নব্য-সামন্তবাদের বেড়াজালে বাংলাদেশ: ঐতিহাসিক জমিদারী প্রথার আধুনিক রূপান্তর
ভূমিকা
ভূমিস্বত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সামন্তবাদ বা জমিদারী প্রথা মানব ইতিহাসের অন্যতম এক অন্ধকার অধ্যায়। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ এই অঞ্চলের মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল এক নিষ্ঠুর শাসন ও শোষণের কাঠামো। কাগজে-কলমে ১৯৫০ সালের ‘পূর্ববঙ্গ জমিদারি अधिগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন’ পাসের মাধ্যমে এই প্রথার বিলুপ্তি ঘটানো হয়েছিল। কিন্তু বাহ্যিক আধুনিকতা, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং সমাজ কাঠামোর পরিবর্তনের পরও ক্ষমতার মূল মনস্তত্ত্ব আজও সেই ঔপনিবেশিক “প্রভু-ভৃত্য” বা “জমিদার-প্রজা” সম্পর্কের মধ্যেই আটকে আছে। বিশ শতকের সেই প্রথাগত জমিদারী আজ বিলুপ্ত হলেও, একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে তা রূপ নিয়েছে “নব্য-সামন্তবাদ” (Neo-Feudalism) বা “আধুনিক জমিদারী প্রথায়”। বর্তমান সমাজে ক্ষমতার এই রূপান্তরটি প্রধানত তিনটি সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী স্তম্ভের ওপর ভর করে বহাল তবিয়তে টিকে আছে: রাজনৈতিক একচেটিয়াকরণ, জবাবদিহিহীন আমলাতন্ত্র এবং লুণ্ঠনকারী অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
১. বিশ্ব প্রেক্ষাপটে জমিদারী প্রথা: একটি ঐতিহাসিক অবলোকন
ভারতবর্ষের বাইরেও বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রধান অঞ্চলেই কোনো না কোনো ফরম্যাটে এই সামন্তবাদী বা জমিদারী প্রথা কার্যকর ছিল। ভূমির মালিকানা মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত থাকা এবং সাধারণ মানুষের প্রজাস্বত্ব বা দাস হিসেবে বেঁচে থাকার এই বৈশ্বিক চিত্রটি ছিল নিম্নরূপ:
-
ইউরোপের ম্যানর প্রথা (Manor System): মধ্যযুগীয় ইউরোপে রাজা বিশাল অঞ্চলের জমি লর্ড বা ব্যারনদের (জমিদার) দান করতেন। লর্ডরা তাদের ‘ম্যানর’ বা জমিদারী এলাকায় দুর্গ বানিয়ে থাকতেন এবং কৃষকদের (যাদের ‘সার্ফ’ বা ভূমিদাস বলা হতো) দিয়ে চাষ করাতেন। ১৭৮৯ সালের ঐতিহাসিক ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্রান্সে এবং ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় এই প্রথার রক্তক্ষয়ী অবসান ঘটে। যুক্তরাজ্যে অবশ্য কোনো বিপ্লব ছাড়াই শিল্প বিপ্লবের কারণে মানুষ শহরমুখী হওয়ায় এবং কর আরোপের ফলে এটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়।
-
জাপানের দাইমিও ও সামুরাই প্রথা: জাপানে দ্বাদশ শতক থেকে ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সামরিক সামন্তবাদ চালু ছিল, যেখানে স্থানীয় জমিদারদের বলা হতো ‘দাইমিও’। তাদের অধীনে নিজস্ব সেনাবাহিনী বা ‘সামুরাই’ থাকত। ১৮৬৮ সালের মেইজি পুনর্গঠনের (Meiji Restoration) মাধ্যমে সম্রাট মেইজি ১৮৭১ সালে রাজকীয় ফরমানের দ্বারা এই প্রথা বাতিল করেন এবং জমিদারদের জমি রাষ্ট্র নিয়ে কৃষকদের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়।
-
মধ্যপ্রাচ্যের তিমার ও ইলতিজাম ব্যবস্থা: অটোমান (ওসমানীয়) সাম্রাজ্যে সুলতানরা যুদ্ধজয়ের পর সেনাপতিদের যে জমি দিতেন তা ‘তিমার’ এবং পরবর্তীকালে কর সংগ্রহের যে ইজারা ব্যবস্থা চালু হয় তা ‘ইলতিজাম’ নামে পরিচিত ছিল। বাংলার পত্তনী ব্যবস্থার মতো এই কর সংগ্রাহকরা (মালতাজিম) প্রজাদের শোষণ করত। ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ‘তানযিমাত’ (Tanzimat) নামক আধুনিকায়ন ও প্রশাসনিক সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে এর বিলুপ্তি ঘটে।
-
লাতিন আমেরিকার হ্যাসিয়েন্দা (Hacienda) ব্যবস্থা: স্পেন ও পর্তুগাল যখন দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা জয় করে, তখন তারা স্প্যানিশ অভিজাতদের বিশাল বিশাল ভূখণ্ড বা ‘হ্যাসিয়েন্দা’ দান করে। সেখানে স্থানীয় আদিবাসী ও আফ্রিকান দাসদের খাটানো হতো। বিংশ শতাব্দীতে মেক্সিকান বিপ্লব (১৯১০) এবং বলিভিয়া ও পেরুর ব্যাপক কৃষক আন্দোলনের ফলে এই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
২. বাংলাদেশে নব্য-সামন্তবাদের প্রথম স্তম্ভ: রাজনৈতিক কাঠামো ও ‘মনোনয়ন প্রথা’
বিশ্বের অন্যান্য দেশে সামন্তবাদের ঐতিহাসিক পতন ঘটলেও, বাংলাদেশে এর মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত রূপান্তর ঘটেছে মাত্র। এর প্রথম রূপটি দৃশ্যমান হয় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের চালিকাশক্তি হওয়ার কথা তৃণমূলের কর্মী এবং সাধারণ জনগণের। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোনো দলে কে নেতা হবে, তা সাধারণ কর্মীরা নির্ধারণ করার সুযোগ পায় না। পরিবর্তে, এখানে ক্ষমতার উৎস সম্পূর্ণ ওপর থেকে নিচের দিকে (Top-down) প্রবাহিত হয়। প্রথমে একজন শীর্ষ নেতা বা নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়, এরপর সেই একক ক্ষমতার কেন্দ্র ঠিক করে দেয় তার নিচের কোন পদে কে বসবে। ক্ষমতা জমিদারের খাস জমির মতো একজনের হাত বা একটি নির্দিষ্ট পরিবারের বলয়ের মধ্যেই কুক্ষিগত থেকে যায়।
‘রাজনৈতিক পত্তনি প্রথা’ ও লাঠিয়াল বাহিনী
ব্রিটিশ আমলে মূল জমিদাররা যেমন দুর্গম অঞ্চলে নিজে না গিয়ে খাজনা আদায়ের জন্য ‘পত্তনদার’ বা উপ-জমিদার নিয়োগ করত, বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতেও শীর্ষ নেতৃত্ব অনেকটা সেভাবেই স্থানীয় পর্যায়ে নেতা বা প্রতিনিধি মনোনীত করে। এই ব্যবস্থায় নেতার যোগ্যতা জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে নয়, বরং শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি তার অন্ধ আনুগত্য এবং আর্থিক নজরানা দেওয়ার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। একে বলা যায় “আনুগত্যের অর্থনীতি”।
একই সাথে, পুরোনো জমিদারদের নিজস্ব ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ থাকত, যারা প্রজাদের ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখত। বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, ক্যাডার বাহিনী কিংবা রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের অপব্যবহারকে সেই লাঠিয়াল বাহিনীর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষ আইনি ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে কেবল ‘প্রজা’ হিসেবে শোষিত হতে থাকে।
৩. দ্বিতীয় স্তম্ভ: আমলাতন্ত্র এবং ‘আধুনিক জমিদারী এস্টেট’
রাজনৈতিক কাঠামোর পর এই নব্য-সামন্তবাদী ব্যবস্থার দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাহী স্তম্ভ হলো আমলাতন্ত্র (Bureaucracy)। ব্রিটিশরা যখন এই উপমহাদেশে সিভিল সার্ভিস তৈরি করেছিল, তখন তাদের মূল উদ্দেশ্য জনগণের সেবা করা ছিল না; বরং উদ্দেশ্য ছিল রাজার পক্ষে শাসন বজায় রাখা ও খাজনা আদায় করা। আজ কাগজে-কলমে তারা “জনগণের সেবক” (Public Servant) হলেও, মনস্তাত্ত্বিকভাবে তারা নিজেদের সেই ঔপনিবেশিক “সাহেব” বা “জমিদার” ভাবেন।
জিম্মি দশা এবং জবাবদিহিহীনতার সুরক্ষা কবচ
বর্তমান ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি সরকারি চাকরি বা আমলাতান্ত্রিক পদে আসীন হওয়া মাত্রই সে শুধু মাসে মাসে একটি ভালো বেতনই পায় না, বরং তার সামনে খুলে যায় বিপুল সম্পদ ও ক্ষমতার একচেটিয়া চাবিকাঠি। সে নামমাত্র সুদে বা সুদমুক্ত কোটি কোটি টাকার গাড়ি ও বাড়ির ঋণ পায়, পূর্বাচল বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের জমিতে নামমাত্র মূল্যে প্লট বরাদ্দ পায়—যা মূলত জমিদারদের ‘খাস জমি’ বণ্টনের আধুনিক রূপ।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, একজন আমলা যখন সরকারি কোনো দায়িত্বে থাকেন, তখন তিনি অনেক ক্ষেত্রেই ঘুষ বা ‘স্পিড মানি’ ছাড়া কোনো কাজ করতে চান না। সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে তারা নিজেদের আখের গোছান। জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, জমির নামজারি থেকে শুরু করে ব্যবসার লাইসেন্স—প্রতিটি নাগরিক সেবাকে জটিল ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে রাখা হয় যেন সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এই ‘আধুনিক খাজনা’ বা ঘুষ প্রদান করে।
এখানেও জমিদারি ব্যবস্থার অবিকল ছায়া বিদ্যমান। একজন আমলা তার ক্ষমতার ব্যবহার করে সবকিছু করতে পারেন, এমনকি তার যা করার আইনি বৈধতা নেই, ক্ষমতার দাপটে তিনি সেটাও করে পার পেয়ে যান। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের পরও তাদের চাকরি যায় না, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতাও থাকে না। ‘সরকারি চাকরি আইন’-এর মতো বিভিন্ন আইনি সুরক্ষার কারণে তাদের সহজে গ্রেপ্তার বা বরখাস্ত করা যায় না। সর্বোচ্চ শাস্তি হয় ‘ওএসডি’ (Officer on Special Duty) করা বা এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি—যা মূলত এক ধরনের সবেতন ছুটি!
৪. তৃতীয় স্তম্ভ: অসৎ ব্যবসায়ী ও ‘লুটেরা পুঁজিবাদের জমিদারী’
এই নব্য-সামন্তবাদী ত্রিমুখী ব্যবস্থার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি বা ফাইন্যান্সার হলো অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে কোনো ব্যবসায়ী যদি মানুষকে ঠকায় বা আইন অমান্য করে, তবে সে রাতারাতি ধনকুবের হয়ে যায়। যেহেতু দেশে শক্তিশালী আইনের শাসন নেই, তাই তাদের এই অন্যায্য উপায়ে ধনী হওয়ার প্রক্রিয়াটি বাধাহীনভাবে চলতেই থাকে।
সম্পদের একমুখী প্রবাহ ও ব্যাংক লুটপাট
অর্থনীতির একটি মৌলিক ও নির্মম সত্য হলো—সম্পদ কখনো শূন্য থেকে তৈরি হয় না। সমাজে যখন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী অন্যায্যভাবে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়, তার মানে হলো তারা অন্য কোটি কোটি মানুষের পকেট কেটে সেই টাকাটা নিজেদের সিন্দুকে ভরছে। একে অর্থনীতিতে বলা হয় সম্পদের একমুখী প্রবাহ (Redistributive Wealth Transfer) বা গরিবের কাছ থেকে ধনীর দিকে সম্পদ স্থানান্তর।
[সাধারণ জনগণ / ভোক্তা]
│
▼ (বাজার সিন্ডিকেট, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য)
[অসৎ ব্যবসায়ী ও লুণ্ঠনকারী]
│
▼ (ব্যাংক লুটপাট ও খেলাপি ঋণ)
[রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের আমানত কুক্ষিগতকরণ] ──► [বিদেশে সম্পদ পাচার (বেগমপাড়া)]
আজকের অসৎ ব্যবসায়ীরা ‘সিন্ডিকেট’ প্রথার মাধ্যমে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে নিরুপায় হয়ে চড়া দামে তা কিনতে বাধ্য হয়। এছাড়া ধনকুবের হওয়ার সবচেয়ে বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম হলো দেশের ব্যাংক খাত। এরা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি’ হয়ে থাকে। ব্যাংকের এই টাকাটা মূলত সাধারণ মধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষের সারাজীবনের সঞ্চয়। যখন ব্যাংকগুলো এই লুটের কারণে খালি হয়ে যায়, তখন সরকার সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে সেই ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখে।
৫. সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি: বৈষম্যের দেয়াল
এই ত্রিমুখী নব্য-সামন্তবাদী ব্যবস্থার চূড়ান্ত শিকার হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যে লবণ, তেল বা দিয়াশলাই কিনছেন, তা থেকে সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিচ্ছেন। এই ট্যাক্সের টাকায় আমলাদের বেতন-ভাতা, আলিশান গাড়ি ও বাংলোর খরচ চলে। আবার সেই সাধারণ মানুষই যখন কোনো সরকারি সেবা নিতে যান বা বাজারে পণ্য কিনতে যান, তখন তাকে পকেট থেকে অতিরিক্ত ঘুষ ও সিন্ডিকেটের বাড়তি মূল্য দিতে হয়।
অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের টাকা দুই দিক থেকে শোষিত হয়ে আমলা ও অসৎ ব্যবসায়ীদের পকেটে যাচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা আবার দেশীয় অর্থনীতিতে বিনিয়োগ না হয়ে সুইস ব্যাংক, কানাডার বেগমপাড়া, মালয়েশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ায় পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে নিম্নবিত্তে পরিণত হচ্ছে, আর গরিব মানুষ দিন দিন দিতে দিতে আরও গরিব হচ্ছে। অন্যদিকে, নব্য জমিদাররা নিতে নিতে টাকার পাহাড় বানাচ্ছে।
শেষ কথা:
আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনীতি, আমলাতন্ত্র এবং অসৎ ব্যবসায়ী—এই তিনটি শক্তি আসলে আলাদা কোনো বিচ্ছিন্ন সত্তা নয়। এরা একে অপরের পরিপূরক এবং একটি “অশুভ ত্রিমুখী অক্ষ” (Unholy Trinity)। ব্যবসায়ী টাকা দেয় রাজনীতিকে টিকে থাকার জন্য এবং আমলাদের পকেট ভরার জন্য; রাজনীতি আমলাকে ব্যবহার করে মাঠ পর্যায়ে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য; আর আমলারা এই রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে সুযোগ করে দেয় আইন ফাঁকি দিয়ে দেশের সম্পদ লুটপাট করার জন্য।
