Arjentina

কতটা জানি আর্জেন্টিনা সম্পর্কে?

আর্জেন্টিনা সম্পর্কে জানি

Argentina দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ এবং বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম রাষ্ট্র। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, কৃষি ও পশুপালন, ফুটবল সংস্কৃতি, ট্যাঙ্গো নৃত্য এবং ইউরোপীয় প্রভাবিত সমাজব্যবস্থার জন্য দেশটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের ৭০ শতাংশ  আর্জেন্টিনা সমর্থক। অনেকে বলেন  আর্জেন্টিনার সমর্থক  আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশে বেশী। কারণ আর্জেন্টিনার জনসংখ্যার চেয়ে বাংলাদেশে তাদের সমর্থক বেশী।

তবে সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্ট ইসরাইলকে সমর্থন দেয়ার কারণে বাংলাদেশের মানুষ মনোক্ষুন্ন হয়েছি। কিন্তু এখানে মেসির জনপ্রিয়তা এতবেশী যে, তাতে দেশটির ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন কমেনি।

আর্জেন্টিনার জনসংখ্যা ২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ৪০,১১৭,০৯৬ জন। । জনঘনত্ব ১৪.৪/কিমি (৩৭.৩/বর্গমাইল)।  বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪৭ মিলিয়ন বা ৫ কোটি প্রায়। জনঘনত্ব প্রায় ১৭ জন/বর্গকিমি। ভাষা স্পেনিশ। আর স্বাধীনতা লাভ করে ৯ জুলাই ১৮১৬। প্রায় ২,৭৮০,৪০০ বর্গ কিলোমিটার (১০,৭৩,৫০০ বর্গ মাইল)। আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার ২য় বৃহত্তম দেশ। বলা যায় বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ২০ গুন বড় কিন্তু জনসংখ্যা বাংলাদেশের প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগ।

বিশ্বের দক্ষিণ প্রান্তের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে আর্জেন্টিনা আন্দিজ পর্বতমালা, পাম্পাস তৃণভূমি, প্যাটাগোনিয়া, উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল এবং আটলান্টিক উপকূলকে ধারণ করে।  বিশাল আয়তনের তুলনায় এই দেশে জনসংখ্যা বেশ কম, যার ফলে এখানে ঘনবসতি নেই বললেই চলে। জনসংখ্যার সিংহভাগই শহরকেন্দ্রিক। এখানে শিক্ষার হার প্রায় ৯৯%।

আর্জেন্টিনা বা ‘আর্জেন্টাইন প্রজাতন্ত্র’ দক্ষিণ আমেরিকার একটি সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময় রাষ্ট্র। রূপার ল্যাটিন শব্দ Argentum থেকে এই দেশের নামকরণ করা হয়েছে, যার অর্থ ‘রূপার দেশ’। বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি, সমৃদ্ধ ফুটবল ঐতিহ্য এবং ইউরোপীয় ও ল্যাটিন সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিশ্রণ আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য স্থান দিয়েছে। দেশটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাংশে (Southern Cone) অবস্থিত। এর পশ্চিমে আন্দিজ পর্বতমালা এবং চিলি, উত্তরে বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে, উত্তর-পূর্বে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে এবং পূর্বে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত।

 ইতিহাস, সরকার ও রাজনীতি

ইউরোপীয়দের আগমনের বহু আগে এখানে Mapuche, Guaraní, Diaguita প্রভৃতি জনগোষ্ঠী বসবাস করত। ১৬শ শতকে স্পেন অঞ্চলটি দখল করে। ১৮১৬ সালে স্পেন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন: José de San Martín

আর্জেন্টিনার ইতিহাস যেমন গৌরবময়, তেমনি উত্থান-পতনে ভরা। ১৬শ শতকে স্প্যানিশ উপনিবেশ স্থাপনের আগে এই অঞ্চলে বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী বাস করত। ১৮১৬ সালের ৯ জুলাই স্পেনের কাছ থেকে দেশটিকে স্বাধীন ঘোষণা করা হয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ, সামরিক একনায়কতন্ত্র (বিশেষ করে ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকের ‘ডার্টি ওয়ার’ বা নোংরা যুদ্ধ) এবং চরম অর্থনৈতিক সংকট গেছে। ১৯৮৩ সালে দেশটিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়।

আর্জেন্টিনা একটি ফেডারেল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতাধীন প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।  রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতি একই সাথে রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধান। আর্জেন্টিনার রাজনীতি মূলত দুই মেরুতে বিভক্ত—একটি হলো বামপন্থী/পপুলিস্ট ‘পেরোনিস্ট’ (Peronist) ধারা এবং অন্যটি ডানপন্থী বা উদারপন্থী জোট। বর্তমানে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যু।

 আবহাওয়া, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত

বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতির কারণে আর্জেন্টিনার আবহাওয়ায় চরম বৈচিত্র্য দেখা যায়। দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ঋতুচক্র বাংলাদেশের বিপরীত (যেমন: জুন-আগস্ট শীতকাল এবং ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি গ্রীষ্মকাল)।

 উত্তরের ক্রান্তীয় বা উপ-ক্রান্তীয় উষ্ণ আবহাওয়া থেকে শুরু করে মধ্যভাগের নাতিশীতোষ্ণ এবং একদম দক্ষিণের (পাতাগোনিয়া অঞ্চল) মেরু অঞ্চলের মতো হিমশীতল আবহাওয়া রয়েছে।

 রাজধানী বুয়েনস আইরেসে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৩০°সে বা তার ওপরে উঠতে পারে, আবার শীতকালে তা ৫°সে থেকে ১১°সে-এ নেমে আসে। দক্ষিণের পাতাগোনিয়ায় শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাসে চলে যায় এবং তীব্র তুষারপাত হয়।

 দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় (বার্ষিক প্রায় ১,২০০ মিমি), তবে পশ্চিমাঞ্চলের আন্দিজ পর্বতের পাদদেশ এবং দক্ষিণের পাতাগোনিয়া অঞ্চল বেশ শুষ্ক বা আধা-মরুভূমি প্রকৃতির।

 জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি

আর্জেন্টিনার সরকারি ভাষা স্প্যানিশ (স্থানীয়ভাবে একে কাস্তেলিয়ানো বা Castellano বলা হয়)। তবে এদের স্প্যানিশ উচ্চারণে ইতালীয় ভাষার গভীর প্রভাব রয়েছে। সংস্কৃতি মূলত ইউরোপীয়, বিশেষ করে ইতালীয় ও স্প্যানিশ এবং ল্যাটিন আমেরিকান ঐতিহ্যের মিশ্রণ। থিয়েটার, সাহিত্য, সিনেমা এবং বিশ্ববিখ্যাত ট্যাঙ্গো’ (Tango) নাচ আর্জেন্টিনার সংস্কৃতির প্রধান স্তম্ভ।

আর্জেন্টিনায় ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি ধর্ম বা জীবনধারা। ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসির এই দেশে ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা আকাশচুম্বী। বোকা জুনিয়র্স এবং রিভার প্লেটের মতো স্থানীয় ক্লাবের ম্যাচগুলোর সময় পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে যায়। বিশ্বকাপ জয় বা যেকোনো ফুটবল সাফল্য এ দেশের মানুষের আবেগ ও জাতীয়তাবাদের সাথে মিশে আছে।

আর্জেন্টাইনরা সাধারণত অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ, মিশুক এবং উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ। তারা আড্ডা দিতে এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করে। ফুটবল উন্মাদনার কারণে (বিশেষ করে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সমর্থনের পর) বাংলাদেশীদের তারা অত্যন্ত সমীহ ও ভালোবাসার চোখে দেখে।

আর্জেন্টিনার প্রধান ধর্ম রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্ম (জনসংখ্যার প্রায় ৭৫%)। এছাড়া এখানে প্রোটেস্ট্যান্ট, ইহুদি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও রয়েছেন। সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার পূর্ণ নিশ্চয়তা রয়েছে।

আর্জেন্টিনার খাদ্য সংস্কৃতি মাংসপ্রধান। এখানকার আসাদো’ (Asado) বা বার্বিকিউ বিশ্ববিখ্যাত। গরুর মাংসের মান এখানে অসাধারণ। এছাড়া ইতালীয় প্রভাবে পাস্তা, পিৎজা এবং ‘এম্পানাদা’ (এক ধরণের পেস্ট্রি) বেশ জনপ্রিয়। তাদের জাতীয় পানীয় হলো ম্যাতে’ (Mate), যা এক ধরণের ভেষজ চা।

পেশা, কৃষি ও ব্যবসা

জনসংখ্যার একটি বড় অংশ সেবা খাত, শিল্প কারখানা এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত।  আর্জেন্টিনা বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৃষিপ্রধান দেশ। একে পৃথিবীর অন্যতম প্রধান “রুটির ঝুড়ি” বলা হয়। সয়াবিন, গম, ভুট্টা, সূর্যমুখী এবং বিভিন্ন ফলের উৎপাদনে এরা শীর্ষস্থানীয়। এছাড়া গরুর মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে এদের জুড়ি নেই।

প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো সয়াবিন ও সয়াবিন তেল, ভুট্টা, গম, গরুর মাংস, গাড়ি এবং খনিজ পণ্য। আমদানি করে যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, কাঁচামাল, জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং যানবাহন।  খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মোটর যান উৎপাদন, টেক্সটাইল এবং রাসায়নিক শিল্প এখানে প্রধান। ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হলেও এটি গত কয়েক দশক ধরে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক ঋণের সমস্যায় জর্জরিত।

 ভ্রমণ, পর্যটন, নাগরিকত্ব ও যোগাযোগ

পর্যটকদের জন্য আর্জেন্টিনা একটি স্বর্গরাজ্য। প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:

বুয়েনস আইরেস: “আমেরিকার প্যারিস” নামে খ্যাত এই রাজধানী শহর।

ইগুয়াসু জলপ্রপাত: বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও সুন্দর প্রাকৃতিক জলপ্রপাত।

পাতাগোনিয়া ও পেরিতো মোরেনো গ্লেসিয়ার: বরফের বিশাল পাহাড় ও ট্রেকিংয়ের জন্য বিখ্যাত।

মেন্দোজা: বিশ্ববিখ্যাত ওয়াইন উৎপাদন অঞ্চল।

নাগরিকত্ব ও ভিসা

আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব আইন বেশ উদার। কোনো বিদেশী নাগরিক যদি বৈধভাবে ২ বছর আর্জেন্টিনায় বসবাস করেন, তবে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া আর্জেন্টিনায় সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায় এবং তার বাবা-মা খুব দ্রুত স্থায়ী নাগরিকত্ব (PR) ও পাসপোর্ট পেয়ে যান। আর্জেন্টিনার পাসপোর্ট বেশ শক্তিশালী, যা দিয়ে ইউরোপসহ বহু দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করা যায়। তবে বাংলাদেশীদের জন্য সরাসরি ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়া কিছুটা কঠিন; এর জন্য ঢাকাস্থ বা নিকটস্থ দিল্লির দূতাবাসে আবেদন করতে হয়।

 আর্জেন্টিনা বিশাল দেশ হওয়ায় দূরপাল্লার জন্য বিমান (Aerolíneas Argentinas) বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া এদের দূরপাল্লার বাস সেবা (Micro) অত্যন্ত বিলাসবহুল এবং আরামদায়ক।  বুয়েনস আইরেসে উন্নত সাবওয়ে (Subte), বাস (Colectivo) এবং ট্যাক্সি ব্যবস্থা রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ সাশ্রয়ী।

সামাজিক সুবিধা: শিক্ষা ও চিকিৎসা

আর্জেন্টিনা তার উন্নত সামাজিক কল্যাণমূলক ব্যবস্থার জন্য পরিচিত, যা ল্যাটিন আমেরিকার অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে।

শিক্ষা: আর্জেন্টিনায় প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, এমনকি বিদেশীদের জন্যও। ‘ইউনিভার্সিটি অফ বুয়েনস আইরেস’ (UBA) বিশ্বমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যা থেকে বেশ কয়েকজন নোবেল বিজয়ী বের হয়েছেন।

চিকিৎসা: দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ত্রিপাক্ষিক (পাবলিক, প্রাইভেট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি)। সরকারি হাসপাতালগুলোতে নাগরিক এবং বিদেশী—সবার জন্যই চিকিৎসা এবং জরুরি সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে উন্নত ও দ্রুত সেবার জন্য অনেকে পেইড প্রাইভেট ইন্সুরেন্স ব্যবহার করেন।

বাংলাদেশীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা

২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাসও পুনরায় খোলা হয়েছে।

সাধারণ শ্রমজীবী বা অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য আর্জেন্টিনায় কাজের সুযোগ সীমিত, কারণ এখানে স্প্যানিশ ভাষা জানা বাধ্যতামূলক। তবে আইটি (IT) প্রফেশনাল, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, বহুজাতিক কোম্পানির কর্মকর্তা বা ইংরেজি ভাষার শিক্ষকদের জন্য কিছু সুযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বেতন স্কেল মুদ্রাস্ফীতির কারণে ওঠানামা করে।তবে, বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য আর্জেন্টিনা একটি সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে।

 বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও পাটজাত পণ্য আর্জেন্টিনায় রপ্তানি করার বিশাল সুযোগ রয়েছে বুয়েনস আইরেসের মতো বড় শহরে এশিয়ান ফুড রেস্তোরাঁ বা স্পাইস শপ দেওয়া যেতে পারে।

গত বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশীদের প্রতি আর্জেন্টিনার মানুষের ভালোবাসা অপরিসীম। বাংলাদেশী পর্যটকদের সেখানে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। তবে ভ্রমণের জন্য স্প্যানিশ ভাষার বেসিক জ্ঞান থাকা এবং উপযুক্ত ট্রাভেল হিস্ট্রি থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য আর্জেন্টিনা একটি চমৎকার এবং সাশ্রয়ী গন্তব্য হতে পারে।  সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি নেই (ফ্রি)। জীবনযাত্রার খরচ ইউরোপের তুলনায় অনেক কম।  প্রধান শর্ত হলো স্প্যানিশ ভাষা জানা। অধিকাংশ কোর্স স্প্যানিশ ভাষায় পড়ানো হয়। তাই যাওয়ার আগে স্প্যানিশ ভাষার সার্টিফিকেট (DELE) অর্জন করা থাকলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার দারুণ সুযোগ নেওয়া সম্ভব।

আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশ থেকে গিয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরি করা সম্ভব, তবে এটি কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি বা যুক্তরাজ্যের মতো সহজ ও বিস্তৃত নয়। আর্জেন্টিনায় পড়াশোনার সুযোগ ভালো হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির বাজার তুলনামূলক সীমিত এবং স্প্যানিশ ভাষা জানা প্রায় অপরিহার্য।

আর্জেন্টিনার অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি খুব কম বা অনেক ক্ষেত্রে প্রায় বিনামূল্যে। বিশেষ করে:

  • University of Buenos Aires
  • National University of La Plata
  • National University of Córdoba

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দক্ষিণ আমেরিকায় বেশ সম্মানজনক।

চ্যালেঞ্জ হলো: অধিকাংশ কোর্স স্প্যানিশ ভাষায়, ইংরেজি মাধ্যমে কোর্স সীমিত, ভর্তি হওয়ার আগে স্প্যানিশ শেখা প্রায় বাধ্যতাম