অটো সিএনজি গাড়ী বিক্রয় দলিল
যানবাহন, বিশেষ করে বাণিজ্যিক গাড়ি যেমন অটো সিএনজি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় একটি সঠিক ও আইনসম্মত বিক্রয় দলিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দলিলটি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে দায়বদ্ধতা ও স্বত্ব হস্তান্তরকে স্পষ্ট করে এবং ভবিষ্যতে কোনো দ্বন্দ্ব বা আইনি জটিলতা এড়াতে সহায়তা করে। নিম্নে একটি আদর্শ অটো সিএনজি গাড়ী বিক্রয় দলিলের নমুনা প্রদান করা হলো।
দলিল
প্রথম পক্ষ / বিক্রেতা:
নাম: মোঃ শহিদুল ইসলাম,
পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,
ঠিকানা: ১২/ক, মিরপুর-১০, ঢাকা।
জাতীয়তা: বাংলাদেশী,
ধর্ম: ইসলাম,
পেশা: ব্যবসা।
দ্বিতীয় পক্ষ / ক্রেতা:
নাম: মোঃ রফিকুল হাসান,
পিতা: মোঃ আমিনুল ইসলাম,
ঠিকানা: ৪৫/বি, খিলগাঁও, ঢাকা।
জাতীয়তা: বাংলাদেশী,
ধর্ম: ইসলাম,
পেশা: চালক।
পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। যেহেতু আমি প্রথম পক্ষ/বিক্রেতা, একটি তিন চাকার এইচপি পাওয়ার অটো সিএনজি গাড়ির ৫০% মালিক। বর্তমানে আমি আমার এই অংশ বিক্রির প্রস্তাব করলে, আপনি দ্বিতীয় পক্ষ/ক্রেতা তা ক্রয় করতে রাজি হয়েছেন। তাই আমরা উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে নিম্নলিখিত শর্তাবলী মেনে এবং স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে এই বিক্রয় চুক্তিনামা সম্পাদন করলাম।
গাড়ীর পরিচয়:
বিক্রিত গাড়ির বিবরণ:
-
কোম্পানী/ব্র্যান্ড: পিয়াজেরো (PIAGGERO)
-
চেসিস নম্বর: CH001234XYZ
-
ইঞ্জিন নম্বর: EN5000409ABC
-
সিসি: ১৫০
-
রং: নেভী ব্লু
-
ধরণ: তিন চাকার অটো সিএনজি
-
রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-জি ১১-১২৩৪ (কাল্পনিক)
শর্তাবলী:
১. উক্ত গাড়িখানার মোট মূল্য ধার্য করা হয়েছে ৩,২০,০০০/- (তিন লক্ষ বিশ হাজার) টাকা। যেহেতু আমি আমার ৫০% অংশ বিক্রি করছি, সেহেতু আমার অংশের মূল্য ১,৬০,০০০/- (এক লক্ষ ষাট হাজার) টাকা। আমি প্রথম পক্ষ এই অর্থ অদ্য ১৬/০১/২০১৯ ইং তারিখে, স্বাক্ষীসভায় (হাজিরান মজলিশে) দ্বিতীয় পক্ষের কাছ থেকে নগদ পরিশোধিত হিসেবে সম্পূর্ণ বুঝে পেয়েছি।
২. আজকের তারিখ থেকে উপরোক্ত গাড়ির আমার অংশের উপর আমার আর কোনো দাবি-দাওয়া থাকবে না। আমার বা আমার উত্তরাধিকারীদের কেউ যদি ভবিষ্যতে কোনো দাবি তোলে, তাহলে তা আইনত বাতিল বলে গণ্য হবে।
৩. আজকের তারিখ পরে গাড়িটি সম্পর্কিত কোনো মামলা-মোকদ্দমা, চালান, বা আইনি সমস্যা উত্থান হলে, তার দায়দায়িত্ব দ্বিতীয় পক্ষ/ক্রেতা বহন করবেন। আর এই তারিখ আগের কোনো অনিষ্পন্ন মামলা, জরিমানা, বা আর্থিক দেনা থাকলে, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি প্রথম পক্ষ/বিক্রেতা বহন করব এবং তা নিষ্পত্তি করে দেব। তা না করলে আমি আইনত দণ্ডনীয় থাকব।
৪. এছাড়াও উল্লেখ্য যে, বিক্রিত গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ট্যাক্স, বা বিমা সংক্রান্ত কাগজপত্র যদি কোনো ত্রুটি বা জটিলতা থেকে থাকে, তাহলে আমি প্রথম পক্ষ/বিক্রেতা তা সমাধান করে দিতে বাধ্য থাকব।
চূড়ান্ত স্বীকৃতি:
আমরা উভয় পক্ষ এই কথা দৃঢ়ভাবে স্বীকার করছি যে আমরা সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কে, সুস্থ শরীরে, স্বেচ্ছায় ও সরল মনে এই দলিলটি নিজে পড়েছি এবং অন্যদের দিয়ে পড়িয়ে শুনেছি। আমরা এর সকল মর্ম ও শর্তাবলী সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পেরেছি এবং কারোর দ্বারা প্ররোচিত হইনি। উপস্থিত সাক্ষীদের সমক্ষে আমরা এই বিক্রয় দলিলে নিজ নিজ স্বাক্ষর প্রদান করে এটি সম্পন্ন করলাম।
ইতি, তারিখ: ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ইং
সাক্ষীগণের স্বাক্ষর ও ঠিকানা:
১. নাম: মোঃ করিমুজ্জামান, পিতা: মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ঠিকানা: ৭৮, মিরপুর-১, ঢাকা।
(স্বাক্ষর) ____________
২. নাম: শামীম আহমেদ, পিতা: মোঃ জুলফিকার আলী, ঠিকানা: ৩৩/১, মিরপুর-১২, ঢাকা।
(স্বাক্ষর) ____________
৩. নাম: নাসরিন আক্তার, পিতা: মোঃ ওবায়দুল হক, ঠিকানা: ৫৬/সি, মিরপুর-১১, ঢাকা।
(স্বাক্ষর) ____________
________________________
(প্রথম পক্ষ – বিক্রেতার স্বাক্ষর)
________________________
(দ্বিতীয় পক্ষ – ক্রেতার স্বাক্ষর)
পরামর্শ
-
গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের আগে গাড়িটির ফিটনেস, ট্যাক্স, বিমা, এবং বকেয় ট্রাফিক জরিমানা আছে কিনা তা যাচাই করে নিন।
-
চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর দলিলে উল্লিখিত নম্বরের সাথে গাড়ির প্রকৃত নম্বরের মিল আছে কিনা নিশ্চিত হোন।
-
এই ধরনের দলিল বিচারবহির্ভূত স্ট্যাম্প এ সম্পাদিত করা উচিত এবং স্থানীয় যানবাহন অফিস এ মালিকানা হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে সম্পন্ন করা উচিত এড়ানোর জন্য ভবিষ্যত জটিলতা।
-
একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে দলিলটি প্রস্তুত করা আরও নিরাপদ।
নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

