জাতীয় নাগরিক পার্টি: সম্ভাবনার রাজনীতি না কাঠামোগত সংকট?
সমস্যা, প্রেক্ষাপট ও করণীয় বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা কমছে, তখন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির চাহিদা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এই প্রেক্ষাপটে “জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)”–এর মতো নতুন বা বিকল্প দলগুলোর প্রতি জনগণের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—এই আগ্রহকে সংগঠিত শক্তিতে রূপান্তর করার জন্য যে কাঠামোগত প্রস্তুতি দরকার, তার ঘাটতি প্রকটভাবে দৃশ্যমান।
পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর সকল ধরনের ব্যর্তথার সুযোগ নিতে পারতো তারুন্য ও দেশপ্রেম নির্ভর এই দলটি। কিন্তু তারা প্রথমে ব্যর্থ হলো সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। যে কারণে নেপালের তরুনরা ১ বছরের মধ্যে দল গঠন করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পেলেও এনসিপিকে ২% শতাংশ আসন নিয়ে সংসদে যেতে হয়েছে। অথচ তাদের পেছনেই ছিল দেশের ৮০% জনগন সেখানে যদি আমরা ৩০% বিভিন্ন দলের ধরি তাতেও ৫০% সাধারণ মানুষের সমর্থন তাদের সাথে ছিল। স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় অভ্যুত্থানে জনগন তাদের পাশে থেকে হায়েনার বিপক্ষে লড়ে যে বিজয় এনেছিল তারা তাদের কাছ থেকে কখন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে তারা বুঝতেই পারেনি। যখন বুঝতে পেরেছে তখন কিছু করার ছিলো না।
এমনকি কোথায় তাদের ভুল হয়েছে সেটা নিয়েও তাদের মধ্যে কোনো বিচার বিশ্লেষণ নেই। নেই আগামী দিনের কোনো সুগঠিত প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা। তারা ভাবছে বার বার জনগন তাদের পেছনে থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা বাংলাদেশের জনগন কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের পেছনে সংগ্রামে যায়নি। তারা হয়তো সর্বদলীয় নেতৃত্বের পেছনে ছিল অথবা অরাজনৈতিক নেতৃত্বের পেছনে ছিল। আর সাধারণ জনগন যে আন্দোলনে ছিল না সেটি কখনো সফলও হয়নি।
এই লেখায় এনসিপির বর্তমান সমস্যাগুলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা হলো, এবং সাথে বিশ্ব রাজনীতির সফল উদাহরণ দিয়ে করণীয় তুলে ধরা হলো।
সংগঠন পরিচালনায় মৌলিক ঘাটতি: “অফিস আছে, সিস্টেম নেই”
একটি রাজনৈতিক দলের প্রথম পরিচয় তার অফিস নয় প্রথম পরিচয় তার রাজনৈতিক আদর্শ, কাঠামোগত বিন্যাস ও গঠনতন্ত্র। এনসিপি প্রথমে অফিস পেয়েছে। এটা হতো পারতো তাদের শক্তির জায়গা। কারণ অফিসের মাধ্যমে সাধারণ জনগন, শুভাকাংখী ও বুদ্ধিভিত্তিক লোকদের সাথে যোগাযোগ করে দলকে আরো শক্তিশালী ও গোছালো করে তৈরী করে নিতে পারতো। কিন্তু আপনি তাদের অফিসে গিয়ে দেখেন।
– সারাদিন শত শত লোকের আনাগোনা। কিন্তু তাদেরকে অভ্যথ্যনা জানানোর কোনো লোক নেই। ধারাবাহিক সাক্ষাৎ করার কেউ নেই। মানুষ আসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে চলে যায়। আর দলীয় লোকজন আড্ডা দিয়ে চা খেয়ে ফিরে যায়।
– বুদ্ধিভিত্তিক লোকজন গিয়ে কথা বলতে চাইলে কাউকে পাওয়া যায় না। নেতা কর্মীরা আসে তারা সভা করে চলে যায়।
– কোনো চিঠিপত্র রাখার ডেস্কপাচ নেই। কোনো সম্মানিত ব্যক্তি আসলে তার সাথে সাক্ষাতের কোনো ব্যবস্থা নেই। দলের কোনো সিনিয়র নেতাকে সেজন্য দায়িত্বও দেয়া নেই। একটা গ্রামের ক্লাবও এরচেয়ে বেশী গোছানো থাকে।
যদি একজন ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকই না থাকে, তাহলে সেটি মূলত একটি “অকার্যকর কেন্দ্র” হয়ে দাঁড়ায়। অথচ এদের অফিস হতে পারতো অন্যদের জন্য একটি শিক্ষনীয় জায়গা ও দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাজ্যের Labour Party–এর ক্ষেত্রে প্রতিটি অফিসে “Constituency Office Manager” থাকে, যার কাজই হলো ভিজিটর রিসিভ করা, এ্যাপয়েন্টমেন্ট সেট করা এবং জনগণের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা।
কিভাবে হতে পারতো দৃষ্টান্তমূলক কার্যালয়
– অফিসে প্রবেশ কারী প্রতিটি ব্যক্তির জন্য একটি ভিজিটর বুক দরকার। এটি পরে কাজে লাগবে। এখানে অনেক দুষ্কৃতিকারীও আসতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে সেটা তারা ভাল করে জানে।
– দরকার আগ্রহীদের জন্য একটি মতামত বই। যাতে তারা তাদের মতামত দিতে পারে। মতামত বইয়ের মতামত এর নজর রাখবেন একজন সিনিয়র। তাকে সহযোগিতা করবে জুনিয়র কিছু কর্মী। তিনি এখান থেকে আলোচ্য বিষয় দলের ফোরামে তুলে ধরবেন।
– সাক্ষাৎপ্রার্থী ও কথা বলতে চাওয়া লোকদের সময় দিতে প্রতিদিন ২ জন করে সিনিয়র নেতা সময় দিবেন। তাদের কাজ হবে এই লোকদের কথা শোনা। এর মধ্যে যারা ব্যক্তিগত সমস্যা বা লবিং নিয়ে আসবে তাদেরকে বুঝিয়ে বলা। এবং যারা দলের সাথে কাজ করতে আসবে তাদেরকে কথা বলে যার যার আগ্রহ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ঠ কমিটিতে প্রেরণ করা। এছাড়া এনসিপির প্রতিটি জেলা/কেন্দ্রে “Citizen Desk” চালু করতে হবে—যেখানে মানুষ সরাসরি এসে কথা বলতে পারে। তাতে জনগনের সাথে তাদের সম্পর্ক তৈরী হবে।
– নিয়মিত নতুন কর্মী, নতুন কমিটি ও নতুন দায়িত্বশীলদের ওরিয়েন্টশান এর ব্যবস্থা করা। যাতে তারা তাদের মোটিভেশন ধরে রাখতে পারে এবং নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে বুঝতে পারে।
– একজন পিআরও বা মিডিয়া ম্যানেজার থাকবে। যিনি সাংবাদিকদের তথ্য দেবে। নেতাদের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেবে এবং নতুন প্রশিক্ষিত ও বুদ্ধিভিত্তিক নেতাদের বিভিন্ন টকশোতে যাওয়ার রাস্তা করে দেবে।
– সব সময় নতুন নতুন ইস্যুতে দলের নেতা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা থাকবে। যেমন গুম অধ্যাদেশ বাতিল বিষয়ক একটি ওয়ার্কশপ হবে। সরকার কি ভুল করছে সেখানে নেতা কর্মীরা জানবে। দক্ষ একজন আইনজ্ঞ ক্লাস নেবেন এবং আগ্রহী ৩০ থেকে ৫০ জনের আসন থাকবে তারা নাম মাত্র ডেলিগেশন ফি দিয়ে যুক্ত হবে। ক্লাসের লেকচার দলের ইউটিউব চ্যানেলে দেয়া হবে। যাতে সারাদেশের মানুষ ও প্রান্তিক মানুষও বিষয়টি জানতে পারে।
পরিকল্পনাহীনতা: “ভিশন নেই, শুধু আবেগ আছে”
দল হয়েছে অফিস হয়েছে গঠনতন্ত্র আছে। কিন্তু কর্ম পরিকল্পনা নেই। তারা দেশের জন্য কি করবে সেটা শুধু নেতাদের বক্তব্যে কিন্তু লিখিত কোনো রুপ নেই। আগামী ৫/১০ বছরে দেশের জন্য তাদের কাজ কি হবে? ক্ষমতায় গেলে তারা কিভাবে দেশের জন্য কাজ করবে ক্ষমতায় না গেলে কিভাবে কাজ করবে? এগুলো থাকলে কর্মীরা বুঝতে পারতো তাদের গন্তব্য কোথায়। তারা কোন দিকে যাচ্ছে। এরকম কিছুই দৃশ্যমান নয়। ফলে বিরোধীরা সহজে আক্রমণ করে তাদেরকে পাল্টা আক্রমণ করা যায় কিন্তু ভিশন দেখানো যায় না। বাংলাদেশের বস্তাপচা পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোর কারণে এখনো এনসিপিকে ‘‘ভালো’’ দেখায়। কিন্তু দীর্ঘদিন দিকভ্রান্ত থাকলে একশ্রেণীর ভাড়াটে বুদ্ধিজীবিরা প্রমাণ করবে সবাই সমান। আর সবাই সমান আর সবাই খারাপ এটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে জাতির ঘাড়ে চেপে বসবো এক রক্তখেকো শকুন।
১ বছর, ৫ বছর, ১০ বছরের কোনো লিখিত পরিকল্পনা না থাকা মানে দলটি “রিয়্যাক্টিভ”, “প্রো-অ্যাক্টিভ” নয়। ফলে আজকের দিনে শুধু একটিভ হয়ে সাফল্য পাওয়া যায়না। এবং কার্যত তাই হয়েছে। বিগত ১ বছরে একটি দলের অনুপস্থিতি আরেকটি দলের দূর্র্বলতা তারা কোনোটিকে কাজে লাগাতে পারেনি। কাজে লাগাতে পারলে তাদের দলের তৃণকাঠামো অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠত।
তাদেরকে এটা বললে তারা হয়তো বলব, অন্যদের মতো তারা চাঁদাবাজি করেনি। তা না করলে দলে পয়সা আসবে কোথা থেকে। পয়সা না আসলে মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচী কিভাবে দেব? কিন্তু তারা ভাবেনি, অনুসন্ধান করেনি এমনকি গবেষণাও করেনি যে, প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে আর কোনো উপায় আছে কিনা। হয়তো কারো কাছে জানতেও চায়নি।
অথচ তাদের বন্ধু সংগঠন জামায়াত ও শিবির কতটা গোছালো তাদের শুধু ভিন্নধরনের স্তরভিত্তিক গঠনতন্ত্র নয় বরং আছে আলাকা লক্ষ্য উদ্দেশ্যের বই আলাদা কর্মপরিকল্পনার বই।
কিভাবে হতে পারতো দৃষ্টান্তমূলক কর্মপরিকল্পনা
– প্রথমত তাদের এখন যা করা দরকার তা হলো প্রথমে জাতীয় ও পরে বিভাগীয় কর্মপরিকল্পা কর্মশালা যেখানে প্রথম দিন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শুনবে, দ্বিতীয়দিন দলীয় বক্তব্য তৃতীয় দিন চূড়ান্ত পরিকল্পনা। এখানে ৫ বছরের পরিকল্পনা তৈরী করে সেখানে প্রতিবছরে ভাগ করে দলীয় নেতাদের কাছে পৌছে দেয়া। তাহলে তারা জানবে দল কোথায় যেতে চায় এবং তাদের করনীয় কী?
ক্যাডার ডেভেলপমেন্টের অভাব: “মানুষ আসছে, মানুষ গড়ে উঠছে না”
পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে। মানুষের মন, রুচি, দক্ষতা ও জ্ঞান দ্রুত বাড়ছে। তরুন প্রজন্ম রয়েছে হতাশার মধ্যে। তারা শুধু জানে এনসিপি ভালো। কিন্তু আপনি কি করছেন সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ কিভাবে করছেন সেটাও জরুরী। সেজন্য যেটা দরকার সেটাই অনুপস্থিত।
অনেকে মনে করেন ভারতীয় জনতা পার্টির মূল শক্তি হিন্দুত্ববাদ। আমার মতে এটা তাদের দূর্বলতা। কিন্তু তা সত্বেও তারা মাঠ দখলে রাখে কারণে তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ও কাজ খুব শক্তিশালী। Bharatiya Janata Party–এর “Prashikshan Varg” মডেল আছে যেখানে নিয়মিত কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ওরিন্টেশান, ওরিন্টেশান ও প্রশিক্ষণ
– এই মুহুর্তে প্রথমে দরকার দলের ১০% নেতা কর্মীকে রাজনৈতিক প্রশিক্ষন দেয়া। যাদের মধ্য থেকে আগামীদিনের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে এবং আগামী দিনের বিপ্লবী তরুনরা ঠিকভাবে তৈরী হলে তাদের বিপ্লব আর অন্যরা হাইজ্যাক করতে পারবেনা।
– ১০% তরুন নেতা কর্মীকে ব্যক্তিগত দক্ষতার প্রশিক্ষন দেয়া জরুরী। যাতে তারা নিজেদেরকে কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত করতে পারে। এই লোকগুলো অভ্যুত্থানে রাস্তায় নেমে আসবেনা। কিন্তু এরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে যাতে সেখানে জন সমর্থন তৈরীতে ভূমিকা রাখবে। মনে রাখতে হবে ঘরে বাইরে সব জায়গায় আপনার পক্ষে লোক থাকতে হবে যদি আপনি সফল হতে চান। আর এজন্য শুধু প্রতিপক্ষের ভুলের দিকে তাকিয়ে বসে থাকলে হবে না। নিজেদেরও কাজ করতে হবে।
– ১০% তরুন নেতাকর্মীকে প্রশিক্ষণ, নেটওয়ার্কীং ও ক্লাবিং মডেল করে দিয়ে তাদেরকে ব্যবসা করার রাস্তা তৈরী করতে হবে। এরাই হবে আগামী দিনের দলের জন্য ডোনার। তারা সফল হলে দল আর কখনো পিছিয়ে থাকবেনা। প্রতি দলে ১০ জন করে দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসার রাস্তা করে দিতে হবে। তাদের মধ্যে যেন ভুল না হয় সেজন্য তাদেরকে গ্রুমিং ও মনিটরিং এর মধ্যে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে দলের মুল শক্তি হবে এরা। এর জন্য প্রয়োজনে আলাদা গাইডবই বানাতে হবে।
– যারা বিদেশ যেতে চায়। তাদেরকে মেন্টরিং ও কনসালটেন্সি করে সে সুযোগ করে দিতে হবে। এরা ভবিষ্যতে শুধু ভোটার নয় এরা হবে সমর্থক কখনো কখনো দলের ডোনারও হবে। তারা বিশ্বব্যাপী দলকে ছড়িয়ে দিবে। সামাজিক মাধ্যমে এরা দলের হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
– প্রথমে জাতীয়ভাবে ১০০, তারপরের ধাপে বিভাগীয়ভাবে ১০০ তার পরের ধাপে জেলায় ১০০ করে লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৈরী করতে হবে। এরা হবে দলের সম্পদ। দলের পক্ষে জনমত গঠনে এরা ভূমিকা রাখবে। নিজে নিজে তৈরী হওয়া আর দলের পক্ষ থেকে তৈরী হওয়ার মধ্যে অবশ্যই ভিন্নতা আছে। এটা মনে রাখতে হবে।
মনে রাখতে হবে ওরিন্টেশন, ট্রেনিং, লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ছাড়া কোনো দল টেকসই হয় না। এগুলো না হলে দল একসময় লীগ আর বাজাদের মতো হয়ে যাবে যা খুব ঝুকিপূর্ণ এবং জাতির জন্য হতাশা জনক। এজন্য বাধ্যতামূলক ওরিয়েন্টেশন, লিডারশিপ ট্রেনিং ও আইডিওলজি ক্লাস এখনি শুরু করতে হবে।
কমিটি গঠনে গণতান্ত্রিক ঘাটতি
আমরা দেখবো যে, লীগ বাজাদের কমিটি হয় নেতাদের ইচ্ছা ও পছন্দমতো। ফলে যোগ্যরা নেতা না হয়ে চামচারা নেতা হয়। দল চলে তেলের উপর। আর ভালো মানুষ রাজনীতি করতে পারে না। কারণ তারা যোগ্যতা দিয়ে নেতা হতে চায় চামচামি করে নয়। এই একই কারণে এই দলগুলোতে কখনো বদলায়নি। মানুষ ভাল বিকল্প পেলে এদেরকে ছুঁড়ে ফেলে দিবে।
কিন্তু যদি নতুন দলেও এই কাঠামো আসে। তাহলে মানুষ কোনো পরিবর্তন দেখবেনা এবং ঘুরে ফিরে তাদেরকে ভোট দেবে। আমার কথাটাকে প্রিয় পাঠক বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে নেবেন। এনসিপিও সে একই কাঠামোতে গঠিত।
আমেরেকার Democratic Party–এ লোকাল লেভেলে প্রাইমারি নির্বাচন হয়—যা অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিশ্চিত করে। শুধু তাই নয় তাদের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও গণতান্ত্রিক। এজন্য একজন জোহরান মামদানীকে তার দেশের প্রেসিডেন্ট পছন্দ না করলেও তাকে ঠেকাতে পারে না। এর কারণ সিস্টেম।
দলীয় কাঠামোর জন্য করণীয়:
– দলের নেতা নির্বাচনে দলীয় নেতা কর্মীদের সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তবে সবাই ভোট দিবে এমন নয়। ভোট দিতে পারবে শুধু বিশেষ সদস্যরা। তাদের নাম হতে পারে কাউন্সিল মেম্বার, হতে পারে সাংগঠনিক সদস্য ইত্যাদি। এবং বিশেষ যোগ্যতা ও পারফরমেন্স দিয়ে তাদেরকে এই ক্যাটাগরিতে আসতে হবে। আর তাদের সংখ্যা হবে সীমিত। সকল পর্যায়ে একই পদ্ধতি থাকবে। শুধু কমিটি বড় বা ছোট হবে। ভোটারদের সংখ্যা কম ও বেশী হবে।
– এমনকি যারা কমিটির নেতৃত্বে আসবে ভোটের আগেই তাদের এক দফা যোগ্যতা, সততা, আনুগত্য ও কর্মপরীক্ষা দিয়ে বিবেচিত হতে হবে। দলের গঠনতন্ত্রে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত থাকবে।
– উন্মুক্ত ভোটিং সিস্টেম থাকবে, প্রয়োজনে ডিজিটাল ভোটিং হবে, মেধা ও পারফরম্যান্স ভিত্তিক নির্বাচন থাকবে যাতে প্রার্থী ও ভোটারদের ভিন্ন যোগ্যতার মাপকাঠি থাকবে। তাহলে দল সঠিক নেতৃত্ব পাবে।
আদর্শ সংকট: “দল আছে, কিন্তু আত্মা নেই”
একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার আদর্শ। আপনি গণতা
