ ১ কাপ চা হলেও খাবেন। আর যদি বাঁশের কেল্লা থাকেন তাহলে যেতে পারেন ছাগলনাইয়া বর্ডার হাটে।
**** সবগুলো স্থানের ইউটিউব ভিডিও লিংক রয়েছে নিচে। চলুন শুরু করা যাক-
প্রথম দিন: বৃহস্প্রতিবার: রামগড়, মিরাশ্বরাই ও মুহুরী প্রজেক্ট দেখা
শুভযাত্রা: ঢাকা থেকে ভোর ৭টা
সকালের নাস্তা: কুমিল্লা: সকাল ৯টা
ফেনী বাঁশের কেল্লা উপস্থিত: সকাল ১০টা
বাঁশের কেল্লা থেকে রামগড়ের উদ্দেশ্য রওনা: সকাল ১০টা – ১০টা ৩০
রামগড় অবস্থান: সকাল সাড়ে ১০টা ৩০ থেকে ১২ টা-৩০
রামগড় থেকে মহামায়া লেকের উদ্দ্যেশে যাত্রা: ১২:৩০ টা-১টা
দুপুরের খাবার বিশ্রাম: ১টা থেকে ২টা
মহামায়া লেক ভ্রমণ: ২টা থেকে ৪টা
মহামায়া থেকে মহুরী প্রজেক্টে যাত্রা: ৪টা থেকে- ৪টা ৩০ মিনিট
মুহুরী প্রজেক্টে অবস্থান: ৪টা ৩০ থেকে ৬টা ৩০। (সূর্যাস্ত দেখে ফেরা)
বাঁশের কেল্লায় রাত্রি যাপন।
দ্বিতীয় দিন: সীতাকুন্ড ইকোপার্ক ও গুলিয়াছড়া (সবুজ বীচ) দেখা
সকাল ৭টা: শমসের গাজীর সুড়ঙ্গ দর্শণ ( বাঁশের কেল্লা থেকে পায়ে হেঁটে)
সকাল ৮টা: সকালের নাস্তা
সকাল ৯টায় সীতুাকুন্ডের উদ্দ্যেশ্যে রওনা
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা সীতাকুন্ড ভ্রমণ (৪ ঘন্টা)
দুপুর ২টা থেকে ৩টা: খাবার ও বিশ্রাম
বিকাল ৩টা থেকে ৩টা ৩০- গুলিয়াছড়া (সবুজ ঘাসের বিচ) এর উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা
বিকেল বেলা বিচে কাটিয়ে সূর্যাস্ত দেখে ঢাকায় ফেরা।
তৃতীয় দিন: অতিরিক্ত ১ দিন ( যদি থাকেন): বিশেষ ভ্রমণ- উরির চর নোয়াখালী
সকালে নাস্তা করে উপকূলের উদ্দ্যেশ্যে রওনা: সকাল ৯টা
উপকূলে পৌঁছা: সকাল ১০টা ৩০
ট্রলারে উঠা: ১১টা, উরিরচর পৌঁছা ১১টা ৩০
ঘোরা খাওয়া দাওয়া: বিকেল ৪টা
উপকূলে পৌঁছা: বিকেল ৫টা
নোয়াখালীর উপকূল থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে রওনা:৬টা
করনীয়
• বাঁশের কেল্লা খালি আছে কিনা খবর নিতে হবে।
• ইকোপার্কে গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে কিনা খবর নিতে হবে।
• উরির চরে খাবার ও অন্যান্য কি ব্যবস্থা আছে। খবর নিতে হবে।
নোট: * বর্তমানে বাঁশের কেল্লায় বুকিং হচ্ছে না। তাই থাকার জন্য ফেনী শহর, বারইয়ার হাট অথবা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থাকা হাইওয়ে হোটেলগুলো বেছে নিতে পারেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
১) ভাল স্মৃতি রাখার জন্য ড্রোন নিয়ে যেতে ভুলবেন না।
২) উরির চর যাওয়ার পথে ঘাটে গাড়ি রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে।
স্থানগুলো ভিডিও লিংক (ইউটিউব)
১। শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা: https://www.youtube.com/watch?v=gXA5j8djbcs
২। শমসের গাজীর সুঙ্গ: https://www.youtube.com/watch?v=7tRywimPRpY
৩। মহামায়া লেক মিরশ্বরাই: https://www.youtube.com/watch?v=ABFjOkolfUE
৪। রামগড় ভ্রমণ: https://www.youtube.com/watch?v=CNqdTKtL3Do
৫। সীতাকুন্ড ইকোপার্ক: https://www.youtube.com/watch?v=eg7TfRvjwdE
৬। গুলিয়াখালী সবুজ ঘাসের বীচ: https://www.youtube.com/watch?v=CBTkKWyz0ks
৭। মুহুরী প্রজেক্ট ফেণী: https://www.youtube.com/watch?v=VoaKLIeRO7w
৮। উরির চর নিয়ে মনজুরুল করিমের ভিডিও: https://www.youtube.com/watch?v=rk8mYp2AuEU&t=436s
৯। ভিটা ওয়াল্ড রিজোর্ট: https://www.youtube.com/watch?v=50ZBF44Rb1g
১০। বাংলাদেশ ভারত বর্ডার হাট: ছাগলাইয়া, ফেণী: https://www.youtube.com/watch?v=DWsFwkMW1Hc
যদি ৩ দিনের ভ্রমণকে ২ দিনে আনা হয়: তাহলে যেভাবে হবে।
প্রথম দিন: রামগড়, মিরাশ্বরাই ও মুহুরী প্রজেক্ট দেখা
শুভযাত্রা: ঢাকা থেকে ভোর ৫টা
সকালের নাস্তা: কুমিল্লা: সকাল ৭টা
ফেনী বাঁশের কেল্লা উপস্থিত: সকাল ৮টা
বাঁশের কেল্লা থেকে রামগড়ের উদ্দেশ্য রওনা: সকাল ৮টা – ৮টা ৩০
রামগড় অবস্থান: সকাল সাড়ে ৮টা ৩০ থেকে ১০ টা
রামগড় থেকে মহামায়া লেকের উদ্দ্যেশে যাত্রা: ১০:টা টা-১০:৩০টা
মহামায়া লেক ভ্রমণ: ১০টা ৩০ থেকে ১২:৩০ টা
দুপুরের খাবার বিশ্রাম: ১২:৩০টা থেকে ২টা
মহামায়া থেকে সীতাকুন্ড ইকোপার্ক যাত্রা: ২টা থেকে- ২টা ৩০ মিনিট
ইকোপার্ক দেখা: ২টা ৩০: ৪টা ৩০ ( ২ঘন্টা)
পার্ক থেকে গুলিয়াখালির উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা: ৪টা ৩০-৫টা
গুলিয়াখালিতে অবস্থান: ৫টা থেকে ৬টা ৩০ ।। গুলিয়াছড়া (সবুজ বীচ) দেখা
গুলিয়াখালি থেকে বাঁশের কেল্লা আসা: ৬টা ৩০ থেকে ৭টা ৩০।
বিশ্রাম ও রাতের খাবার এবং বাঁশের কেল্লায় রাত্রি যাপন।
দ্বিতীয় দিন: মুহুরী প্রজেক্ট ও উরির চর ভ্রমণ
সকাল ৭টা: শমসের গাজীর সুড়ঙ্গ দর্শণ (বাঁশের কেল্লা থেকে পায়ে হেঁটে)
সকাল ৮টা: সকালের নাস্তা
সকাল ৯টায় উরির চরের উদ্দ্যেশ্যে রওনা
সকাল ১০টা : ঘাটে পৌছা
বেলা ১১টা: উরির চর পৌছা
১১টা থেকে ৩টা: খাওয়া ও ঘোরা
বেলা ৩টা: উরির চর থেকে ফেরা
বিকেল ৪টা: ঘাট থেকে মুহুরী প্রজেক্ট এর উদ্যেশ্যে রওনা
বিকেল ৫টা থেকে ৬টা ৩০ : মুহুরী প্রজেক্টে অবস্থান
৬টা ৩০: ঢাকার উদ্যেশ্যে রওনা
নোট
* অথবা আগে মুহুরী প্রজেক্ট পরে উরির চর
* শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে এই সূচী মেনে চলা সম্ভব
ধন্যবাদ
ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

