Act, Law
High Court of Bangladesh

টাকা গ্রহণের স্বীকারোক্তী দলিল

টাকা গ্রহণের স্বীকারোক্তী/অঙ্গীকারনামা দলিল

নিচের দলিলটি একটি টাকা ধার দেওয়া এবং নেওয়ার স্বীকারোক্তিমূলক চুক্তিপত্রের নমুনা। এটি ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক লেনদেনের সময় আইনী জটিলতা এড়াতে এবং উভয় পক্ষের দায়িত্ব ও অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। মনে রাখবেন, এটি একটি সাধারণ নমুনা; কোনো বড় বা জটিল লেনদেনের আগে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অঙ্গীকারনামা

নাম: মোঃ সাকিব হাসান, পিতা: মোঃ রফিকুল ইসলাম, ঠিকানা: ১২/ক, তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। জাতীয়তা: বাংলাদেশী, ধর্ম: ইসলাম, পেশা: ব্যবসা।
—————– ১ম পক্ষ/ টাকার মালিক।

নাম: মোঃ আসলাম উদ্দিন, পিতা: মোঃ করিম উদ্দিন, ঠিকানা: ৪৫, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা। জাতীয়তা: বাংলাদেশী, ধর্ম: ইসলাম, পেশা: ব্যবসা।
—————— ২য় পক্ষ / স্বীকারোক্তীকারী।

পরম করুণাময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে এই টাকা গ্রহণের স্বীকারোক্তী/অঙ্গীকারনামা দলিলের বর্ণনা শুরু করলাম। যেহেতু আমি, ২য় পক্ষ, একজন ব্যবসায়ী এবং বর্তমানে আমার ব্যবসা পরিচালনার জন্য নগদ টাকার একান্ত প্রয়োজন হওয়ায়, আমি ১ম পক্ষের কাছ থেকে নগদ টাকা ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য চাই। এর প্রেক্ষিতে আপনি, ১ম পক্ষ, প্রতি মাসে ৪% হারে ৪,০০০/- (চার হাজার) টাকা মুনাফা দিতে আমি রাজি আছি। এই শর্ত অনুযায়ী, আজকের এই দিনে, হাজির মজলিসে নিচে স্বাক্ষরকারী সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আমি, ২য় পক্ষ, আপনি ১ম পক্ষের কাছ থেকে উপর্যুক্ত নগদ টাকা এককালীন বুঝে নিলাম।

শর্তাবলী সমূহঃ-

১) এই চুক্তিনামা দলিল আজ ২১/০৮/২০২৫ ইং তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

২) উক্ত ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকার উপর ব্যবসায়িক লাভের অংশ হিসেবে আমি, ২য় পক্ষ, প্রতি মাসে ৪,০০০/- (চার হাজার) টাকা ১ম পক্ষকে দিতে বাধ্য থাকব।

৩) আমি, ২য় পক্ষ, আমার নেওয়া ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকার আসল পরিশোধের জন্য বাধ্য থাকব। ১ম পক্ষ টাকা চাওয়ার ১ (এক) মাসের নোটিশ দেবেন এবং তার পরের মাসের মধ্যে আমাকে সমস্ত টাকা (আসল + বকেয়া মুনাফা) একসাথে ফেরত দিতে হবে।

৪) আমি, ২য় পক্ষ, চাওয়ার সময়ের মধ্যে যদি উক্ত টাকা পরিশোধ না করি, তাহলে আপনি, ১ম পক্ষ, উক্ত টাকার বিনিময়ে সমপরিমাণ মূল্যের আমার যে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ (যেমন: জমি, গাড়ি, দোকানের মালিকানা ইত্যাদি) দখল বা বিক্রি করে টাকা আদায় করার অধিকার রাখবেন। এতে আমি, ২য় পক্ষ, কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি করতে পারব না। করলেও তা অগ্রাহ্য বা বাতিল বলে গণ্য হবে।

৫) যদি আমি, ২য় পক্ষ, ধারকৃত টাকার মুনাফা পরিশোধে ৩ (তিন) মাস ধারাবাহিক ভাবে ব্যর্থ হই, তাহলে ১ম পক্ষ চুক্তি খারিজ করে সরাসরি সমস্ত টাকা (আসল + বকেয়া মুনাফা) ফেরত চেয়ে নোটিশ দিতে পারবেন।

৬) এই চুক্তিনামা দলিল আমাদের উভয় পক্ষের অবর্তমানে আমাদের স্থলাভিষিক্ত ওয়ারিশদের মধ্যেও বলবৎ থাকবে।

এতদ্ব্যতীত, স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ শরীরে ও সরল মনে অন্যের কোনো প্ররোচনা ছাড়াই এই টাকা গ্রহণের স্বীকারোক্তী/অঙ্গীকারনামা দলিল পড়ে এবং পড়িয়ে এর মর্মার্থ ভালোভাবে বুঝে উপস্থিত স্বাক্ষরকারী সাক্ষীদের সামনে আমি এই চুক্তিনামা দলিলে নিজের নাম সহি ও স্বাক্ষর করলাম।

ইতি, তারিখ: ২১/০৮/২০২৫ ইং

সাক্ষীগণের স্বাক্ষর ও ঠিকানা
১. নাম: মোঃ জাহিদ হাসান
ঠিকানা: ৭৮, কলাবাগান, ঢাকা
স্বাক্ষর: ………………………..

২. নাম: মোঃ আলমগীর হোসেন
ঠিকানা: ৩৩, মহাখালী, ঢাকা
স্বাক্ষর: ………………………..

২য় পক্ষের স্বাক্ষর
নাম: মোঃ আসলাম উদ্দিন
স্বাক্ষর: ………………………..
(সহি)

পরামর্শ

  • সাক্ষী: সর্বদা দু’জন বিশ্বস্ত এবং সুনামধারী ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখুন, যাদের সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। সাক্ষীদের পুরো ঠিকানা ও ফোন নম্বর নথিভুক্ত করুন।

  • স্ট্যাম্প: দলিলের আইনী গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য এটি একটি উপযুক্ত মূল্যের non-judicial স্ট্যাম্প পেপারে লেখা এবং ১ম পক্ষের দ্বারা তা স্ট্যাম্প করা উচিত।

  • নোটারি পাবলিক: সম্ভব হলে দলিলটি একজন নোটারি পাবলিকের সামনে attestation করিয়ে নিন। এটি দলিলের সত্যতা প্রমাণে খুবই শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

  • কপি সংরক্ষণ: দলিলের দু’টি অভিন্ন কপি তৈরি করে উভয় পক্ষ নিজ নিজ কপি সংরক্ষণ করুন। প্রতিটি পাতায় উভয় পক্ষের স্বাক্ষর বা আঙ্গুলের ছাপ (thumb impression) থাকা ভালো।

  • পরিষ্কার ভাষা: শর্তগুলো যাতে অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধক না হয়, সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিন নিন।

নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply