কম খরচে এয়ার টিকেট কেনার কৌশলগুলো
আমরা ভ্রমণ করি যখন বিশেষ করে বিদেশে ভ্রমণ করার জন্য বিমান খরচ একটি বড় ভার। বলা যায় বিমান খরচের জন্য ভ্রমণ করা কঠিন হয়ে যায়। একেতো যত ভ্রমণের দিন ঘনিয়ে আসে বিমান ভাড়া ততটাই বেড়ে যায় আবার বাংলাদেশ থেকে বিমান ভাড়া যেকোনো দেশেই অনেক বেশী। এমনকি অনলাইনে সার্চ দিলে বিভিন্ন রুটে অস্বাভাবিক ভাড়া দেখায়। কিন্তু আমরা যদি জেনে নিতে পারি কোন সময়ে টিকেটের দাম কম থাকে বা কিভাবে কোন কৌশলে কমখরচে ভ্রমণ করা যায় তাজলে কখনো কখনো তিনভাগের ২ ভাগ কমে যায়। এর মধ্যে কিছু সাধারণ বিষয় তুলে ধরা হলো-
কম খরচে এয়ার টিকেট পাওয়ার জন্য কিছু কার্যকর কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. আগেভাগে বুকিং করুন
অন্তত ৪-৮ সপ্তাহ আগে টিকেট বুক করলে সাশ্রয়ী মূল্য পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ২-৩ মাস আগে বুকিং করা ভালো। ২১ দিনের মধ্যে বুকিং করলে সবচেয়ে বেশী ভাড়া পড়ে। ফ্লাইটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে তত ভাড়া বাড়বে। তবে কখনো কখনো ফ্লাইটের কয়েকঘন্টা আগে দাম কমেও যায় অবশ্য যদি বেশী সিট খালি থাকে। যদিও এমনটা কমই হয়।
২. ফ্লেক্সিবল থাকার চেষ্টা করুন
ভ্রমণের তারিখ ও সময়ের ক্ষেত্রে নমনীয় হলে কম খরচে টিকেট পাওয়া সহজ হয়।
মঙ্গলবার ও বুধবার ফ্লাইট সাধারণত সস্তা হয়। কোনোরুপে শনিবারও কম থাকে। সাধারণত ছুটির দিনগুলো বা তার আগে পরে দাম বেশী থাকে।
৩. লো-কস্ট এয়ারলাইন্স খুঁজুন
বিজনেস বা প্রিমিয়াম এয়ারলাইন্সের বদলে বাজেট এয়ারলাইন্স ব্যবহার করুন (যেমন AirAsia, FlyDubai, IndiGo, SpiceJet ইত্যাদি)। তবে সস্তা ফ্লাইটগুলো ব্যাগেজ ক্যাপাসিটি কম থাকে। সেটা খেয়াল রাখতে হবে। এরা পানি খাওয়ার জন্যও বাড়তি টাকা নিতে পারে। মানে লো-কস্ট ফ্লাইটগুলো পানিও ফ্রি দেয়না সেটা মোটামোটি ভাল দামে বিক্রি করে।
৪. গোপন (Incognito) মোড ব্যবহার করুন
ব্রাউজারে Incognito বা Private মোড ব্যবহার করলে অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি (Dynamic Pricing) এড়ানো যায়। এছাাড়া আরো কিছু টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে। যাদের বিদেশী কার্ড থাকে তারাও অনেক সময় সেদেশের ব্যবহারকারী হিসেবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেদেশের রেট পেয়ে থাকেন।
৫. সস্তা রুট ও ট্রানজিট ফ্লাইট দেখুন
সরাসরি ফ্লাইটের বদলে এক বা একাধিক ট্রানজিট ফ্লাইট নিলে খরচ কমতে পারে। বিকল্প রুট যেমন পাশের দেশের মাধ্যমে যাওয়া সাশ্রয়ী হতে পারে। যেমন আপনি যদি সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া যান। তাহলে আগে সিঙ্গাপুর গেলে খরচ বেশী পড়বে আর আগে মালয়েশিয়া গেলে খরচ কম পড়বে। আবার আপনি মালয়েশিয়া হয়ে দেশে ফিরলে শপিং করতে ফিরতে পারবেন। কিন্তু সিঙ্গাপুর হয়ে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক সিঙ্গাপুরে বেশী বলে আপনার খরচ বেড়ে যেতে পারে।
৬. এয়ারলাইন্স ও ট্র্যাভেল সাইটের অফার দেখুন
Skyscanner, Google Flights, Momondo, Kayak ইত্যাদি ওয়েবসাইটে তুলনামূলক দাম চেক করুন। এয়ারলাইন্সের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সরাসরি চেক করা ভালো। আগে থেকে সাম্ভাব্য তারিখে বিভিন্ন সময়ে বার বার চেক করলে বাজেট প্লােইট মিলে ৈযেতেও পারে।
৭. প্রোমোশন ও ডিসকাউন্ট খুঁজুন
এয়ারলাইন্স ও ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলো মাঝে মাঝে বিশেষ ছাড় দেয়। ক্রেডিট কার্ড অফার বা লয়্যালটি পয়েন্ট ব্যবহার করে ছাড় পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন ক্লাব ও কমিউনিটির জন্যও ছাড় দেয়। ট্যুর ও ট্রাভেল ক্লাব বা কমিউনিটিতে নিনেজেকে যুক্ত করুন।
৮. ক্ষেত্র বিশেষে বাই রোড নিন
একাধিক দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আপনি বাসে ভ্রমণের সুযোগ নিতে পারেন। যেমন মালয়েশিয়া টু সিঙ্গাপুর।
৯. এয়ারপোর্ট পরিবর্তনের কথা ভাবুন
বড় শহরের বদলে কাছের ছোট এয়ারপোর্ট থেকে ফ্লাইট নিলে কম খরচ হতে পারে।
১০. মাল্টি-সিটি টিকেট নিন
একাধিক গন্তব্য একসঙ্গে প্ল্যান করলে খরচ কমতে পারে। মানে একাধিক দেশ কেসাথে ভ্রমণ করা।
এই কৌশলগুলো অনুসরণ করলে সহজেই সাশ্রয়ী মূল্যে এয়ার টিকেট পাওয়া সম্ভব!

