২১ দিনের এক সফর ট্রেনে ঘুরে আসুন ১৩ দেশ

২১ দিনের এক সফর ট্রেনে ঘুরে আসুন ১৩ দেশ

এক ট্রেনে ২১ দিন: ঘুরে আসুন ১৩ দেশ

বছরের শেষে বিদেশ ভ্রমণের আগ্রহীদের জন্য এক চমৎকার খবর! বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেন যাত্রা। মোট  ২১ দিনের  এই ভ্রমণ আপনাকে নিয়ে যাবে ইউরোপ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর পর্যন্ত।  যাত্রা শুরু হয় পর্তুগালের লাগোস শহর থেকে, আর শেষ হয় সিঙ্গাপুরে। পুরো পথজুড়ে ট্রেনটি অতিক্রম করে ১৮,৭৫৫ কিলোমিটার (প্রায় ১১,৬৫৩ মাইল), যা বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথ হিসেবে স্বীকৃত।

যাত্রাপথে ১৩টি দেশ

এই দীর্ঘ রেলযাত্রা আপনাকে ১৩টি দেশ ঘুরে দেখার সুযোগ করে দেয়। দেশগুলো হলো:
পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, বেলারুশ, রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন, লাওস, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর। প্রতিটি দেশের মধ্য দিয়ে যাত্রার সময়ই আপনি উপভোগ করবেন নানান ধরনের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

মানে আপনাকে মোট ১৩ দেশের ভিসা নিতে হবে। তবে ৫টি ইউরোপ দেশের জন্য সেনজেন ভিসা আর রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়া ছাড়াও ৫টি এশিয়ান দেশের জন্য আলাদা আলাদা ভিসা নিতে হতে পারে।

ট্রেন যাত্রার অভিজ্ঞতা

আপনি পরিকল্পনা করতে পারেন এখনি।  এবারের ছুটি কাটানোর জন্য এটা একটা অপশণ হতে পারে। যাত্রাটি একটানা কোনো একটি ট্রেনে সম্পন্ন হয় না। এটি একাধিক ট্রেনের সংযোগের মাধ্যমে ঘটে এবং মাঝে মাঝে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার জন্য থামতে হয়। তবে, পুরো অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ। ট্রেনে করে মহাদেশ অতিক্রম করার আনন্দ যেমন বিরল, তেমনি এই যাত্রা আপনাকে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে। েএকা ভ্রমণ করারা চেয়ে বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণ করার মাঝে বেশী আনন্দ পাবেন।

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চল, মঙ্গোলিয়ার মরুভূমি ও পাহাড়ি ভূদৃশ্য, চীনের আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবুজ প্রকৃতি এই যাত্রার অংশ। পথে আপনি দেখবেন নদী, পাহাড়, মরুভূমি, এবং ঐতিহাসিক স্থান, যা প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে তুলবে।

খরচ ও প্রস্তুতি

এই দীর্ঘ রেলযাত্রা সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন দেশের রেল কোম্পানির সহযোগিতার কারণে। বিশেষ করে কুনমিং থেকে লাওসের ভিয়েনতিয়েন পর্যন্ত নতুন রেললাইন এই যাত্রাকে সহজ করে তুলেছে। এর ফলে শুধু লাওসের অর্থনীতি উন্নত হয়নি, বরং এটি ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত যাতায়াতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এই ট্রেন যাত্রার আনুমানিক খরচ ১,৩৫০ মার্কিন ডলার, যা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হলেও অভিজ্ঞতার দিক থেকে অমূল্য। যেহেতু এই যাত্রা বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে যায়, তাই যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ নথিপত্র, যেমন পাসপোর্ট ও ভিসার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

কিছু অংশে বাসে যাতায়াতের প্রয়োজন হতে পারে, যেমন ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মধ্যে, অথবা মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে। তাই ভ্রমণের আগে সঠিক পরিকল্পনা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে যে কোম্পানী টিকেট দেয় ভিসার ব্যাপারে তাদের কোনো সহযোগিতার কথা জানা যায়নি।

বাংলাদেশের মানুষদের জন্য ব্যাপারটা একটু কঠিন বটে এর কারণ হলো ভিসা। কারণ পৃথিবীর অনেক দেশ উল্লেখিত দেশগুলোতে ভিসার সুবিধা পেলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে  এই সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রাখতে হবে।

সূত্র:  ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply