ইসলাম আতংক ইয়া আদর্শ
( স্বামী লক্ষ্মী শঙ্করাচার্য রচিত ইসলাম আতংক ইয়া আদর্রশ বইয়ের অনুবাদের ভূমিকা)
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
বাঁক ঘুরে ঘুরে ধর্ম-বিশ্বাসগুলো এক একটা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। নতুন আবিষ্কার, নতুন মতবাদ, প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও পুরনো চিন্তার অসারতা এই চ্যালেঞ্জের কারণ। গত দুই হাজার বছরে এই চ্যালেঞ্জে অসংখ্য নাম না জানা ধর্ম হারিয়ে গেছে। কোনো কোনো ধর্ম মূলধারা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। টিকে থাকা ধর্মগুলোর বেশির ভাগের মূল সূর একেশ্বরবাদ। শিল্পবিপ্লব ও সামুদ্রিক যোগাযোগ বিশ্ব জুড়ে ধারণার দেশান্তরে মানুষকে জাগিয়ে দিয়েছিল। সেটা সম্ভব হয়েছে বর্তমানে টিকে থাকা প্রধান প্রধান ধর্মমতসমূহের মূল সুর একেশ্বরবাদ হওয়ার কারণে।
ইসলামকে যতটা না প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তার চেয়ে ঢের বেশি বিশ্ব জুড়ে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। রাজনীতির মুখে খ্রিষ্টধর্মও পড়েছিল। সেক্যুলারিজম এবং ডেমোক্রেসি এই দুয়ের মোকাবিলা করতে গিয়ে খ্রিস্টধর্মকে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণের ভার ছেড়ে সাইড লাইনে চলে আসতে হয়েছে। ইসলামকে শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক মতবাদের চ্যালেঞ্জেও পড়তে হয়েছে। কারণ ইসলামের নিজস্ব অর্থনৈতিক মতবাদ রয়েছে। ইউরোপ অধিকারের কয়েকশ বছরেও খ্রিস্টধর্মের বিপরীতে আদর্শিক মোকাবিলায় ইসলামের তেমন সাফল্য যেমন নেই, নেই ব্যর্থতাও। ইউরোপে যখন রাজনৈতিকভাবে ইসলামকে মোকাবিলা করা খ্রিস্টান মোল্লাদের দ্বারা মুশকিল হয়ে পড়েছিল, তখন তারা অন্য অস্ত্র তৈরি করেছিল। ইসলামকে তারা জ্ঞানের ও সত্যতার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল। সেসময় প্রায় ষাট হাজার পুস্তক রচনা করা হয়েছিলÑ ইসলাম, মুসলিম ও মুহাম্মদ (স.) কে ব্যঙ্গ করে। উর্বর মস্তিষ্কে সেগুলো মজবুতি দিয়ে বোনা হয়েছিল। সেও একদিনের কয়েকজনের কাজ ছিল না। কিছু পাদ্রী ও খ্রিস্টান যাজকের এবং তাদের হাজারো অনুসারির শত শত বছরের সাধনা ছিল।
* হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নাম এর সাথে কিছু উদৃতিমূলক বাক্যে (স) ব্যবহার করা হয়নি। প্রিয় পাঠক এসবক্ষেত্রে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পড়ে নেবেন।
ইসলামের নামটাই তারা বদলে দিল। কারণ ইসলাম মানে শান্তি, ইসলাম মানে ত্যাগ, ইসলাম মানে সহিষ্ণুতা। তাদের যেহেতু প্রমাণ করা দরকার, এটা মুহাম্মদ (স.) এর ব্যক্তিগত ধর্ম, তাই তারা এর নাম দিল মোহামেডান। মোহামেড থেকে মোহামেডান পরে এই নামটি তারা ভারতেও প্রতিষ্ঠা করেছিল।
সেসব বইতে বলা হলো, মুহাম্মদ নিজেই এমন একটা ধর্ম বানিয়েছে। ঈশ্বরের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। মুহাম্মদ (স.) যে নবী নয় এটা প্রমাণ করার ভ‚রি ভ‚রি যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সরাসরি দাবি করা হয়েছে যে, মুহাম্মদ নিজেই কোরআন লেখেছে। মুহাম্মদ উম্মী বা অক্ষর জ্ঞানহীন ছিল না। মুহাম্মদ সবই জানতো, শুধু না জানার ভান করতো। আর মুহাম্মদ-এর ছিল একটি পোষা ঘুঘু পাখি। মুহাম্মদ নিজের কানের মধ্যে মটরদানা রেখে দিত। সে পাখি সেগুলো কান থেকে খুঁটে খুঁটে খেতো, আর মুহাম্মদ লোকেদের বলতো, জিব্রাঈল তার কাছে ওহী আনছে। এভাবে নবী (স.)-এর চরিত্রও বাদ পড়েনি। এসব কথা প্রিয়নবী (স.)-র শত্রæরা মক্কা এবং মদীনার জীবনে কখনো বলেনি। তারপর কুরআনের আয়াতের সত্যতাসহ আরো অনেক কিছু। সেগুলো খ্রিস্টান সমাজে প্রসারিত হলো, আর মুসলিম সমাজ প্রথমদিকে তেমন গা করেনি।
খ্রিস্টান সমাজে ইসলাম নিয়ে বিভ্রান্তি ব্যাপক হওয়ার ফলে তাদের সুবিধা হলো। তাতে মুসলিম শাসন সত্তে¡ও ইউরোপে বিশেষ করে স্পেনে ইসলাম বিকাশের পথ শ্লথ হলো, খ্রিস্টান সমাজে ফাদারদের কর্তৃত্ব থেকেই গেল। সেটা অবশ্য মুসলিম শাসকদের মাথাব্যথার কারণও ছিল না। তবুও যে খ্রিস্ট সমাজের প্রতি মানুষ খুশি ছিল তা নয়। মুসলিমদের ক্রমাগত রাজনৈতিক বিকাশে সাধারণ পাদ্রীরা ক্ষুব্ধ হতেন। তারা বলতেন, ‘‘ঈশ্বরের একি হলো, ঈশ্বর শয়তানের পক্ষ নিয়েছে নাকি?’’ মুসলিম শাসনের টিকে থাকার হতাশায় তারা এসব বলত। অন্যদিকে ইসলামবিরোধী প্রচারণাও চালাতো।
ইসলামবিরোধী এসব প্রচারণার কারণে খ্রিস্টান মুসলিম ঝগড়া-ফ্যাসাদ লেগে যেত। যেহেতু যিশু খ্রিষ্টকে মুসলিমরা শ্রদ্ধা করতো, সে জন্য সমস্যাটা তৈরি হতো মূলত খ্রিষ্টানদের দিক থেকেই। সমস্যা গুরুতর হলে সরকার কোথাও কোথাও হস্তক্ষেপ করছিল। আর আলেম উলামারা ইসলামে সহি-শুদ্ধতা আনার মিশনে নেমেছিল। ইসলামের বিরোধিতা করে ইসলাম দমনের চেষ্টা করা হয়েছে কোরআনে আয়াত সংযোজন বিয়োজন, জাল হাদিসের জন্ম, রসূলের জীবন নিয়ে উদ্ভট ঘটনার গল্প সাজানো এগুলোও করা হয়েছিল। তাই মুসলিম আলেমদের তখন জরুরী প্রয়োজন দেখা দিল ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চার এবং শুদ্ধ ইসলাম চর্চার। রাজনৈতিক শক্তি শক্তিশালী করার কথা তাদের মাথায় ছিলনা। ইসলামবিরোধী তত্ত¡পুস্তক এতটাই বিস্তার লাভ করল, খ্রিষ্টান পাদ্রীদের ধর্মীয় আলোচনা ও বিতর্কে এগুলো একটা স্থান দখল করে নিল। তারা সরাসরি বিভিন্ন স্থানে এমনকি মসজিদে এসেও মুহাম্মদ (স.)-কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করল। প্রথম দিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলেও পরে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শাস্তি প্রয়োগ করেছিল। তথাকথিত খেলাফত যাদের হাতে ছিল তারাও শেষদিকে ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে পড়ল।
একদিকে রাজনৈতিক ইস্যুটি ভুলে যাওয়া, অন্যদিকে বিভ্রান্তিতে ফেলা, সেই সাথে ইসলামের অসারতা প্রচার করে খ্রিস্টানদের মধ্যে একটা উজ্জীবন এনে দিল। ফলে ইউরোপে মুসলিমদের পতন হলো। অনেক কারণ থাকলেও এটাও একটা কারণ ছিল। যদিও ঐতিহাসিকরা কিছু মুসলিম শাসকের নৈতিক সমস্যা ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকেই এর জন্য বেশি দায়ী করেন।
জ্ঞানের যুদ্ধ থেকে যুদ্ধটা রাজনীতির দিকে চলে গেল। ইউরোপে যেহেতু খ্রিস্টইজম জয় পেল। সুতরাং পরবর্তী সংঘাতটা শুরু হলো খ্রিস্টধর্মের সাথে স্বাধীনচেতা মতের তথা সেক্যুলারিজমের। সেক্যুলারিজম থেকে এলো ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র আবার সেক্যুলারিজমকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে দিল। এখানে ইসলামকে আর সেসব ভ্রান্ত বিদ্যা অপজ্ঞানের সাথে লড়াই করতে হয়নি। ইসলাম তার আগের জায়গায় ফিরে এল। ইউরোপ আমেরিকায় লড়াইটা চলল স্থানীয় ধর্মের সাথে নতুন চিন্তার। যেহেতু সেখানে প্রধান ধর্ম ইসলাম নয়। রাজনৈতিক লড়াইতে পেছনে পড়ে যাওয়ার পর জ্ঞানের চ্যালেঞ্জটা ইসলামকে নিতে হয়নি।
পরবর্তীতে যখন ব্রিটিশরা প্রতিষ্ঠা পেল বিশ্ব নেতৃত্ব তাদের হাতে গেল। ইউরোপের বাইরে এশিয়া বিশেষ করে ভারতবর্ষে তাদের রাজ কায়েম হলো। তখন শিক্ষা বিস্তারের সাথে ইউরোপ থেকে জ্ঞানেরও আমদানি ঘটতে চলল। আইন, জীববিজ্ঞান, ভূগোল, প্রাণিবিদ্যা, ব্যাকরণ, পদার্থ ও রসায়ন-এর সাথে আসলো ধর্মজ্ঞানও। বলাবাহুল্য যখন কলকাতায় মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীর বিকাশ ঘটলো, তখন আসলো ধর্মবিরোধী জ্ঞানও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেক্যুরালিজম ও গণতন্ত্র। ভাবার কোনো অবকাশ নেই যে, নাস্তিক্যবিদ্যাও এর বাইরে ছিল।
ভারতে যখন এদেশীয় নাস্তিক শ্রেণী তৈরি হলো। তাদের আক্রমণের প্রথম লক্ষ্যবস্তু ছিল হিন্দু ধর্ম। খ্রিস্টবাদের সাথে লড়াই করা সহজ ছিল না, আর ইসলাম তখন এদেশে পেছনের কাতারে। ইসলাম সম্পর্কে লোকেরা জানতোও কম। অনেকে একে চাষাভুষার ধর্মও ভাবতো।
সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা হিন্দু পন্ডিতেরা দু-ভাবে করতে পেরেছিলেন। প্রথমত হিন্দু ধর্মের কিছু প্রথা সংস্কারকে তারা ঝেড়ে ফেলতে চাইলেন। কালের পরিক্রমায় সেটা সম্ভবও হয়েছে। দ্বিতীয়ত যুক্তি ও শাস্ত্র দিয়ে মোকাবিলা করা। সনাতন ধর্মের গ্রন্থসমূহে, সেসব গ্রন্থের কল্যাণধর্মী বাণীগুলো হিন্দু ধর্মকে বিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করেছিল। কারণ তখন সমাজের যারা রোলমডেল ছিলেন তারা ধর্মপক্ষ অবলম্বন করেছেন।
শতাব্দী ঘুরে সময় একটু পোক্ত হতেই রাজনীতি, সমাজনীতিতে পক্ষবিপক্ষ বদল হয়ে গেল। তার বদলে ব্রিটিশ রাজের সাথে চলল ভারতের স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীদের এক সর্বাত্মক যুদ্ধ। ফলে ধর্ম-অধর্মের ব্যাপার তলে পড়ে গেল। স্বাধীনতা পরাধীনতাই মুখ্য হয়ে গেল। এক পর্যায়ে সেটা হিন্দু মুসলিম সংঘর্ষের দিকেও গেল। এই সংঘর্ষ যতটা না সাম্প্রদায়িক, তার চেয়ে বড়ো বেশি রাজনৈতিক। কারণ সংঘর্ষ এই নিয়ে নয় যে, কোন ধর্ম সত্য বা উত্তম আর কোন ধর্ম অসার বা ত্যাগযোগ্য। যুদ্ধ ছিল এই জন্য যে, কোন ধর্মের লোকদের উপর কোন ধর্মের লোকেরা রাজ কায়েম করবে।
ভারত পাকিস্তান দুটো দেশের জন্মের মধ্য দিয়ে সেটার মীমাংসা হয়েছিল। তারপর সবে একটা চিন্তা দানা-বেঁধে উঠছিল, ধর্মভিত্তিক না অসাম্প্রদায়িক? চিন্তা না বলে বলি চিন্তাযুদ্ধ। মানে মুসলিমবাদ আর ধর্মনিরেপেক্ষতার যুদ্ধ, এটা পাকিস্তানে। ভারতেও তাই মানে ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম হিন্দুত্ব। বোধকরি সে চিন্তাযুদ্ধের রেখাটি এখনও চলমান। সে সময় মানে পাকিস্তান প্রিয়ডে এই চিন্তার সমান্তরাল আরেকটি চিন্তার বীজ বপন করা হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। শুরু হলো নতুন বিভাজন। আমরা বাঙালি ওরা পাকি, পশ্চিমা। শেষতক বাঙালি জাতীয়তাবাদের আলোকে প্রতিষ্ঠিত হলো নতুন দেশ, নতুন জাতিসত্তা। নাম বাংলাদেশ।
যে যুদ্ধটা আড়ালে চলে গিয়েছিল, সে যুদ্ধটা আবার সামনে আসল দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর। গণতন্ত্র ও বহুমতের রাজনীতি চালু হতেই কিছুসংখ্যক লোক আবার ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে হাজির হলো। আবার, বিশেষ করে শাসক ও রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মকে ব্যবহার করছিল, কিন্তু এটা মূল যুদ্ধ ছিল না। মূল যুদ্ধের জন্য আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে ভাগ হয়ে লড়ছিলাম। রাজনৈতিক দলের নামে আমরা বিভক্ত হয়ে রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতার চর্চা শুরু করেছিলাম। বর্তমানে সেটা আনুষ্ঠানিক রুপ লাভ করেছে বলা যায়। ভারতেও মূল ব্যাপারটা একই রকম ঘটলো। সেখানে ধর্ম বনাম সেক্যুলারিজম, অমুক দল বনাম তমুকদল-এর প্রকাশ্য চিন্তা ও ভোট যুদ্ধ চলছিল। ধীরে গণতন্ত্র সেখানে পরিপক্কতা লাভ করছিল।
মহান ভারত আজো হিন্দু-মুসলিম বিভাজন কিংবা অসাম্প্রদায়িক হতে পারেনি। সেটা অখÐ ভারত এবং ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের জন্য বিব্রতকর ও বিরক্তিকর ছিল, কিন্তু ভয়ংকর ছিল না। তবে মহান ও সম্প্রীতির ভারত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এখনো একটা বিষফোঁড়া হিসেবে রয়ে গেছে। তবে শান্তিপ্রিয় এবং অসাম্প্রদায়িক মানুষেরা থেমে নেই। তারা কাজ করে যাচ্ছেন। নিশ্চই পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে সন্দেহ নেই, হয়তো কিছুটা ঘটেছেও।
সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মনিরেপেক্ষতার সাবলীল বিকাশের সাথে সাথে ধর্মীয় চিন্তাও এদেশে সমৃদ্ধ ও সাবালক হতে লাগল। ইসলাম সম্পর্কেও মুসলিমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি জানতে থাকে। পাশাপাশি বিভ্রান্তিও কম নেই। ধর্মপক্ষ না ধর্মনিরেপেক্ষ এই ইস্যু যখন তাজা হচ্ছিল, তখনি একটা তৃতীয় ইস্যু এসে সব উল্টে পাল্টে দিল। সেটা হলো ‘ইসলামী জঙ্গিবাদ’। এটা একটা বৈশ্বিক সমস্যা। অগ্রসর বিশ্ব যেমন আগেই ধর্মতন্ত্রের বদলে গণতন্ত্র বেছে নিল চূড়ান্তভাবে তেমনি এশিয়ার অনেক দেশেই সেটা এখনও হয়নি। কারো মতে, যখন পশ্চিমারা বুঝতে পারল ইসলাম বিজ্ঞানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিল করে আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বিশ্বাস আর সংস্কৃতি হিসেবে ইসলামকে মানা যায়, কিন্তু রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে মানতে গেলে গোটা বিশ্ব রাজনীতির জন্য এটা একটা বার্তা নিয়ে আসছে। সেটা প্রচলিত পদ্ধতি ও নেতৃত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই আবার কোনো এক জলসায় নতুন ফন্দি হলো, এবার ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে এবং রাজনীতির ভিলেন বানাতে হবে। তাই পশ্চিমা ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠল আল কায়েদা আর আইএস-এর মতো গোষ্ঠী। বলা হয়ে থাকে যে, ফিলিস্তিন মুসলিমদের স্বাধীনতা, স্বাধিকার আর মাতৃভূমি উদ্ধার করার আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য কোনো দেশের গোয়েন্দা এজেন্টরাই তৈরি করেছে আজকের আইএস।
ফলে নতুন এক চ্যালেঞ্জ নতুন এক বির্তক এলো। ইসলাম মানবিক নাকি অমানবিক? ইসলামকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নাকি উচিত নয়? এই বিতর্ক মোটাদাগে একলাইনে গিয়ে ঠেকল মুসলিমরা সন্ত্রাসী নাকি সন্ত্রাসী নয়? সন্ত্রাসী না হলে দেশে দেশে ধর্মের নামে মানুষ মরছে কেন? আর যদি সন্ত্রাসী হয় তাহলে তাদের মোকাবিলা করা উচিত সামাজিকভাবে। কারণ জঙ্গিরা ধর্মের নামে, রাজনীতির বাতাবরণে খুনের মতো সামাজিক অপরাধ করে মানবতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই তত্ত¡ তারা প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নতুন হাওয়া লাগার পর পুরনো মরা বাগানে আবার ফুল ফুটতে শুরু করল। স্পেন কর্ডোভার খ্রিস্টানদের বস্তাপচা বাণীগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বময় ছড়িয়ে গেল। ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের বহু অভিযোগ থাকলেও সন্ত্রাসবাদটাই মুখ্য হয়ে দেখা দিল। কারণ সে আগুনে ঘি ঢেলেছিল কিছু উগ্র ও জঙ্গিবাদী সংগঠন। মুসলিম দেশগুলোতে পশ্চিম বিশ্বের বিশেষ করে আমেরিকার বিভিন্ন অজুহাতে হামলার
