লবণ

জীবজন্তুরা লবণ খেতে পছন্দ করে কেনো

মানুষসহ প্রত্যেক জীবজন্তুই লবণ খেতে খুব পছন্দ করে। এটা প্রাণিজগতের একটি মস্ত বড় রহস্য।

আমরা জানি, মানুষ হাজার হাজার বছর আগে থেকেই খাবারের সাথে লবণ খেয়ে আসছে। লবণ কোনো মিষ্টি দ্রব্য নয়। কিন্তু তবু অনেক বস্তুই লবণ না মেশানো হলে মানুষ তা খেতে পারে না। এর রহস্য কি?

কাউকে যদি লবণবিহীন খাদ্য দেয়া হয়, তাহলে দেখা যাবে অচিরেই সে লবণের জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে।
মানুষ কেন লবণ খায় তার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মানুষসহ অন্যান্য জীবজন্তুর দেহে যে তরল অংশ রয়েছে সেটি মূলত লবণগোলা জল।

কিন্তু আমাদের শরীর থেকে প্রতিদিনই প্রস্রাব, ঘাম ইত্যাদির মাধ্যমে এই তরল অংশ বের হয়ে যাচ্ছে। শরীরে জল ও লবণের ঘাটতি পড়ছে।

সমুদ্রের জলে প্রচুর পরিমাণে লবণ আছে, কিন্তু স্থল ভূমিতে তুলনামূলকভাবে লবণের পরিমাণ অনেক কম।

স্থলভূমির গাছপালায় কোনো লবণ নেই। তা ছাড়া স্থলভূমিতে যে সামান্য লবণ আছে, তাও প্রতিদিন বৃষ্টিতে ধূয়ে নদীর জলের সাথে গিয়ে মিশে যাচ্ছে সাগরে।

এই যে আজকের ডাঙার প্রাণীরা- এদের পূর্বপুরুষেরাতো একদিন সাগরেই বাস করতো। বহু কোটি বছর আগে সাগর থেকে কিছু প্রাণী উঠে আসে ডাঙায়। তারপর থেকেই তারা হয়ে গেছে ডাঙার প্রাণী। কিন্তু ডাঙায় চলে এলেও তাদের শরীরে এখন সাগরের নোনা জল বয়ে গেছে।

কিন্তু ডাঙার উদ্ভিদ কিংবা মাটি কেউ তাকে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহ করতে পারছে না। এজন্যই মানুষসহ জীবজন্তু সকল লবণ খেতে ভালোবাসে। লবণ খেয়ে তারা দেহে লবণের খাটতি পূরণ করতে চায়।

যেসমস্ত প্রাণী মাংস খায়, তারা কিন্তু আলাদা লবণ খেতে চায় না। কারণ প্রাণীর দেহে যে লবণ থাকে, মাংসের সাথে তারা সেই লবণও গ্রহণ করে। কিন্তু তৃণভোজীরা লবণ পায় না। কারণ উদ্ভিদের দেহে লবণ নেই। তাই তৃণভোজী প্রাণীরাই লবণ খেতে বেশি ভালোবাসে। অতিরিক্ত লবণ খেয়ে তারা শরীরের লবণের খাটতি পূরণ করতে চায়।

মানুষ তৃণ ও মাংস দুটোই খায়। কিন্তু তৃণের ভাগ বেশি খায়। তাই মানুষকে খাবারের সাথে অতিরিক্ত লবণ মিশিয়ে খেতে হয়।

ভবেশ রায়

সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply