new Bangladesh

প্রশাসনিক রাজতন্ত্র থেকে জনগনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা

বাংলাদেশ: প্রশাসনিক রাজতন্ত্র থেকে জনগনের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রুপান্তর

 

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭১ সালে অভ্যুদয় ঘটলেও, এর প্রশাসনিক কাঠামো আজও বহুলাংশে ঔপনিবেশিক ধারাকে বহন করে চলেছে। ব্রিটিশ শাসনামলে গড়ে ওঠা সেই প্রশাসনিক কাঠামো ছিল শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ এবং প্রজাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার। পাকিস্তানি আমলে সেই কাঠামো আরও সুসংহত হয়। স্বাধীনতার পর পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও, আমরা এখনও সেই একই কেন্দ্রীভূত, আমলাতান্ত্রিক ও জনবিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছি।

বর্তমান বাংলাদেশের প্রশাসনিক বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখতে পাই, রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত প্রশাসন যন্ত্রটি ধীরে ধীরে এক ধরনের “প্রশাসনিক রাজতন্ত্র” -এ পরিণত হয়েছে। এই ধারণার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আমরা দেখি, এখানে রাজতন্ত্র মানে কোনো রাজা বা বাদশাহ নয়, বরং একটি কেন্দ্রীভূত, অজেয় ও দায়মুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো, যা জনগণের থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলেছে এবং নিজস্ব একটি রাজ্যই গড়ে তুলেছে। এই প্রশাসনিক রাজতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই:

ঢাকা-কেন্দ্রিক রাষ্ট্রচিন্তা: দেশের সকল সিদ্ধান্ত, সকল পরিকল্পনা, সকল সম্পদ বরাদ্দ – সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা। বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক এককগুলো মূলত ঢাকার নির্দেশের প্রতীক্ষায় থাকে। তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত।

সচিবালয়-কেন্দ্রিক ক্ষমতা: ঢাকা শহরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থিত সচিবালয় ভবনটি হয়ে উঠেছে দেশের প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্র। এখানে বসা কয়েকজন সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সিদ্ধান্তেই দেশের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।

আমলাদের অতি ক্ষমতাবান অবস্থান: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও অনেক সময় আমলাদের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে আমলাদের প্রভাব ও কর্তৃত্ব সর্বোচ্চ।

জনগণের সীমিত অংশগ্রহণ: প্রশাসনের কাজকর্মে জনগণের কোনো প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। নির্বাচনের সময় ভোট দেওয়া ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার অন্য কোনো পর্যায়ে সাধারণ নাগরিকের ভূমিকা থাকে না বললেই চলে।

সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা, ঘুষ ও ভোগান্তি: একটি সাধারণ নাগরিকত্ব সনদ পেতেও একজন নাগরিককে মাসের পর মাস ধরে দফতরে দফতরে ছুটতে হয়। ঘুষ ছাড়া অধিকাংশ কাজই সম্পন্ন হয় না। সরকারি দফতরে গেলে অপমান ও অবহেলা পাওয়া যায়।

দায়মুক্তি সংস্কৃতি (Impunity Culture): প্রশাসনের কোনো সদস্য যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেন বা কোনো ক্ষতি করেন, তার জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হয় না। ফাইল আটকে রাখা, সিদ্ধান্ত না নেওয়া, হয়রানি করা – এসবের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই।

এই অবস্থার পরিণতিতে রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে এক অপ্রীতিকর সত্তা, যা জনগণের জন্য নয় বরং জনগণকেই এই রাষ্ট্রযন্ত্রের বোঝা হয়ে থাকতে হয়। একজন নাগরিক যখন সরকারি সেবা পেতে যায়, তখন মনে হয় সে যেন নিজের প্রাপ্য অধিকার নিতে যাচ্ছে না, বরং কোনো দয়ালু শাসকের কাছে দরখাস্ত নিয়ে যাচ্ছে। এই মানসিকতা ও কাঠামোর পরিবর্তন না হলে প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশ কখনোই “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” -এর আদর্শে উপনীত হতে পারবে না।

এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য হলো, কীভাবে এই প্রশাসনিক রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত জনগণের রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা যায়, তার একটি বিশদ ও বিশ্লেষণাত্মক রূপরেখা উপস্থাপন করা।

১. রাষ্ট্রদর্শন: জনগণই মালিক, প্রশাসন সেবক

যেকোনো বড় সংস্কারের ভিত্তি হতে হয় একটি স্পষ্ট দার্শনিক অবস্থান। প্রশাসনিক রাজতন্ত্র থেকে জনগণের রাষ্ট্রে উত্তরণের জন্য আমাদের প্রথমেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে একটি মৌলিক রাষ্ট্রদর্শন। এই দর্শনকে সংক্ষেপে বলা যায়: “জনগণই মালিক, প্রশাসন সেবক” ।

এই দর্শনের মূল বক্তব্য হলো, রাষ্ট্র কোনো অফিস নয় যেখানে কর্মচারীরা বসে থাকবে এবং জনগণ তাদের কাছে সেবা চাইতে যাবে। বরং রাষ্ট্র হলো একটি সেবা ব্যবস্থা, যার একমাত্র লক্ষ্য হলো নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা। আমলারা কোনো শাসকগোষ্ঠী নন; তারা জনগণের বেতনভোগী কর্মচারী। তাদের অস্তিত্বের একমাত্র কারণ হলো জনগণের সেবা করা।

এই দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে রাষ্ট্র পরিচালনার তিনটি মূল নীতি নির্ধারণ করতে হবে:

প্রথম নীতি: বিকেন্দ্রীকরণ (Decentralization) – ক্ষমতা, সম্পদ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব কয়েকটি হাতে কেন্দ্রীভূত না রেখে দেশের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের উচিত তাদের নিজস্ব সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা নিজেদের হাতে থাকা।

দ্বিতীয় নীতি: জবাবদিহিতা (Accountability) – প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের প্রতিটি কর্মকর্তাকে তার কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং খারাপ কাজের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয় নীতি: জনঅংশগ্রহণ (People’s Participation) – রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু নির্বাচনের সময় নয়, বরং পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেট নির্ধারণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন – সব পর্যায়ে জনগণের মতামত গ্রহণ করতে হবে।

এই দার্শনিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আমাদের পরবর্তী সকল সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

২. সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর কাঠামো

বর্তমান সরকারের “এক-স্টপ সার্ভিস” বা “ওয়ান স্টপ সার্ভিস” ধারণাটি নীতিগতভাবে ভালো হলেও বাস্তবে তা মূলত কাগুজেই সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সেবা কেন্দ্রগুলোতে গিয়েও নাগরিকদের একাধিকবার যেতে হয়, বিভিন্ন জটিলতা পেরোতে হয়। এর মূল কারণ হলো, এই মডেলটি এখনও নাগরিককে কেন্দ্রে না রেখে প্রশাসনকে কেন্দ্রে রেখে তৈরি করা হয়েছে।

আমাদের প্রয়োজন “Service at Doorstep” বা “সেবা নাগরিকের দোরগোড়ায়” মডেল। এই মডেলের মূল কথা হলো, নাগরিককে সেবার জন্য অফিসে যেতে হবে না; বরং সেবা পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে।

২.১ Government Service Agent (GSA) মডেল

এই মডেল বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া পর্যায়ে Government Service Agent (GSA) নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এই এজেন্টরা হবে স্থানীয় তরুণ-তরুণী, যারা ডিজিটাল সেবা প্রদানে প্রশিক্ষিত। তাদের কাজ হবে:

  • স্থানীয় নাগরিকদের সরকারি সেবা পেতে সহায়তা করা

  • জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুনিবন্ধন, বিবাহ নিবন্ধনের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ

  • বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন গ্রহণ ও যাচাই

  • বিভিন্ন লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ

  • নাগরিকদের অভিযোগ সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ

  • সরকারি সেবা সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করা

এই এজেন্টরা সরকারের সরাসরি কর্মচারী না হয়ে বরং চুক্তিভিত্তিক সেবা প্রদানকারী হবেন। তাদের আয় হবে নির্দিষ্ট হারে সেবা ফি থেকে। এতে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তেমনই নাগরিকরাও সহজে সেবা পাবেন।

২.২ সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম

GSA মডেলের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে:

  • একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেরাই অনেক সেবা পেতে পারবেন

  • ২৪/৭ কল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ও সহায়তা পাওয়া যাবে

  • ফিল্ড কর্মীদের (GSA) সঙ্গে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ থাকবে

  • সেবার অবস্থা বাস্তব সময়ে (রিয়েল টাইম) জানা যাবে

এই সমন্বিত ব্যবস্থার মূলমন্ত্র হবে: “নাগরিক অফিসে যাবে না, অফিস নাগরিকের কাছে যাবে।” যখন একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি ভাতার জন্য আবেদন করতে চান, তাকে উপজেলা সদরে যেতে হবে না। তার বাড়ির পাশের GSA-র কাছে গেলেই হবে। যখন একজন মা তার সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে চান, তিনি তার মোবাইল ফোন দিয়েই সেটি করতে পারবেন। যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে কল সেন্টারে ফোন দিয়ে সমাধান পাবেন।

৩. রাজধানী স্থানান্তর ও বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা

প্রশাসনিক রাজতন্ত্রের মূল ভিত হলো ঢাকার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক কাঠামো। দেশের সকল মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। ফলে দেশের যে কোনো প্রান্তের কোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট ফাইল শেষ পর্যন্ত ঢাকায় আসে। এতে সময় ও অর্থ উভয়েরই অপচয় হয়।

৩.১ রাজধানী স্থানান্তর

এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হলো রাজধানী স্থানান্তর। ঢাকা শহর থেকে রাজধানী সরিয়ে দেশের মধ্যভাগে কিংবা অন্য কোনো কৌশলগত অবস্থানে নতুন রাজধানী শহর গড়ে তোলা প্রয়োজন। নতুন রাজধানী হবে সুপরিকল্পিত, যেখানে সকল মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকবে।

রাজধানী স্থানান্তরের সুবিধাগুলো হলো:

  • ঢাকার ওপর থেকে চাপ কমবে

  • নতুন রাজধানীকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা যাবে

  • ঢাকার আশেপাশের এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে

  • প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সূচনা হবে

  • ঢাকার পরিবেশগত সংকট কিছুটা হলেও কমবে

৩.২ বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা

রাজধানী স্থানান্তর একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। তবে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ শুরু করা যেতে পারে। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

প্রতিটি বিভাগীয় সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় থাকবে। যেমন:

  • কৃষি মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়

  • স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়

  • স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়

  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়

এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ের জন্য আলাদা সচিব নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করবেন। বিভাগীয় পর্যায়ের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এই সচিব ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর হাতে থাকবে। এর ফলে ঢাকার সচিবালয়ে ফাইলের চাপ কমবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হবে।

৪. বিভাগ–জেলা–উপজেলা পর্যায়ে প্রকৃত ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ

প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ মানে শুধু অফিস স্থানান্তর নয়, বরং প্রকৃত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ। প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরের জন্য সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে।

৪.১ স্তরভিত্তিক ক্ষমতা বণ্টন কাঠামো

বিভাগ পর্যায়ের দায়িত্ব:

  • নীতি বাস্তবায়নের তদারকি ও সমন্বয়

  • আন্তঃজেলা প্রকল্পের অনুমোদন ও তদারকি

  • জেলা পর্যায়ের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন

  • বিভাগীয় বাজেট বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা

জেলা পর্যায়ের দায়িত্ব:

  • জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

  • জেলা বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন

  • উপজেলা পর্যায়ের কর্মকাণ্ডের তদারকি

  • জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়

উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্ব:

  • নাগরিকদের সরাসরি সেবা প্রদান

  • স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন

  • স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান

  • ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম তদারকি

এই স্তরভিত্তিক ক্ষমতা বণ্টনের ফলে প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নের জন্য দায়িত্ববোধ অনুভব করবেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকায় তারা স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে পারবেন। জনগণকে আর কোনো সমস্যা নিয়ে ঢাকায় যেতে হবে না; তাদের নিজ জেলা বা উপজেলায় গিয়েই সমাধান পাবেন।

৫. আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা কমিয়ে বেসরকারি খাতে সেবা হস্তান্তর

সরকারের কাজ হলো নীতি নির্ধারণ ও তদারকি করা। কিন্তু বর্তমানে সরকার সবকিছু নিজেই করতে চায়, ফলে প্রশাসনিক কাঠামো দিন দিন ভারী ও জটিল হয়ে উঠছে। অনেক সেবা রয়েছে যেগুলো বেসরকারি খাত অনেক বেশি দক্ষতার সাথে প্রদান করতে পারে। সেই সেবাগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা প্রয়োজন।

৫.১ বেসরকারি খাতে হস্তান্তরযোগ্য সেবা

নিম্নোক্ত সেবাগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা যেতে পারে: