এই মুহুর্তে ই-কমার্স খাতে যা করনীয়

এই মুহুর্তে ই-কমার্স খাতে যা করনীয়

এই সময়ে ই-কমার্স খাতের জন্য যা করনীয়

প্রতিটি খাতে সমস্যা ও করনীয় সব সময় একরকম থাকে না। ১০ বছর আগে ই-কমার্স খাতে যে সমস্যাগুলো ছিল। সেগুলো এখন নেই। হয়তো ১০ বছর পরে নতুন কোনো সমস্যা আসবে। আমি জাহাঙ্গীর আলম শোভন আমার অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব বিবেচনায় এই মুহুর্তে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়ে এই খাতের জন্য যা করনীয় মনে করছি। তা তুলে ধরছি।

 ১: বিভ্রান্তি দূর করণ ( ডিজিটাল কমার্স না ই-কমার্স)

সারা বিশ্বে যেখানে অনলাইন লেনদেন এর বৈধ ব্যবসাকে ই-কমার্স বলে। সেখানে বাংলাদেশে ‘‘ডিজিটাল কমার্স’’ নাম দিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। কারণ ডিজিটাল কমার্স আর ই-কমার্স এক নয়। তাই এই বিভ্রান্তি দূর করতে দ্রুত ‘‘ডিজিটাল কমার্স’’ এর স্থলে ই-কমার্স প্রতিস্থাপন করা জরুরী। কারণ সব ই-কমার্স ডিজিটাল কমার্স কিন্তু সব ডিজিটাল কমার্স ই-কমার্স নয়।

২: ভুল ধারণা দূরীকরণ

কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং এর মতো ই-কমার্সে ভুল ধারণার বিস্তার করা হয়েছে। একটি ফেসবুক পেইজ খুললে সেটাকে ই-কমার্স বলা হচ্ছে। অথচ অনেকে ট্রেড লাইসেন্স না নিয়ে ব্যবসা শুরু করছে। তাই এই বিভ্রান্তিও দূর করতে হবে। এই ভ্রান্ত ধারণা কারণে একদিকে কিছু মানুষ অপেশাদার ব্যবসা পরিচালনা করছে। আবার ক্রেতাদের বিশ্বাসের সুযোগে কেউ প্রতারণার জাল বিছিয়ে দিয়েছে।

 

৩: ই-কমার্স খাতের স্বীকৃতি

বর্তমানে ই-কমার্স খাতে ট্রেড লাইসেন্স করা যায়না। এই খাতের উদ্যোক্তারা ভিন্ন নামে ট্রেড লাইসেন্স করে থাকে। তাই ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়া, নিয়ম ও কাঠামো পরিবর্তন করে ই-কমার্স খাত ও এর ‍উপখাতসমূহ অন্তভূক্ত করা হোক। এজন্য করনীয়

ক) সারাবাংলাদেশের ট্রেড লাইসেন্সকে একটি পোর্টালের সাথে যুক্ত করতে হবে।

খ) ট্রেড লাইসেন্স ১ সাথে ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য চাইলে দিতে হবে।

খ) ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে সকল জরিমানা তুলে দিতে হবে

ঘ) ট্রেড লাইসেন্স সহজিকরণ করে গ্রেড সিস্টেম চালু করতে হবে।

ঙ) অনলাইন ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এর জন্য অফিস থাকার বাধ্যতাসহ রহিতকরণসহ শর্ত শিথিল করতে হবে।

চ) ট্রেড লাইসেন্স আইন ও স্থানীয় সরকার আইন থেকে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুকে আলাদা করে পেশা ও বৃত্তি আইনে স্থানান্তর করতে হবে।

ছ) ট্রেড লাইসেন্স ক্যাটাগরি ও ফি আইন থেকে বের করে বিধিতে নিয়ে আসতে হবে।

জ) নতুন ৩শ শতাধিক ব্যবসা যুক্ত করতে হবে।

ঝ) ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসার ধরণ, প্রকার আলাদা করতে হবে। ক্যাটাগরির সাথে সাব ক্যাটাগরি দিতে হবে।

ঞ) ছাত্র, মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষভাবে সক্ষম, আহত ব্যক্তি, নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তাদের জন্য ফি ৫০% ছাড় দিতে হবে।

ট) আইন অমান্য ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।

ঠ) প্রদত্ত ট্রেড লাইসেন্স এর তালিকা কতৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রদর্শণের ব্যবস্থা করতে হবে।

ড) কিছু কিছু ব্যবসার ক্ষেত্রে বা সকল ব্যবসায় প্রথম বছর পূর্নাঙ্গ ট্রেড লাইসেন্স না দিয়ে ‘‘সাময়িক ট্রেড লাইসেন্স’’ প্রথা চালু করা যেতে পারে।

ঢ) সার্বিকভাবে ব্যবসা সহজিকরণ করতে হবে।

*) একটি পলিসির সাথে অন্য পলিসির সামঞ্জস্য থাকতে হবে।

 

ই-কমার্স খাতের উপখাতসহ ট্রেড লাইসেন্স ফি প্রস্তাবনা (টাকায়)

ক্রম খাত উপখাত ইউপি উপজেলা পৌরসভা সিটি
ই-কমার্স অনলাইন শপ ৫০০ ৭০০ ৮০০ ১০০০
ই-কমার্স ডিরেক্ট কমার্স ৪০০ ৬০০ ৮০০ ১২০০
ই-কমার্স মার্কেট প্লেস ১০০০ ১২০০ ১৫০০ ২০০০
ই-কমার্স এফ কমার্স ৩০০ ৫০০ ৭০০ ১০০০
ই-কমার্স ই-লজিস্টিকস ১২০০ ১৫০০ ১৮০০ ২০০০
ই-কমার্স ওপিজি ১০,০০০ ১৫,০০০ ২০,০০০ ২৫,০০০
ই-কমার্স ফুড ডেলিভারী ৩০০ ৫০০ ৮০০ ১০০০
ই-কমার্স রাইড শেয়ার ২৫০০ ৩০০০ ৩৫০০ ৪০০০
ই-কমার্স সেবা ১০০০ ১২০০ ১৫০০ ২০০০
১০ ই-কমার্স কনসালটেন্সী ৭০০ ৮০০ ৯০০ ১০০০
১১ ই-কমার্স কনটেন্ট ৬০০ ৭০০ ৮০০ ৯০০
১২ ই-কমার্স হেলথটেক ১৫০০ ২০০০ ২৫০০ ৩০০০
১৩ ই-কমার্স এগ্রিটেক ৮০০ ১০০০ ১২০০ ১৫০০
১৪ ই-কমার্স এড-টেক ৬০০ ৭০০ ৮০০ ৯০০
১৫ ই-কমার্স সাযোমা (এফ) কমার্স ৩০০ ৪০০ ৫০০ ৬০০

 

 স্বল্পসুদে সহজ শর্তে ঋণ, অর্থ সংকুলান ঋণ ও বিনিয়োগ

ব্যাংক ও বিনিয়োগের প্রচলিত নীতি পরিবর্তন করে ই-কমার্স খাতের জন্য ভিন্ন নীতি দ্বারা ঋণ ও বিনিয়োগ সহজ করতে হবে। এতে করে তরুনরা আত্ম কর্মস্থানের সুযোগ পাবে। ব্যাংকসমূহের বর্তমান ঋণ নীতির ই-কমার্স  প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পায়না বা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেনা।

অনেকে আবার সঠিক নথিপত্রের অভাবে ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকসমূহের ই-কমার্স  এর জন্য সহজ ও ভিন্নতর ঋণ ও বিনিয়োগ নীতি তৈরী করতে হবে। এই বিষয়ে মত বিনিময়ের বা কর্মশালার মাধ্যমে প্রস্তাবনা তৈরী করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

 

 ই-কমার্সকে ITES ই-অন্তভূক্ত ব্যবসা খাত হিসেবে গণনা

বিদ্যমান অর্থ আইন, ২০১৬ (৫৪ – গ)-এর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ৩৩ এর সংশোধন করা হয় যার মাধ্যমে ‘ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং’ কে ITES Gi Explanation থেকে বহির্ভুত করা হয়।  এর ফলে ‘ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং’  এর আয় করযোগ্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

তাই ইন্টারনেট নির্ভর বা প্রযুক্তি ভিত্তিক ডিজিটাল সেবা হিসেবে  ‘ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং’ কে  ITESএর  অন্তভূক্ত করার প্রস্তাব করছি।  ব্যবসায়ের ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে বিদ্যমান আইনটি সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।

অনলাইন বিক্রেতারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অতি ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে । এই সকল ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীরা মূসক নিবন্ধনের আওতায় পড়ে না।

ব্যবসায়ের ডিজিটাল রূপান্তর  হলে ডিজিটাল বা অ্যানালগ ব্যবসা সুস্পষ্ট হবে।  এতে করে ই-কমার্স নতুন ব্যবসায়িক খাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ডিজিটাল কমার্সের আওতায় সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মান পক্রিয়াকে আরো বেগবান করবে।

 নূন্যতম করের বিধান (Minimum Tax)

অর্থ আইন, ২০১৬ (৪৪ )-এর মাধ্যমে ৪২C প্রতিস্থাপন করে নূন্যতম করের (Minimum Tax) নতুন বিধান সন্নিবেশিত করা হয়। এই সংশোধনের  প্রেক্ষিতে সকল কোম্পানি করদাতা যাদের Gross Receipts বছরে ৫০ লক্ষ টাকার উপরে তাদের জন্য শিল্প ধরণ বিশেষে নূন্যতম কর হার ধার্য করা হয়। এক্ষেত্রে টেলিকম ও সিগারেট কোম্পানি ছাড়া অন্য সব কোম্পানির জন্য Gross Receipts এর ০.৬% নূন্যতম কর হার ধার্য করা হয়।

ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় ও উদীয়মান খাত। এখনো কোনো ই-কমার্স কোম্পানী লাভের মুখ দেখেনি। তাই যেসকল কোম্পানি শুধুমাত্র ই-কমার্স কোম্পানি হিসাবে ব্যবসা পরিচলনা করছে এবং লোকসান’ পর্যায়ে আছে তাদের ক্ষেত্রে নূন্যতম কর Gross Receipts এর ০.১% করার বিনীত প্রস্তাব করছি।

রপ্তানি বাণ্যিজ্যে ১০ শতাংশ প্রণোদনা

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ফেব্রুয়ারী ০৮, ২০১৮-এ জারিকৃত এফই সার্কুলার নং-০৩ অনুযায়ী  সফট্ওয়্যার, আইটিএস (Information Technology Services) খাতের জন্য সেক্টর-স্পেসিফিক নগদ সহায়তা প্রদানের পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলী সংক্রান্ত সার্কুলার দেয়া হয়।  সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আগামী ২০২১ সাল নাগাদ ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সফটওয়্যার ও আইটি সেবা খাতের সাথে ই-কমার্স ব্যবসায়ী  ও ই-ক্যাব সদস্য   কোম্পানিসমূহকে রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে অত্যন্ত জরুরি। রপ্তানি বাণিজ্যে ১০ শতাংশ প্রণোদনা  ই-কমার্স সেক্টরে প্রয়োগের বিনীত অনুরোধ করছি।  সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুবিধার্থে এখানে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) কে সম্পৃক্ত  করার অনুরোধ করছি।

ক্রসবর্ডার ই-কমার্স

বিদেশে এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে কিছু বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরী পোষাকের রয়েছে বিশ্বব্যাপী চাহিদা ও সুনাম। তথাপি বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বিটুসি ফরম্যাটে আমাদের দেশীয় পণ্যে বিদেশী ক্রেতার নিকট সরাসরি বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে এই খাতে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করতে পারছেনা সরকার। ইতোমধ্যে এই খাতের ১৭টি প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে এ সংক্রান্ত ২১টি পরামর্শ সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরসমূহে প্রেরণ করা হয়েছে।

ক) ক্রসবর্ডারের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের পর ফেরত দেয়া বা নেয়া সম্ভব হয়না। এমনকি পণ্যমূল্য ফেরত দেয়া বা নেয়া যায়না।

খ) কোনো কোনো ক্ষেত্রে পণ্যমূলের চেয়ে কুরিয়ার চার্জ বেশী হয়ে থাকে।

গ) অ্যামাজনে পণ্য বিক্রির জন্য পণ্য প্রেরণ প্রক্রিয়া সহজতর নয়।

ঘ) বিভিন্ন সিঙ্গেল বা একক পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। অনলাইনে ক্রয়কৃত পণ্য দেশে আনার ক্ষেত্রে রয়েছে নানা সমস্যা।

আন্তজাতিক মাসের ক্রস বর্ডার টপ পলিসি এবং পেমেন্ট পলিসি উন্নয়ন করা প্রয়োজন।  শিপিং চার্জকে পণ্যমূল্যের সাথে সমন্বয় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ। বর্তমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ অপসারণ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

ক্রস বর্ডার ই-কমার্সের মাধ্যমে দেশীয় পন্য রফতানীতে সুবিধা

বর্তমানে সাধারণ রফতানীর ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও কুটির পন্যসহ কিছু পন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা রয়েছে।  কিন্তু ই-কমার্সের মাধ্যমে বিদেশী ক্রেতার কাছে পন্য বিক্রিতে কোনো বাড়তি সুবিধা নেই। যদিও দুটোর মাধ্যমেই দেশীয় পন্য রফতানী হচ্ছে।

বর্তমানে ক্রস বর্ডার ই-কমার্সে বার্ষিক বৈদিশিক মূদ্রা অর্জিত হয় ১০০ কোটি টাকা। এই সেক্টরে প্রবৃদ্ধি ৭৪%। এসব অর্থ ১০০ ভাগ বৈধ উপায়ে ব্যাংকিং লেনদেন এর মধ্য দিয়ে আসে। তাই প্রথাগত রফতানী বাণিজ্যের সুবিধা এই খাতে থাকা উচিত।

 

 স্থানীয় পর্যায়ে সেবার রফতানী আয়

যখন কোনো ক্রেতা বিদেশ থেকে দেশীয় অনলাইন শপে সেবা বা পন্য ক্রয় করেন এবং সেসব সেবা বাংলাদেশী সেবা গ্রহীতার কাছে ডেলিভারী পেতে চান, সেক্ষেত্রে সেবা স্থানীয়ভাবে দেয়া হলেও  উহা থেকে আয় আসে সম্পূর্ণ বিদেশ থেকে এবং বিদেশী মুদ্রায় যা ১০০% বৈধ উপায়ে। কিন্তু এ ধরনের বৈদেশিক আয়কে রফতানী আয়ের অন্তভূক্ত না করার ফলে রফতানী আয়েরি একটা অংশ সরকারী হিসেব থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের বৈদেশিক আয়কে রফতানী আয়ের অন্তভূক্ত করার জোরালো অনুরোধ করছি।  কারণ এটা সেবা/ পন্যের বিপরীতে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা।

এতে করে বিদেশ থেকে বাংলাদেশী অনলাইন শপে বিক্রয় বাড়বে এবং রফ্তানী আয় বৃদ্ধিতে এটা সরাসরি ভূমিকা রাখবে। সরকারের ঘোষিত ৭০০ মিলিয়ন ডলারের রফতানী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এই উদ্যোগ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

 

আইন, বিধি, নীতিমালা ও নির্দেশিকা

ভোক্তা অধিকার আইনে ই-কমার্স সম্পর্কে সরাসরি বলা নেই। প্রতিযোগিতা আইনের ব্যপ্তি যথেস্ঠ নয়।  ট্রেড লাইসেন্স আইন অনুসারে বাংলাদেশে ‘‘ ই-কমার্স বা ডিজিটাল কমার্স’’ বলে কোনো ব্যবসা নেই। ক্রস বর্ডার ই-কমার্স নীতিমালা নেই। জিরোড্রাপ্ট তৈরী করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার আইন সংশোধন চূড়ান্ত হয়ে থেমে আছে।

প্রতিযোগিতা আইনে সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো অগ্রগতি নেই।  ট্রেড লাইসেন্স আইন সংশোধন সংক্রান্ত সভায় এর ফি নির্ধারণ হয়ে আছে আজকে ২ বছর। কিন্তু এটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

ক্রস বর্যডার ই-কমার্স পলিসি আন্তজাতিক মানের করাসহ যেসব কাজ করা দরকার।

ক) ভোক্তা অধিকার আইন সংশোধন পাশ করাতে হবে।

খ) প্রতিযোগিতা আইনে সংশোধনী চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

গ) ট্রেড লাইসেন্স আইনে  ‘‘ই-কমার্স ’’যুক্ত করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

ঘ) লজিস্টিক নীতিমালা এমন হওয়া উচিত যাতে লজিস্টিকস সেবাসমূহ প্রযুক্তি দ্বারা উন্নত করা যায়।

ই-কমার্সের জন্য নীতি ও পলিসি তৈরীর ক্ষেত্রে যুগোপযোগী বিষয় সম্পৃক্ত করা। এজন্য প্রাইভেট সেক্টরের মতামমের ভিত্তিতে পলিসি চূড়ান্ত করা এবং পলিসি ও আইন সমূহ ই-কমার্স বান্ধব করে তৈরী করতে হবে। ভোক্তার পাশাপাশি উদ্যোক্তার স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।

 

 ই-কমার্সের জন্য ভৌত ও অভৌত অবকাঠামো তৈরী।

দেশের ই-কমার্সকে প্রান্তিক পর্যায়ে বিস্তৃতি করতে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে ডাক বিভাগ ও সরকারের অবকাঠামো ব্যবহার করে শর্টিং ও পিকিং সেন্টার তৈরী করা এবং সরকারী বেসরকারী অংশীদারিত্বে সেবার উন্নয়ন করতে হবে। এছাড়া প্রস্তাবিত ডিজিটাল অবকাঠামোগুলো কার্যকর ও বাস্তবায়ন করা।

 

  রপ্তানীমুখী ই-কমার্স

রপ্তানীমুখী ই-কমার্সের উন্নয়নে ক্রস বর্ডার পলিসি বাস্তবায়ন করে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য সেবাকে আন্তজাতিক বাজারে প্রবেশের অধিকার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হ