অবাধ যৌনতায় কোথায় যাচ্ছে তারা
যৌনতাকে ঘিরে মানবসভ্যতার নানা দিক পরিবর্তিত হয়েছে যুগে যুগে। উন্নত বিশ্বের যৌনমুক্তির ধারাটি অনেকের কাছে উদারতার প্রতীক, আবার অনেকের দৃষ্টিতে তা নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। আজকের সমাজে যৌনতার প্রতি এই খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
ইতিহাসের আলোকে যৌনতা ও উদারতা
১৯ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যের মার্টিন ও লুইস ফকেনস নামের এক দম্পতি পেশা হিসেবে যৌনকর্ম বেছে নেন। তাঁরা ৭০ বছর একসাথে থেকে আমস্টারডামে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করেন। এই দীর্ঘ পেশাগত জীবনে তাঁরা প্রায় তিন লাখ ৩৫ হাজার নারী-পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, যা তাদের নামকে গিনেজ বুকে স্থান দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগে, এটি কি নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য?
যৌনতা ও আধুনিক গবেষণা
আমেরিকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০-৫৯ বছর বয়সী নারীরা গড়ে ৪ জন সঙ্গীর সঙ্গে এবং পুরুষরা গড়ে ৭ জন সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করেন। অন্যদিকে কলেজপড়ুয়া প্রায় ৫০% ছাত্রছাত্রীই তাদের বন্ধুদের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক গড়ে তোলেন। এর মধ্যে ২৮% জানিয়েছেন, তারা সঙ্গম ছাড়াও অন্য যৌন আচরণে লিপ্ত হয়েছেন।
রেকর্ড গড়ার নামে যৌনতা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যৌনতা নিয়ে রেকর্ড গড়ার প্রবণতা বেড়েছে।
জাপানে একসাথে ৫০০ জনের যৌন কর্মের আয়োজন করা হয়েছে, যা গিনেজ রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের নীল ছবির তারকা লিসা স্পারক্স একদিনে ৯১৯ জনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন।
ব্রিটেনের মডেল লিলি ফিলিপস এর লক্ষ্য, ২৪ ঘণ্টায় ১,০০০ জন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা।
উদারতার নামে সমাজের অধঃপতন?
পাশ্চাত্যের এই উদার যৌন আচরণ মানবসমাজের জন্য কল্যাণকর না ধ্বংসাত্মক, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। একদিকে, উদার যৌন আচরণকে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের অংশ হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে, এর ফলে মানসিক অস্থিরতা, সামাজিক সম্পর্কের ভঙ্গুরতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের মতো সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি
ধর্মীয় বিধানে যৌনতা একটি পবিত্র বিষয় এবং সেটিকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামে বিয়ের বাইরে যৌনসম্পর্ক কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, পাশ্চাত্য সমাজে যৌনতার প্রতি উদারতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে, যা প্রাচ্যের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভবিষ্যৎ ভাবনা
যৌনতা নিয়ে এই উদারতার প্রতিযোগিতা মানবজাতির কল্যাণ আনবে নাকি ধ্বংস ডেকে আনবে, তা সময়ই বলবে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়: এই অবাধ যৌন আচরণ কি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবে? নাকি তা একটি বিপথগামী সমাজ তৈরি করবে?
আপনার মতামত কী? এই বিষয়টি আমাদের মনোজগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
সূত্র: ইজিলাইফ, পূনলিখন: চ্যাটজিপিটি

