নতুন দল

অন্তবর্তী সরকারের ১০ মাস ১০ দিন

আবারো পর্বতের মূসিক প্রসব: সরকারের ১০ মাস ১০ দিন।
হ্যাঁ গতকাল অন্তবর্তী সরকার ১০ মাস ১০ দিন পার করেছে। কি পয়দা করেছেন তারা? একটু সাদা চোখে মূল্যায়ন করা যাক।
(এক)
আন্দোলনটা কোটার জন্য শুরু হয়েছে। কিন্তু সর্বসাধারণ রাস্তায় নেমেছে গণহত্যার প্রতিবাদে এবং তারা পরিবর্তন চেয়েছে বলে ১ দফায় সমর্থন দিয়েছে। তা না হলে বিডিআর ম্যাসাকার ও আর শাপলা চত্বরের ঘটনাতেও ঢাকার পতন হতে পারত। ৩৬ দিনে ১৬ শ হত্যা, ১ বছরে ১ হাজার গুম, কয়েক হাজার হত্যা, লাখো মানুষের উপর জেল জুলুমের বিনিময়ে এই সরকার ক্ষমতায় বসে জাতিকে কি দিল?
অস্বীকার করছিনা, কথা বলার স্বাধীনতা আছে, বাজার মূল্য কিছু কিছু স্থিতিশীল বা ষ্ফিতি কম আছে। আইন শৃংখলা বা সার্বিক পরিস্থিতি আরো বেশী খারাপ হলেও হতে পারতো। কিন্তু জন-প্রত্যাশা ও অভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট এবং হাজারো তরুনের প্রাণ বির্ষজরণের কথা আমরা ভুলে যেতে পারি না।
(দুই)
যেভাবে চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় সহনশীল হয়েছে। কিন্তু সরকারের ভূমিকা কতটুকু ছিল। প্রকৃত অপরাধীরা কেন ছাড়া পেল? কেউ বললেন ওনা। রাঘব বোয়ালদের ছেড়ে দিয়ে যদু-মধু, নসিমন-করিমনকে আ্যারেষ্ট করে বীরত্ব দেখানো একটা নির্মম কৌতুক। জনগনের সাথে এই কৌতুকটা কেন করা হলো?। এই কালিমা শত বছর ধরে রাষ্ট্রের কপালে থেকে যাবে। যেমন করে থাকবে পিলখানা, শাপলা চত্বর, আয়নাঘর, জুলাই হত্যাকান্ড ও বিতর্কিত বিচার কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
ও আচ্চা, ও পুলিশ আর কোর্টের সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই! সেজন্য। তাহলে তারা বসে আছে কেন? যারা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে তাদেরকে কেন সুযোগ দিলেই হয়? দেশে কি আর লোক নেই। সব লোককে কি সাইকো আপা হত্যা করে গেছে?
(দুই)
এ সরকার তত্বাবধায়ক না অন্তবর্তী। মানলাম। কিন্তু তাদের চেয়ে বেশী শক্তি থাকার কথা আপনাদের। আপনাদের সুযোগ ছিল। নিজেদের মেয়াদ নিজেরা ঘোষনা করা। আরে মিয়া ২০০১-২০০৫ এর সেটআপ ভাঙতে যদি ফখরুদ্ধিন সরকারের ২ বছর লাগে। আপনাদেরতো ১৫ বছরের সেটাপ ভাঙতে ৫ বছর লাগার কথা। আপনারা কি কি সংষ্কার করবেন সেটা ঠিক করে ২ বা ৩ বছর মেয়াদ ঘোষণা করলে প্রথম দিকেতো সবাই মানতো। কিন্তু না পারলেন সংষ্কারের তালিকা করতে! না পারলেন মেয়াদ ঠিক করতে!
(তিন)
আরে মিয়া হাবিবুর রহমান আর লতিফুর রহমান সরকার ৩ মাসের মধ্যে দেশে যে পরিমাণ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে। তারাতো বলতে পারতো আমাদের কাজ নির্বাচন করা আমরা আর কিছু করবনা। আপনারাতো কোথাও একটা ফুলের টোকাও দিতে পারেন নাই। কাজ যখন করতে পারলেন না। কেন সময় নষ্ট করে বসে ছিলেন। এর জন্য জবাব দিতে হবে। প্রজন্মের কাছে। কোনো একদিন কেউ নিরপেক্ষ গবেষণা করে আসল সত্য বের করবে। সেদিন সে আলী আর বাজাদের লোক থাকবেনা। নিরপেক্ষ মূল্যায়নে সব উঠে আসবে।
(চার)
কি বলবো সংষ্কার নিয়ে। ১ হাজার টাকার নোটটা নিষিদ্ধ করলে দ্রব্যমূল্য এবং জমির দাম কমতো, কালোটাকাগুলো অচল হতো। কিন্তু পারলেন না। বিগত বিসিএসে রাজনৈতিক কারণে বাদ পড়াদের নিয়োগ দিয়ে ঘাটতি কমাতে পারতেন। সেটাও পারলেন না। অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের থেকে লোক নিয়ে পুলিশে রিজার্ভ ফোর্স ভারী করতে পারতেন ১ বছরের জন্য। পারলেন না। হয়তো আপনারা কারো স্বার্থের জন্য করেননি অথবা সিদ্ধান্ত নেয়ার সাহস বা ক্ষমতা ছিলনা। একদিন জাতি সব সত্য জানতে পারবে। কিন্তু যারা আপনাদের কাজে বাঁধা হয়েছে (যদি সত্যি সত্যি হয়ে থাকে) তাদের সাথে আপনারাও দায়ী থাকবেন। হয়তো আইনগতভাবে আপনাদের জেল জরিমানা হবে না। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় সে ব্যর্থতার গল্পগুলো লেখা থাকবে।
(পাঁচ)
দেশের বুঝি মূল সমস্যা পলিথিন, সেন্টমার্টিন আর আ-লীগ। আরে মিয়া এই সরকার বা পরের সরকার ঠিকমতো দেশ চালালে অতীতের কেউ এমনিতে আসতে পারবে না। নিষিদ্ধের দরকারই হবে না। ঠিক আছে। জনমতের কারণে সেটা করলেন কিন্তু নিষিদ্ধের যুক্তিটাতো ঠিকমতো দিতে পারেননি যে, ‘‘একটা দলের যখন শীর্ষ থেকে সন্ত্রাসী সিদ্ধান্ত হয় এবং সকল স্তর যখন সেটাকে মেনে নেয় এবং নিরব থাকে। তখন সে সংগঠনকে পুরেোটাই সে একই দোষে দুষ্ঠ’’। কিন্তু কয়টা খুনি পুলিশ আর খুনি লীগকে ধরলেন। পরিসংখ্যান মিলানতো। যদি বলেন পুলিশ ঠিকমতো কাজ করেনি। পুলিশ যেন ঠিকমতো কাজ করে সেজন্য আপনারা কি কিছু করতে পেরেছেন। না না হতাশ বা ক্ষুব্দ না হয়ে একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো।
(ছয়)
আচ্চা, আচছা, আপনাদেরকে আমলারা সহযোগিতা করছেনা। তারা কাজ স্লো করে দিচ্ছে। পুলিশ কোনো কাজ জোর দিয়ে বললে করে, না বললে করে না। এটাতো হওয়ারই কথা। এটা না বুঝলে আপনারা এই দায়িত্ব নিলেন কেন? পুলিশ কি পরিবর্তন চেয়েছে? তারা হাজার হাজার মানুষ খুন করছে অথবা খুনের সমর্থন দিয়েছে (সবাই নয়) অথবা নিরব থেকেছে সেটাকি আপনাদের জন্য। রাজতৈনিক সরকারকে তারা সহযোগিতা করে। মোটেও না। তাদের মধ্যে ডিল হয়। ভাল মন্দ দুটোই। সব আপনারা দেখেছেন। তাদের একটা বেতন বা সুবিধা বাড়াতে পারছেন? কেন তারা আপনাদের জন্য কাজ করবে? আর দেশের জন্য কাজ। সেটা যদি কেউ করতো অন্তত মানুষ খুনের প্রতিযোগিতায় নামতো না। আর আপনাদেরকে এখানে আসতে হতো না। কি বলব, সবই আপনারা বুঝেন।
(সাত)
মানলাম রাজনৈতিক ইস্যুতে সংষ্কারে রাজনৈতিক দলগুলো বাঁধা দিয়েছে। তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম। কিন্তু আপনারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নীতিমালা সহজ করে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারতেন। কই কাউকেতো বলতেও শুনলাম না। একটা ভূমি নীতিমালা করে রাস্তা থেকে কতটা দূরত্বে বাড়িঘর বানাবে তা ঠিক করে দিয়ে যেতেন। জায়গা থাকলে পরে যদি কোনো ভাল সরকার আসে কাজ করতে পারতো। আপনারা নিজে না পারেন অন্যদের জন্য কাজ করার সুযোগ করে দিতে পারতেন।
আপনারা শিক্ষার সিলেবাস পদ্ধতি ও কাঠামোটা বদলে দিয়ে চলে যেতে পারতেন। অন্তত একটা সেক্টর পরিবর্তন হতো। আর কয়টা বলব। শত শত বিষয় আছে। ৩ মাসের ১টা ভুল সংশোধন কোয়াটার ঘোষণা করে মানুষের NID আর কাগজপত্রের ভুলগুলো শুধরে দিতেন তাওতো মানুষের কিছু দোয়া পেতেন। আরো যদি জানতে চান। আমার ৬১৩ পৃষ্ঠা দেখেন। সব উপদেষ্ঠারে পাঠিয়েছি।
(আট)
আপনাদের পেছনে জনগনের সমর্থন ছিল। আপনারা সংষ্কারে সীমা ঠিক করে সে অনুযায়ী সময় ঘোষণা করে ধাপে ধাপে কাজ দেখাতেন। আজ জনগন আপনাদের সাথে থাকতো। অথবা সরকারের মেয়াদ ঠিক করে সে অনুযায়ী সংষ্কার কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতেন। কোনোটাইতো করলেন না। আপনাদের কাজ দেখে মনে হলো প্রথমে সরকারের মেয়াদের জন্য সেনাদপ্তরের দিকে চাইলেন, সেখান থেকে সমর্থন না পেয়ে মিডিয়াতে চাইলেন, সেখান থেকে সুবিধা করতে না পেরে ছাত্রদের দিকে তাকালেন তারা সমর্থন দিলেও রাজনীতির খেলায় তারা হেরে যাওয়াতে আপনারা বিগপার্টির দুয়ারে ধর্ণা দিলেন। আপনাদের এত দূর্বলতা থাকলে কেন অধীনস্থরা আপনাদের কথা শুনতে যাবে?
(নয়)
স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় গ্রামে রাস্তা, ঘাট, সালিশ, দরবার আর পরিষদের সেবার কারণে মানুষ কেমন হয়রানির মধ্যে আছে? খবর নিয়েছেন কখনো। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্ঠার কথা শুনে মনে দেশের কোনো আইন বা নীতি নেই। কে কি মনে করবে সে হিসেবে লোকজন অ্যারেষ্ট করা হয় এবং ছেড়ে দেয়া। আরে ভাই দেশের একটা আইন আছে সরকার হিসেবে আপনি একটা নীতি ঠিক করে কাজ করেন। ১০টা যদি ঠিক থাকে ১টা যদি ভুল মানুষতো বুঝবে। না বুঝলে ৯টা ঠিক দেখিয়ে বুঝিয়ে বলবেন। আর স্থাণীয় সরকার এই বিভাগটা কি পরিমাণ স্লো বিগত বছরগুলোর ইতিহাসটা দেখেন কেউ।
(দশ)
আপনারা নিজেদের দরকার ছিল মেয়াদ ও কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা। বাস্তবায়নের জন্য দল, মিডিয়া, আমলা, বাহিনীও সুশীল সমাজের সাহায্য নেবেন। এরমধ্যে কোথাও কোনো প্রয়োজন হলে মতামত নিয়ে ঠিক করে নিবেন। না আপনারা সবকিছু আলোচনা করতে গেছেন। আরে মিয়া সব কিছু নিয়ে আলোচনা করে দেশ চালানো যায়? সবকিছু আলোচনা করে যেমন হয় না। তেমনি সবকিছু নিজে নিজে করলেও হয়না। আপনারা সৎ থেকে কাজ করতেন। কিছু বিষয় যদি দলগুলোর মনোপূত না হতো তারা ক্ষমতায় এসে সেটা বদলে নিত। কিন্তু আপনাদের কাজটা আপনারা করতেন। সবকিছু যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করে করতে হয়। তাহলে আপনাদেরকে কেন বসানো হলো? এই সহজ হিসেবটা কে বুঝবেনা?
(এগার)
দেশে সংগ্রাম, মিছিল, মিটিং, মানবন্ধন, রাস্তা আটক এসবের জন্য কাজ করতে পারেন নাই। এসব কথা এই যুগে চলে। আপনারা দেশ বিদেশে যান নাই? আপনারা মিটিং মিছিল এর জন্য নির্দিষ্ঠ এলাকা ঠিক করে একটা অধ্যাদেশ দিতে পারতেন না? যেকোনো বিষয়ে আন্দোলনের আগে সরকারের সাথে আলোচনা, সংলাপ, মত বিনিময় ও শুনানীর জন্য একটা গণদাবী কাউন্সিল গঠন করতে পারতেন না? এরকম ১০ হাজার আইডিয়া দিয়েছি। কেউ পড়ে দেখেছেন কিনা সন্দেহ আছে।
(বার)
কিছু বিষয়তো ষ্পষ্ঠ হয়েছে। সেটা আপনারা না বললেও কারণ অতীতে অন্তবর্তী সরকারর মূল সমর্থন যেখান থেকে আসে সেটা আপনাদের ঠিকঠাক ছিল না। তারা আপনাদের সরিয়ে দেয়নি আবার আপনাদের সঙ্গেও ছিল না। (হয়তো, এটা এক ধরনের সিনট্রোম বলছে, বাস্তবতা বা উপলব্দি ভিন্ন হতে পারে। ) যদি তাই হয়। তাহলে কেন সেটা সমাধান বা স্পস্ট না করে সময় ও চেয়ার দুটোই দখল করে থাকলেন। আরেকটা অন্তবর্তী সরকার হলে তারা ভারতের পছন্দের হবে? সেই ভয়? সাইকোদের ফিরে আসার ভয়? না মানুষ জেগে আছে? আপনারা যদি ঠিকঠাক কাজ করতে পারতেন অথবা সময় মতো আসল কথা বলতে পারতেন। মানুষ আপনাদের পেছনে থাকতো এমনকি এখনো ৮০ ভাগ চায় অন্তবর্থী সরকার থেকে ভালো কিছু করে যাক। যদিও বিভিন্ন গোষ্টির কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের মত ছাপা পড়ে যাচ্ছে।
(তের)
এটা সত্য রাজনৈতিক সরকার যে দলই আসুক যারা ‘‘দৌড়ে’’ আছে তাদের কারো এমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। যাতে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুনগত পরিবর্তন আসবে। কিন্তু আপনাদের ব্যর্থতার কারণে জনগনের কণ্ঠ স্তিমিত হয়ে এসেছে। আমরা গলা বাড়িয়ে আপনাদের জন্য আর কথা বলতে পারি না। এর মধ্যে কয়েকটি মাফিয়া পত্রিকা সরকারের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে। প্রতি ১৫ মিনিটে তারা ফেসবুকে ১টা করে পোস্ট দেয়, সরকার উপদেষ্ঠা আর নির্বাচন নিয়ে। আপনারা যদি মেয়াদটা প্রথমে ঘোষনা করতেন দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের এত ক্ষতি হতো না। জানি না সবকিছু অনিশ্চিত থাকার কারণে ব্যবসা বিনিয়োগ কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেটা আপনাদের জ্ঞাতসারে এসেছে কিনা? প্রথমদিকের ব্যবসাখাতে হামলা আর লুটপাটের কথা আর না বলি। সেগুলো নিয়ে আপনাদের বলতে গেলে অনেক কথা হয়ে যাবে।
(চৌদ্দ)
আপনারা প্রত্যেকে অভিজ্ঞ বিভিন্নভাবে সরকারে এবং সরকারের সাথে কাজ করছেন। আপনারা জানেন বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে সমস্যা আছে। আইনগুলো এমনভাবে বৃটিশরা তৈরী করেছে। যাতে করে একই আইনে এবং একই অপরাধে কাউকে বাচানো যায় আবার কাউকে ফাসানো যায়। পরবর্তী আইনগুলো একই ফরম্যাটে তৈরী। আপনারা এসব আইন ধরে বসে থাকলে কাউকে কিছু করতে পারবেন না। কিন্তু আপনারা সেটাই করলেন। কারণ আপনাদের সবার প্রতিষ্ঠান আছে। পরের সরকার এসে যদি আপনার প্রতিষ্ঠান খেয়ে দেয়। সেটা ছিল ভয়? যদি কারণটা সঠিক হয় তাহলে প্রশ্ন রেখে গেলাম, কিন্তু সেটা কি দেশের স্বার্থের চেয়ে বড় ছিল?
(পনের)
আপনারা হয়তো পরে সব সত্য কথা বলবেন, আত্মজীবনী লিখবেন যে, পুলিশ হতাশ ও ডিমোটিভেট ছিল, আমলারা সকল কাজ ডিলে করে দিয়েছিল, কাজের লোক পাওয়া যায়নি, তাই কাজ করতে পারেন নি। আর আপনারা চলে গেলে দেশের আরো বড়ো ক্ষতি হবে সেজন্য আপনারা শুধু ‘‘দেশের উপরকার করতে না পারলে ক্ষতি করবনা’’ এই নীতিতে কাজ করে গেছেন। এটা প্রজন্ম মেনে নেবে না। কারণ আপনাদেরকে এজন্য বসানো হয়নি।
(ষোল)
ড. ইউনূস এর মতো লোককে বসাইয়া মাত্র ১টা নির্বাচন আর ৬টা বই ( ৬ কমিশনের প্রতিবেদন) দিয়ে আপনারা আমলনামা ভারী করতে পারবেন না। এই প্রজন্ম সচেতন পরের প্রজন্ম আরো অগ্রসর হবে। একটা নির্বাচন যেকেউ দিতে পারতেন এটার জন্য নোবেল পুরষ্কার লাগে না। এই লোকটাকে ভুলভাবে ব্যবহার করার জন্য যারা তাকে বসে থাকার সুপারিশ করেছেন তারাও দায়ী হবেন।
(সতের)
ও আচ্চা, আপনারা বলতে চান যে, তিনি না থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতো। তিনি এখন সরে গেল অন্য কেউ নিয়ন্তণ নিবে। তাদেরকে বলি। ভাই এখন কার নিয়ন্ত্রণে চলতেছে। উনার আর আপনারা ২/৩টা চেয়ার ছাড়া আর কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন? না পারবেন? কারো কাছে কি হিসেব আছে। বস্তা ভরা টাকাগুলো দেশে আছে কিনা?
(আঠারো)
শুধু যদি আইন কাঠামোটা বদলে দিয়ে যেতে পারতেন। তাও ১৬ লক্ষ মামলার জট খুলতো। কোটের বারান্দায় ভিটে বিক্রি করা গরিব মানুষদের হা হাকার আপনারা দেখেননি। কারণ আপনাদেরকে সে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। কিন্তু প্রধান উপদেষ্ঠার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে। তিনি বিষয়টা ভাবতে পারতেন। জানি এটা করার জন্য আইন খাতে যে সমর্থন দরকার তা আপনাদের নেই অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে। (হয়তো) তাতেকি একেবারেই কি কিছু করা যেতনা। একটা কাঠামো লিখে রেডি করে গেলেওতো পরে কেউ করতে চাইলে সহজ হতো। অথবা আপনারা বলতে পারতেন আমরাতো চেষ্টা করেছি।
(উনিশ)
দেশে গতবার ১টা বন্যা হয়েছে। এবারো আশংকা আছে। আপনাদের প্রস্তুতি কি বার্তা কি?
না আর বিশ মারবোনা উনিশে শেষ করবো। শ্রদ্ধেয়, বয়োজৈষ্ঠ, তরুন, আশাবাদী কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। পুরোটা না পড়ে মন্তব্য করবেন না। আর ৭২ ঘন্টা ভেবেও তারপরও করতে পারেন। অনেক বড় লিখে আপনাদের সময় নষ্ট করার জন্য মাফ চাই। (আমার লেখায় ছোটখাটো বানান ভুল থাকে। মার্জনা চাই।) হয়তো দেশ নিয়ে আর লিখবনা। কারণ ইতোমধ্যে উপদেষ্ঠা পরিষদে ৫ বইতে ৬১৩ পৃষ্ঠায় ৪৯ অধ্যায়ে ১৮৬৬৬৫ শব্দের দেশ সংষ্কার প্রস্তবনা হার্ড ও সফ্টকপি জমা দিয়ে