টিকা নেওয়া জরুরি কেন?
প্রতিটি জীবই রোগ-বালাইয়ের শিকার হতে পারে। অনেক সময় রোগ নিজেই সেরে যায়। কিন্তু এটি আমাদের শরীরের অদৃশ্য শক্তির কাজ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই শক্তিকে বলা হয় অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি। অর্থাৎ, আমাদের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রোগের সঙ্গে লড়াই করে। একে শরীর নিজেই তৈরি করে এবং এর ফলে জীবাণু প্রবেশ করলে তা প্রতিহত হয়।
প্রতিটি ভাইরাস আলাদা ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। মজার ব্যাপার হলো, অনেক রোগ একবার হলে জীবনভর প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। যেমন গুটিবসন্ত, হাম এবং জলবসন্ত। এই রোগগুলো একবার আক্রান্ত হলে দ্বিতীয়বার হয় না। কারণ, সেই রোগের জীবাণুই শরীরে স্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ বাকি জীবন এই রোগগুলো থেকে সুরক্ষিত থাকে। এটি একটি প্রাকৃতিক, প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ঘটনা।
তবে সব রোগই এমন নয়। সর্দি-জ্বরের মতো কিছু রোগ বারবার হতে পারে। এসব রোগের জীবাণু শরীরে স্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে না। এ কারণে, কৃত্রিমভাবে মানুষকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজন হয়। এর জন্য ব্যবহৃত হয় টিকা বা ভ্যাকসিন। টিকা এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে রোগের ভাইরাস খুবই দুর্বল বা মৃত অবস্থায় থাকে। ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলেও তা মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে না। তবে এটি সীমিতভাবে রোগের বৈশিষ্ট্য শরীরে সৃষ্টি করে।
টিকা গ্রহণের ফলে শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়। এন্টিবডি হলো বিশেষ প্রোটিন, যা শরীরকে রোগ প্রতিরোধে সক্ষম করে। ভ্যাকসিনের মাধ্যমে গঠিত এন্টিবডি মানুষের জীবনকে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দেয়। টিকা রোগ জীবাণু সরাসরি বা পশু থেকে প্রস্তুত করা যেতে পারে। তবে তা সব সময় মৃত বা দুর্বল অবস্থায় ব্যবহার করা হয়, যাতে শরীর নিরাপদে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে।
টিকাদান শুধুমাত্র ব্যক্তিকে নয়, সমাজকেও সুরক্ষিত রাখে। যখন বেশিরভাগ মানুষ টিকা গ্রহণ করে, তখন ভাইরাস ছড়ানো কমে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য রোগের ঝুঁকি কমে এবং মহামারী প্রতিরোধ সম্ভব হয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে টিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুকে মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করে এবং সুস্থ জীবনের ভিত্তি গড়ে।
সংক্ষেপে, টিকা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করি, স্থায়ী সুরক্ষা পাই এবং সমাজকে স্বাস্থ্যকর রাখি। এটি এক প্রকার বিজ্ঞানের আশীর্বাদ, যা মানুষের জীবনযাত্রাকে নিরাপদ ও সুস্থ করে তোলে। তাই প্রতিটি মানুষকে সময়মতো টিকা গ্রহণ করা উচিত।

