কিস্তিতে সিএনজি গাড়ি বিক্রয় চুক্তিপত্র
যেকোনো আর্থিক লেনদেন, বিশেষ করে কিস্তিতে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে একটি লিখিত ও আইনগতভাবে বৈধ চুক্তিপত্র থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দলিলটি কিস্তিতে একটি সিএনজি গাড়ি বিক্রয়ের জন্য তৈরি করা একটি নমুনা চুক্তি। এটি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, যা ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ বা বিভ্রান্তি এড়াতে সহায়তা করে।
বিক্রয় দলিল
প্রথম পক্ষ / বিক্রেতা:
নাম: আব্দুল করিম, পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকানা: ১২/৪, বন্দর রোড, নারায়ণগঞ্জ। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।
দ্বিতীয় পক্ষ / ক্রেতা:
নাম: রফিকুল ইসলাম, পিতা: মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ঠিকানা: ৪৫, গেন্ডারিয়া, ঢাকা। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- চাকরি।
পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়ালার নাম স্মরণ করে এই কিস্তিতে সিএনজি বিক্রয়ের দলিল শুরু করলাম। আমি প্রথম পক্ষ উক্ত গাড়িটি কিস্তিতে বিক্রির ঘোষণা দিলে আপনি দ্বিতীয় পক্ষ তা কিস্তিতে কিনতে রাজি হয়েছেন। সেই অনুযায়ী, আজকের এই মজলিশে নিচের স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে এবং নিম্নলিখিত শর্তাবলী মেনে, নারায়ণগঞ্জ-থ-১১-৫১৮৭ নম্বরের সিএনজি গাড়িটি মোট ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকায় ধার্য্য করে, ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা অগ্রিম গ্রহণ করে এবং বাকি টাকা মাসিক ১৫,০০০/- (পনের হাজার) টাকা কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে আমি বিক্রেতা গাড়িটি আপনাকে বিক্রি করলাম।
শর্তাবলী:
১. উক্ত গাড়ির অগ্রিম টাকা ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা আমি প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষের কাছ থেকে নগদ হাতে হাতে গ্রহণ করলাম এবং গাড়ির দখল দ্বিতীয় পক্ষকে বুঝিয়ে দিলাম।
২. গাড়ির বাকি ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা মাসিক ১৫,০০০/- (পনের হাজার) টাকা করে কিস্তিতে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
৩. কোনো মাসের কিস্তি পরিশোধ না করা হলে, পরের মাসের মধ্যে দুই কিস্তি একসাথে পরিশোধ করতে হবে। পরবর্তীতে সমস্ত বকেয়া কিস্তি পরিশোধ সাপেক্ষে দ্বিতীয় পক্ষ গাড়ি নিতে পারবেন। পরপর দুইটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে, প্রথম পক্ষ গাড়িটি নিজ দখলে নেওয়ার অধিকার রাখেন।
৪. গাড়ির সমস্ত টাকা পরিশোধের পর প্রথম পক্ষ গাড়ির সকল কাগজপত্র দ্বিতীয় পক্ষকে বুঝিয়ে দেবেন। তবে কিস্তি চলাকালীন সময়ে গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে দ্বিতীয় পক্ষের।
৫. গাড়িটি চালানোর সময় বা রাখার সময় কোনো ক্ষতি বা দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়দায়িত্ব দ্বিতীয় পক্ষের। প্রথম পক্ষ কোনো ধরনের ক্ষতি পূরণের দায়িত্ব বহন করবেন না। দ্বিতীয় পক্ষ নিজ খরচে গাড়িটি মেরামত করবেন।
৬. কিস্তি চলাকালীন সময়ে গাড়িটি দিয়ে কোনো অবৈধ, অসামাজিক বা অশালীন কাজ করা যাবে না। গাড়িটি হারানো বা চুরি হলে তার দায়িত্ব দ্বিতীয় পক্ষের। দ্বিতীয় পক্ষ দায়িত্ব এড়াতে চাইলে প্রথম পক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখেন। কোনো প্রকার প্রতারণার চেষ্টা করলে তা দণ্ডনীয় offense হিসেবে গণ্য হবে।
৭. কিস্তি পরিশোধের রসিদ প্রথম পক্ষকে প্রতি কিস্তি-এর বিপরীতে দিতে হবে এবং উভয় পক্ষই এর একটি করে কপি সংরক্ষণ করবেন।
৮. গাড়িটি শুধুমাত্র বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক দ্বারা চালিত হতে হবে এবং সর্বদা বৈধ দস্তাবেজ সঙ্গে রাখতে হবে।
এতদ্ব্যতীত, আমরা উভয় পক্ষ স্বেচ্ছায়, সুস্থ মস্তিষ্কে, সুস্থ শরীরে, সরল মনে, কারোর প্ররোচনা ছাড়াই এই দলিলটি পড়ে, পড়িয়ে শুনে এবং এর মর্ম সম্পূর্ণরূপে বুঝে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এই বিক্রয় দলিলটি সাক্ষর করলাম।
ইতি, তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০২৩
সাক্ষীগণ:
১. নাম: মোঃ সেলিম, ঠিকানা: ৩৪, টেম্পল রোড, নারায়ণগঞ্জ
২. নাম: কামরুল হাসান, ঠিকানা: ৫৬, ভূইঁয়া পাড়া, নারায়ণগঞ্জ
৩. নাম: নাসির উদ্দিন, ঠিকানা: ৭৮, লঞ্চঘাট রোড, নারায়ণগঞ্জ
_________________
১ম পক্ষ / বিক্রেতার স্বাক্ষর
_________________
২য় পক্ষ / ক্রেতার স্বাক্ষর
পরামর্শ:
-
এই ধরনের চুক্তি করার আগে গাড়ির সকল কাগজপত্র (ফিটনেস, ট্যাক্স, insurance, permit ইত্যাদি) যাচাই করে নিন।
-
সম্ভব হলে কোনো আইনজীবীর সহায়তা নিয়ে দলিলটি Review করে নিন।
-
কিস্তির টাকা পরিশোধের পর receipt বা স্বীকৃতিপত্র নিতে ভুলবেন না।
-
গাড়িটি একটি reputable mechanic দিয়ে check করিয়ে নেওয়া উত্তম।
-
চুক্তির একটি কপি উভয় পক্ষের কাছে এবং সাক্ষীদের কাছে সংরক্ষণ করুন।
নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

